আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৫৪ টি

হাদীস নং: ৪৪৫২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫২. হযরত ইব্‌ন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি নিজকে বড় মনে করে অথবা চাল-চলনে অহংকার প্রকাশ করে, সে এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার প্রতি ক্ষুব্ধ হবেন।
(তাবারানীর কাবীর গ্রন্থে নিজ শব্দে বর্ণিত। তাঁর বর্ণনাকারীদের বর্ণনা দলীলরূপে গ্রহণযোগ্য? হাকিম অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4452- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من تعظم فِي نَفسه أَو اختال فِي مشيته لَقِي الله تبَارك وَتَعَالَى وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَان

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَاللَّفْظ لَهُ وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح وَالْحَاكِم بِنَحْوِهِ وَقَالَ صَحِيح على شَرط مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৩. হযরত খাওলা বিন্‌ত কায়স (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মাত যখন গর্বভরে চলবে, পারস্য রোমবাসী যখন তাদের খাদেম হবে, তখন একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ব্যাপারটি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।
(ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত। তিরমিযী, ইবন হিব্বান (র) হযরত ইবন উমার (রা) থেকে ও উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। المطيطاء - অহংকার করা, দুই হাত ঝুলিয়ে (দম্ভ ভরে) হাঁটা।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4453- وَعَن خَوْلَة بنت قيس رَضِي الله عَنْهَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا مشت أمتِي
الْمُطَيْطَاء وَخدمَتهمْ فَارس وَالروم سلط بَعضهم على بعض

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن حبَان أَيْضا من حَدِيث ابْن عمر
الْمُطَيْطَاء بِضَم الْمِيم وَفتح الطاءين الْمُهْمَلَتَيْنِ بَينهمَا يَاء مثناة تَحت ممدودا وَيقصر هُوَ التَّبَخْتُر وَمد الْيَدَيْنِ فِي الْمَشْي
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৪. হযরত আসমা বিন্‌ত উমায়স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি মনে অহংকার রাখে, বাহ্যিকভাবে অহংকার দেখায় অথচ সে সর্বোচ্চ মহান প্রভুকে ভুলে যায়, সে অত্যন্ত নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক। যে ব্যক্তি স্বৈরাচারী ও সীমালংঘনের দোষে অপরাধী, অথচ সে সর্বোচ্চ শক্তিধরকে ভুলে গেছে, সে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক। যে ব্যক্তি অবহেলাবশত আল্লাহর দাবির কথা উপেক্ষা করেছে এবং কবর ও ধ্বংসের কথা ভুলে গেছে, সে নিকৃষ্ট লোক। যে ব্যক্তি অহংকার এবং সীমালংঘন করেছে এবং প্রথম (জম) ও শেষ (মৃত্যুর) কথা ভুলে গেছে, সে নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির কারণে দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে দীনের ক্ষতি সাধন করেছে, সে নিকৃষ্ট লোক। যে ব্যক্তি লোভ-লালসার শিকার, সে নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক যে ব্যক্তির প্রবৃত্তি তাকে পথভ্রষ্ট করেছে, সে নিকৃষ্ট লোক এবং যে ব্যক্তির কামনার বস্তু তাকে লাঞ্ছিত করেছে, সে নিকৃষ্ট লোক।
(তিরমিযী (র) বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি গরীব। তাবারানী উক্ত হাদীসটি নাঈম ইবন হিমার গাতফানী থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4454- وَرُوِيَ عَن أَسمَاء بنت عُمَيْس رَضِي الله عَنْهَا قَالَت سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول بئس العَبْد عبد تخيل واختال وَنسي الْكَبِير المتعال
بئس العَبْد عبد تجبر واعتدى وَنسي الْجَبَّار الْأَعْلَى
بئس العَبْد عبد سَهَا وَلها وَنسي الْمَقَابِر والبلى
بئس العَبْد عبد عتى وطغى وَنسي المبتدا والمنتهى
بئس العَبْد عبد يخْتل الدُّنْيَا بِالدّينِ بالشهوات
بئس العَبْد عبد طمع يَقُودهُ
بئس العَبْد عبد هوى يضله
بئس العَبْد عبد رغب يذله

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ من حَدِيث نعيم بن همار الْغَطَفَانِي أخصر مِنْهُ وَتقدم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৫. হযরত আবু মূসা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে, বর্ণিত। তিনি বলেছেন: জাহান্নামে হাবহাব নামে একটি উপত্যকা আছে। প্রত্যেক স্বৈরাচারী উদ্ধতকে সেখানে অবস্থান করানো আল্লাহ্ নিজের জন্য অপরিহার্য করে নিয়েছেন।
(আবু ই'আলা, তাবারানী ও হাকিম বর্ণিত তাঁরা সবাই আযহার ইবন সিনান থেকে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। হাকিম বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ্।
هبهب - জাহান্নামের একটি উপত্যকা।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4455- وَعَن أبي مُوسَى رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن فِي جَهَنَّم وَاديا يُقَال لَهُ هبهب حَقًا على الله أَن يسكنهُ كل جَبَّار عنيد

رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم كلهم من رِوَايَة أَزْهَر بن سِنَان وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
هبهب بِفَتْح الهاءين وموحدتين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৬. হযরত সালামা ইবন আওয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন লোক যখন অব্যাহতভাবে অহংকার করে বেড়ায়, তখন তাকে স্বেরাচারীদের অন্তর্ভুক্ত বলে লেখা হয়, পরিণামে তাদের যে অশুভ পরিণাম রয়েছে, তার জন্যও তা রয়েছে।
(তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4456- وَعَن سَلمَة بن الْأَكْوَع رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا يزَال الرجل يذهب بِنَفسِهِ حَتَّى يكْتب فِي الجبارين فَيُصِيبهُ مَا أَصَابَهُم

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن
قَوْله يذهب بِنَفسِهِ أَي يترفع ويتكبر
হাদীস নং: ৪৪৫৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা বদি কোন পাপ না করতে তবুও আমি তোমাদের উপর এমন বস্তুর ভয় করি, যা সাধারণ পাপ থেকেও জঘন্য। আর তা হচ্ছে: আত্মম্ভরিতা।
(বাযযার উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4457- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَو لم تذنبوا لَخَشِيت عَلَيْكُم مَا هُوَ أكبر مِنْهُ الْعجب

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিনয়ী হওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অহংকার ও আত্ম প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং আত্মম্ভরিতার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: কোন কোন লোক তাদের মৃত পূর্ব পুরুষের (কীর্তিগাঁথা) নিয়ে গৌরব করে, অথচ তারা জাহান্নামের অঙ্গার অথবা ভূগর্ভস্থ কীট। সে গুলো নাক দ্বারা যে মাটি উঠায়, তারা সে মাটির চেয়ে নিকৃষ্ট। পূর্ব পুরুষের দ্বারা তোমরা যে গৌরব করতে, আল্লাহই তোমাদের স্বভাব থেকে জাহিলিয়া যুগের সে গৌরব বিদূরিত করে দিয়েছেন। মানুষের দু'টি অবস্থা। হয়ত সে পরহিযগার- মুত্তাকী হবে নতুবা হবে হতভাগ্য ও পাপাচারী, যদিও তারা আদমের সন্তান। আর আদম (আ) মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন।
(আবু দাউদ, তিরমিযী (র) নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান এবং إحتقار المسلم অধ্যায় ইনশাআল্লাহ্ এই জাতীয় হাদীস সামনে বর্ণনা করা হবে।
الجعل - ভূগর্ভস্থ ক্ষুদ্র কীট
بدهده - ঝাকুনি দেয়া।
العبية - অহংকার করা, গর্ব করা ইত্যাদি।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي التَّوَاضُع والترهيب من الْكبر وَالْعجب والافتخار
4458- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لينتهين أَقوام يفتخرون بآبائهم الَّذين مَاتُوا إِنَّمَا هم فَحم جَهَنَّم أَو لَيَكُونن أَهْون على الله عز وَجل من الْجعل الَّذِي يدهده
الخرء بِأَنْفِهِ إِن الله أذهب عَنْكُم عبِّيَّة الْجَاهِلِيَّة وَفَخْرهَا بِالْآبَاءِ
إِنَّمَا هُوَ مُؤمن تَقِيّ وَفَاجِر شقي النَّاس بَنو آدم وآدَم خلق من تُرَاب

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن وَسَتَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع فِي التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم إِن شَاءَ الله
الْجعل بِضَم الْجِيم وَفتح الْعين الْمُهْملَة هُوَ دويبة أرضية
يدهده أَي يدحرج وَزنه وَمَعْنَاهُ
والعبية بِضَم الْعين الْمُهْملَة وَكسرهَا وَتَشْديد الْبَاء الْمُوَحدَة وَكسرهَا وَبعدهَا يَاء مثناة تَحت مُشَدّدَة أَيْضا هِيَ الْكبر وَالْفَخْر والنخوة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৫৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কোন ফাসিক অথবা বিদ'আতীর জন্য 'হে নেতা' অথবা অনুরূপ সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৫৯. হযরত বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুনাফিককে 'নেতা' বলে সম্বোধন করবে না। কেননা, সে যদি নেতা হয়, তবে তোমরা তোমাদের মহান রবকে অসন্তুষ্ট করবে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ উত্তম সনদে এবং হাকিম বর্ণিত। হাকিমের শব্দমালা এরূপ: যখন কোন ব্যক্তি মুনাফিককে 'হে নেতা' বলে সম্বোধন করবে, প্রকৃতপক্ষে সে তার রবকে অসন্তুষ্ট করবে। তিনি বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ্।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من قَوْله لفَاسِق أَو مُبْتَدع يَا سَيِّدي أَو نَحْوهَا من الْكَلِمَات الدَّالَّة على التَّعْظِيم
4459- عَن بُرَيْدَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا تَقولُوا لِلْمُنَافِقِ سيد فَإِنَّهُ إِن يَك سيدا فقد أسخطتم ربكُم عز وَجل

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح وَالْحَاكِم وَلَفظه قَالَ إِذا قَالَ الرجل لِلْمُنَافِقِ يَا سيد فقد أغضب ربه وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد كَذَا قَالَ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৬০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬০. আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে কা'ব ইবন মালিক (রা) থেকে যে বিবরণটি আমি শুনেছি, তা হচ্ছে এইঃ কা'ব ইবন মালিক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যতগুলো যুদ্ধ পরিচালনা করেন, আমি তাবুক ব্যতীত অন্য কোনটিতে অনুপস্থিত ছিলাম না। তবে, বদর যুদ্ধ থেকে অনুপস্থিত ছিলাম। আর যারা বদর যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিল, তাদের তিরষ্কার করা হয়নি। কেননা, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) কিছু সংখ্যক সাহাবী নিয়ে কুরায়শের একদল বণিককে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বের হন। আকস্মিকভাবে পূর্ব আলোচনা ব্যতীত আল্লাহ্ তাদের ও শত্রুদের মাঝে পরস্পর মুখোমুখি করেন। অথচ আমি রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আকাবার রাতে ইসলাম রক্ষার চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম। যদিও বদর যুদ্ধ মানুষের কাছে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, তথাপি আকাবার তুলনায় বদর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া আমার নিকট ততটা গুরুত্ব পায়নি।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে আমার অনুপস্থিত থাকার বিবরণ হচ্ছে এই: অন্যান্য যুদ্ধে আমি যেমন শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান ছিলাম, ঐ সমস্ত সময়ের তুলনায় এক্ষেত্রে আমি আরো বেশী শক্তিশালীও সামর্থ্যবান ছিলাম। ইতোপূর্বে কখনো আমি দু'টি বাহন একত্র করতে পারিনি, অথচ এই যুদ্ধের সময় আমি দু'টি বাহন যোগাড় করি। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিয়ম ছিল, তিনি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যে দিকে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতেন, তার বিপরীত দিকের প্রতি দিক নির্দেশ করতেন। এমনকি সেই যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যের প্রখর তাপের সময় যুদ্ধ যাত্রা করেন। তাঁর যাত্রা ছিল সুদীর্ঘপথ অতিক্রম করা। আর সামনে প্রতীক্ষা করছে বিপুল শত্রুসেনা। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলমানদের সামনে তাঁদের কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন, যাতে তাঁরা যুদ্ধের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি তাঁদের সামনে নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। মুসলমানের সংখ্যা এত বিপুল ছিল যে, তাঁদের নাম রেজিষ্টারভূক্ত করার মত সুব্যবস্থা ছিল না। বর্ণনাকারী এখানে রেজিষ্টারভূক্ত করার দিকে ইংগিত করেছেন। কা'ব (রা) বলেন: অল্প সংখ্যক লোকই যখন অনুপস্থিত থাকত তার প্রতি এই ধারণাই পোষণ করা হত যে, লোকটি অচিরেই যুদ্ধ থেকে আত্মগোপন করবে, যতক্ষণে তার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী না আসে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন যুদ্ধ যাত্র করেন, তখন ছিল ফল পাকার এবং পত্র পল্লব আচ্ছাদিত বৃক্ষের মওসুম। আর আমি সে দিকে (বাগানে) বার বার যাতায়াত করতাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সংগে মুসলমানগণ যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। আমি কালক্ষেপণ করতে লাগলাম যে, আমি তাদের সাথে রওনা করব। অথচ আমি ফিরে আসি এবং কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনা। আর আমি মনে মনে বলতাম: আমি প্রস্তুতি নিয়ে বের হতে পারব, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। এ অবস্থা আমাকে কালক্ষেপণের বাধ্য করে এমনকি মুজাহিদ বাহিনী দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে নেয়। এর পর একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুসলিম বাহিনী নিয়ে রওনা হন অথচ আমি তখনও কোন রসদ পত্রই যোগড় করিনি। পরের দিনও আমি বের হলাম এবং ফিরে এলাম, তবে চূড়ান্তভাবে কিছুই করিনি। এভাবে কালক্ষেপণ করতে লাগলাম। এমন কি তাঁরা রণাঙ্গনের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। এ সময় আমি বের হওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিলাম, যাতে আমি তাঁদের সাথে একত্র হতে পারি। কিন্তু, হায়! পরিতাপ। আমি যদি তা করতাম। তবে তা আমার ভাগ্যে লেখা হয়নি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চলে যাওয়ার পরে আমি যখন লোকালয়ে বের হতাম, আমাকে তখন একথা দুশ্চিন্তাগ্রন্থ করে ফেলত যে, আমি কেবল ঘোর মুনাফিক অথবা দুর্বল লোক, যাদের সম্পর্কে আল্লাহর ক্ষমা ঘোষিত হয়েছে, তাদের ব্যতীত কোন ভাল লোক দেখতে পেতাম না। তাবুক পৌঁছা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কথা আলোচনা করেননি। তাবুক প্রান্তরে সাহাবা ঘেরা এক সমাবেশে তিনি বলেন: কা'ব ইবন মালিক কী করলো। তখন-বনী সালামার এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ। তার দু'টি চাদরের আঁচলের প্রতি দৃষ্টিপাত, তার আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এ সময়-মু'আয ইবন জাবাল (রা) তাঁকে বলেন: তুমি খুব মন্দকথা বললে। আল্লাহর শপথ, ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমরা তাঁর ব্যাপারে ভাল ছাড়া মন্দ কিছু জানি না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এতদশ্রবণে নীরব থাকলেন। পরে তিনি একজন সাদা পোশাকধারী লোককে দেখতে পান, যার পোশাক তুয়ারের চেয়েও সাদা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: তুমি আবূ খায়সামা হও। তখন হঠাৎ দেখা গেল যে, তিনি আবু খায়সামা আনসারী। তিনি ঐ ব্যক্তি, মুনাফিকরা যাকে দোষারোপ করায় তিনি এক সা' খুরমা সাদাকা করেছিলেন। কা'ব (রা) বলেন। এরপর যখন আমার কাছে এই মর্মে সংবাদ এলো যে, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাবুক থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন, তখন আমার মনে দুশ্চিন্তা উদিত হলো। আমি মিথ্যা বানোয়াট কল্পনা করতে লাগলাম এবং কিভাবে আগামীকাল তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পেতে পারি, তা ভাবতে লাগলাম। আমার পরিবারের প্রত্যেকের কাছে এ ব্যাপারে সাহায্য কামনা করতে লাগলাম। তার পর যখন বলা হল যে, অচিরেই রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে পৌছবেন, তখন আমার মধ্যকার যাবতীয় বাতুলতা দূর হতে লাগল এবং আমি এমর্মে পরিষ্কার বুঝতে পারলাম যে, কোনভাবেই আমি কখনো তাঁর থেকে রক্ষা পাব না। কাজেই, আমি সত্যকে অন্তরে বদ্ধমূল করে নিলাম। অবশেষে একদিন সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় এসে উপস্থিত হন। তাঁর নিয়ন ছিল, যখন তিনি কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন প্রথমে মসজিদে প্রবেশ করে দু'রাকা'আত সালাত আদায় করতেন। পরে তিনি সকলকে নিয়ে বসতেন। যখন তিনি এসব কাজ থেকে অবসর হন, তখন যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ একে একে তাঁর কাছে এসে মিথ্যা শপথ করে নিজেদের অক্ষমতার কথা অবহিত করে। এদের মোট সংখ্যা ছিল তিরাশি জন। তিনি তাদের প্রাকাশ্য ভাষণ গ্রহণ করেন এবং তাদের বায়'আত করান এবং তাদের ভেতরের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সোপর্দ করেন। এমনকি আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি যখন তাঁকে সালাম দিলাম, তখন তিনি ক্রোধ-মিশ্রিত হাসি হেসে বলেন: এসো। তখন আমি হেঁটে হেঁটে তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কেন যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলে, তুমি না তোমার বাহন খরিদ করে ছিলে? আমি বলালাম: ইয়া রাসুলাল্লাহ্। আমি আপনার নিকট না বসে যদি দুনিয়ার অন্য কোন ব্যক্তির কাছে বসতাম, তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মিথ্যা ওযর দেখিয়ে অচিরেই আমি তার ক্রোধ থেকে মুক্তি পেতাম। কেননা, আমাকে যুক্তি পেশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর শপথ আজ আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য যদি আমি মিথ্যা কথা বলি, তবে অচিরেই আল্লাহ আপনাকে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর যদি আমি আপনার কাছে সত্য কথা বলি এবং সেই কথায় আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্টও হন, আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, পরিণতিতে আমি আল্লাহর নিকট কামিয়াব হব।
অন্য বর্ণনায় عقبی -এর স্থলে عفو (ক্ষমা) শব্দ রয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমার কোন ওযর ছিল না। যখন আমি আপনার কাছ থেকে যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলাম, তখন আমি পূর্বের চেয়েও অধিক সামর্থ্যবান ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: হাঁ, এই লোকটি সত্য কথা বলেছে। তুমি চলে যাও, যতক্ষণে তোমার ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা না আসে। এরপর আমি উঠে গেলাম। আর আমার পেছনে তিরস্কার করতে করতে বনী সালামার কিছু সংখ্যক লোক বলল: আল্লাহর শপথ! ইতোপূর্বে আপনাকে আমরা কোন গুনাহ করতে দেখিনি; অন্যান্য যুদ্ধে অনুপস্থিত ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ ওযর পেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে ক্ষমা পেলেন, আর আপনি তা করতে অপারগ হলেন কেন? আপনার গুনাহের জন্য রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ইসতিগফারই যথেষ্ট ছিল। আল্লাহর শপথ! তারা আমাকে এভাবে তিরস্কার করতে লাগল। এমনকি আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে ভাবলাম যে, আমি কি পূর্বের কথা অস্বীকার করব। তিনি (কা'ব) বলেন: এরপর আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম। আমার মত এরূপ আর কেউ বলেছে কি? তারা বললঃ হাঁ তোমার ন্যায় দুই ব্যক্তি রয়েছে, তুমি যা বলেছ, তারাও তাই বলেছে। আর তাদেরকেও তাই বলা হয়েছে, যা তোমাকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি জানতে চাইলাম। ঐ দুই ব্যক্তি কে? তাঁরা বলল: তাঁদের একজন হলেন যুরারা ইবন রাবীয়া আমিরী এবং অপর জন হলেন হিলাল ইবন উম্যায়্যা ওয়াকিফী (রা)। তিনি বলেন, তাঁরা আমার নিকট এমন দুইজন সৎ লোকের কথা বলল: যাঁরা বদরী সাহাবী। তাঁদের দু'জনের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তিনি বলেন, আমি এভাবে বসে থাকলাম, এমনকি তাঁরা আমার কাছে ঐ দু'জনের কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তাদের মধ্যকার কেবল আমাদের তিনজনের সাথে রাসুলুল্লাহ সাহাবীদের কথাবার্তা বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: লোকেরা আমাদের বর্জন করে চলল। তিনি আরো বলেন: সকলে আমাদের প্রতি বিগড়ে গেল। এমনকি পৃথিবী আমার নিকট অপরিচিত মনে হল। আমি এখন চিনি না, যা পূর্বে চিনতাম। এরূপে পঞ্চাশ দিন অতিবাহিত করলাম। আমার অপর দুই সাহাবী অবস্থা ছিল এই, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় ঘরে বসে রোনাজারি করছিল। আর আমি যেহেতু তাদের তুলনায় ছিলাম যুবক এবং শক্তিশালী, তাই আমি সালাতে উপস্থিত হতাম। আমি বাজারের অলি-গলিতে ঘুরাফেরা করতাম। কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সালাত শেষ করে যখন সাহাবীদের মাঝে বসতেন, তখন আমি তাঁর নিকট গিয়ে সালাম দিতাম এবং মনে মনে বলতাম। সালামের উত্তরে তার ঠোঁট নড়াচড়া করছে কিনা, তা দেখতাম। আর আমি তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতাম এবং গোপনে গোপনে তাঁর দিকে তাকাতাম। আমি সালাত শুরু করলে তিনি আমার দিকে তাকাতেন এবং আমি তাঁর দিকে তাকালে তিনি অন্য দিকে চেহারা ফিরিয়ে নিতেন। মুসলমানদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন যখন এরূপ কষ্ট চলতে থাকল, তখণ একদিন আমি আবু কাতাদা (রা)-এর বাড়ীতে গিয়ে তাঁর বাড়ীর দেওয়ালে উঠলাম। তিনি ছিলেন আমার চাচাত ভাই এবং আমার নিকট লোকদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয়। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি আমার সালামের জবাব দিলেন না। আমি তাঁকে বললামঃ হে আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কি একথা জান যে, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি (কা'ব) বলেন: সে নীরব রইল। পুনরায় আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করায় জবাবে সে বলল: এ ব্যাপারে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। এতে আমার দুই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। আমি দেওয়াল টপকিয়ে ফিরে এলাম। এভাবে আমি একদিন মদীনার গলিতে ঘুরাফেরা করছিলাম। হঠাৎ দেখলাম, একজন সিরীয় বণিক খাদ্য-শস্য নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে মদীনায় এসেছে। সে জানতে চাইল, কা'ব ইবন মালিক কে? বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকেরা আমাকে দেখিয়ে দিল। এমনকি লোকটি আমার কাছে এসে গাস্সানের বাদশাহর একটি চিঠি হস্তান্তর করল। আমি লেখা পড়া জানতাম। আমি তা পাঠ করে তাতে পেলাম যে, "আমাদের কাছে এই মর্মে সংবাদ এসেছে যে, আপনার নবী (ﷺ) আপনার উপর যুলম করেছেন, অথচ আল্লাহ্ আপনাকে ছোট বংশে অথবা নিঃস্ব পরিবারে পাঠাননি। আপনি আমাদের কাছে এলে আমরা আপনার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করব। তিনি বলেন: আমি তা পাঠ করে বললাম, এও আরেকটি বিপদ। আমি তা চুলায় দেয়ার ইচ্ছা করলাম এবং চুলায় দিয়ে তা পুড়িয়ে ফেললাম। এরপর যখন পঞ্চাশ দিনের চল্লিশ দিন অতিক্রান্ত হল এবং ওহীও বন্ধ থাকল, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে একজন দূত আমার কাছে এসে বলল: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকেন। বর্ণনাকারী কা'ব (রা) বলেনঃ আমি কি তাতে তালাক দেব, না কি করব? সে বলল: না, বরং আপনি তার সংশ্রব বর্জন করুন এবং তার কাছে যাবেন না। তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) আমার অপর দুই সাথীর নিকটও অনুরূপ নির্দেশ দিয়ে দূত পাঠান। কা'ব (রা) বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে বললামঃ এ ব্যাপারে যতদিন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফয়সালা না আসে, তুমি তোমার পিত্রালয়ে অবস্থান করবে। কা'ব (রা) বলেন,তখন হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেন: হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) একজন আসহায় বৃদ্ধ লোক, যার কোন খাদেমও নেই। এমতাবস্থায় আমি যদি তাঁর খিদমত করি, তা কি আপনি অপসন্দ করবেন? তিনি (রাসুলুল্লাহ্ ﷺ) বলেন: না, তবে সে যেন তোমার (উপর উপগত) নিকটবর্তী না হয়। সে (হিলাল ইবন উমায়্যা (রা) এর স্ত্রী) বলল: আল্লাহর শপথ! কোন বস্তুর প্রতি তার কোন আকর্ষণ নেই। আল্লাহর শপথ! যে দিন থেকে ঐ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সে কেবলই কান্নাকাটি করছে। কা'ব (রা) বলেন, এসময় আমার আপনজনের কেউ কেউ আমাকে বললঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল ইবন উমায়্যার স্ত্রীকে যে ভাবে খিদমতের অনুমতি দিয়েছেন, আপনি যদি সেভাবে অনুমতি নিতেন, তবে ভালই হতো। হযরত কা'ব (রা) বলেন, আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করব না। আমি অনুমতি চাইলে তিনি কি বলেন, তা আমি জানি না। তাছাড়া আমি একজন যুবক। হযরত কা'ব (রা) বলেনঃ আমি এভাবে আরো দশদিন কাটালাম। আমাদের সাথে কথাবার্তার নিষেধাজ্ঞা জারী করা থেকে ঐ যাবত পঞ্চাশ দিন পরিপূর্ণ হলো। তিনি বলেন: এ সময় আমি আমার বাড়ীর ছাদে ফজরের সালাত আদায় করলাম। আর তখন আমি ঐ অবস্থায় আমার জীবন সংকীর্ণ মনে করছিলাম এবং পৃথিবীকে আমার নিকট খুব ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল যা আল্লাহ্ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। ঐ সময় আমি সিলু'আ নামক স্থানের পাহাড় থেকে এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে শুনলাম এবং সে উচ্চকণ্ঠে বলছেঃ হে কা'ব ইবন মালিক! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। তিনি বলেন, আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এবং জানতে পারলাম যে, আমার বিপদ কেটে গেছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায়ের পর আমাদের তাওবা আল্লাহর নিকট গৃহীত হওয়ার সংবাদ ঘোষণা করেন। লোকেরা আমাদের সুসংবাদ দানের জন্য ছুটে এলো, আমার অপর দুই সাথীর সুসংবাদদাতাগণ ছুটে গেল। তখন এক ব্যক্তি ঘোড়া হাকিয়ে আমার কাছে এলো। বনী আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আমার দিকে পায়ে হেঁটে এলো এবং সে পাহাড়ে উঠে আশ্বারোহী অপেক্ষা উচ্চ স্বরে সুসংবাদ নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার কাছে এলো। পরে যখন ঐ লোকটি আমার কাছে স্বশরীরে উপস্থিত হল যার সুসংবাদের শব্দ আমি শুনেছিলাম, তাকে আমি আমার পরিধেয় দু'টি কাপড় দান করে দিলাম। আল্লাহর শপথ। ঐ সময় আমার কাছে দু'টি কাপড় ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। আমি দু'টি কাপড় ধার করে পরে নিলাম এবং আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সংগে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তখন লোকেরা আমার তাওবা কবুল হওয়ার জন্য মুবারকবাদ দিতে দিতে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলতে লাগল: তোমার তাওবা আল্লাহ কবুল করেছেন বলে তোমাকে মুবারকবাদ। এভাবে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের মাঝে বসে আছেন। তাঁদের' মধ্যে তালহা ইবন উবায়দুল্লাহ্ (রা) দৌড়ে এসে আমার সাথে মুসাফাহা করেন এবং মুবারকবাদ জানান। আল্লাহর শপথ। তিনি ব্যতীত কোন মুহাজির আমার কাছে এগিয়ে আসেন নি। রাবী (আবদুল্লাহ্) বলেনঃ কা'ব (রা) তালহা (রা) এর এ কথা ভুলেননি। কা'ব (রা) বলেনঃ এরপর যখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সালাম দিলাম, এখন তাঁর চেহারা অত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বলেনঃ তুমি তোমার মায়ের উদর থেকে ভূমিষ্ট হওয়ার দিন থেকে এ যাবত সর্বাধিক উত্তম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ কর। কা'ব (রা) বলেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ্। এ সুসংবাদ কি আপনার পক্ষ থেকে না আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বলেনঃ বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে। রাসূলুল্লাহ যখন কোন ব্যাপারে আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা এমনভাবে উজ্জ্বল হত, যেন তা চাঁদের টুকরা। তিনি বলেন, আমরা তা বুঝতে পারতাম। কা'ব (রা) বলেনঃ এর পর আমি তাঁর সামনে বসে তখন বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমার তাওবার বিনিময় আমি আমার সম্পদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্য সাদাকা হিসেবে দান করতে চাই। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমার সম্পদের কিছু অংশ তোমার নিজের জন্য রেখে দেওয়া ভাল। তিনি (কা'ব) বলেনঃ তখন আমি খায়বারের যুদ্ধে প্রাপ্ত অংশ রেখে দিলাম। তিনি (কা'ব) বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ্। একমাত্র সত্যবাদিতার কারণেই আল্লাহ্ আমাকে নাজাত দিলেন। আমি আমার তাওবায় এও ঘোষণা করতে চাই যে, আমি আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কখনো সত্য ছাড়া মিথ্যা কথা বলব না, আল্লাহর শপথ। আমাকে সত্যকথা বলার ব্যাপারে আল্লাহ যে পরীক্ষা করেন, যা আমি আল্লাহর রাসুলের নিকট পেশ করেছি, কাউকে এমন পরীক্ষার সম্মুখীন পাইনি। আমি নিশ্চিত আশাবাদী যে, আল্লাহ আমাকে আজীবন হিফাযত করবেন। প্রমাণ স্বরূপ তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা নিম্মোক্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন:

لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ مَا كَادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (117) وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ (118) يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ (119)

"আল্লাহ্ অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা সংকটকালে তার অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের একদলের চিত্ত-বৈকল্যের উপক্রম হয়েছিল। পরে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করেন, তিনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র পরম দয়ালু। আর তিনি ক্ষমা করলেন অপর তিনজনকেও যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা সংকুচিত হয়েছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিসহ হয়েছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন অশ্রয় স্থল নেই, পরে তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহপরায়ণ হলেন, যাতে তারা তাওবা করে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হও।" (সূরা তাওবা: ১১৭-১১৯)
কা'ব (রা) বলেনঃ আল্লাহর শপথ। ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহ্ যত নি'আমত দান করেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে আমার ব্যাপারে সত্য বিবরণ সম্বলিত যে নি'আমত আমি পেয়েছি, তা আমার কাছে সর্বাধিক বড় নি'আমত। (আমি প্রতীজ্ঞা করেছিলাম) আমি মিথ্যা বলব না এবং ধ্বংস হব না, যেভাবে মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হয়। মিথ্যাবাদীদের মিথ্যা বিবরণের পর তাদের উদ্দেশ্যে যে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, তা এতই ভয়াবহ, যা অন্যদের বেলায় আল্লাহ্ অবর্তীর্ণ করেন নি। যেমন আল্লাহ বলেনঃ

سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (95) يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

"তোমরা তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের উপেক্ষা কর। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে; তারা অপবিত্র এবং তাদের কৃতকর্মের ফল স্বরূপ জাহান্নাম তাদের আবসস্থল। তারা তোমাদের নিকট শপথ করবে, যাতে তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। তোমরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেও আল্লাহ্ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন না"। (সূরা তাওবা: ১৫-১৬)
কা'ব (রা) বলেন: যুদ্ধে অনুপস্থিতদের মধ্যে কেবল আমরা তিনজনই সত্যবাদী ছিলাম আর ঐ মিথ্যাবাদীদের পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যখন তারা শপথ করে ওযর পেশ করল, তখন তিনি তাদের বায়'আত করান এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ব্যাপারটি আল্লাহর ফয়সালা না আসা পর্যন্ত পিছিয়ে দেন এবং বলেন: وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا "তাদের তিনজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল"।
আল্লাহ্ তা আলা কুরআন মজীদে خُلِّفُوا শব্দ দ্বারা যাদের উল্লেখ করেছেন, এর দ্বারা অনুপস্থিত সকল ব্যক্তিবর্গ উদ্দেশ্য নয়। কেবলমাত্র আমাদের (তিনজনকে) লক্ষ্য করে বলা হয়েছে। যারা মিথ্যা শপথ করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে ওযর পেশ করেছিল এবং তিনি তাদের ওযর কবুল করেন, আর আমরা ছিলাম তাদের ব্যতিক্রম। পক্ষান্তরে, তিনি আমাদের তাওবা কবুলের বিষয়টি পিছিয়ে দেন।
বুখারী, মুসলিম নিজ শব্দে, আবু দাউদ, নাসাঈ অনুরূপ ভিন্ন ভিন্ন শব্দযোগে সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসের প্রথম অংশ উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, হাদীসটি এরূপ-
وری عنالشئ : শ্রোতার কাছে বক্তার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট রাখার অন্য পরোক্ষভাবে শব্দ ব্যবহার করা।
المفاز: পানি শূন্য মরুময় এলাকা।
یتمادی بی : দীর্ঘ সূত্রিতা।
تفارط الغزو : যুদ্ধে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়া।
المغموض : কাউকে সর্বদা দোষী মনে করা।
ويزول به السراب : দৃষ্টি স্পষ্ট হওয়া।
أوفى على سلع : উপরে ওঠা, সাল'আ মদীনার একটি প্রসিদ্ধ পাহাড়।
أيمم- আমি ইচ্ছা করলাম।
أرجأ أمرنا : আমার ব্যাপারটি পিছিয়ে দিলেন।
فأنا إليها أصعر : আমি ফসল তোলার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলাম।
জাওহারী (র) বলেন: ،في الخد خاصة
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4460- عَن عبد الله بن كَعْب بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت كَعْب بن مَالك يحدث حَدِيثه حِين تخلف عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة تَبُوك
قَالَ كَعْب بن مَالك لم أَتَخَلَّف عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة غَزَاهَا قطّ إِلَّا فِي غَزْوَة تَبُوك غير أَنِّي قد تخلفت فِي غَزْوَة بدر وَلم يُعَاتب أحدا تخلف عَنهُ إِنَّمَا خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون يُرِيدُونَ عير قُرَيْش حَتَّى جمع الله بَينهم وَبَين عدوهم على غير ميعاد وَلَقَد شهِدت مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيْلَة الْعقبَة
حِين تواثقنا على الْإِسْلَام وَمَا أحب أَن لي بهَا مشْهد بدر وَإِن كَانَت بدر أذكر فِي النَّاس مِنْهَا وَكَانَ من خبري حِين تخلفت عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي غَزْوَة تَبُوك أَنِّي لم أكن قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنهُ فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَالله مَا جمعت قبلهَا راحلتين قطّ حَتَّى جمعتهما فِي تِلْكَ الْغَزْوَة وَلم يكن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُرِيد غَزْوَة إِلَّا ورى بغَيْرهَا حَتَّى كَانَت تِلْكَ الْغَزْوَة فَغَزَاهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي حر شَدِيد واستقبل سفرا بَعيدا ومفاوز واستقبل عدوا كثيرا فجلا للْمُسلمين أَمرهم لِيَتَأَهَّبُوا أهبة غزوهم وَأخْبرهمْ بوجههم الَّذِي يُرِيد الْمُسلمُونَ مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَكثير لَا يجمعهُمْ كتاب حَافظ يُرِيد بذلك الدِّيوَان
قَالَ كَعْب فَقل رجل يُرِيد أَن يتغيب إِلَّا ظن أَن ذَلِك سيخفى مَا لم ينزل فِيهِ وَحي من الله عز وَجل وغزا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تِلْكَ الْغَزْوَة حِين طابت الثِّمَار والظلال فَأَنا إِلَيْهَا أصعر فتجهز رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم والمسلمون مَعَه وطفقت أغدو لكَي أتجهز مَعَهم فأرجع وَلم أقض شَيْئا وَأَقُول فِي نَفسِي أَنا قَادر على ذَلِك إِذا أردْت وَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى اسْتمرّ بِالنَّاسِ الْجد فَأصْبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم غاديا والمسلمون مَعَه وَلم أقض من جهازي شَيْئا ثمَّ غَدَوْت فَرَجَعت وَلم أقض شَيْئا فَلم يزل ذَلِك يتمادى بِي حَتَّى أَسْرعُوا وتفارط الْغَزْو فهممت أَن أرتحل فأدركهم فيا لَيْتَني فعلت ثمَّ لم يقدر لي ذَلِك وطفقت إِذا خرجت فِي النَّاس بعد خُرُوج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يحزنني أَنِّي لَا أرى لي أُسْوَة إِلَّا رجلا مغموضا عَلَيْهِ فِي النِّفَاق أَو رجلا مِمَّن عذر الله من الضُّعَفَاء وَلم يذكرنِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى بلغ تَبُوك فَقَالَ وَهُوَ جَالس فِي الْقَوْم بتبوك مَا فعل كَعْب بن مَالك فَقَالَ رجل من بني سَلمَة يَا رَسُول الله حَبسه برْدَاهُ وَالنَّظَر فِي عطفيه فَقَالَ لَهُ معَاذ بن جبل بئْسَمَا قلت وَالله يَا رَسُول الله مَا علمنَا عَلَيْهِ إِلَّا خيرا فَسكت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَبَيْنَمَا هُوَ على ذَلِك فَرَأى رجلا مبيضا يَزُول بِهِ السراب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كن أَبَا خَيْثَمَة فَإِذا هُوَ أَبُو خَيْثَمَة الْأنْصَارِيّ وَهُوَ الَّذِي تصدق بِصَاع التَّمْر حِين لمزه المُنَافِقُونَ
قَالَ كَعْب فَلَمَّا بَلغنِي أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد توجه قَافِلًا من تَبُوك حضرني بثي فطفقت أَتَذكر الْكَذِب وَأَقُول بِمَا أخرج من سخطه غَدا وأستعين على ذَلِك بِكُل ذِي رَأْي من أَهلِي فَلَمَّا قيل إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قد ظلّ قادما رَاح عني الْبَاطِل حَتَّى عرفت أَنِّي لن أنجو مِنْهُ بِشَيْء أبدا فأجمعت صدقه وصبح رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قادما وَكَانَ إِذا قدم من سفر بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثمَّ جلس للنَّاس فَلَمَّا فعل ذَلِك جَاءَهُ الْمُخَلفُونَ فطفقوا يَعْتَذِرُونَ إِلَيْهِ ويحلفون لَهُ وَكَانُوا بضعَة
وَثَمَانِينَ رجلا فَقبل مِنْهُم علانيتهم وبايعهم واستغفر لَهُم ووكل سرائرهم إِلَى الله عز وَجل حَتَّى جِئْت فَلَمَّا سلمت تَبَسم تَبَسم الْمُغْضب ثمَّ قَالَ تعال فَجئْت أَمْشِي حَتَّى جَلَست بَين يَدَيْهِ فَقَالَ لي مَا خَلفك ألم تكن قد ابتعت ظهرك قلت يَا رَسُول الله إِنِّي وَالله لَو جَلَست عِنْد غَيْرك من أهل الدُّنْيَا لرأيت أَنِّي سأخرج من سخطه بِعُذْر وَلَقَد أَعْطَيْت جدلا وَلَكِنِّي وَالله لقد علمت لَئِن حدثتك الْيَوْم حَدِيث كذب ترْضى بِهِ عني ليوشكن الله أَن يسخطك عَليّ وَلَئِن حدثتك حَدِيث صدق تَجِد عَليّ فِيهِ إِنِّي لأرجو فِيهِ عُقبى الله عز وَجل
وَفِي رِوَايَة عَفْو الله وَالله مَا كَانَ لي من عذر مَا كنت قطّ أقوى وَلَا أيسر مني حِين تخلفت عَنْك
قَالَ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أما هَذَا فقد صدق فَقُمْ حَتَّى يقْضِي الله فِيك فَقُمْت وثار رجال من بني سَلمَة فَاتبعُوني فَقَالُوا وَالله مَا علمناك أذنبت ذَنبا قبل هَذَا لقد عجزت فِي أَن لَا تكون اعتذرت إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بِمَا اعتذر إِلَيْهِ الْمُخَلفُونَ فقد كَانَ كافيك ذَنْبك اسْتِغْفَار رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَك قَالَ فوَاللَّه مَا زَالُوا يؤنبونني حَتَّى أردْت أَن أرجع إِلَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فأكذب نَفسِي قَالَ ثمَّ قلت لَهُم هَل لَقِي هَذَا معي أحد قَالُوا نعم لقِيه مَعَك رجلَانِ قَالَا مثل مَا قلت وَقيل لَهما مَا قيل لَك قَالَ قلت من هما قَالُوا مرَارَة بن ربيعَة العامري وهلال بن أُميَّة الوَاقِفِي
قَالَ فَذكرُوا لي رجلَيْنِ صالحين قد شَهدا بَدْرًا فيهمَا أُسْوَة قَالَ فمضيت حَتَّى ذكروهما لي قَالَ وَنهى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْمُسلمين عَن كلامنا أَيهَا الثَّلَاثَة من بَين من تخلف عَنهُ
قَالَ فَاجْتَنَبَنَا النَّاس أَو قَالَ تغيرُوا لنا حَتَّى تنكرت لي فِي نَفسِي الأَرْض فَمَا هِيَ بِالْأَرْضِ الَّتِي أعرف فلبثنا على ذَلِك خمسين لَيْلَة فَأَما صَاحِبَايَ فاستكانا وقعدا فِي بيوتهما يَبْكِيَانِ وَأما أَنا فَكنت أشب الْقَوْم وأجلدهم فَكنت أخرج فَأشْهد الصَّلَاة وأطوف فِي الْأَسْوَاق فَلَا يكلمني أحد وَآتِي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَهُوَ فِي مَجْلِسه بعد الصَّلَاة فَأسلم فَأَقُول فِي نَفسِي هَل حرك شَفَتَيْه برد السَّلَام أم لَا ثمَّ أُصَلِّي قَرِيبا مِنْهُ وأسارقه النّظر فَإِذا أَقبلت على صَلَاتي نظر إِلَيّ فَإِذا الْتفت نَحوه أعرض عني حَتَّى إِذا طَال عَليّ ذَلِك من جفوة الْمُسلمين مشيت حَتَّى تسورت جِدَار حَائِط أبي قَتَادَة وَهُوَ ابْن عمي وَأحب النَّاس إِلَيّ فَسلمت عَلَيْهِ فوَاللَّه مَا رد عَليّ السَّلَام فَقلت يَا أَبَا قَتَادَة أنْشدك بِاللَّه هَل تعلمن أَنِّي أحب الله وَرَسُوله قَالَ فَسكت فعدت فناشدته فَسكت فعدت فناشدته فَقَالَ الله وَرَسُوله أعلم فَفَاضَتْ عَيْنَايَ وتوليت حَتَّى تسورت الْجِدَار فَبينا أَنا أَمْشِي فِي سوق الْمَدِينَة إِذا نبطي من أَنْبَاط
أهل الشَّام مِمَّن قدم بِطَعَام يَبِيعهُ بِالْمَدِينَةِ يَقُول من يدل على كَعْب بن مَالك قَالَ فَطَفِقَ النَّاس يشيرون لَهُ إِلَيّ حَتَّى جَاءَنِي فَدفع إِلَيّ كتابا من ملك غَسَّان وَكنت كَاتبا فَقَرَأته فَإِذا فِيهِ أما بعد فَإِنَّهُ قد بلغنَا أَن صَاحبك قد جفاك وَلم يجعلك الله بدار هوان وَلَا مضيعة فَألْحق بِنَا نواسك
قَالَ فَقلت حِين قرأتها وَهَذِه أَيْضا من الْبلَاء فَتَيَمَّمت بهَا التَّنور فسجرتها حَتَّى إِذا مَضَت أَرْبَعُونَ من الْخمسين واستلبث الْوَحْي وَإِذا رَسُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يأتيني فَقَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمُرك أَن تَعْتَزِل امْرَأَتك
قَالَ فَقلت أطلقها أم مَاذَا أفعل قَالَ لَا
بل اعتزلها فَلَا تَقربهَا وَأرْسل إِلَى صَاحِبي بِمثل ذَلِك قَالَ فَقلت لامرأتي الحقي بأهلك فكوني عِنْدهم حَتَّى يقْضِي الله فِي هَذَا الْأَمر
قَالَ فَجَاءَت امْرَأَة هِلَال بن أُميَّة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَت يَا رَسُول الله إِن هِلَال بن أُميَّة شيخ ضائع لَيْسَ لَهُ خَادِم فَهَل تكره أَن أخدمه قَالَ لَا وَلَكِن لَا يقربنك
قَالَت إِنَّه وَالله مَا بِهِ حَرَكَة إِلَى شَيْء وَوَاللَّه مَا زَالَ يبكي مُنْذُ كَانَ من أمره مَا كَانَ إِلَى يَوْمه هَذَا
قَالَ فَقَالَ لي بعض أَهلِي لَو اسْتَأْذَنت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فقد أذن لامْرَأَة هِلَال بن أُميَّة أَن تخدمه
قَالَ فَقلت وَالله لَا أَسْتَأْذن فِيهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَا يدريني مَا يَقُول رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا استأذنته فِيهَا وَأَنا رجل شَاب قَالَ فَلَبثت بذلك عشر لَيَال فكمل لنا خَمْسُونَ لَيْلَة من حِين نهى عَن كلامنا
قَالَ ثمَّ صليت صَلَاة الصُّبْح صباح خمسين لَيْلَة على ظهر بَيت من بُيُوتنَا فَبينا أَنا جَالس على الْحَالة الَّتِي ذكر الله عز وَجل منا قد ضَاقَتْ عَليّ نَفسِي وَضَاقَتْ عَليّ الأَرْض بِمَا رَحبَتْ سَمِعت صَوت صارخ أوفى على سلع يَقُول بِأَعْلَى صَوته يَا كَعْب بن مَالك أبشر قَالَ فَخَرَرْت سَاجِدا وَعلمت أَن قد جَاءَ فرج قَالَ وَأذن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم النَّاس بتوبة الله علينا حِين صلى صَلَاة الْفجْر فَذهب النَّاس يبشروننا فَذهب قبل صَاحِبي مبشرون وركض رجل إِلَيّ فرسا وسعى ساع من أسلم من قبلي وأوفى على الْجَبَل فَكَانَ الصَّوْت أسْرع من الْفرس فَلَمَّا جَاءَنِي الَّذِي سَمِعت صَوته يبشرني نزعت لَهُ ثوبي فكسوتهما إِيَّاه ببشارته وَالله مَا أملك غَيرهمَا يَوْمئِذٍ واستعرت ثَوْبَيْنِ فلبستهما وَانْطَلَقت أيمم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فتلقاني النَّاس فوجا فوجا يهنئوني بِالتَّوْبَةِ وَيَقُولُونَ وليهنك تَوْبَة الله عَلَيْك حَتَّى دَخَلنَا الْمَسْجِد فَإِذا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حوله النَّاس فَقَامَ طَلْحَة بن عبيد الله يُهَرْوِل حَتَّى صَافَحَنِي وَهَنأَنِي وَالله مَا قَامَ إِلَيّ رجل من الْمُهَاجِرين غَيره
قَالَ فَكَانَ كَعْب لَا ينساها لطلْحَة
قَالَ كَعْب فَلَمَّا سلمت على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ وَهُوَ يَبْرق وَجهه منالسرُور قَالَ أبشر بِخَير يَوْم مر عَلَيْك مُنْذُ وَلدتك أمك
قَالَ فَقلت أَمن عنْدك يَا رَسُول الله أم من عِنْد الله قَالَ بل من عِنْد الله
وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا سر استنار وَجهه حَتَّى كَأَن وَجهه قِطْعَة قمر قَالَ وَكُنَّا نَعْرِف ذَلِك
قَالَ فَلَمَّا جَلَست بَين يَدَيْهِ قلت يَا رَسُول الله إِن من تَوْبَتِي أَن أَنْخَلِع من مَالِي صَدَقَة إِلَى الله وَإِلَى رَسُوله فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمسك عَلَيْك بعض مَالك فَهُوَ خير لَك
قَالَ فَقلت فَإِنِّي أمسك سهمي الَّذِي بِخَيْبَر
قَالَ وَقلت يَا رَسُول الله إِنَّمَا أنجاني الله بِالصّدقِ وَإِن من تَوْبَتِي أَن لَا أحدث إِلَّا صدقا مَا بقيت قَالَ فوَاللَّه مَا علمت أحدا أبلاه الله فِي صدق الحَدِيث مُنْذُ ذكرت ذَلِك لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى يومي هَذَا وَإِنِّي لأرجو أَن يحفظني الله فِيمَا بَقِي
قَالَ فَأنْزل الله عز وَجل لقد تَابَ الله على النَّبِي والمهاجرين وَالْأَنْصَار الَّذين اتَّبعُوهُ فِي سَاعَة الْعسرَة حَتَّى بلغ إِنَّه بهم رؤوف رَحِيم
وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا حَتَّى إِذا ضَاقَتْ عَلَيْهِم الأَرْض بِمَا رَحبَتْ حَتَّى بلغ اتَّقوا الله وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقين التَّوْبَة 711 911
قَالَ كَعْب وَالله مَا أنعم الله عَليّ من نعْمَة قطّ بعد إِذْ هَدَانِي الله لِلْإِسْلَامِ أعظم فِي نَفسِي من صدقي لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن لَا أكون كَذبته فَأهْلك كَمَا هلك الَّذين كذبُوا إِن الله عز وَجل قَالَ للَّذين كذبُوا حِين نزل الْوَحْي شَرّ مَا قَالَ لأحد فَقَالَ سيحلفون بِاللَّه لكم إِذا انقلبتم إِلَيْهِم لتعرضوا عَنْهُم فأعرضوا عَنْهُم إِنَّهُم رِجْس ومأواهم جَهَنَّم جَزَاء بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ يحلفُونَ لكم لترضوا عَنْهُم فَإِن ترضوا عَنْهُم فَإِن الله لَا يرضى عَن الْقَوْم الْفَاسِقين التَّوْبَة 59 69 قَالَ كَعْب كُنَّا خلفنا أَيهَا الثَّلَاثَة عَن أَمر أُولَئِكَ الَّذين قبل مِنْهُم رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حِين حلفوا لَهُ فبايعهم واستغفر لَهُم وأرجأ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أمرنَا حَتَّى قضى الله تَعَالَى فِيهِ بذلك
قَالَ الله عز وَجل وعَلى الثَّلَاثَة الَّذين خلفوا وَلَيْسَ الَّذِي ذكره مَا خلفنا تخلفنا عَن الْغَزْو وَإِنَّمَا هُوَ تخليفه إيانا وإرجاؤه أمرنَا عَمَّن حلف لَهُ وَاعْتذر إِلَيْهِ فَقبل مِنْهُ
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بِنَحْوِهِ مفرقا مُخْتَصرا وروى التِّرْمِذِيّ قِطْعَة من أَوله ثمَّ قَالَ وَذكر الحَدِيث
ورى عَن الشَّيْء إِذا ذكره بِلَفْظ يدل عَلَيْهِ أَو على بعضه دلَالَة خُفْيَة عِنْد السَّامعالمفاز والمفازة هِيَ الفلاة لَا مَاء بهَا
يتمادى بِي أَي يَتَطَاوَل ويتأخر
وَقَوله تفارط الْغَزْو أَي فَاتَ وقته من أَرَادَهُ وَبعد عَلَيْهِ إِدْرَاكه
المغموض بالغين وَالضَّاد المعجمتين هُوَ الْمَعِيب الْمشَار إِلَيْهِ بِالْعَيْبِ
وَيَزُول بِهِ السراب أَي يظْهر شخصه خيالا فِيهِ
أوفى على سلع أَي طلع عَلَيْهِ وسلع جبل مَعْرُوف فِي أَرض الْمَدِينَة
أيمم أَي أقصد
أرجأ أمرنَا أَخّرهُ والإرجاء التَّأْخِير
وَقَوله فَأَنا إِلَيْهَا أصعر بِفَتْح الْهمزَة وَالْعين الْمُهْملَة جَمِيعًا وَسُكُون الصَّاد الْمُهْملَة أَي أميل إِلَى الْبَقَاء فِيهَا وأشتهي ذَلِك والصعر الْميل وَقَالَ الْجَوْهَرِي فِي الخد خَاصَّة
হাদীস নং: ৪৪৬১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬১. হযরত উবাদা ইবন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমরা আমার নিকট ছয়টি বিষয়ের যিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হবো। তা হলঃ ১. যখন তোমরা কথা বলবে, সত্য বলবে, ২. অঙ্গীকার করলে, তা পূরণ করবে, ৩. আমানত যথাযথ আদায় করবে, ৪. তোমাদের গুপ্তাঙ্গ সংরক্ষণ করবে, ৫. তোমাদের দৃষ্টি নিম্নগামী রাখবে এবং ৬. অন্যায় কাজ থেকে তোমাদের হাত ফিরিয়ে রাখবে।
(আহমাদ ইবন আবুদ দুনিয়া, ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ, হাকিম, বায়হাকী (র) বর্ণিত। তাঁরা সবাই মুত্তালিব ইবন আবদুল্লাহ ইব্‌ন হানতাব (র) থেকে বর্ণনা করেন। হাকিম (র) বলেন: হাদীসটির সনদ সহীহ। [হাকিম মুনযিরী (র) বলেন): মুত্তালিব (র) উবাদা (রা) থেকে সরাসরি হাদীসটি শুনেন নি।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4461- وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اضمنوا لي سِتا من أَنفسكُم أضمن لكم الْجنَّة اصدقوا إِذا حدثتم وأوفوا إِذا وعدتم وأدوا إِذا ائتمنتم واحفظوا فروجكم وغضوا أبصاركم وَكفوا أَيْدِيكُم

رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ كلهم من رِوَايَة الْمطلب بن عبد الله بن حنْطَب عَنهُ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
قَالَ الْحَافِظ الْمطلب لم يسمع من عبَادَة
হাদীস নং: ৪৪৬২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: তোমরা আমার নিকট থেকে ছয়টি উপদেশ গ্রহণ কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের মঞ্জুরী দেব। তা হলঃ ১. তোমাদের কেউ যখন কথা বলে, তখন সে যেন মিথ্যা না বলে, ২. যখন অঙ্গীকার করে, তখন যেন ভঙ্গ না করে, ৩. যখন আমানত রাখা হয় তখন তা খিয়ানত না করে, ৪. তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখবে, ৫. তোমাদের হাতকে হারাম থেকে বিরত রাখবে এবং ৬. তোমাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করবে।
(আবু বকর ইবন আবু শায়বা, আবু ই'আলা, হাকিম ও বায়হাকী (র) থেকে বর্ণিত। সাদ ইবন সিনান ব্যতীত অপরাপর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4462- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ تقبلُوا لي سِتا أتقبل لكم الْجنَّة إِذا حدث أحدكُم فَلَا يكذب وَإِذا وعد فَلَا يخلف وَإِذا ائْتمن فَلَا يخن غضوا أبصاركم وَكفوا أَيْدِيكُم واحفظوا فروجكم

رَوَاهُ أَبُو بكر بن أبي شيبَة وَأَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ ورواتهم ثِقَات إِلَّا سعد بن سِنَان
হাদীস নং: ৪৪৬৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৩. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা বর্জন করে, যদিও তা উপহাসচ্ছলে হয়, আমি তার জান্নাতের মধ্য স্থানের বালাখানার জন্য যামীনদার।
(বায়হাকী উত্তম সনদে, আবু দাউদ ও তিরমিযী (র) বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান। পূর্বের ইবন মাজা (র) حسن الخلق অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4463- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَنا زعيم بِبَيْت فِي وسط الْجنَّة لمن ترك الْكَذِب وَإِن كَانَ مازحا

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسن
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه فِي حَدِيث تقدم فِي حسن الْخلق
হাদীস নং: ৪৪৬৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৪. হযরত আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন আবু কুরাদ সুলামী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি পানি চান এবং তাতে হাত ডুবিয়ে উযূ করেন। আমরা তাঁর উযূর গড়ানো পানির পেছনে যেয়ে তা তুলে নেই তখন নবী (ﷺ) বলেন: একাজ করতে কিসে তোমাদেরকে অনুপ্রাণিত করল? তারা বলল: আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের মহব্বত। তিনি বলেনঃ তোমরা যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রিয় হতে চাও, তবে তোমাদের নিকট আমানত রাখা হলে তা পৌঁছে দেবে, কথা বললে সত্য বলবে, তোমাদের প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করবে।
(তাবারাণী বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4464- وَعَن عبد الرَّحْمَن بن الْحَارِث بن أبي قراد السّلمِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَدَعَا بِطهُور فَغمسَ يَده فَتَوَضَّأ فتتبعناه فحسوناه فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا حملكم على مَا فَعلْتُمْ قُلْنَا حب الله وَرَسُوله قَالَ فَإِن أَحْبَبْتُم أَن يحبكم الله وَرَسُوله فأدوا إِذا ائتمنتم واصدقوا إِذا حدثتم وأحسنوا جوَار من جاوركم

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৬৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যদি তোমার মধ্যে চারটি জিনিস পাওয়া যায, তবে দুনিয়ার সবকিছু ধ্বংস হলেও তোমার কোন ক্ষতি হবে না। তা হলঃ ১. আমানত রক্ষা করা ২. সচ্চরিত্রবান হওয়া ৩. সত্যবাদী হওয়া এবং ৪. হালাল খানা খাওয়া।
(আহমাদ, ইব্‌ন আবূদ দুনিয়া, তাবারানী এবং বায়হাকী কয়েকটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4465- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَربع إِذا كن فِيك فَلَا عَلَيْك مَا فاتك من الدُّنْيَا حفظ أَمَانَة وَصدق حَدِيث وَحسن خَلِيقَة وعفة فِي طعمة

رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ بأسانيد حَسَنَة
হাদীস নং: ৪৪৬৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৬. হযরত হাসান ইব্‌ন আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে একটি বাক্য সংরক্ষণ করেছি। তা হচ্ছে- যাতে তোমার সন্দেহ রয়েছে তা বর্জন করবে এবং যা সন্দেহ মুক্ত তা গ্রহণ করবে। কেননা, সত্যবাদিতার মধ্যে রয়েছে প্রশান্তি এবং মিথ্যাবাদিতার মধ্যে রয়েছে অশান্তি।
(তিরমিযী (র) বর্ণিত। তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4466- وَعَن الْحسن بن عَليّ رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ حفظت من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم دع مَا يريبك إِلَى مَا لَا يريبك فَإِن الصدْق طمأنينة وَالْكذب رِيبَة

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح
হাদীস নং: ৪৪৬৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর ইব্‌ন আ'স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বললামঃ ইয়া নবী আল্লাহ্! মানুষের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি সর্বোত্তম? তিনি বলেন: মাখমুম অন্তরের অধিকারী, কথাবার্তায় সত্যাশ্রয়ী। তিনি বলেন: ইয়া নাবী আল্লাহ্! আমরা সত্যবাদিতা সম্পর্কে জানি। তবে 'কালবে মাখমুম' কি? তিনি বলেন: আল্লাহ্ ভীরু পবিত্র অন্তর, যার মধ্যে গুনাহের কালিমা, আল্লাহদ্রোহীতা ও হিংসা নেই। তিনি বলেন, আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্। তার লক্ষণ কি? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ এবং আখিরাতকে ভালবাসে। আমরা বললামঃ আমাদের মধ্যে আপনার মুক্তদাস রাফি' (রা) ব্যতীত আর কারো মধ্যে ঐ লক্ষণ দেখতে পাই না। এর লক্ষণ কি? তিনি বলেন: উত্তম চরিত্রের অধিকারী মু'মিন। আমরা বললাম: হাঁ, এ ধরনের লোক আমাদের মধ্যে আছে।
(ইবন মাজা (র) বিশুদ্ধ সনদে পেছনে নিজ শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকী। বায়হাকীর শব্দমালা যোগেই এই হাদীসটি বর্ণিত এবং তা পূর্ণাঙ্গ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4467- وَعَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قُلْنَا يَا نَبِي الله من خير النَّاس قَالَ ذُو الْقلب المخموم وَاللِّسَان الصَّادِق
قَالَ يَا نَبِي الله قد عرفنَا اللِّسَان الصَّادِق فَمَا الْقلب المخموم قَالَ التقي النقي الَّذِي لَا إِثْم فِيهِ وَلَا بغي وَلَا حسد
قَالَ قُلْنَا يَا رَسُول الله فَمن على أَثَره قَالَ الَّذِي يشنأ الدُّنْيَا وَيُحب الْآخِرَة
قُلْنَا مَا نَعْرِف هَذَا فِينَا إِلَّا رَافع مولى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمن على أَثَره قَالَ مُؤمن فِي خلق حسن
قُلْنَا أما هَذِه ففينا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد صَحِيح وَتقدم لَفظه وَالْبَيْهَقِيّ وَهَذَا لَفظه وَهُوَ أتم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৬৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৮. মানসুর ইবন মু'তামির (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা সর্বাত্মকভাবে সত্য অবলম্বন কর। যদিও তোমরা (বাহ্যত) তার মধ্যে ধ্বংস দেখতে পাও, মূলত তার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মুক্তি!
(ইব্‌ন আবুদ দুনিয়ার 'কিতাবুস্ সামত' এ বর্ণিত। ইব্‌ন আবুদ দুনিয়া অনুরূপ মু'দাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4468- وَعَن مَنْصُور بن الْمُعْتَمِر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تحروا الصدْق وَإِن رَأَيْتُمْ أَن الهلكة فِيهِ فَإِن فِيهِ النجَاة

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الصمت هَكَذَا معضلا وَرُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৬৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৯. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের নিজেদের জন্য সত্যবাদিতা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, সত্যবাদিতা সৎপথ দেখায় এবং সৎকাজ জান্নাতের পথ দেখায়। কোন লোক যখন সর্বদা সত্যবাদিতা অবলম্বন করে, সে আল্লাহর নিকট "সিদ্দীক" (পরম সত্যবাদী) রূপে তালিকাভুক্ত হয়। সাবধান! তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা, মিথ্যা পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়, আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে পথ দেখায়। কোন লোক যখন সর্বদা মিথ্যাচারিতায় ডুবে থাকে, সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে তালিকাভুক্ত হয়।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি সহীহ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4469- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَلَيْكُم بِالصّدقِ فَإِن الصدْق يهدي إِلَى الْبر وَالْبر يهدي إِلَى الْجنَّة وَمَا يزَال الرجل يصدق ويتحرى
الصدْق حَتَّى يكْتب عِنْد الله صديقا
وَإِيَّاكُم وَالْكذب فَإِن الْكَذِب يهدي إِلَى الْفُجُور والفجور يهدي إِلَى النَّار وَمَا يزَال العَبْد يكذب ويتحرى الْكَذِب حَتَّى يكْتب عِنْد الله كذابا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَاللَّفْظ لَهُ
হাদীস নং: ৪৪৭০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৭০. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা নিজেদের জন্য সত্যবাদিতা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা সৎকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এদু'টি গুণের অধিকারী ব্যক্তি জান্নাতী। সাবধান! তোমরা মিথ্যাচারিতা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা, তা পাপাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এ দু'টি গুণের অধিকারী ব্যক্তি জাহান্নামী।
(ইবন হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4470- وَعَن أبي بكر الصّديق رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَلَيْكُم بِالصّدقِ فَإِنَّهُ مَعَ الْبر وهما فِي الْجنَّة وَإِيَّاكُم وَالْكذب فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُور وهما فِي النَّار

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪৭১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৭১. হযরত মু'আবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা নিজেদের জন্য সত্যবাদিতা অপরিহার্য করে নেবে। কেননা, তা সৎপথ দেখায়। আর এদু'টি গুণের অধিকারী ব্যক্তি জান্নাতী। সাবধান! তোমরা মিথ্যাচারিতা থেকে বেঁচে থাকেব। কেননা, মিথ্যা পাপাচারের দিকে পথ দেখায়। আর এদু'টি গুণের অধিকারী ব্যক্তি জাহান্নামী।
(তাবারানীর কাবীর গ্রন্থে উত্তম সনদে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4471- وَعَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَلَيْكُم بِالصّدقِ فَإِنَّهُ يهدي إِلَى الْبر وهما فِي الْجنَّة وَإِيَّاكُم وَالْكذب فَإِنَّهُ يهدي إِلَى الْفُجُور وهما فِي النَّار

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد حسن
tahqiq

তাহকীক: