আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২৪৮ টি

হাদীস নং: ৫৫৭১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৭১. উক্ত হযরত উমর (রা) থেকেই বর্ণিত আছে যে, জিবরীল (আ) নবী (ﷺ)-এর কাছে এমন চিন্তিত অবস্থায় আসলেন যে, তিনি তাঁর মাথা তুলছেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে জিবরীল। কি হয়েছে যে, আপনাকে চিন্তিত দেখছি। তিনি বললেন, আমি জাহান্নামের একটি নিঃশ্বাস দেখলাম, যার ফলে এরপর আমার কাছে আমার আত্মা ফিরে আসে নি।
(তাবারানী 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5571- وَرُوِيَ عَن عمر أَيْضا رَضِي الله عَنهُ أَن جِبْرِيل عَلَيْهِ السَّلَام جَاءَ إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم حَزينًا لَا يرفع رَأسه فَقَالَ لَهُ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا لي أَرَاك يَا جِبْرِيل حَزينًا قَالَ إِنِّي رَأَيْت نفحة من جَهَنَّم فَلم ترجع إِلَيّ روحي بعد

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৭২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি জিবরীলকে জিজ্ঞেস করলেন, মীকাঈলকে যে কখনও হাসতে দেখিনা। ব্যাপার কি? তিনি বললেন, জাহান্নাম সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে মীকাঈল হাসেন নি।
(আহমাদ ইসমাঈল ইব্‌ন আয়্যাশ-এর রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5572- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنه قَالَ لجبريل مَا لي لَا أرى مِيكَائِيل ضَاحِكا قطّ قَالَ مَا ضحك مِيكَائِيل مُنْذُ خلقت النَّار

رَوَاهُ أَحْمد من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش وَبَقِيَّة رُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৭৩. উক্ত হযরত আনাস (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন
: وَقُوْدُها النَّاس والحجارة জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।" (৬৬: ৬, ২: ২৪) অতঃপর তিনি বললেন, এক হাজার বছর অবধি জাহান্নামের অগ্নি প্রজ্জলিত করা হয় ফলে তা লাল বর্ণ ধারণ করে তারপর আরও এক হাজার বছর ধরে প্রজ্জলিত রাখা হয়, ফলে তা শুভ্র বর্ণ ধারণ করে তারপর আরও এক হাজার বছর প্রজ্জলিত রাখা হয়। ফলে তা কালো বর্ণ ধারণ করেছে। সুতরাং জাহান্নামের অগ্নি অন্ধকার কালো, তার শিখা নেভানো যায় না।
(বায়হাকী ও ইস্পাহানী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সম্পূর্ণ হাদীসটি "কান্না" অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5573- وَرُوِيَ عَن أنس أَيْضا رَضِي الله عَنهُ قَالَ تَلا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَذِه الْآيَة وقودها النَّاس وَالْحِجَارَة التَّحْرِيم 7
فَقَالَ أوقد عَلَيْهَا ألف عَام حَتَّى احْمَرَّتْ وَألف عَام حَتَّى ابْيَضَّتْ وَألف عَام حَتَّى اسودت فَهِيَ سَوْدَاء مظْلمَة لَا يطفأ لهبها الحَدِيث

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ والأصبهاني وَتقدم بِتَمَامِهِ فِي الْبكاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৭৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা)-এর সূত্রেই নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। যদি তা দু' বার পানি দ্বারা নেভানো না হত, তবে তোমরা তদ্দ্বারা উপকৃত হতে পারতে না। সে আল্লাহর কাছে দু'আ করে যেন তাকে জাহান্নামে ফিরিয়ে না
দেওয়া হয়।
(ইবন মাজাহ একটি উপেক্ষিত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদীসটি বিসর ইবন ফারকাদ সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি হাসানের সূত্রে আনাস (রা) থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5574- وَعَن أنس بن مَالك أَيْضا رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن نَاركُمْ هَذِه جُزْء من سبعين جُزْءا من نَار جَهَنَّم وَلَوْلَا أَنَّهَا أطفئت بِالْمَاءِ مرَّتَيْنِ مَا استمتعتم بهَا وَإِنَّهَا لتدعو الله أَن لَا يُعِيدهَا فِيهَا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد واه وَالْحَاكِم عَن جسر بن فرقد وَهُوَ واه عَن الْحسن عَنهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
হাদীস নং: ৫৫৭৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৭৫. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কিয়ামতের দিন (জাহান্নামের) অগ্নিকে আনা হবে, তার থাকবে সত্তর হাজার মাথা। প্রত্যেক মাথার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ফিরিশ্তা তাঁরা তা টানবে।
(মুসলিম ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5575- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يُؤْتى بالنَّار يَوْم الْقِيَامَة لَهَا سَبْعُونَ ألف زِمَام مَعَ كل زِمَام سَبْعُونَ ألف ملك يجرونها

رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
হাদীস নং: ৫৫৭৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৭৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের এ আগুন, যা আদম সন্তানরা জ্বালায়, তা হচ্ছে জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আল্লাহর কসম, যদি জাহান্নামের আগুন এমনি হয়, তবেই তো যথেষ্ট। তিনি বললেন, জাহান্নামের অগ্নিতে আরও উনসত্তর অংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিটি অংশের তাপ এর তাপের সমান।
(মালিক, বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মালিকের রিওয়ায়েতে "প্রতিটি অংশের তাপ এর তাপের সমান।" এ অংশটুকু নেই। আহমাদ, ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ্'-এ এবং বায়হাকী ও এ হদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এতে এ অংশটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন। এবং সে অগ্নিকে সমুদ্রে দুবার ডুবানো হয়েছে, যদি তা না করা হত, তবে আল্লাহ্ তা'আলা এতে কারও জন্য কোন উপাকারিতা নিহিত রাখতেন না।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5576- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نَاركُمْ هَذِه مَا يُوقد بَنو آدم جُزْء وَاحِد من سبعين جُزْءا من نَار جَهَنَّم قَالُوا وَالله إِن كَانَت لكَافِيَة قَالَ إِنَّهَا فضلت عَلَيْهَا بِتِسْعَة وَسِتِّينَ جُزْءا كُلهنَّ مثل حرهَا

رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَلَيْسَ عِنْد مَالك كُلهنَّ مثل حرهَا
وَرَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ فزادوا فِيهِ وَضربت بالبحر مرَّتَيْنِ وَلَوْلَا ذَلِك مَا جعل الله فِيهَا مَنْفَعَة لأحد
হাদীস নং: ৫৫৭৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৭৭. বায়হাকীর অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ধারণা করছ, যে জাহান্নামের আগুন তোমাদের এ আগুনের মত। অথচ জাহান্নামের আগুন আলকাতরার চেয়ে প্রচণ্ড কালো। এ আগুন জাহান্নামের আগুনের ষাট ঊর্ধ্বভাগের এক ভাগ। অথবা চল্লিশ-ঊর্ধ্ব ভাগের এক ভাগ। আবু সুহায়ল সন্দেহ পোষণ করেছেন।
[হাফিয (রা) বলেন], বায়হাকীর উদ্ধৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা প্রসঙ্গে উল্লিখিত সমস্ত হাদীস তাঁর "কিতাবুল বা'স ওয়ান নুশুর"-এ বর্ণিত হাদীসমূহ থেকে সংকলিত। কিন্তু তাঁর অন্যান্য কিতাব থেকে যেসব হাদীস সংকলন করা হয়েছে, সেগুলোর উদ্ধৃতি 'ইনশাআল্লাহ' আমি পেশ করব।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5577- وَفِي رِوَايَة للبيهقي أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ تحسبون أَن نَار جَهَنَّم مثل نَاركُمْ
هَذِه هِيَ أَشد سوادا من القار هِيَ جُزْء من بضعَة وَسِتِّينَ جُزْءا مِنْهَا أَو نَيف وَأَرْبَعين
شكّ أَبُو سُهَيْل
قَالَ الْحَافِظ وَجَمِيع مَا يَأْتِي فِي صفة الْجنَّة وَالنَّار معزوا إِلَى الْبَيْهَقِيّ فَهُوَ مِمَّا ذكره فِي كتاب الْبَعْث والنشور وَمَا كَانَ من غَيره من كتبه أعزوه إِلَيْهِ إِن شَاءَ الله
হাদীস নং: ৫৫৭৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৭৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় এ আগুন জাহান্নামের (আগুনের)
এক শতাংশ।
(আহমাদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবী।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5578- وَعَن أبي هُرَيْرَة أَيْضا رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن هَذِه النَّار جُزْء من مائَة جُزْء من جَهَنَّم

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته رُوَاة الصَّحِيح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৭৯. তাঁরই সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি এ মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক লোক থাকত এবং তাদের মধ্যে একজন জাহান্নামী লোক থাকত, আর সে নিশ্বাস ছাড়ত এবং সে নিঃশ্বাস তাদের গায়ে লাগত, তবে মসজিদ ও মসজিদে অবস্থিত সবাই পুড়ে যেত।
(আবূ ইয়া'লা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সদন হাসান। হাদীসটির বক্তব্যে "নাকারাত” দোষ রয়েছে। বাযযার ও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের ভাষা এই: 'রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যদি এ মসজিদে এক লক্ষ বা ততোধিক লোক থাকত। অতঃপর কোন জাহান্নামী ব্যক্তি নিঃশ্বাস ছাড়ত, তবে সে
তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলত।")
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5579- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَو كَانَ فِي هَذَا الْمَسْجِد مائَة ألف أَو يزِيدُونَ وَفِيهِمْ رجل من أهل النَّار فتنفس فَأَصَابَهُمْ نَفسه لاحترق الْمَسْجِد وَمن فِيهِ

رَوَاهُ أَبُو يعلى وَإِسْنَاده حسن وَفِي مَتنه نَكَارَة
وَرَوَاهُ الْبَزَّار وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَو كَانَ فِي الْمَسْجِد مائَة ألف أَو يزِيدُونَ ثمَّ تنفس رجل من أهل النَّار لأحرقهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি জাহান্নামের একটি বড় বালতি পৃথিবীর মাঝখানে রেখে দেয়া হয়, তবে তার দুর্গন্ধ ও উত্তাপের প্রচণ্ডতা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী সবকিছুকে অতিষ্ট করে তুলত এবং যদি জাহান্নামের স্ফুলিঙ্গ সমূহ থেকে কোন একটি স্ফুলিঙ্গ ও পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে থাকে, তবে পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত লোকজন অবশ্যই তার তাপ অনুভব করবে।
(তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদকে হাসান সাব্যস্ত করার সম্ভাব্যতা রয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5580- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَو أَن غربا من جَهَنَّم جعل فِي وسط الأَرْض لأَذى نَتن رِيحه وَشدَّة حره مَا بَين الْمشرق وَالْمغْرب وَلَو أَن شررة من شرر جَهَنَّم بالمشرق لوجد حرهَا من بالمغرب

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَفِي إِسْنَاده احْتِمَال للتحسين
হাদীস নং: ৫৫৮১
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৮১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি জিব্রীলকে জান্নাতের কাছে প্রেরণ করলেন এবং বললেন, তুমি জান্নাতের প্রতি ও জান্নাতী ব্যক্তির জন্য আমি যা প্রস্তুত রেখেছি তার প্রতি একটু তাকিয়ে দেখ। নবী (ﷺ) বলেন, তারপর তিনি আসেন এবং জান্নাতের প্রতি ও জান্নাতবাসীর জন্য আল্লাহ্ তা'আলা সেখানে যা প্রস্তুত রেখেছেন, তার প্রতি তাকিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, তারপর জিব্রীল আল্লাহ তা'আলার কাছে ফিরে গিয়ে বলেন, আপনার সম্ভ্রমের কসম, যেই এর কথা শুনবে সেই তো এতে প্রবেশ করবে। এরপর আল্লাহর হুকুমে কষ্টকর বিষয়াদি দ্বারা তা ঢেকে দেওয়া হল।
তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, তুমি পুনরায় তার (জান্নাতের) কাছে যাও এবং আমি তাতে জান্নাতবাসীর জন্য যা প্রস্তুত রেখেছি, তার প্রতি তাকিয়ে দেখ।
তিনি বলেন, সেমতি জিবরীল (আঃ) পুনরায় জান্নাতের কাছে যেয়ে দেখেন যে, কষ্টকর বিষয়াদি দ্বারা তাতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তখন জিবরীল (আঃ) আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ফিরে গিয়ে বলেন, আপনার সম্ভ্রমের কসম, আমি অবশ্যই ভয় করছি যে, কেউ তাতে প্রবেশ করবে না।
এরপর বলেন, তুমি জাহান্নামের কাছে যাও এবং তার প্রতি ও তার মধ্যে আমি জাহান্নামবাসীর জন্য যা রেখেছি, তার প্রতি একটু তাকিয়ে দেখ। তিনি বলেন, অতঃপর জিবরীল (ছাঃ) তার দিকে তাকিয়ে দেখে যে, জাহান্নামের একাংশ অপরাংশের উপর আছড়ে পড়ছে। তখন জিব্‌রীল (আঃ) আল্লাহ্ তা'আলার কাছে ফিরে গিয়ে বলেন, আপনার সম্ভ্রমের কসম, যে কেউ জাহান্নামের কথা শুনবে, কেউ তাতে প্রবেশ করবে না। এরপর জাহান্নামের ব্যাপারে হুকুম করা হলে তাকে প্রবৃত্তির বা ইন্দ্রিয় ভোগের দ্বারা ঢেকে দেওয়া হল। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, তুমি পুনরায় জাহান্নামের কাছে যাও। সেমতে তিনি জাহান্নামের কাছে যান (এবং সেখান থেকে ফিরে এসে) বলেন, আপনার সম্ভ্রমের কসম, আমি অবশ্যই ভয় করছি যে, এতে প্রবেশ না করে কেউই রেহাই পাবে না।
(আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির উল্লিখিত ভাষা তিরমিযী বর্ণিত। তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5581- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لما خلق الله الْجنَّة وَالنَّار أرسل جِبْرِيل إِلَى الْجنَّة فَقَالَ انْظُر إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعدَدْت لأَهْلهَا فِيهَا
قَالَ فجَاء فَنظر إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أعد الله لأَهْلهَا فِيهَا
قَالَ فَرجع إِلَيْهِ قَالَ وَعزَّتك لَا يسمع بهَا أحد إِلَّا دَخلهَا فَأمر بهَا فحفت بالمكاره فَقَالَ ارْجع إِلَيْهَا فَانْظُر إِلَى مَا أَعدَدْت لأَهْلهَا فِيهَا قَالَ فَرجع إِلَيْهَا فَإِذا هِيَ قد حفت بالمكاره فَرجع إِلَيْهِ فَقَالَ وَعزَّتك لقد خفت أَن لَا يدخلهَا أحد وَقَالَ اذْهَبْ إِلَى النَّار فَانْظُر إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعدَدْت لأَهْلهَا فِيهَا قَالَ فَنظر إِلَيْهَا فَإِذا هِيَ يركب بَعْضهَا بَعْضًا فَرجع إِلَيْهِ فَقَالَ وَعزَّتك لَا يسمع بهَا أحد فيدخلها فَأمر بهَا فحفت بالشهوات فَقَالَ ارْجع إِلَيْهَا فَرجع إِلَيْهَا فَقَالَ وَعزَّتك لقد خشيت أَن لَا ينجو مِنْهَا أحد إِلَّا دَخلهَا

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح
হাদীস নং: ৫৫৮২
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের তাপের প্রচণ্ডতা ইত্যাদির বর্ণনা
৫৫৮২. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে আল্লাহ্ তা'আলার বাণী: إِذَا رَأَتْهُمْ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ "জাহান্নাম যখন তাদেরকে দূর থেকে দেখবে।” (২৫: ১২) প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে যে, আয়াতে "দূর থেকে"-এর অর্থ একশ বছরের দূরত্ব থেকে। এটা হবে, যখন জাহান্নামকে হাযির করা হবে তখন তাকে সত্তর হাজার মাথা ধরে টানা হবে, প্রতিটি মাথা টানবে সত্তর হাজার ফিরিশতা। যদি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে নেককার, বাদকার সবাইকে সে গ্রাস করবে। سَمِعُوا لَهَا تَغَيُّظًا وَزَفِيرًا "তারা তার তর্জন গর্জন শুনবে। (২৫: ১২( প্রসঙ্গে বর্ণিত। জাহান্নাম একটি গর্জন করবে। এতে প্রত্যেকের অক্ত ফোঁটা গড়িয়ে পড়বে। এরপর দ্বিতীয়বার গর্জন করবে, তখন কলজে স্বস্থান থেকে ছিন্ন করে দেবে এবং কণ্ঠ ও কণ্ঠ-পিট কেটে দেবে। আল্লাহ্ 'তা'আলার এ বাণীতে এ কথাই বলা হয়েছে: وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ " বললে কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়।" (৩৩: ১০)
(আদম ইবন আবু ইয়াস তাঁর তাফসীরে মাওকূফ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي شدَّة حرهَا وَغير ذَلِك
5582- وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فِي قَوْله تَعَالَى إِذا رأتهم من مَكَان بعيد الْفرْقَان 21 من مسيرَة مائَة عَام وَذَلِكَ إِذا أُتِي بجهنم تقاد بسبعين ألف زِمَام يشد بِكُل زِمَام سَبْعُونَ ألف ملك لَو تركت لأتت على كل بر وَفَاجِر سمعُوا لَهَا تغيظا وزفيرا الْفرْقَان 21
تزفر زفرَة وَلَا تبقى قَطْرَة من دمع إِلَّا ندرت ثمَّ تزفر الثَّانِيَة فتقطع الْقُلُوب من أماكنها تقطع اللهوات والحناجر وَهِي قَوْله وَبَلغت الْقُلُوب الْحَنَاجِر الْأَحْزَاب 01

رَوَاهُ آدم بن أبي إِيَاس فِي تَفْسِيره مَوْقُوفا
হাদীস নং: ৫৫৮৩
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের অন্ধকার, কৃষ্ণতা ও স্ফুলিঙ্গের বর্ণনা
৫৫৮৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহান্নামের আগুন এক হাজার বছর অবধি প্রজ্বলিত রাখা হয়েছে, ফলে তা লাল বর্ণ ধারণ করেছে, এরপর আরও এক হাজার বছর প্রজ্বলিত রাখা হয়েছে। ফলে তা সাদা বর্ণ ধারণ করেছে, এরপর আরও এক হাজার বছর প্রজ্বলিত রাখা হয়েছ। ফলে তা কালো বর্ণধারণ করেছে। সুতরাং জাহান্নামের আগুন অন্ধকার রাতের মত কালো।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, এতদসম্পর্কে আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত রিওয়ায়েতটি মাওকূফ সনদে অধিক বিশুদ্ধ। শারীক সূত্রে ইয়াহইয়া ইবন আবু বুকায়র ব্যতীত কেউ হাদীসটি মারফু'রূপে বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই।
মালিক ও বায়হাকী শু'আবুল ঈমান এ সংক্ষিপ্তাকারে মারফু' সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "তোমরা কি জাহান্নামের আগুনকে তোমাদের এ আগুনের মত লালবর্ণ মনে কর? অবশ্যই জাহান্নামের আগুন আলকাতরার চেয়েও বেশী কালো।"
রাযীন এ অংশটুকু বেশি বর্ণনা করেছেন, "যদি জাহান্নামীরা তোমাদের আগুন পেত, তবে তারা এতে নিদ্রা যেত। অথবা বলেছেন, তারা অবশ্যই এতে ফিরিয়ে নিত।")
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ظلمتها وسوادها وشررها
5583- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : أُوقِدَ عَلَى النَّارِ أَلْفُ سَنَةٍ حَتَّى أحْمَرَّتْ، ثُمَّ أُوقِدَ عَلَيْهَا أَلْفُ سَنَةٍ حَتَّى ابْيَضَتْ، ثُمَّ أُوقِدَ عَلَيْهَا أَلْفُ سَنَةٍ حَتَّى اسْوَدَّتْ، فَهِيَ سَوْدَاءُ كَاللَّيْلِ الْمُظْلِمِ
رواه الترمذي وابن ماجه والبيهقي، وقال الترمذى حديث أبى هريرة في هذا موقوف أصح، ولا أعلم أحدا رفعه غير يحيى بن أبى بكير عن شريك. ورواه مالك والبيهقى فى الشعب مختصراً مرفوعا قال : أتَرَوْنَهَا خَمْرًا كَتَارِكُمْ هَذِهِ لَهِي
أَشَدُّ سَوَادًا مِنَ الغار
زاد رزين : وَلَوْ أَهْلَ النَّارِ أَصَابُوا نَارَكُمْ هَذِهِ لَنَامُوا فِيهَا أَوْ قَالَ : لَقَالُوا فِيهَا.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের অন্ধকার, কৃষ্ণতা ও স্ফুলিঙ্গের বর্ণনা
৫৫৮৪. হযরত আনাস (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) এর বরাতে বর্ণিত। তিনি তোমাদের এ আগুনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ এবং সে আগুন তোমাদের কাছে পৌছার আগে (বর্ণনাকারী বলেন,) আমার ধারণায় তিনি বলেছেন, দু'বার পানিতে ভিজানো হয়েছে। যাতে তোমাদেরকে আলো দান করে। আর জাহান্নামের আগুন অন্ধকার কালো।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা কারেছেন। পূর্বে বর্ণিত যে, হাকিম হাদীসটি সহীহ্ সাব্যস্ত করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ظلمتها وسوادها وشررها
5584- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنه ذكر نَاركُمْ هَذِه فَقَالَ إِنَّهَا لجزء من سبعين جُزْءا من نَار جَهَنَّم وَمَا وصلت إِلَيْكُم حَتَّى أَحْسبهُ قَالَ نضحت مرَّتَيْنِ بِالْمَاءِ لتضيء لكم ونار جَهَنَّم سَوْدَاء مظْلمَة

رَوَاهُ الْبَزَّار وَتقدم أَن الْحَاكِم صَححهُ
হাদীস নং: ৫৫৮৫
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের অন্ধকার, কৃষ্ণতা ও স্ফুলিঙ্গের বর্ণনা
৫৫৮৫. তাঁরই থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ "জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।" (২: ২৪, ৬৬ঃ ৬) তারপর বললেন, জাহান্নামের আগুন তাকে হাজার বছর ধরে প্রজ্জলিত রাখা হয়েছে, ফলে তা লাল বর্ণ ধারণ করেছে, আরও এক হাজার বছর প্রজ্বলিত রাখা হয়েছে, ফলে সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর আরও এক হাজার বছর ধরেত প্রজ্জলিত রাখা হয়েছে, ফলে তা কালো বর্ণ ধারণ করেছে। সুতরাং জাহান্নামের আগুন অন্ধকার কালো, তার শিখা আলো দেয় না। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, "আর শিখা নিভানো যায় না।"
(বায়হাকী ও ইস্পাহানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ظلمتها وسوادها وشررها
5585- وَرُوِيَ عَنهُ أَيْضا رَضِي الله عَنهُ قَالَ تَلا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم هَذِه الْآيَة وقودها النَّاس وَالْحِجَارَة الْبَقَرَة 42 وَالتَّحْرِيم 6 فَقَالَ أوقد عَلَيْهَا ألف عَام حَتَّى احْمَرَّتْ وَألف عَام حَتَّى ابْيَضَّتْ وَألف عَام حَتَّى اسودت فَهِيَ سَوْدَاء مظْلمَة لَا يضيء لهبها

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ والأصبهاني وَتقدم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮৬
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের অন্ধকার, কৃষ্ণতা ও স্ফুলিঙ্গের বর্ণনা
৫৫৮৬. হযরত আলকামা সূত্রে ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত إِنَّهَا ترمي بشرر كالقصر জাহান্নামের অগ্নি প্রাসাদের মত বড় বড় স্ফুলিঙ্গ ছাড়বে।" (৭৭ঃ ৩২) এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বলি না বৃক্ষের মত। তবে প্রাসাদও শহরের মত।
(বায়হাকী গ্রহণযোগ্য একটি সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের সনদে খাদীজ ইবন মু'আবিয়া নামক
একজন সন্দিগ্ধ রাবী রয়েছে। তবে আবূ হাতিম তাঁর প্রতি আস্থা ব্যক্ত করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي ظلمتها وسوادها وشررها
5586- وَعَن عَلْقَمَة عَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ إِنَّهَا ترمي بشرر كالقصر

وَفِي رِوَايَة لَا يطفأ لهبها المرسلات 23 قَالَ أما إِنِّي لست أَقُول كالشجرة وَلَكِن كالحصون والمدائن

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ فِيهِ خديج بن مُعَاوِيَة وَقد وَثَّقَهُ أَبُو حَاتِم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮৭
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের প্রান্তর ও পর্বতমালার বর্ণনা
৫৫৮৭. হযরত আবু সাঈদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়াইল জাহান্নামের একটি উপত্যকা। কাফির তার গহবরে পৌঁছার পূর্বে চল্লিশ বছর অবধি তার নিচে যেতে থাকবে।
(আহমাদ ও তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিযী বলেন, "ওয়াইল দু'টি পর্বতের মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা, কাফির তার গহ্বরে পৌঁছার পূর্বে সত্তর বছর অবধি তার নিচে যেতে থাকবে।" ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ্' কিতাবে তিরমিযীর রিওয়ায়েতে মুতাবিক হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাইস বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ। বায়হাকী হাকিমের সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেন, "মানুষ হিসাব-নিকাশ শেষ হওয়ার পূর্বে চল্লিশ বছর অবধি তার নিচে যেতে থাকবে।"
[হাফিয (র) বলেন], তারা সকলেই আমর ইবন হারিস-এর সনদে দাররাজ-এর সূত্রে আবুল হায়সাম থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিরমিযী ইবন লাহী'আর রিওয়ায়েতে থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি 'গরীব'। আমাদের জানামতে হাদীসটি কেবল ইবন লাহীআর রিওয়ায়েতে দাররাজ থেতেই বর্ণিত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَوديتهَا وجبالها
5587- عَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ويل وَاد فِي جَهَنَّم يهوي فِيهِ الْكَافِر أَرْبَعِينَ خَرِيفًا قبل أَن يبلغ قَعْره

رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ إِلَّا أَنه قَالَ وَاد بَين جبلين يهوي فِيهِ الْكَافِر سبعين خَرِيفًا قبل أَن يبلغ قَعْره
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه بِنَحْوِ رِوَايَة التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق الْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ يهوي فِيهِ الْكَافِر أَرْبَعِينَ خَرِيفًا قبل أَن يفرغ من حِسَاب النَّاس
قَالَ الْحَافِظ رَوَوْهُ كلهم من طَرِيق عَمْرو بن الْحَارِث عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم إِلَّا التِّرْمِذِيّ فَإِنَّهُ رَوَاهُ من طَرِيق ابْن لَهِيعَة عَن دراج وَقَالَ غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث ابْن لَهِيعَة عِنْد دراج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের প্রান্তর ও পর্বতমালার বর্ণনা
৫৫৮৮. তাঁরই সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: (سَأَرْهِقَهُ صَعُودًا) অনতিবিলম্বে আমি তাকে জাহান্নামের পর্বতে আরোহণ করাব। (৭৪: ১৭) প্রসঙ্গে বলেন, সাউদ একটি আগুনের পর্বত। জাহান্নামীকে তাতে আরোহণে বাধ্য করা হবে। যখন সে তাতে তার হাত রাখবে তখন গলে যাবে। যখন হাত তুলে ফেলবে, তখন আবার পূর্বের মত হয়ে যাবে। যখন তার উপর তার পা রাখবে, তখন গলে যাবে। যখন পা তুলে ফেলবে তখন আবার তা পূর্বের মত হয়ে যাবে। সে সত্তর বছর উপরে আরোহণ করবে। তারপর। তদ্রূপ (সত্তর বছর) নিচে যেতে থাকবে।
(আহমাদ ও হাকিম দাররাজের রিওয়ায়েতেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেন, এর সনদ সহীহ। তিরমিযী ইবন লাহী আর সনদে দাররাজ থেকে সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাউদ একটি আগুনের পর্বত। কাফির তার উপর সত্তর বছর অবধি আরোহণ করতে থাকবে এবং তদ্রূপ সত্তর বছর অবধি তার নিচে যেতে থাকবে সর্বদা।
তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি গারীব। আমাদের জানা মতে, হাদীসটি কেবল ইবন লাহীআর রিওয়ায়েতেই মারফু' সূত্রে বর্ণিত।
[হাফিয (র) বলেন], পূর্বে বলা হয়েছে যে, হাকিম আমর ইবন হারিস-এর রিওয়ায়েতে দাররাজের সূত্রে আবুল হায়সাম এর মধ্যস্থতায় আবু সাঈদ (রা) থেকে মারফু' সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী শারীফের রিওয়ায়েতে আম্মার দুহনীর সূত্রে আতিয়্যা আওফীর মধ্যস্থতায় আবু সাঈদ (রা) থেকে মারফু' সনসেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং ইসরাঈল ও সুফিয়ান উভয়ের রিওয়ায়েতে আম্মারের সূত্রে আতিয়্যার মধ্যস্থতায় আবু সাঈদ (রা) থেকে কিছু বেশি মন্তব্য সহকারে মাওকুফ সনদে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَوديتهَا وجبالها
5588- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ فِي قَوْله سَأُرْهِقُهُ صعُودًا المدثر 71 قَالَ جبل من نَار يُكَلف أَن يَصْعَدهُ فَإِذا وضع يَده عَلَيْهِ ذَابَتْ فَإِذا رَفعهَا عَادَتْ وَإِذا وضع رجله عَلَيْهِ ذَابَتْ فَإِذا رَفعهَا عَادَتْ يصعد سبعين خَرِيفًا ثمَّ يهوي كَذَلِك

رَوَاهُ أَحْمد وَالْحَاكِم من طَرِيق دراج أَيْضا وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من طَرِيق ابْن لَهِيعَة عَن دراج مُخْتَصرا قَالَ الصعُود جبل من نَار يتَصَعَّد فِيهِ الْكَافِر سبعين خَرِيفًا ويهوي بِهِ كَذَلِك أبدا
وَقَالَ غَرِيب لَا نعرفه مَرْفُوعا إِلَّا من حَدِيث ابْن لَهِيعَة
عَن دراج عَن أبي الْهَيْثَم عَنهُ وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ عَن شريك عَن عمار الدهني عَن عَطِيَّة الْعَوْفِيّ عَنهُ مَرْفُوعا أَيْضا وَمن حَدِيث إِسْرَائِيل وسُفْيَان كِلَاهُمَا عَن عمار عَن عَطِيَّة عَنهُ مَوْقُوفا بِنَحْوِهِ بِزِيَادَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের প্রান্তর ও পর্বতমালার বর্ণনা
৫৫৮৯. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে (فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًا) "তারা অনতিবিলম্বে 'গাই'-এর সম্মুখীন হবে"। (১৯ঃ ৫৯) প্রসঙ্গে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'গাই' হচ্ছে জাহান্নামের একটি উপত্যকা। যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে।
(তাবারানী ও বায়হাকী আবু উবায়দার রিওয়ায়েতে তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি পিতার নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেননি। এ হাদীসের কোন কোন সনদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَوديتهَا وجبالها
5589- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ فَسَوف يلقون غيا مَرْيَم 36
قَالَ الْحَافِظ رَوَاهُ الْحَاكِم مَرْفُوعا كَمَا تقدم من حَدِيث عَمْرو بن الْحَارِث قَالَ وَاد فِي جَهَنَّم يقذف فِيهِ الَّذين يتبعُون الشَّهَوَات

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة أبي عُبَيْدَة عَن أَبِيه عبد الله بن مَسْعُود وَلم يسمع مِنْهُ ورواة بعض طرقه ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৯০
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জাহান্নামের প্রান্তর ও পর্বতমালার বর্ণনা
৫৫৯০. বায়হাকীর অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, তিনি বলেন, 'গাই' হচ্ছে জাহান্নামের একটি নদী, যার গভীরতা বেশি এবং এর পানি বিস্বাদ।
যদি 'ইনকি'তা' না থাকত তবে রেওয়ায়েতটির সনদ উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হত।
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَوديتهَا وجبالها
5590- وَفِي رِوَايَة للبيهقي قَالَ نهر فِي جَهَنَّم بعيد القعر خَبِيث الطّعْم
وَإسْنَاد هَذِه جيد لَوْلَا الِانْقِطَاع
tahqiq

তাহকীক: