মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৬ টি
হাদীস নং: ১৩
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
এ জগত থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হওয়ার পর তাঁর আনীত আল্লাহর কিতাব কুরআন মজীদ ও সুন্নাত নামে পরিচিত তাঁর শিক্ষাবলি ইহজগতে হিদায়াতের কেন্দ্র ও উৎস। এগুলো যেন তাঁর পবিত্র সত্তার স্থলবর্তী। আর উম্মতের কল্যাণ ও সফলতা কুরআন ও সুন্নাতের সঠিক অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিভিন্ন শিরোনামে দিক নির্দেশ দিয়েছেন ও অবগত করেছেন এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার তাকীদ করেছেন। পূর্ববর্তী উম্মতগণ বিদ'আতকে নিজেদের দীন বানানোর কারণে গোমরাহ হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় তাঁর কতক গুরুত্বপূর্ণ বাণী নিম্নে লিপিবদ্ধ হচ্ছে-
আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
এ জগত থেকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিদায় হওয়ার পর তাঁর আনীত আল্লাহর কিতাব কুরআন মজীদ ও সুন্নাত নামে পরিচিত তাঁর শিক্ষাবলি ইহজগতে হিদায়াতের কেন্দ্র ও উৎস। এগুলো যেন তাঁর পবিত্র সত্তার স্থলবর্তী। আর উম্মতের কল্যাণ ও সফলতা কুরআন ও সুন্নাতের সঠিক অনুসরণের সাথে সম্পৃক্ত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিভিন্ন শিরোনামে দিক নির্দেশ দিয়েছেন ও অবগত করেছেন এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার তাকীদ করেছেন। পূর্ববর্তী উম্মতগণ বিদ'আতকে নিজেদের দীন বানানোর কারণে গোমরাহ হয়েছিল। এ ধারাবাহিকতায় তাঁর কতক গুরুত্বপূর্ণ বাণী নিম্নে লিপিবদ্ধ হচ্ছে-
১৩. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ওয়াজের মধ্যে) বললেন, আম্মাবা'আদ! সর্বাধিক উত্তম বিষয় ও সর্বাধিক উত্তম কথা আল্লাহর কিতাব। আর সর্বাধিক উত্তম পথ আল্লাহর রাসূল (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হচ্ছে, যা দীনে (নব) উদ্ভাবন করা হয় এবং প্রত্যেকটি বিদ'আত গোমরাহী।
(সহীহ্ মুসলিম)
(সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَرُّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
১৪. হযরত 'আইশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে এরূপ বিষয় প্রবর্তন করে যা তাতে নেই তবে তা বাতিল। (সহীহ্ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাব ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির পাবন্দী এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ ও তাকীদ
১৫. হযরত ইরবায ইবনে সারীয়া (রা) বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে (ভোরের নামায) পড়ালেন। এরপর আমাদের প্রতি ফিরে ওয়াজ করলেন, যা এত বলিষ্ঠ ছিল যে, শ্রোতাদের চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হতে লাগল। ভয়ে অন্তর কেঁপে উঠলো। জনৈক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা এমন ওয়াজ যেন বিদায়ী (আখিরী ওয়াজ)। (সুতরাং যদি বিষয় তাই হয়) তবে এরপর আপনি আমাদেরকে আবশ্যকীয় বিষয়ের উপদেশ প্রদান করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, আল্লাহকে ভয় করতে থাক আর তাঁর নাফরমানী থেকে বেঁচে থাক, নির্দেশদাতা (খলীফা কিংবা শাসক)-এর নির্দেশ শুন এবং পালন কর যদিও সে কোন হাবশী দাসই হোক। এজন্য যে, আমার পর তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে বিরাট মতভেদ দেখতে পাবে, তখন (এরূপ অবস্থায়) তোমরা নিজেদের জন্য আমার তরীকার অনুসরণ আবশ্যক করে নেবে। এবং আমার সঠিক পথের পথ প্রদর্শনকারী খলীফাগণের তরীকার অনুসরণ ও পাবন্দীকে শক্তভাবে ধরা ও দাঁত দ্বারা আঁকড়ে থাকা। আর (দীনে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে নিজেকে পৃথক রাখা। কেননা, দীনে উদ্ভাবিত প্রতিটি বিষয় বিদ'আত। আর প্রতিটি বিদ'আত গোমরাহী।
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ্)
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ, জামি' তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ্)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عِرْبَاضَ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا فَقَالَ: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ. (رواه احمد وابوداؤد والترمذى وابن ماجة الا انهما لم يذكر الصلوة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির নিয়মানুবর্তীতা
১৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত মু'মিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্রবৃত্তি আমার আনীত হিদায়াত ও শিক্ষার অনুগত না হয়। (এই হাদীস ইমাম মুহিউস সুন্নাহ্ বাগাবী (রহ) শরহে সুন্নাহ কিতাবে বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম নববী (রহ) স্বীয় কিতাব 'আরবাঈনে' লিখেছেন, সনদের দিক থেকে এ হাদীস বিশুদ্ধ। আমি এটা কিতাবুল হুজ্জাতে সহীহ সনদসমূহে বর্ণনা করেছি। মিশকাতুল মাসাবীহ্)।
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ» (رواه فى شرح السنة وقال النووى فى اربعينه هذا حديث صحيح رويناه فى كتاب الحجة باسناد صحيح مشكوة المصابيح)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষাবলির নিয়মানুবর্তীতা
১৭. ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ) থেকে ইরসাল রূপে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে আমি দু'টি জিনিস রেখে গেলাম। যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু'টিকে শক্তভাবে আঁকড়ে থাকবে কখনো গোমরাহ হবে না (তা এই) আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত। (মু'আত্তা ইমাম মালিক)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ مُرْسَلا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ. (رواه فى المؤطا)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৮
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাবের ন্যায় 'সুন্নাতও' অবশ্য অনুসরণযোগ্য
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, খাওয়া দাওয়া করে উদরভর্তি চিন্তাহীন ফিতনাকারী কিছু লোক এক সময় উম্মতের মধ্যে এ গোমরাহী চিন্তাধারা প্রসারের চেষ্টা করবে যে, দীনী দলীল ও অবশ্য অনুসরণীয় কেবল আল্লাহর কিতাব। এছাড়া কোন জিনিস এমনকি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন শিক্ষা ও হিদায়াতও অবশ্য অনুসরণীয় নয়। এই ফিতনা সম্বন্ধে তিনি উম্মতকে সুস্পষ্ট সংবাদ ও হিদায়াত দান করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর প্রতিভাত করা হয়েছিল যে, খাওয়া দাওয়া করে উদরভর্তি চিন্তাহীন ফিতনাকারী কিছু লোক এক সময় উম্মতের মধ্যে এ গোমরাহী চিন্তাধারা প্রসারের চেষ্টা করবে যে, দীনী দলীল ও অবশ্য অনুসরণীয় কেবল আল্লাহর কিতাব। এছাড়া কোন জিনিস এমনকি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন শিক্ষা ও হিদায়াতও অবশ্য অনুসরণীয় নয়। এই ফিতনা সম্বন্ধে তিনি উম্মতকে সুস্পষ্ট সংবাদ ও হিদায়াত দান করেছেন।
১৮. হযরত মিকদাম ইবনে মা'দিকারিবা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সাবধান! শুনে রেখ, আমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে (হিদায়াতের জন্য) কুরআন দেওয়া হয়েছে। আর এর সাথে এর ন্যায় আরো। সাবধান! অতিসত্তর কতক উদরপূর্তি লোক (পয়দা) হবে; যারা নিজেদের জাঁকজমক আসন (অথবা পালং-এর ওপর আরাম করে) লোকজনকে বলবে-ব্যস, এ কুরআনকেই গ্রহণ কর, এতে যা হালাল করা হয়েছে তা হালাল মনে কর। আর যা হারাম করা হয়েছে তা হারাম মনে কর। (অর্থাৎ হালাল ও হারাম কেবল তা-ই যা কুরআনে হালাল বা হারাম বলা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু নেই।) সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই গোমরাহী চিন্তাধারা বাতিলপূর্বক বলেন, আর বিষয় হচ্ছে, যে সব জিনিস আল্লাহর রাসূল হারাম করেছেন, সেগুলোও এসব জিনিসের ন্যায় হারাম যেগুলো আল্লাহ তা'আলা কুরআনে হারাম করেছেন।
(সুনানে আবূ দাউদ, মুসনাদে দারিমী, ইবনে মাজাহ্)
(সুনানে আবূ দাউদ, মুসনাদে দারিমী, ইবনে মাজাহ্)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلاَ إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلاَ يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلاَلٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ وَإِنَّ مَأ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ كَمَأ حَرَّمَ الله. (رواه ابوداؤد والدارمى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৯
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর কিতাবের ন্যায় 'সুন্নাতও' অবশ্য অনুসরণযোগ্য
১৯. হযরত আবূ রাফি' (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কাউকে যেন এরূপ না পাই (অর্থাৎ তার এই অবস্থা) যে, সে তার মর্যাদাবান আসনে ঠ্যাস দিয়ে (অহংকারী চালে) বসবে। আর তার নিকট আমার কোন কথা পৌঁছবে যাতে আমি কোন কাজ করার বা না করার নির্দেশ দিয়েছি তখন সে বলে, আমি জানি না। আমি তো কেবল সেই হুকুম পালন করব যা আমি কুরআনে পাব।
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ, জামি' তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্, দালাইলুন নুবুওয়াত বায়হিকী)।
(মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ, জামি' তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্, দালাইলুন নুবুওয়াত বায়হিকী)।
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ الأَمْرُ مِنْ أَمْرِي مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لاَ نَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه والبيهقى فى دلائل النبوة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্ম পদ্ধতিই আদর্শ নমুনা।
২০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, (সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে) তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্ত্রীগণের নিকট এসে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। (অর্থাৎ তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদতের ব্যাপারে) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অভ্যাস কিরূপ? যখন তাঁদেরকে তা বলা হল, তখন (অনুভূত হল যে) যেন তারা তা খুব কম মনে করলেন। আর পরস্পর বলাবলি করলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে আমাদের কি তুলনা? আল্লাহ্ তা'আলা তো তাঁর পূর্বাপর সব গুনাহ্ মাফ করে দিয়েছেন।(১) (আর কুরআন মজীদে সংবাদও দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাঁর অধিক ইবাদত ও সাধনার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, আমাদের মত গুনাহগারদের প্রয়োজন আছে, যথাসম্ভব অধিক ইবাদত করব) সুতরাং একজন বললেন, এখন তো আমি সারারাত নামায আদায় করতে থাকব। অপরজন বললেন, আমি সর্বদা বিরতিহীনভাবে দিনে রোযা রাখব। আর একজন বললেন, আমি শপথ করছি-সর্বদা স্ত্রীলোক থেকে সম্পর্কহীন ও দূরত্বে থাকব, কখনো বিয়ে করব না। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌঁছল) তখন তিনি এই তিন ব্যক্তির নিকট এসে বললেন, তোমরা এই কথা বলেছ? (আর নিজেদের ব্যাপারে এই এই ফায়সালা করেছ?) শুন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের থেকে আল্লাহকে অধিক ভয় করি। আর তাঁর নাফরমানী ও অসন্তুষ্টির বিষয়ে তোমাদের থেকে অধিক বেঁচে থাকি। কিন্তু (এতদসত্ত্বে) আমার অবস্থা হচ্ছে- সর্বদা রোযা রাখি না, বরং রোযাও রাখি আর রোযা ছেড়েও দেই। (আর সারারাত নামায আদায় করি না) বরং নামাযও আদায় করি আর নিদ্রাও যাই। (আর আমি কৌমার্য জীবনও গ্রহণ করি নি) আমি নারীদের বিয়ে করি আর তাদের সাথে দাম্পত্য জীবন যাপন করি (এটা আমার তরীকা) এখন যে কেউ আমার এ তরীকা থেকে সরে চলে সে আমার নয়। (সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ ثَلاَثَةُ رَهْطٍ إِلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا فَقَالُوا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ. فَقَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَأُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا. وَقَالَ لْآخَرُ أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلاَ أُفْطِرُ. وَقَالَ لْآخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلاَ أَتَزَوَّجُ أَبَدًا. فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا؟ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ، لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২১
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ যুগে মুক্তির একমাত্র পথ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য
২১. হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, (একদিন) হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) তাওরাতের এক কপি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমীপে হাযির হলেন। তিনি নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা তাওরাতের এক কপি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চুপ রইলেন। (যবান মুবারক দ্বারা কিছু বললেন না) হযরত উমর (রা) তা পড়া (এবং হুযূরকে শুনানো) শুরু করলেন, আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র চেহেরা পরিবর্তীত হতে লাগলো। (হযরত উমর (রা) পড়তে থাকেন, হুযূরের চেহারা মুবারকের পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি) হযরত আবূ বকর (রা) (যিনি মজলিসে উপস্থিত ছিলেন, হযরত উমর (রা) কে শাসালেন এবং বললেন ثكلتك الثواكِلُ (তোমার মরণ হোক) দেখছ না, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা মুবারক! তখন হযরত উমর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চেহারা মুবারকের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তৎক্ষণাৎ বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ক্রোধ থেকে আল্লাহ্ নিকট আশ্রয় চাই।) আমি (মনে প্রাণে) সন্তুষ্ট আল্লাহকে নিজের রব মেনে, আর ইসলামকে নিজের দীন বানিয়ে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল মেনে। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেই আল্লাহর শপথ, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! যদি (আল্লাহ্ নবী) মূসা (এ জগতে) তোমাদের সামনে আসেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসরণ কর, তবে সত্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গোমরাহ্ হয়ে যাবে। আর (শোন) যদি (আল্লাহ্ নবী) মূসা যিন্দা থাকতেন আর আমার নবুওতী যুগ পেতেন তবে তিনিও আমার অনুসরণ করতেন। (আর আমার আনীত শরী'আতের ওপর চলতেন।) (মুসনাদে দারিমী)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ. فَسَكَتَ فَجَعَلَ يَقْرَأُ وَوَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَغَيَّرُ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ، أَمَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَمِنْ غَضَبِ رَسُولِهِ، رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِيناً وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ، وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لاَتَّبَعَنِي. (رواه الدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ যুগে মুক্তির একমাত্র পথ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য
২২. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আহলে কিতাবগণ মুসলমানদের সামনে ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করত আর আরবী ভাষায় তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করত। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিক নির্দেশ প্রদান করলেন, কিতাবধারীদের (এসব কথা যা তাওরাতের বরাতে তোমাদেরকে শুনায় ও বলে) না সত্য বল, না মিথ্যা বল। কেবল আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ মুতাবিক কুরআন মজীদের শব্দাবলিতে এটা বলে দাও-
{قُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡنَا وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلٰۤی اِبۡرٰہٖمَ وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ وَالۡاَسۡبَاطِ وَمَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی وَعِیۡسٰی وَمَاۤ اُوۡتِیَ النَّبِیُّوۡنَ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ۚ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ ۫ۖ وَنَحۡنُ لَہٗ مُسۡلِمُوۡنَ }
(হে মুসলিমগণ!) বলে দাও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং সেই বাণীর প্রতিও, যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে এবং তার প্রতিও, যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের সন্তানদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং তার প্রতিও, যা মূসা ও ঈসাকে দেওয়া হয়েছিল এবং তার প্রতিও, যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই নবীগণের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই (এক আল্লাহরই) অনুগত। (সূরাঃ আল বাকারা - আয়াত নংঃ ১৩৬)
{قُوۡلُوۡۤا اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡنَا وَمَاۤ اُنۡزِلَ اِلٰۤی اِبۡرٰہٖمَ وَاِسۡمٰعِیۡلَ وَاِسۡحٰقَ وَیَعۡقُوۡبَ وَالۡاَسۡبَاطِ وَمَاۤ اُوۡتِیَ مُوۡسٰی وَعِیۡسٰی وَمَاۤ اُوۡتِیَ النَّبِیُّوۡنَ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ۚ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡہُمۡ ۫ۖ وَنَحۡنُ لَہٗ مُسۡلِمُوۡنَ }
(হে মুসলিমগণ!) বলে দাও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং সেই বাণীর প্রতিও, যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে এবং তার প্রতিও, যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের সন্তানদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং তার প্রতিও, যা মূসা ও ঈসাকে দেওয়া হয়েছিল এবং তার প্রতিও, যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই নবীগণের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই (এক আল্লাহরই) অনুগত। (সূরাঃ আল বাকারা - আয়াত নংঃ ১৩৬)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ، وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلاَ تُكَذِّبُوهُمْ، وَقُولُوا: {آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا} الآيَةَ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৩
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ যুগে মুক্তির একমাত্র পথ রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য
২৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে সেই সব মন্দ সম্পূর্ণ সমান তালে আসবে যা বনী ইসরাঈলের মধ্যে এসেছিল। এমনকি যদি বনী ইসরাঈলে এমন কোন হতভাগা হয়ে থাকে, যে প্রকাশ্যে তার মা এর সাথে অশ্লীল কাজ করে ছিল তবে আমার উম্মতের মধ্যে কোন হতভাগা হবে, যে এরূপ করবে। বনী ইসরাঈল বাহাত্তর ফিক্কায় (শ্রেণী) বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিক্কায় বিভক্ত হবে। আর এক ফির্কা ছাড়া সবাই জাহান্নামী। (তারাই হবে জান্নাতী) সাহাবা কিরাম নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা কোন ফির্কা হবে? তিনি বললেন, যারা আমার পথে ও আমার আসহাবের পথে হবে। (জামি' তিরমিযী)
প্রায় অনুরূপ বিষয়েরই এক হাদীস মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবূ দাউদে হযরত মু'আবীয়া (রা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
প্রায় অনুরূপ বিষয়েরই এক হাদীস মুসনাদে আহমদ ও সুনানে আবূ দাউদে হযরত মু'আবীয়া (রা) থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৪
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মতের মধ্যে সাধারণ ফাসাদ ও অনৈক্যের সময় সুন্নাত ও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরীকার সাথে সম্পৃক্ততা
২৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের ফাসাদের সময় যে আমার সুন্নাত ও তরীকা শক্ত ভাবে আঁকড়ে থাকবে, তাঁর জন্য রয়েছে শহীদের সাওয়াব। (তাবারানীর আওসাত)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُتَمَسِّكُ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي لَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ» (رواه الطبرانى فى الاوسط)
হাদীস নং: ২৫
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুন্নাত জীবন্ত করা ও উম্মতের দীনী সংশোধনের প্রচেষ্টা করা
২৫. হযরত আলী মুরতাযা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার পর মৃত (বিলুপ্ত) হয়ে যাওয়া আমার কোন সুন্নাতকে জীবিত করে সে আমাকে ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসে সে আমার সাথী হবে। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَلِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي. وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৬
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুন্নাত জীবন্ত করা ও উম্মতের দীনী সংশোধনের প্রচেষ্টা করা
২৬. হযরত বিলাল ইবনে হারিস মুযানী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার পর মৃত (বিলুপ্ত) হয়ে যাওয়া আমার কোন সুন্নাত (যা পরিত্যক্ত হয়েছিল) জীবিত করে সে ঐসব লোকদের সমান সাওয়াব পাবে যারা এর ওপর আমল করবে। অথচ সেই আমলকারীর সাওয়াবে কোন কম হবে না। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزْنِيْ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْيَا سُنَّةً مِنْ سُنَّتِي قَدْ أُمِيتَتْ بَعْدِي فَإِنَّ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلَ أُجُورِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৭
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুন্নাত জীবন্ত করা ও উম্মতের দীনী সংশোধনের প্রচেষ্টা করা
২৭. হযরত 'আমর ইবনে 'আওফ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দীন (ইসলাম) যখন শুরু হয়েছিল তখন তা গরীব (অর্থাৎ মানুষের জন্য অভিনব 'ও অস্থিরতার অবস্থায়) ছিল। আর (এক সময় আসবে) 'তা পুনরায় সেই অবস্থায় যাবে যেরূপে শুরু হওয়ার কালে ছিল। সুতরাং আনন্দ সেই গরীবদের জন্য। আর (গুরাবা দ্বারা উদ্দেশ্য) সেই লোক যারা ফাসাদ ও অনৈক্যে সংশোধনের চেষ্টা করবে যা আমার পর আমার সুন্নাতে (আমার তরীকায়) লোকজন বিগড়াবে। (জামি' তিরমিযী)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الدِّيْنَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ. وَهُمُ الَّذِيْنَ يُصْلِحُوْنَ مَا أَفْسَدَ النَّاسَ مِنْ بَعْدِىْ مِنْ سُنَّتِيْ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৮
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা সম্পর্কিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পার্থিব বিষয়ে হুযুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যক্তিগত অভিমতের স্তর
আল্লাহর নবী, নবী ও রাসূল হিসাবে যে নিদের্শই দিয়েছেন তা অপরিহার্য আনুগত্যের বিষয়। এর সম্পর্ক আল্লাহর অধিকারের সাথে হোক অথবা বান্দার অধিকারের সাথে, ইবাদতের সাথে, লেন-দেনের সাথে, চরিত্রের সাথে হোক কিংবা সামাজিকতার সাথে অথবা জীবনের কোন শাখার সাথে হোক। তবে আল্লাহর নবী কখনো নিছক কোন পার্থিব বিষয়ে স্বীয় ব্যক্তিগত অভিমতের পরামর্শ দিয়ে থাকতেন। এ ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, তা উম্মতের জন্য অবশ্য আনুগত্যযোগ্য নয়। বরং এটাও প্রয়োজন নয় যে, তা সর্বদা সঠিক হবে। তাতে ভুলও হতে পারে। নিম্নের হাদীসের দাবি এটাই।
আল্লাহর নবী, নবী ও রাসূল হিসাবে যে নিদের্শই দিয়েছেন তা অপরিহার্য আনুগত্যের বিষয়। এর সম্পর্ক আল্লাহর অধিকারের সাথে হোক অথবা বান্দার অধিকারের সাথে, ইবাদতের সাথে, লেন-দেনের সাথে, চরিত্রের সাথে হোক কিংবা সামাজিকতার সাথে অথবা জীবনের কোন শাখার সাথে হোক। তবে আল্লাহর নবী কখনো নিছক কোন পার্থিব বিষয়ে স্বীয় ব্যক্তিগত অভিমতের পরামর্শ দিয়ে থাকতেন। এ ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, তা উম্মতের জন্য অবশ্য আনুগত্যযোগ্য নয়। বরং এটাও প্রয়োজন নয় যে, তা সর্বদা সঠিক হবে। তাতে ভুলও হতে পারে। নিম্নের হাদীসের দাবি এটাই।
২৮. হযরত রাফি' ইবনে খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হিজরত করে) মদীনা এলেন। তখন তিনি দেখলেন, মদীনাবাসী খেজুর বৃক্ষের ওপর তা'বীর (পুংকেশর গর্ভকেশরে স্থাপন-অনুবাদক) এর কাজ করে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এটা কি করছ? (আর কি জন্য করছ?) তারা নিবেদন করলেন, এটা আমরা পূর্ব থেকে করে আসছি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা এটা না করলে উত্তম হবে। তখন তারা তা ছেড়ে দেন। সুতরাং ফলন কম হল। তাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট একথা উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি (স্বীয় প্রকৃতি হিসেবে) কেবল একজন মানুষ। যখন আমি তোমাদেরকে দীনের ব্যাপারে কোন বিষয়ের নির্দেশ দেই, তখন তা অবশ্য কর্তব্য ধরে নাও (আর এর ওপর আমল কর)। আর যখন আমি আমার ব্যক্তিগত অভিমতে কোন বিষয়ে তোমাদেরকে বলি তবে আমি কেবল একজন মানুষ। (মুসলিম)
کتاب الاعتصام بالکتاب والسنۃ
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَدِمَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يَأْبُرُونَ النَّخْلَ فَقَالَ: مَا تَصْنَعُونَ. قَالُوا كُنَّا نَصْنَعُهُ قَالَ: لَعَلَّكُمْ لَوْ لَمْ تَفْعَلُوا كَانَ خَيْرًا. فَتَرَكُوهُ فَنَقَصَتْ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ دِينِكُمْ فَخُذُوا بِهِ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ رَأْيٍ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ. (رواه مسلم)
তাহকীক: