মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

হজ্ব অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৬ টি

হাদীস নং: ১৪৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আগেই যেমন জানা গিয়েছে যে, ইসলামের পাঁচটি মৌলিক বিধানের মধ্যে শেষ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিধান হচ্ছে বায়তুল্লাহ শরীফের হজ্ব। হজ্ব আসলে কি? একটি নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত সময়ে আল্লাহর আশেকদের মত তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়া, তাঁর প্রিয় বন্ধু হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের ভক্তি ও ভালবাসার খেলা ও তাঁর রীতি-পদ্ধতির বাস্তব অনুশীলন করে তাঁর মত ও পথের সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা ও বিশ্বস্ততার প্রমাণ পেশ করা, নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী ইব্রাহীমী আবেগ-অনুভূতিতে অংশ গ্রহণ করা এবং নিজেকে তাঁরই রংয়ে রঙিয়ে তোলা।

আরেকটু স্পষ্ট করার জন্য বলা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলার একটি শান এই যে, তিনি পরম প্রতাপশালী, আহকামুল হাকেমীন এবং সকল বাদশাহর বাদশাহ, আর আমরা হচ্ছি তার অক্ষম ও মুখাপেক্ষী বান্দা এবং তাঁর মালিকানার গোলাম। আল্লাহর দ্বিতীয় শানটি এই যে, তিনি ঐ সকল সৌন্দর্যগুণে ষোল আনা গুণান্বিত, যেগুলোর কারণে মানুষের মধ্যে কারও প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি; বরং কেবল তিনিই প্রকৃত প্রেমাস্পদ। আল্লাহ তা'আলার প্রথম (শাসক ও বাদশাহী) শানের দাবী এই যে, বান্দা তাঁর দরবারে আদব ও ভক্তির চিত্র হয়ে উপস্থিত হবে। ইসলামের আরকানসমূহের মধ্যে প্রথম ব্যবহারিক রুকন নামায এরই বিশেষ প্রতিচ্ছবি এবং এতে এই রূপটিই প্রবল। আর যাকাতও এই সম্পর্কেরই অন্য একটি দিককে প্রকাশ করে।

আল্লাহ তা'আলার দ্বিতীয় শান (প্রেমাস্পদ হওয়া)-এর দাবী এই যে, তাঁর সাথে বান্দার ভালবাসা ও প্রেমের সম্পর্ক থাকবে। রোযার মধ্যেও এর কিছুটা রূপ লক্ষ্য করা যায়। পানাহার ত্যাগ করে দেওয়া এবং নফসের দাবী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এটা প্রেম ও ভালবাসারই একটি অধ্যায়। কিন্তু হজ্ব হচ্ছে এর পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। সেলাই করা কাপড়ের স্থলে একটি কাফন সদৃশ পোশাক পরিধান করা, খালি মাথায় থাকা, ক্ষৌরকার্য না করা, নখ না কাটা, চুলে চিরুনি ব্যবহার না করা, তেল না লাগানো, সুগন্ধি ব্যবহার না করা, চিৎকার করে করে লাব্বাইক বলা, বায়তুল্লাহর চতুষ্পাশ্বে প্রদক্ষিণ করা, এর এক কোণে রাখা কালো পাথরে (হাজরে আসওয়াদ) চুমু খাওয়া, এর দরজা ও দেয়ালে আঁকড়ে ধরা ও রোনাজারী করা, তারপর সাফা-মারওয়ায় চক্কর দেওয়া, তারপর মক্কা শহর থেকেও বের হয়ে যাওয়া এবং কখনও মিনায়, কখনও আরাফাতে আর কখনও মুযদালিফার প্রান্তরে গিয়ে পড়ে থাকা, তারপর আবার জামারাতে গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা- এসকল কাজ ও আচরণ ঠিক তাই, যা প্রকৃত প্রেমিকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম যেন এই প্রেমরীতির উদ্ভাবক ও প্রতিষ্ঠাতা। আল্লাহ্ তা'আলার কাছে তাঁর এই প্রেমিকসূলভ কাজগুলো এমন পছন্দ হয়েছে যে, তিনি আপন দরবারের বিশেষ উপস্থিতি তথা হজ্ব ও উমরার আরকান ও আমল এগুলোকেই সাব্যস্ত করেছেন। এসব কাজের সমষ্টিরই নাম যেন হজ্ব- যা ইসলামের শেষ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের রুকন।

এ মা'আরিফুল হাদীস সিরিজের প্রথম খন্ড কিতাবুল ঈমানে ঐসব হাদীস অতিক্রান্ত হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ইসলামের পঞ্চ আরকানের বর্ণনা রয়েছে এবং এগুলোর শেষ রুকন বায়তুল্লাহর হজ্বকে বলা হয়েছে।
হজ্ব ফরয হওয়ার বিধানটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী নবম হিজরীতে এসেছে এবং পরবর্তী বছর দশম হিজরীতে নিজের ওফাতের মাত্র তিন মাস পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবায়ে কেরামের বিরাট জামা'আতসহ হজ্ব আদায় করেন- যা বিদায় হজ্ব নামে প্রসিদ্ধ। এ বিদায় হজ্বেই আরাফার ময়দানে হুযুর (ﷺ)-এর উপর এ আয়াতটি নাযিল হয় : اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَاَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ অর্থাৎ, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত পরিসমাপ্ত করে দিলাম। এ আয়াতে এদিকে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, হজ্ব হচ্ছে ইসলামের পরিপূর্ণতা দানকারী রুকন।

কোন বান্দার ভাগ্যে যদি সঠিক ও আন্তরিকতাপূর্ণ হজ্ব নছীব হয়ে যায়- যাকে শরী‘আতের ভাষায় 'হজ্বে মাবরুর' বলা হয় এবং সে যদি ইব্রাহীমী ও মুহাম্মদী সম্পর্কের সামান্য অংশও লাভ করতে পারে, তাহলে সে যেন সৌভাগ্যের উঁচু মর্তবা লাভ করে নিল এবং ঐ মহান নেয়ামত তার হাতে এসে গেল- যার চাইতে বড় কোন নেয়ামতের কল্পনাও এ দুনিয়াতে করা যায় না। সে তখন এ নেয়ামতের শুকরিয়া হিসাবে বলতে পারে এবং জোশ ও উন্মত্ততার সাথে বলতে পারে:

نازم بچشم خود کہ جمالِ تو دیده است. افتم بہ پائے خود کہ مکویت رسیدہ است
ہر دم ہزار بوسہ زنم دست خویش را. کہ دامنت گرفتہ بسویم کشیدہ است

আমি আমার এ চোখ নিয়ে গর্ব করতে পারি যে, সে তোমার সৌন্দর্য দর্শন করেছে, আমার পা দু'টি নিয়েও আমি গর্বিত যে, এগুলো তোমার গলিতে পৌছেছে। প্রতি মুহূর্তে আমি নিজের হাতে হাজার চুমু খাই, এজন্য যে, সে তোমার আঁচল ধরে আমার দিকে তোমাকে টেনে নিয়ে এসেছে।
এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার হজ্ব সম্পর্কে নিম্নের হাদীসগুলো পাঠ করে নিন।
১৪৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং এতে বললেন: হে লোক সকল! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের উপর হজ্ব ফরয করে দিয়েছেন। অতএব, তোমরা হজ্ব আদায় কর। এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রতি বছরই কি হজ্ব করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন এবং কোন উত্তর দিলেন না। এমনকি সে তিনবার একই প্রশ্ন করতে থাকল। শেষে তিনি (কিছুটা অসন্তুষ্টির সাথে) বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলে দিতাম, তাহলে প্রতি বছরই হজ্ব করা ফরয হয়ে যেত, অথচ তোমরা তা করতে পারতে না। তারপর বললেন, কোন ব্যাপারে আমি নিজে যে পর্যন্ত কোন নির্দেশ না দেই, সে পর্যন্ত আমাকে ছেড়ে দাও (এবং প্রশ্ন করে করে নিজেদের উপর কাঠিন্য আরোপ করার চেষ্টা করো না) কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের নবীদের কাছে বেশী প্রশ্ন করে এবং মতবিরোধে লিপ্ত হয়েই ধ্বংস হয়েছে। তাই আমি যখন তোমাদেরকে কোন বিষয়ের নির্দেশ দেই, তখন তোমরা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী এটা পালন করে যাও, আর যখন কোন বিষয় থেকে নিষেধ করি, তখন তা পরিহার কর। মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : « يَأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمُ الْحَجَّ ، فَحُجُّوا » ، فَقَالَ رَجُلٌ : أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَسَكَتَ حَتَّى قَالَهَا ثَلَاثًا ، فَقَالَ : " لَوْ قُلْتُ : نَعَمْ لَوَجَبَتْ ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ " ، ثُمَّ قَالَ : « ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَدَعُوهُ » (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৪৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৪৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফরের এমন পাথেয় ও বাহনের মালিক হল যা তাকে আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌছাতে পারে, অথচ সে হজ্ব করল না, সে ইয়াহুদী হয়ে মরুক অথবা নাসারা হয়ে মরুক, এতে কিছু আসে যায় না। এটা এজন্য যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, আল্লাহর উদ্দেশ্যে মানুষের জন্য বায়তুল্লাহর হজ্ব করা ফরয- যারা সে পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য রাখে। -তিরমিযী
کتاب الحج
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةً تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ اللهِ وَلَمْ يَحُجَّ فَلاَ عَلَيْهِ أَنْ يَمُوتَ يَهُودِيًّا ، أَوْ نَصْرَانِيًّا ، وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ : وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ البَيْتِ مَنْ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৪৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৪৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ জিনিস হজ্বকে ওয়াজিব করে দেয়? তিনি উত্তরে বললেনঃ সফরের পাথেয় ও বাহন। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَامَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُوجِبُ الْحَجَّ؟ قَالَ : « الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ » (رواه الترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ১৪৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৪৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হজ্ব করল এবং এতে কোন অশ্লীল কাজ ও নাফরমানী করল না, সে হজ্ব থেকে ঐ দিনের মত আবিলতামুক্ত হয়ে ফিরে আসবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল। -বুখারী, মুসিলম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ حَجَّ فَلَمْ يَرْفُثْ ، وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৪৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৪৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: একটি উমরা থেকে অপর উমরা এর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহর কাফফারা স্বরূপ। আর পুণ্যময় হজ্বের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। -বুখারী, মুসলীম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُمَا ، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الجَنَّةُ » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৫০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা হজ্ব ও উমরা সাথে সাথে কর। কেননা, এ দু'টি জিনিস দারিদ্র ও গুনাহকে এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে হাঁপর লোহা ও সোনা-রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর পুণ্যময় হজ্বের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। -তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تَابِعُوا بَيْنَ الحَجِّ وَالعُمْرَةِ ، فَإِنَّهُمَا يَنْفِيَانِ الفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الكِيرُ خَبَثَ الحَدِيدِ ، وَالذَّهَبِ ، وَالفِضَّةِ ، وَلَيْسَ لِلْحَجَّةِ الْمَبْرُورَةِ ثَوَابٌ إِلاَّ الجَنَّةُ. (رواه الترمذى والنسائى)
হাদীস নং: ১৫১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৫১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ হজ্ব ও উমরা পালনকারীগণ আল্লাহর মেহমান। তারা যদি আল্লাহর কাছে দু‘আ করে, তাহলে তিনি তা কবুল করেন, আর যদি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। ইবনে মাজাহ্
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ قَالَ : " الحَاجُّ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللهِ ، إِنْ دَعَوْهُ أَجَابُوهُ ، وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ ". (رواه ابن ماجه)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৫২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমরা কোন হাজীর সাথে সাক্ষাত কর, তখন সে তার বাড়ীতে পৌঁছার আগেই তাকে সালাম দাও, তার সাথে মুসাফাহা কর এবং তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ কর। কেননা, তার ক্ষমার ফায়সালা হয়ে গিয়েছে। (তাই তার দু‘আ কবুল হওয়ার প্রবল আশা করা যায়।) -মুসনাদে আহমাদ
کتاب الحج
عَن ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا لَقِيتَ الْحَاجَّ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَصَافِحْهُ ، وَمُرْهُ أَنْ يَسْتَغْفِرَ لَكَ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بَيْتَهُ ، فَإِنَّهُ مَغْفُورٌ لَهُ » (رواه احمد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা ও এর ফযীলত
১৫৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি হজ্ব, উমরা অথবা আল্লাহর পথে জেহাদের জন্য বের হল, তারপর রাস্তায়ই মারা গেল, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মুজাহিদ, হাজী ও উমরাকারীর জন্য নির্ধারিত সওয়াবই দান করবেন। বায়হাকী
کتاب الحج
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَنْ خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا أَوْ غَازِيًا ثُمَّ مَاتَ فِي طَرِيقِهِ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِي وَالْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ..... (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ১৫৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মীকাত, ইহরাম ও তালবিয়া প্রসঙ্গ

আল্লাহ্ তা'আলা কাবা শরীফকে ঈমানদারদের কেবলা এবং নিজের সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ ঘর বানিয়েছেন। আর আগেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব লোক সেখান পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর জীবনে একবার সেখানে উপস্থিত হওয়া এবং হজ্ব করা ফরয করে দিয়েছেন। এর সাথে এ উপস্থিতি ও হজ্বের জন্য কিছু অপরিহার্য আদাব ও নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে একটি নিয়ম এই যে, আল্লাহর ঘরের হজ্বের জন্য যে সেখানে উপস্থিত হবে, সে দৈনন্দিনের সাধারণ পরিধেয় কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ কোন পোশাক পরিধান করে উপস্থিত হবে না; বরং এমন দরিদ্রের মত লেবাস নিয়ে হাজির হবে, যা মুর্দার কাফনের সাথে সামঞ্জস্য রাখে এবং আখেরাতে হাশরের ময়দানের উপস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। জামা, পায়জামা, কটি, শেরওয়ানী, কোট ইত্যাদি কিছুই গায়ে থাকবে না। কেবল একটি লুঙ্গি পরনে থাকবে, আর একটি চাদর শরীরের উপরিভাগে ফেলে রাখবে। মাথাও খোলা থাকবে, পায়ে মোজা; বরং এমন জুতাও থাকতে পারবে না- যা দ্বারা পা সম্পূর্ণ ঢেকে যায়। (অবশ্য মহিলাদের বেলায় তাদের পর্দার খাতিরে সেলাই করা কাপড় পরিধান, মাথা ঢাকা ও পায়ে মোজা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে।) এ ধরনের আরও কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যেগুলোর উদ্দেশ্য এই যে, বান্দা সেখানে যেন এমন আকৃতি ও অবস্থা নিয়ে উপস্থিত হয়, যার দ্বারা তার অক্ষমতা, দীনতা-হীনতা এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের প্রতি তার অনাসক্তি প্রকাশ পায়।

তবে বান্দাদের দুর্বলতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে তাদের উপর এ নির্দেশ আরোপ করা হয়নি যে, তারা নিজেদের বাড়ী থেকেই ইহরাম বেধে এসব নিয়ম পালন করতে করতে যাত্রা শুরু করবে। যদি এমন নির্দেশ দেওয়া হত, তাহলে আল্লাহর বান্দাদের জন্য সমস্যা হয়ে যেত। কিছুদিন পূর্বেও অনেক দেশের হাজীগণ মাসকে মাস সফর করার পর মক্কা শরীফে গিয়ে পৌছতেন। বর্তমানেও কোন কোন দেশের হাজীরা কয়েক সপ্তাহের স্থলপথের ও জলপথের সফর করে সেখানে পৌঁছে থাকেন। এ কথা স্পষ্ট যে, এ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ইহরামের বাধ্যবাধকতা রক্ষা করে চলা অধিকাংশ লোকের জন্য বিরাট কঠিন বিষয় হয়ে যেত। এ জন্য বিভিন্ন পথে আগত হাজীদের জন্য মক্কা শরীফের কাছে বিভিন্ন দিকে কিছু স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, হজ্ব অথবা উমরা পালনের জন্য আগমনকারীরা যখন এসব স্থানে পৌঁছবে, তখন 'বায়তুল্লাহ' ও 'পবিত্র নগরী' এর আদব রক্ষার্থে সেখান থেকেই ইহরামধারী হয়ে যাবে। বিভিন্ন দিকের এ নির্দিষ্ট স্থানগুলোকে 'মীকাত' বলা হয়- যার বিস্তারিত পরিচয় সামনে আসবে।

এ কথাটিও বুঝে নিতে হবে যে, ইহরাম বাঁধার অর্থ কেবল ইহরামের কাপড় পরিধান করা নয়; বরং ইহরামের কাপড় পরিধান করে প্রথমে দু'রাকআত ইহরামের নামায পড়তে হয়। তারপর উঁচু গলায় তালবিয়া পাঠ করতে হয়:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

এ তালবিয়া পাঠ করার পর মানুষ মুহরিম হয়ে যায় এবং এর দ্বারাই হজ্বের কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। আর এর দ্বারাই ইহরামজনিত সকল বাধ্যবাধকতা তার উপর আরোপিত হয়, যেভাবে তাকবীরে তাহরীমা বলার পর নামাযের কাজ শুরু হয়ে যায় এবং নামাযের সকল বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়।

এ ভূমিকার পর এবার মীকাত, ইহরাম ও তালবিয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিম্নলিখিত হাদীসগুলো পাঠ করে নিন:
১৫৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাবাসীদের জন্য 'যুল হুলায়ফা'কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন, শামবাসীদের জন্য নির্ধারণ করেছেন 'জুহফা'কে, নজদবাসীদের জন্য 'কারনুল মানাযিল'কে, আর ইয়ামানবাসীদের জন্য 'ইয়ালামলাম'কে। অতএব, এ চারটি স্থান স্বয়ং এর অধিবাসীদের জন্য মীকাত এবং ঐসব লোকদেরও মীকাত, যারা অন্য অঞ্চল থেকে এ পথ ধরে আসবে-যারা হজ্ব অথবা উমরার ইচ্ছা রাখে। আর যারা এ সীমার ভিতরে থাকে, তারা নিজেদের ঘর থেকেই ইহরাম বাঁধবে এবং এ নিয়ম এভাবেই চলবে। এমনকি মক্কার লোকেরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : « وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ المَدِينَةِ ذَا الحُلَيْفَةِ ، وَلِأَهْلِ الشَّأْمِ الجُحْفَةَ ، وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ المَنَازِلِ ، وَلِأَهْلِ اليَمَنِ يَلَمْلَمَ ، فَهُنَّ لَهُنَّ ، وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ لِمَنْ كَانَ يُرِيدُ الحَجَّ وَالعُمْرَةَ ، فَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ ، فَمُهَلُّهُ مِنْ أَهْلِهِ ، وَكَذَاكَ وَكَذَاكَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّونَ مِنْهَا » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৫
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মীকাত
১৫৫. হযরত জাবের রাযি. সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: মদীনাবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'যুলহুলায়ফা' অন্য পথে (অর্থাৎ, শামের পথে গেলে) 'জুহফা', ইরাকবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'যাতে ইরক', নজদবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'কারনুল মানাযিল', আর ইয়ামানবাসীদের মীকাত হচ্ছে 'ইয়ালামলাম'। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَابِرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : « مُهَلُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ، مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ ، وَالطَّرِيقُ الْآخَرُ الْجُحْفَةُ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْعِرَاقِ مِنْ ذَاتِ عِرْقٍ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ ، وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ » (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৫৬
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহরামের পোশাক
১৫৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল, মুহরিম ব্যক্তি কি কি কাপড় পরিধান করতে পারবে? তিনি বললেনঃ (ইহরাম অবস্থায়) তোমরা জামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, শেলওয়ার পরবে না, টুপি পরবে না এবং জুতাও পরবে না। তবে কেউ যদি স্যান্ডেল না পায়, তাহলে সে জুতাই পরে নিবে, কিন্তু এগুলো টাখনুর নীচ দিক থেকে কেটে নিবে। আর তোমরা এমন কাপড়ও পরিধান করবে না, যার মধ্যে জাফরান অথবা ওয়ারস লাগান হয়েছে। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَلْبَسُوا الْقُمُصَ ، وَلَا الْعَمَائِمَ ، وَلَا السَّرَاوِيلَاتِ ، وَلَا الْبَرَانِسَ ، وَلَا الْخِفَافَ ، إِلَّا أَحَدٌ لَا يَجِدُ النَّعْلَيْنِ ، فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ ، وَلَا تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ وَلَا الْوَرْسُ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৫৭
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহরামের পোশাক
১৫৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি মহিলাদেরকে ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরিধান করতে, চেহারায় নেকাব পরতে এবং ওয়ারস ও জাফরান লাগান কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করতেন। এগুলো বাদে তারা যে কোন রঙয়ের কাপড় পরতে পছন্দ করে তাই পরতে পারে- কুসুম রঙয়ের কাপড় হোক অথবা রেশমী কাপড়। তেমনিভাবে তারা ইচ্ছা করলে অলংকারও পরিধান করতে পারে এবং শেলওয়ার, জামা, মোজাও পরতে পারে। -আবু দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ « نَهَى النِّسَاءَ فِي إِحْرَامِهِنَّ عَنِ القُفَّازَيْنِ وَالنِّقَابِ ، وَمَا مَسَّ الْوَرْسُ وَالزَّعْفَرَانُ مِنَ الثِّيَابِ ، وَلْتَلْبَسْ بَعْدَ ذَلِكَ مَا أَحَبَّتْ مِنْ أَلْوَانِ الثِّيَابِ مُعَصْفَرًا أَوْ خَزًّا أَوْ حُلِيٍّ أَوْ سَرَاوِيلَ أَوْ قَمِيصٍ أَوْ خُفٍّ » (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১৫৮
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহরামের পূর্বে গোসল করা
১৫৮. হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ইহরামের জন্য কাপড় খুলে গোসল করতে দেখেছেন। -তিরমিযী, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَجَرَّدَ لِإِهْلاَلِهِ وَاغْتَسَلَ. (رواه الترمذى والدارمى)
হাদীস নং: ১৫৯
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহরামের তালবিয়া
১৫৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি, আর তখন তাঁর মাথার চুলগুলো জড়ানো ছিল। (যেমন, গোসলের পর মাথার চুলের অবস্থা এমনই থাকে।) তিনি এভাবে তালবিয়া পাঠ করেছিলেন:

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

তিনি কেবল এ বাক্যগুলোই পড়ছিলেন, এর উপর অন্য কোন বাক্য সংযোজন করেছিলেন না।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ مُلَبِّدًا يَقُولُ : « لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالمُلْكَ ، لاَ شَرِيكَ لَكَ » لاَ يَزِيدُ عَلَى هَؤُلاَءِ الكَلِمَاتِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৬০
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহরামের প্রথম তালবিয়া কখন পড়বে
১৬০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (যুল হুলায়ফার মসজিদে ইহরামের দু'রাকআত নামায পড়ার পর) যখন মসজিদের পাশেই উটনীর রেকাবে পা রাখতেন এবং উটনী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেত, তখন তিনি ইহরামের তালবিয়া পড়তেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنِ عَبْدُاللهِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا أَدْخَلَ رِجْلَهُ فِي الغَرْزِ ، وَاسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ قَائِمَةً ، أَهَلَّ مِنْ عِنْدِ مَسْجِدِ ذِي الحُلَيْفَةِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৬১
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালবিয়া উচ্চৈঃস্বরে পড়তে হবে
১৬১. খাল্লাদ ইবনে সায়েব তাবেয়ী তাঁর পিতা সায়েব ইবনে খাল্লাদ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার কাছে জিবরাঈল (আঃ) আসলেন এবং নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন আমার সাথীদেরকে তালবিয়া উচ্চৈঃস্বরে পড়তে বলি। মালেক, তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ خَلَّادِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَتَانِي جِبْرِيلُ ، فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالْإِهْلَالِ اَوْالتَّلْبِيَةِ » (رواه مالك والترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬২
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালবিয়া উচ্চৈঃস্বরে পড়তে হবে
১৬২. হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর কোন মুসলমান বান্দা যখন হজ্ব অথবা উমরার জন্য তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডান ও বাম দিকে আল্লাহর যেসব মাখলুক থাকে, চাই সেগুলো নিষ্প্রাণ পাথর হোক অথবা বৃক্ষ কিংবা মাটির ঢিলা- সেগুলোও তার সাথে লাব্বাইক বলতে থাকে। এমনকি তা এ পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত অতিক্রম করে। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ
کتاب الحج
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُلَبِّي إِلاَّ لَبَّى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ مُدَرَ حَتَّى تَنْقَطِعَ الْأَرْضُ مِنْ هَهُنَا وَمِنْ هَهُنَا. (رواه الترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ১৬৩
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালবিয়ার পরের বিশেষ দু‘আ
১৬৩. ওমারা ইবনে খুযায়মা ইবনে সাবেত আনসারী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তালবিয়া থেকে ফারেগ হতেন, (অর্থাৎ, তালবিয়া পাঠ করে মুহরিম হয়ে যেতেন) তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার কাছে তাঁর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের দু‘আ করতেন এবং তাঁর অনুগ্রহে জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনা করতেন। -মুসনাদে শাফেয়ী
کتاب الحج
عَنْ عُمَارَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا فَرَغَ مِنْ تَلْبِيَتِهِ سَأَلَ اللَّهَ رِضْوَانَهُ وَالْجَنَّةَ وَاسْتَعْفَاهُ بِرَحْمَتِهِ مِنَ النَّارِ. (رواه الشافعى)
হাদীস নং: ১৬৪
হজ্ব অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হজ্ব ফরয হওয়ার বিধানটি কোন্ সালে এসেছে, এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মতের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এবং একথাও লিখা হয়েছে যে, প্রবল মত এটাই যে, ৮ম হিজরীতে মক্কায় ইসলামী শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর ৯ম হিজরীতে হজ্ব ফরয হওয়ার বিধান এসেছে। ঐ বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে তো হজ্ব পালন করেন নাই; কিন্তু হযরত আবু বকর রাযি.-কে আমীরুল হজ্ব বানিয়ে পাঠালেন এবং তারই নেতৃত্বে ঐ বছর হজ্ব আদায় হল। সেখানে আগামী দিনগুলোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও দেওয়া হল, যেগুলোর মধ্যে একটি ঘোষণা এও ছিল যে, ভবিষ্যতে কোন মুশরিক ও কাফের হজ্বে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না এবং জাহিলিয়্যাতের নোংরা ও মুশরিকসুলভ কোন কাজের অনুমতি কাউকে দেওয়া হবে না।
সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বছর হজ্ব না করার একটি বিশেষ হেকমত এও ছিল যে, তিনি চাইতেন যে, তাঁর হজ্বটি যেন এমন আদর্শ ও অনুকরণীয় হজ্ব হয়, যার মধ্যে কোন একজন মানুষও শিরক ও জাহিলিয়্যাতের রীতি-পদ্ধতি দ্বারা হজ্বকে কলুষিত না করে; বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেবল নূরই নূর ও কল্যাণই কল্যাণ থাকে এবং তাঁর দাওয়াত, হেদায়াত, শিক্ষা ও সংস্কারজনিত সুপ্রভাবের সঠিক দর্পণ হয়ে থাকে। এভাবে যেন ৯ম হিজরীর হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হজ্বটি পরবর্তী বছর অনুষ্ঠেয় তাঁর হজ্বের পটভূমি ও এর প্রস্তুতিরই একটি পদক্ষেপ ছিল।

তারপর পরবর্তী বছর- যা তাঁর জীবনের শেষ বছর ছিল- তিনি হজ্বের সংকল্প করলেন। আর যেহেতু তাঁকে এ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, দুনিয়াতে এখন আর অল্প দিনই তিনি অবস্থান করবেন এবং কাজের সুযোগ পাবেন, তাই তিনি নিজের এ ইচ্ছার (হজ্বের) কথা খুব গুরুত্ব সহকারে প্রচার করলেন। যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মুসলমান এই মুবারক সফরে তাঁর সাথে থেকে হজ্বের বিধি-বিধান ও দ্বীনের অন্যান্য মাসায়েল শিখে নিতে পারে এবং হজ্বের সফরের সংসর্গ ও সান্নিধ্যের বিশেষ বরকত হাসিল করে নিতে পারে। ফলে দূর ও নিকটের হাজার হাজার মুসলমান- যারা এ সংবাদ শুনতে পেল এবং তাদের বিশেষ কোন অপারগতাও ছিল না, তারা মদীনা তৈয়্যেবায় এসে হাজির হল। ২৪শে যিলকদ শুক্রবার ছিল। এদিন তিনি জুমু'আর খুতবায় হজ্ব ও হজ্বের সফর সম্পর্কে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিলেন এবং পরের দিন ২৫শে যিলকদ ১০ হিজরী শনিবার যুহরের নামাযের পর মদীনা শরীফ থেকে এ বিরাট কাফেলা রওয়ানা হল। আসরের নামায তিনি যুল হুলায়ফায় গিয়ে পড়লেন- যেখানে তিনি প্রথম মনযিল করবেন এবং এখান থেকেই ইহরাম বাঁধবেন। তিনি রাতও এখানেই কাটালেন এবং পরের দিন রোববার যুহরের নামাযের পর নিজে সাহাবায়ে কেরামসহ ইহরাম বাঁধলেন এবং মক্কা শরীফের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। এভাবে ৯ম দিন অর্থাৎ, ৪ঠা যিলহজ্ব তিনি মক্কা শরীফে প্রবেশ করলেন। সফরসঙ্গীদের সংখ্যা পথিমধ্যে আরও বাড়তেই থাকল।

এ সফরে হুযুর (ﷺ)-এর সাথে হজ্ব পালনকারীদের সংখ্যা নিয়ে রেওয়ায়াতে ভিন্নমত রয়েছে। চল্লিশ হাজার থেকে নিয়ে এক লাখ বিশ হাজার ও এক লাখ ত্রিশ হাজারের বর্ণনা বিভিন্ন রেওয়ায়াতে পাওয়া যায়। এ অধমের নিকট এ মতবিরোধটি এমনই, যেমন, বিরাট সমাবেশ ও মেলায় যোগদানকারীদের সংখ্যার ব্যাপারে মানুষের অনুমান আজও বিভিন্ন হয়ে থাকে। তাই যিনি যে সংখ্যা বলেছেন, তার অনুমানের ভিত্তিতেই বলেছেন। একেবারে হিসাব করে ও গণনা করে কেউ এ সংখ্যা বলেননি। এতদসত্ত্বেও এতটুকু কথা সবগুলো বর্ণনায়ই রয়েছে যে, সমাবেশটি সীমা-সংখ্যার বাইরে ছিল, যেদিকেই দৃষ্টি যেত কেবল মানুষই মানুষ চোখে পড়ত।

এ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন স্থানে ভাষণ দিয়েছেন এবং ঠিক এভাবে; বরং পরিষ্কার এ কথা বলে দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন যে, এখন আমার প্রতিশ্রুত সময় ঘনিয়ে এসেছে, আর আমার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীনি শিক্ষা ও দীক্ষা গ্রহণের সুযোগ এর পর আর মিলবে না। যাহোক, এ সম্পূর্ণ সফরে তিনি শিক্ষা-দীক্ষা, উম্মতের পথ নির্দেশ ও উপদেশের প্রতি খুবই যত্নবান ছিলেন।

বিদায় হজ্ব সম্পর্কে যেসব রেওয়ায়াত হাদীসগ্রন্থসমূহে রয়েছে, (যেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি এখানেও লিখা হবে।) এগুলোর দ্বারা হজ্বের বিধি-বিধান ও এর বিস্তারিত নিয়ম-নীতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া ছাড়া দ্বীন ও শরী‘আতের অন্যান্য অধ্যায় ও শাখা-প্রশাখাসমূহের ব্যাপারেও উম্মত অনেক গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক বিষয় জানতে পারে। বাস্তব কথা এই যে, প্রায় এক মাসের এ সফরে দ্বীনের তালীম, তাবলীগ ও হেদায়াতের এত কাজ হয়েছে এবং এমন ব্যাপক ও বৃহত্তর পরিসরে হয়েছে যে, এটা ছাড়া অনেক বছরেও তা হওয়া সম্ভব ছিল না। এ থেকেই উন্মতের কোন কোন ভাগ্যবান মনীষী এ কথা বুঝেছেন যে, দ্বীন ও দ্বীনের বরকত ও হেদায়াত লাভের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে দ্বীনি সফরে নেক লোকদের সান্নিধ্য ও সাহচর্য।

এ ভূমিকার পর এবার বিদায় হজ্ব সম্পর্কে হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি.-এর হাদীসটি মুসলিম শরীফ থেকে উদ্ধৃত করা হচ্ছে।
১৬৪. জাফর ইবনে মুহাম্মদ (যিনি হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযিঃ-এর প্রপৌত্র ও ইমাম জাফর সাদিক নামে প্রসিদ্ধ।) নিজের পিতা মুহাম্মদ ইবনে আলী (ইমাম বাকের নামে যিনি সমধিক পরিচিত।) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমরা কয়েকজন সাথী হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি.-এর খেদমতে হাজির হলাম। তিনি আমাদেরকে আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করলেন (এবং সবাই নিজেদের পরিচয় পেশ করল।) শেষে যখন আমার পালা আসল, তখন আমি বললাম, আমি হলাম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন। (তিনি সে সময় খুব বুড়ো হয়ে গিয়েছিলেন এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আদর করে) তাঁর হাতটি আমার মাথার উপর রাখলেন। তারপর আমার জামার উপরের বোতামটি খুললেন এবং তারপর নিচের বোতামটিও খুলে ফেললেন। তারপর নিজের হাতটি (জামার ভিতরে নিয়ে) আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি (আমার আগমনে আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে) বললেন, স্বাগতম! হে আমার ভাতিজা! তুমি আমার কাছে যা জিজ্ঞাসা করতে চাও নিঃসংকোচে জিজ্ঞাসা করতে পার। (ইমাম বাকের বলেন,) ইতিমধ্যে নামাযের সময় হয়ে গেল, হযরত জাবের একটি ছোট চাদর গায়ে দিয়ে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। চাদরটি এমন ছোট ছিল যে, তিনি যখন এটা কাঁদের উপর রাখতেন, তখন এর দু'প্রান্ত উপরে উঠে তার দিকে এসে যেত। অথচ তার বড় চাদরটি তার নিকটেই আলনায় লটকানো ছিল। (কিন্তু তিনি এটা গায়ে দিয়ে নামায পড়া জরুরী মনে করলেন না; বরং ঐ ছোট চাদরটি গায়ে দিয়েই নামায পড়িয়ে দিলেন।) নামায শেষ করার পর আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিদায় হজ্ব সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত বলুন। তিনি হাতের আঙ্গুল দ্বারা ৯ সংখ্যার দিকে ইশারা করে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে ৯ বছর পর্যন্ত কোন হজ্ব পালন করেন নি। তার পর দশম হিজরীতে তিনি ঘোষণা করলেন যে, এ বছর তিনি হজ্ব করবেন। এ ঘোষণা শুনে মদীনায় প্রচুর লোকের সমাগম হল। তাদের সবারই আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী হয়ে তাঁকে অনুসরণ করবে এবং তাঁর কাজের মতই কাজ করে যাবে। হযরত জাবের রাযি. বলেন, আমরা তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম এবং যুল হুলায়ফায় এসে পৌঁছলাম। এখানে এসে আসমা বিনতে উমাইস (যিনি হযরত আবূ বকর সিদ্দীকের স্ত্রী ছিলেন এবং এ কাফেলায় শরীক ছিলেন।) মুহাম্মদ ইবনে আবূ বকরকে প্রসব করলেন। আসমা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এখন আমি কি করব? তিনি বললেন: এ অবস্থায়ই ইহরামের জন্য গোসল করে নাও এবং এ অবস্থায় মহিলারা যেভাবে কাপড়ের লেঙ্গুট পরে থাকে, তুমিও তাই করে নাও, তারপর ইহরাম বেঁধে নাও। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলায়ফার মসজিদে নামায পড়লেন এরপর নিজের উটনী কাসওয়ায় সওয়ার হলেন। উটনী যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছল, তখন আমি ঐ উঁচু ভূমি থেকে চেয়ে দেখলাম যে, তাঁর ডানে, বায়ে, সামনে ও পেছনে আমার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত আরোহী ও পদচারী লোকে লোকারণ্য হয়ে আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হত, আর তিনিই এর প্রকৃত মর্ম ও দাবী জনাতেন। আর আমাদের রীতি এই ছিল যে, আমরা তাঁকে যা করতে দেখতাম, আমরা নিজেরাও তাই করতাম। (তাঁর উটনী যখন বায়দায় পৌঁছল, তখন) তিনি তওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়া পাঠ করলেন: لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ আর তাঁর সঙ্গী সাহাবীগণ যে তালবিয়া পড়ছিলেন (যার মধ্যে কিছু বাড়তি শব্দমালার সংযোজনও ছিল,) তিনি এর কোন প্রতিবাদ করেন নাই; বরং নিজে নিজের তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, (মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ)-এর কোন কোন সাহাবী তালবিয়ার মধ্যে আল্লাহর মহিমা ও সম্মানসূচক কিছু শব্দমালা সংযোজন করতেন, আর যেহেতু এর অবকাশ রয়েছে। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এ কাজ থেকে নিষেধ করেননি; কিন্তু তিনি নিজের তালবিয়ার মধ্যে কোন হ্রাস-বৃদ্ধি করেন নি।)

হযরত জাবের রাযি. বলেন, এ সফরে আমাদের নিয়ত (মূলত) কেবল হজ্বেরই ছিল, উমরাকে আমরা (সফরের উদ্দেশ্য হিসাবে) জানতামই না। অবশেষে আমরা যখন তাঁর সাথে বায়তুল্লাহ শরীফ পৌঁছে গেলাম, তখন তিনি সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করলেন। (অর্থাৎ, নিয়ম অনুযায়ী এর উপর হাত রেখে চুমু দিলেন এবং তারপর তওয়াফ শুরু করলেন।) এর তিন চত্তরে তিনি রমল করলেন (অর্থাৎ, জোর কদমে চললেন,) আর বাকী চার চক্করে স্বাভাবিক গতিতে চললেন। তারপর (তাওয়াফের সাত চক্কর পূর্ণ করে) তিনি মাকামে ইব্‌রাহীমের দিকে অগ্রসর হলেন এবং এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: وَاتَّخِذُوۡا مِنۡ مَّقَامِ اِبۡرٰہٖمَ مُصَلًّی মাকামে ইবরাহীমকে তোমরা নামাযের স্থান বানাও। তারপর তিনি এভাবে দাঁড়ালেন যে, মাকামে ইব্‌রাহীম তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝে ছিল এবং তিনি (তাওয়াফ পরবর্তী দু'রাকআত) নামায আদায় করলেন।
হাদীসের বর্ণনাকারী ইমাম জাফর সাদিক বলেন, আমার পিতা বলতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু'রাকাআত নামাযে সূরা এখলাছ ও সূরা কাফিরুন পাঠ করলেন।
তারপর তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলেন এবং এতে চুম্বন করলেন। তারপর একটি দরওয়াজা দিয়ে (সায়ী করার জন্য) সাফা পর্বতের দিকে গেলেন। তিনি যখন সাফা পর্বতের একেবারে নিকটে পৌঁছলেন, তখন এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: اِنَّ الصَّفَا وَالۡمَرۡوَۃَ مِنۡ شَعَآئِرِ اللّٰہِ "নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত।") তারপর বললেন: আমি এই সাফা থেকেই সায়ী শুরু করছি, যার উল্লেখ আল্লাহ্ তা'আলা প্রথমে করেছেন। তারপর তিনি প্রথমে সাফার কাছে আসলেন এবং এর এতটুকু উপরে উঠলেন যে, বায়তুল্লাহ্ তিনি দেখতে পেলেন। এ সময় তিনি কেবলার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আল্লাহর তওহীদ ও মহিমা ঘোষণা করলেন। তিনি বলেন: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ» (আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব ও শাসন তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়। তিনি (মক্কা ও সারা আরব ভূখণ্ডে শাসন ক্ষমতা দান ও নিজের দ্বীনকে বিজয়ী করার) প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, নিজের বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সম্মিলিত শক্তিকে পরাভূত করেছেন।) এ বাক্যগুলোই তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন এবং এগুলোর মাঝখানে দু‘আ করলেন। তারপর সাফা থেকে অবতরণ করে দ্রুত মারওয়া অভিমুখে হেঁটে চললেন। যখন তাঁর পা মুবারক উপত্যকা সমতলে গিয়ে ঠেকল, তখন তিনি কিছুটা দৌড়ে অগ্রসর হলেন। তারপর যখন সমতল স্থান থেকে উপরে এসে গেলেন, তখন নিজের স্বাভাবিক গতিতে চলতে লাগলেন এবং এভাবে মারওয়া পর্বতে এসে গেলেন। এখানে তিনি সেরূপই করলেন, যেরূপ সাফায় করেছিলেন। এভাবে তিনি যখন শেষ চত্তর পূর্ণ করে মারওয়ায় পৌছলেন, তখন মারওয়ার উপর দাঁড়িয়ে সফরসঙ্গী সাহাবীদেরকে সম্বোধন করলেন, আর তখন সফর সঙ্গীরা ছিল নীচে। তিনি বললেন: আমি যদি আমার ব্যাপারে ঐ বিষয়টি আগে বুঝতে পারতাম, যা পরে বুঝেছি, তাহলে কুরবানীর পশু মদীনা থেকে আমার সাথে নিয়ে আসতাম না এবং এ তাওয়াফ ও সায়ীকে আমি উমরার রূপ দান করতাম। সুতরাং তোমাদের যার সাথে কুরবানীর পশু নেই সে যেন ইহরাম খুলে হালাল হয়ে যায় এবং এটাকে উমরা বানিয়ে নেয়। এ কথা শুনে সুরাকা ইবনে মালেক ইবনে জুশাম রাযি. নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কি কেবল আমাদের এ বছরের জন্য, না চিরকালের জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আপন হাতের অঙ্গুলীসমূহ একটি আরেকটির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে বললেন: دخلت العمرة في الحج لا بل لأبد أبد উমরা কেবল হজ্বের মধ্যে প্রবেশই করল না; বরং তা চিরকালের জন্য।

হযরত আলী রাযি. (যিনি যাকাত আদায় ইত্যাদির জন্য ইয়ামান গিয়েছিলেন।) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কুরবানীর জন্য আরও বাড়তি কিছু পশু নিয়ে মক্কায় আসলেন। তিনি এসে তাঁর স্ত্রী ফাতেমাকে দেখলেন যে, তিনি ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গিয়েছেন, রঙ্গীন কাপড় পরিধান করে নিয়েছেন এবং সুরমাও ব্যবহার করে ফেলেছেন। তিনি তার এ কাজকে খুব ভুল মনে করলেন এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। (আবূ দাউদ শরীফের বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আলী রাযি. তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে এমন করতে কে বলেছে ?) হযরত ফাতেমা রাযি. বললেন, আমাকে আব্বাজান (রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এইরূপ করতে বলেছেন। (তাই আমি তাঁর হুকুম পালন করেছি।) তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আলী রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি যখন তালবিয়া পড়ে ইহরাম বেঁধেছিলে তখন কি বলেছিলে? (অর্থাৎ, ইফরাদের নিয়মে শুধু হজ্বের নিয়ত করেছিলে, না তামাত্তুর নিয়মে কেবল উমরার নিয়ত করেছিলে, না কেরানের নিয়মে এক সাথে উভয়টির নিয়ত করেছিলে?) তিনি উত্তর দিলেন, আমি এভাবে নিয়ত করেছিলাম: اللهُمَّ إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُكَ (হে আল্লাহ! আমি ঐ জিনিসের ইহরাম বাঁধছি, যে জিনিসের ইহরাম বেঁধেছেন তোমার রাসূল।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যেহেতু কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছি, (আর এ কারণে হজ্বের আগে আমি ইহরাম খুলতে পারব না, আর তুমি আমার মতই ইহরামের নিয়ত করেছ,) তাই তুমিও আমার মতই ইহরাম অবস্থায় থাক। হযরত জাবের বলেন, হযরত আলী রাযি. ইয়ামান থেকে কুরবানীর যেসব পশু নিয়ে এসেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের সাথে (মদীনা থেকে) যা নিয়ে এসেছিলেন, এগুলোর মোট সংখ্যা ছিল একশ। (কোন কোন রেওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, ৬৩টি উট হুযুর (ﷺ) নিজের সাথে এনেছিলেন, আর ৩৭টি হযরত আলী রাযি. ইয়ামান থেকে এনেছিলেন। হযরত জাবের বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশমতে ঐসকল সাহাবায়ে কেরাম- যারা কুরবানীর পশু সাথে করে নিয়ে আসেননি, তারা সবাই (সাফা-মারওয়ার সায়ী করে এবং মাথার চুল কেটে হালাল হয়ে গেলেন।) কেবল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং ঐসব সাহাবীগণ ইহরাম অবস্থায় থেকে গেলেন, যারা কুরবানীর পশু সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন।

তারপর যখন তারবিয়ার দিন (৮ই যিলহজ্ব) আসল, তখন সবাই মিনার দিকে রওয়ানা হয়ে গেল। (আর যারা উমরা করে হালাল হয়ে গিয়েছিল, তারা হজ্বের ইহরাম বাঁধল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের উটনীর উপর সওয়ার হয়ে মিনায় পৌঁছলেন। সেখানে গিয়ে তিনি (এবং সাহাবায়ে কেরাম মসজিদে খাইফে) যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করলেন। ফজরের নামাযের পর আরও কিছু সময় তিনি মিনায় অবস্থান করলেন এবং এখানেই সূর্যোদয় হয়ে গেল। এ সময় তিনি (আরাফার) নামিরায় তাঁর জন্য একটি পশমের তাবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং তিনি আরাফার দিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন, কুরাইশদের ধারণা ছিল এবং এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ছিল যে, তিনি মাশ'আরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন, যেমন, জাহিলিয়্যাত যুগে কুরাইশরা এমনই করত। (কিন্তু তিনি এমন করলেন না); বরং মাশ'আরুল হারামের সীমানা অতিক্রম করে আরাফায় পৌঁছে গেলেন এবং দেখলেন যে, নির্দেশমত নামিরায় তাঁর জন্য তাবু খাটানো হয়ে গিয়েছে। অতএব, তিনি সেখানে অবতরণ করলেন।

অবশেষে যখন সূর্য ঢলে গেল, তখন তিনি নিজের উটনী কাসওয়ার উপর হাওদা স্থাপনের নির্দেশ দিলেন এবং নির্দেশমত তা করা হল। তিনি এর উপর সওয়ার হয়ে ওয়াদীয়ে উরনার মাঝে আসলেন এবং উটনীর পিঠে বসা অবস্থায়ই লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন: "তোমাদের একের জান-মাল অন্যের উপর হারাম। (অর্থাৎ, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ও অবৈধভাবে কারও সম্পদ গ্রাস করা তোমাদের জন্য সব সময়ই হারাম।) ঠিক সেভাবে, যেভাবে আজ এ আরাফার দিনে, যিলহজ্বের এ মুবারক মাসে ও তোমাদের এ পবিত্র নগরী মক্কায় (তোমরা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ও তার সম্পদ গ্রাস করাকে হারাম মনে করে থাক)। শুনে রাখ, মূর্খতার যুগের সকল অপকর্ম আমার পায়ের নীচে দাফন করে দিলাম।
(আমি এগুলোর সমাপ্তি ও রহিতকরণের ঘোষণা দিচ্ছি।) জাহিলিয়্যাত যুগের রক্তের দাবীও রহিত করা হল। (অর্থাৎ, জাহিল্যিায়ত যুগের কোন রক্তের দাবী আর কোন মুসলমান করবে না।) আর সর্বপ্রথম আমি আমাদের একটি রক্তের দাবী প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। সেটা হচ্ছে রবী'আ ইবনুল হারেছের পুত্রের রক্তের দাবী। সে বনূ সা'দ গোত্রে দুগ্ধপান অবস্থায় ছিল, তাকে হুযাইল গোত্রের লোকেরা হত্যা করে ফেলেছিল। (হুযাইল গোত্র থেকে এ রক্তের বদলা নেওয়া বাকী ছিল। কিন্তু আমি আমার গোত্রের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দিচ্ছি যে, এখন এ ব্যাপার শেষ, কোন বদলা নেওয়া হবে না।) জাহিলিয়্যাত যুগের সকল সুদের দাবী রহিত করা হল। (এখন আর কোন মুসলমান কারও কাছে নিজের সুদের দাবী করতে পারবে না।) আর এ ক্ষেত্রেও আমি সর্বপ্রথম আমার খান্দানের সুদের দাবী থেকে আমার চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালেবের সুদের দাবী রহিত ঘোষণা করছি। তার সকল সুদের দাবী আজ শেষ করে দেওয়া হল। তোমরা নারীদের অধিকারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ এবং তাদের সাথে দৈহিক সম্পর্কের বিষয়টি আল্লাহর বিধানে হালাল করে নিয়েছ। তাদের উপর তোমাদের বিশেষ হক হচ্ছে এই যে, তারা যেন তোমাদের অন্দর মহলে এমন কাউকে যেতে না দেয়, যার আগমন তোমরা অপছন্দ কর। কিন্তু তারা যদি এমন করে ফেলে, তাহলে তোমরা (তাদেরকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য) কিছুটা হালকা শাস্তি দিতে পার। আর তোমাদের উপর তাদের বিশেষ অধিকার ও দাবী হচ্ছে এই যে, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের অন্ন ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করে দিবে। আমি তোমাদের কাছে এমন হেদায়াতের উপকরণ রেখে যাচ্ছি যে, এটা শক্তভাবে ধরে থাকলে তোমরা আমার পর কখনও বিপথগামী হবে না। আর সেটা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে (যে, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পয়গাম ও তাঁর বিধান পৌঁছে দিয়েছি কি-না।) তাই বল, তোমরা সেখানে কি বলবে? উপস্থিত সবাই বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি এবং কিয়ামতের দিনও সাক্ষ্য দিব যে, আপনি আল্লাহ্ তা'আলার পয়গাম আমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উম্মতের কল্যাণ কামনা করেছেন। এরপর তিনি নিজের শাহাদত অঙ্গুলী আসমানের দিকে উঠিয়ে এবং উপস্থিত লোকদের দিকে এর দ্বারা ইশারা করে তিনবার বললেন, اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَد اللَّهُمَّ اشْهَدْ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক যে, আমি তোমার পয়গাম তোমার বান্দাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছি, তোমার এ বান্দারা একথা স্বীকার করছে। তারপর বিলাল রাযি. আযান দিলেন, তারপর একামত বললেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের নামায পড়ালেন। তারপর বিলাল একামত বললেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের নামায পড়ালেন।

তারপর তিনি (যুহর ও আসরের নামায এক সাথে আদায় করে) নিজের উটনীর উপর সওয়ার হয়ে আরাফার ময়দানের ওকূফস্থলে আসলেন। এখানে তিনি নিজের উটনীর রুখ ঐদিকে করে দিলেন, যে দিকে পাথরের বিরাট বিরাট প্রান্তর রয়েছে, আর পদচারী জনতাকে তিনি নিজের সামনে করে নিলেন এবং নিজে কেবলামুখী হয়ে গেলেন এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেন- যে পর্যন্ত না সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসল এবং (সন্ধ্যার শেষ সময়ে আকাশ যে পিতবর্ণ ধারণ করে, ঐ) পিতাভ বর্ণও শেষ হয়ে গেল। অবশেষে সূর্য গোলক সম্পূর্ণ নীচে চলে গেলে তিনি (আরাফা থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলেন এবং উসামা ইবনে যায়েদকে নিজের উটনীর পেছনে বসালেন। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন। এখানে পৌঁছে তিনি মাগরিব ও ইশার নামায একসাথে এক আযান ও দুই একামতে পড়লেন। (অর্থাৎ, আযান একবারই দেওয়া হল; কিন্তু একামত মাগরিবের জন্য পৃথক দেওয়া হল এবং ইশার জন্যও পৃথক দেওয়া হল।) আর এ দু'নামাযের মাঝে তিনি কোন সুন্নত ও নফল পড়লেন না। তারপর তিনি শুয়ে গেলেন এবং সুবহে সাদিক পর্যন্ত শুয়েই থাকলেন। সুবহে সাদিক হতেই তিনি আযান ও একামতের সাথে ফজরের নামায আদায় করলেন। তারপর মাশ'আরুল হারামের কাছে আসলেন। (অধিক সমর্থিত মত অনুযায়ী এটা একটা টিলা ছিল-মুযদালিফার সীমার মধ্যে। এখনও এ অবস্থাই রয়েছে এবং সেখানে চিহ্ন হিসাবে একটি ইমারত তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।) এখানে এসে তিনি কেবলা অভিমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহ্ র কাছে দু‘আ করলেন, তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন, কালেমায়ে তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করলেন। তিনি আকাশ খুব ফর্সা না হওয়া পর্যন্ত এভাবে দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। তারপর সূর্যোদয়ের সামান্য পূর্বে তিনি মিনার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওয়ানা দিলেন এবং ফযল ইবনে আব্বাসকে নিজের সওয়ারীর পেছনে বসিয়ে নিলেন। এভাবে তিনি যখন "বতনে মুহাস্সারে" পৌঁছলেন, তখন নিজের উটনীর চলার গতি কিছুটা বাড়িয়ে দিলেন। তারপর এখান থেকে বের হয়ে তিনি ঐ মাঝের পথ ধরলেন, যা বড় জামরার নিকট গিয়ে পৌঁছে। তারপর ঐ জামরার নিকট পৌছে যা গাছের সন্নিকটে সাতটি কংকর মারলেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় 'আল্লাহু আকবার' বললেন। কংকরগুলো ছিল মটর দানার মত। আর তিনি এগুলো নিক্ষেপ করেছিলেন বনে ওয়াদী (অর্থাৎ, জামরার নিকটবর্তী নীচু ভূমি) থেকে। কংকর মারা শেষ করে তিনি কুরবানীস্থলে আসলেন এবং নিজ হাতে তেষট্রিটি উট কুরবানী করলেন। বাকীগুলো হযরত আলীর হাওয়ালা করলেন এবং এগুলো হযরত আলীই কুরবানী করলেন। তিনি নিজের কুরবানীর পশুতে হযরত আলীকেও শরীক রাখলেন। তারপর নির্দেশ দিলেন, যেন প্রতিটি কুরবানীর পশু থেকে এক একটি টুকরা নেওয়া হয় এবং একত্রে পাক করা হয়। সেমতে একটি বড় ডেকে এটা রান্না করা হল এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও হযরত আলী এগুলোর গোশত আহার করলেন এবং শুরবাও পান করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের উটনীর উপর সওয়ার হয়ে তাওয়াফে যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহর দিকে রওয়ানা করলেন এবং যুহরের নামায মক্কায় গিয়ে পড়লেন। নামায শেষে তিনি (আপন গোত্র) বনী আব্দুল মুত্তালিবের কাছে পৌঁছলেন, যারা যমযমের পানি উঠিয়ে লোকদেরকে পান করাচ্ছিল। তিনি তাদেরকে বললেন, হে বনী আব্দুল মুত্তালিব! তোমরা পানি টান, আমার যদি এ আশংকা না হত যে, অন্য লোকেরা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে তোমাদের এ খেদমত ছিনিয়ে নিবে, তাহলে আমিও তোমাদের সাথে পানি টানতাম। এ সময় তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিল, আর তিনি সেখান থেকে কিছু পান করে নিলেন। -মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ، فَسَأَلَ عَنِ الْقَوْمِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيَّ ، فَقُلْتُ : أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ ، فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَأْسِي فَنَزَعَ زِرِّي الْأَعْلَى ، ثُمَّ نَزَعَ زِرِّي الْأَسْفَلَ ، ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ ثَدْيَيَّ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلَامٌ شَابٌّ ، فَقَالَ : مَرْحَبًا بِكَ ، يَا ابْنَ أَخِي ، سَلْ عَمَّا شِئْتَ ، فَسَأَلْتُهُ ، وَهُوَ أَعْمَى ، وَحَضَرَ وَقْتُ الصَّلَاةِ ، فَقَامَ فِي نِسَاجَةٍ مُلْتَحِفًا بِهَا ، كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبَيْهِ رَجَعَ طَرَفَاهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا ، وَرِدَاؤُهُ عَلَى جَنْبِهِ ، عَلَى الْمِشْجَبِ ، فَصَلَّى بِنَا ، فَقُلْتُ : أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : بِيَدِهِ فَعَقَدَ تِسْعًا ، فَقَالَ : إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ ، ثُمَّ أَذَّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاجٌّ ، فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ ، كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَيَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِ ، فَخَرَجْنَا مَعَهُ ، حَتَّى أَتَيْنَا ذَا الْحُلَيْفَةِ ، فَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ ، فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : كَيْفَ أَصْنَعُ؟ قَالَ : « اغْتَسِلِي ، وَاسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ وَأَحْرِمِي » فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ ، ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ ، حَتَّى إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ ، نَظَرْتُ إِلَى مَدِّ بَصَرِي بَيْنَ يَدَيْهِ ، مِنْ رَاكِبٍ وَمَاشٍ ، وَعَنْ يَمِينِهِ مِثْلَ ذَلِكَ ، وَعَنْ يَسَارِهِ مِثْلَ ذَلِكَ ، وَمِنْ خَلْفِهِ مِثْلَ ذَلِكَ ، وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا ، وَعَلَيْهِ يَنْزِلُ الْقُرْآنُ ، وَهُوَ يَعْرِفُ تَأْوِيلَهُ ، وَمَا عَمِلَ مِنْ شَيْءٍ عَمِلْنَا بِهِ ، فَأَهَلَّ بِالتَّوْحِيدِ « لَبَّيْكَ اللهُمَّ ، لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ ، وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ » وَأَهَلَّ النَّاسُ بِهَذَا الَّذِي يُهِلُّونَ بِهِ ، فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ شَيْئًا مِنْهُ ، وَلَزِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلْبِيَتَهُ.

قَالَ جَابِرٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : لَسْنَا نَنْوِي إِلَّا الْحَجَّ ، لَسْنَا نَعْرِفُ الْعُمْرَةَ ، حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ ، اسْتَلَمَ الرُّكْنَ فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ، ثُمَّ تَقَدَّمَ إِلَى مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ فَقَرَأَ : {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} فَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ ، فَكَانَ أَبِي يَقُولُ وَلَا أَعْلَمُهُ ذَكَرَهُ إِلَّا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الرُّكْنِ فَاسْتَلَمَهُ ، ثُمَّ خَرَجَ مِنَ الْبَابِ إِلَى الصَّفَا ، فَلَمَّا دَنَا مِنَ الصَّفَا قَرَأَ : {إِنَّ الصَّفَا والْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ} « أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ » فَبَدَأَ بِالصَّفَا ، فَرَقِيَ عَلَيْهِ ، حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ، فَوَحَّدَ اللهَ وَكَبَّرَهُ ، وَقَالَ : « لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ » ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ ، قَالَ : مِثْلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الْمَرْوَةِ ، فَفَعَلَ عَلَى الْمَرْوَةِ كَمَا فَعَلَ عَلَى الصَّفَا ، حَتَّى إِذَا كَانَ آخِرُ طَوَافِهِ عَلَى الْمَرْوَةِ ، نَادَى وَهُوَ عَلَى الْمَرْوَةِ وَالنَّاسُ تَحْتَهُ فَقَالَ : « لَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقِ الْهَدْيَ ، وَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً ، فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَحِلَّ ، وَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً » ، فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِأَبَدٍ؟ فَشَبَّكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ وَاحِدَةً فِي الْأُخْرَى ، وَقَالَ : « دَخَلَتِ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ » مَرَّتَيْنِ « لَا بَلْ لِأَبَدِ أَبَدٍ »

وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ بِبُدْنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَوَجَدَ فَاطِمَةَ مِمَّنْ حَلَّ ، وَلَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا ، وَاكْتَحَلَتْ ، فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا ، فَقَالَتْ : إِنَّ أَبِي أَمَرَنِي بِهَذَا ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا مَاذَا قُلْتَ حِينَ فَرَضْتَ الْحَجَّ؟ » قَالَ قُلْتُ : اللهُمَّ ، إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُكَ ، قَالَ : « فَإِنَّ مَعِيَ الْهَدْيَ فَلَا تَحِلُّ » قَالَ : فَكَانَ جَمَاعَةُ الْهَدْيِ الَّذِي قَدِمَ بِهِ عَلِيٌّ مِنَ الْيَمَنِ وَالَّذِي أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةً ، قَالَ : فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا ، إِلَّا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ،

فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ تَوَجَّهُوا إِلَى مِنًى ، فَأَهَلُّوا بِالْحَجِّ ، وَرَكِبَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَصَلَّى بِهَا الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ ، ثُمَّ مَكَثَ قَلِيلًا حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ ، وَأَمَرَ بِقُبَّةٍ مِنْ شَعَرٍ تُضْرَبُ لَهُ بِنَمِرَةَ ، فَسَارَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَشُكُّ قُرَيْشٌ إِلَّا أَنَّهُ وَاقِفٌ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ، كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ، فَأَجَازَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ ، فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ ، فَنَزَلَ بِهَا.

حَتَّى إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ ، فَرُحِلَتْ لَهُ ، فَأَتَى بَطْنَ الْوَادِي ، فَخَطَبَ النَّاسَ وَقَالَ : « إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا ، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا ، أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَيَّ مَوْضُوعٌ ، وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ ، وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ ، كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ ، وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ ، وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانَا رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ ، فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ ، فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ [ص : 890] ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ، وَقَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ ، كِتَابُ اللهِ ، وَأَنْتُمْ تُسْأَلُونَ عَنِّي ، فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ؟ » قَالُوا : نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ ، فَقَالَ : بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ ، يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ « اللهُمَّ ، اشْهَدْ ، اللهُمَّ ، اشْهَدْ » ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، ثُمَّ أَذَّنَ ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ، ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ ، وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا

ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، حَتَّى أَتَى الْمَوْقِفَ ، فَجَعَلَ بَطْنَ نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ إِلَى الصَّخَرَاتِ ، وَجَعَلَ حَبْلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ ، وَذَهَبَتِ الصُّفْرَةُ قَلِيلًا ، حَتَّى غَابَ الْقُرْصُ ، وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ خَلْفَهُ ، وَدَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ شَنَقَ لِلْقَصْوَاءِ الزِّمَامَ ، حَتَّى إِنَّ رَأْسَهَا لَيُصِيبُ مَوْرِكَ رَحْلِهِ ، وَيَقُولُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى « أَيُّهَا النَّاسُ ، السَّكِينَةَ السَّكِينَةَ » كُلَّمَا أَتَى حَبْلًا مِنَ الْحِبَالِ أَرْخَى لَهَا قَلِيلًا ، حَتَّى تَصْعَدَ ، حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ ، فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ ، وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ، ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى طَلَعَ الْفَجْرُ ، وَصَلَّى الْفَجْرَ ، حِينَ تَبَيَّنَ لَهُ الصُّبْحُ ، بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ ، ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ ، حَتَّى أَتَى الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ ، فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ، فَدَعَاهُ وَكَبَّرَهُ وَهَلَّلَهُ وَوَحَّدَهُ ، فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى أَسْفَرَ جِدًّا ، فَدَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ عَبَّاسٍ ، وَكَانَ رَجُلًا حَسَنَ الشَّعْرِ أَبْيَضَ وَسِيمًا ، فَلَمَّا دَفَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتْ بِهِ ظُعُنٌ يَجْرِينَ ، فَطَفِقَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهِنَّ ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ ، فَحَوَّلَ الْفَضْلُ وَجْهَهُ إِلَى الشِّقِّ الْآخَرِ يَنْظُرُ ، فَحَوَّلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ مِنَ الشِّقِّ الْآخَرِ عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ ، يَصْرِفُ وَجْهَهُ مِنَ الشِّقِّ الْآخَرِ يَنْظُرُ ، حَتَّى أَتَى بَطْنَ مُحَسِّرٍ ، فَحَرَّكَ قَلِيلًا ، ثُمَّ سَلَكَ الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّتِي تَخْرُجُ عَلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى ، حَتَّى أَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الشَّجَرَةِ ، فَرَمَاهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ ، يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا ، مِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ ، رَمَى مِنْ بَطْنِ الْوَادِي ، ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ ، فَنَحَرَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ بِيَدِهِ ، ثُمَّ أَعْطَى عَلِيًّا ، فَنَحَرَ مَا غَبَرَ ، وَأَشْرَكَهُ فِي هَدْيِهِ ، ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ ، فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ ، فَطُبِخَتْ ، فَأَكَلَا مِنْ لَحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا ، ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَاضَ إِلَى الْبَيْتِ ، فَصَلَّى بِمَكَّةَ الظُّهْرَ ، فَأَتَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، يَسْقُونَ عَلَى زَمْزَمَ ، فَقَالَ : « انْزِعُوا ، بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، فَلَوْلَا أَنْ يَغْلِبَكُمُ النَّاسُ عَلَى سِقَايَتِكُمْ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ » فَنَاوَلُوهُ دَلْوًا فَشَرِبَ مِنْهُ. (رواه مسلم)