মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

খাদ্য অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৩৪ টি

হাদীস নং: ৮১
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অতিভোজনের নিন্দা
৮১। নাফি' (র) সূত্রে ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি জনৈক মিসকীনকে দেখে তার কাছে নিয়ে এলেন এবং তার সামনে খাবার পেশ করলেন। (বর্ণনাকারী বলেন,) সে অধিক পরিমাণে খেতে লাগল। তখন তিনি আমাকে বললেন, তাকে (কোন সময়) আমার নিকট নিয়ে আসবে না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই কাফির সাত পেটে খায়।
(দ্বিতীয় সূত্রে) তিনি ইবন উমর (রা) থেকে, তিনি নবী (ﷺ) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মু'মিন এক পেটে খায় কাফির সাত পেটে খায়।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, তায়ালিসী)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في ذم كثرة الأكل
عن نافع عن ابن عمرقال رأى ابن عمر مسكينا فجعل يدينه ويضع بين يديه فجعل يأكل أكلا كثيرا فقال لي لا تدخلن هذا علي فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الكافر يأكل في سبعة أمعاء (وعنه من طريق ثان) عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال المؤمن يأكل في معنى واحد والكافر يأكل في سبعة أمعاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮২
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অতিভোজনের নিন্দা
৮২। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হল। সে ছিল কাফির। সে অধিক পরিমাণে আহার করত। পরবর্তীতে সে মুসলমান হয়। তখন থেকে সে অল্প পরিমাণে আহার করত। নবী (ﷺ)-কে এ সম্বন্ধে অবহিত করা হলে তিনি বললেন, নিশ্চয়ই কাফির সাত পেটে খায় আর মু'মিন এক পেটে খায়।
(মুসলিম, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في ذم كثرة الأكل
عن أبي هريرة أن رجلا أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو كافر فكان يأكل أكلا كثيرا ثم إنه أسلم فكان يأكل أكلا قليلا فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال إن الكافر يأكل في سبعة أمعاء وإن المسلم يأكل في معي واحد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৩
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অতিভোজনের নিন্দা
৮৩। আবূ বাসরা গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিজরত করার পর নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি তখনও মুসলমান হই নি। তিনি আমার জন্য একটি ছাগলের দুধ দোহন করেন, যা তিনি স্বীয় পরিবারের জন্য দোহন করতেন (আর এটা তাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হত)। ভোর হলে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। নবী (ﷺ)-এর পরিবারস্থ লোকেরা বললেন, আমরা গতরাত যেরূপ ক্ষুধার্ত অবস্থায় যাপন করেছি, সেরূপ আজ রাতও যাপন করব। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য একটি ছাগলের দুধ দোহন করে আনেন। আমি তা পান করে পরিতৃপ্ত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, তুমি পরিতৃপ্ত হয়েছ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমি পরিতৃপ্ত হয়েছি। আজকের পূর্বে আমি কখনো এরূপ পরিতৃপ্ত হই নি। তখন নবী (ﷺ) বললেন, নিশ্চয় কাফির সাত পেটে খায় আর মু'মিন এক পেটে খায়।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। হায়ছামী (র) এটা বর্ণনা করে বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তাবারানী (র) 'আওসাত' গ্রন্থে এর একাংশ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في ذم كثرة الأكل
عن أبي بصرة الغفاري قال أتيت النبي صلى الله عليه وسلم لما هاجرت وذلك قيل أن أسلم فجلب لي شويهة كان يجتلبها لأهله فشربتها فلما أصبحت أسلمت، وقال عيال النبي صلى الله عليه وسلم نبيت الليلة كما بتنا البارحة جياعًا فحلب لي رسول الله صلى الله عليه وسلم شاة فشربتها ورويت، فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم أرويت؟ فقلت يا رسول الله قد رويت، ما شبعت ولا رويت قبل اليوم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم إن الكافر يأكل في سبعة أمعاء والمؤمن يأكل في معي واحد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৪
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: অতিভোজনের নিন্দা
৮৪। মায়মূনা বিনতে হারিস (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কাফির সাত পেটে খায় আর মু'মিন এক পেটে খায়।
(হাদীসটি হায়ছামী (র) বিস্তারিত বর্ণনা করে বলেছেন, এর একাংশ আহমাদ বর্ণনা করেছেন আর তাবারানী পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في ذم كثرة الأكل
عن ميمونة بنت الحرث قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الكافر يأكل في سبعة أمعاء والمؤمن يأكل في معي واحد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৫
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং এটা না করার বৈধতা।
৮৫। সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পড়েছি যে, খাদ্যের বরকত খাওয়ার পরে এবং পূর্বে ওযু করার মধ্যে নিহিত।
(আবু দাউদ, তিরমিযী। আবূ দাউদ (র) বলেছেন, হাদীসটি দুর্বল। তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটির সূত্রে বর্ণনাকারী কায়স ইবন রাবী' দুর্বল।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في غسل اليدين قبل الأكل وبعده وجواز تركه
عن سلمان قال قرأت في التوراة أن بركة الطعام والوضوء بعده فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبرته بما قرأت في التوراة، فقال بركة الطعام في الوضوء قبله والوضوء بعده
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৬
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং এটা না করার বৈধতা।
৮৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় নিদ্রা যায় যে, তার হাতে খাদ্যের চিহ্ন (তেল, চর্বি ইত্যাদি) লেগে থাকে, সে তা ধৌত করে নি, পরে সে যদি কোন অনিষ্টতার শিকার হয়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাকিম। হাফিজ (র) বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ মুসলিমের শর্তে উপনীত।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في غسل اليدين قبل الأكل وبعده وجواز تركه
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من نام وفي يده غمر ولم يغسله فأصابه شيء فلا يلومن إلا نفسه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৭
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং এটা না করার বৈধতা।
৮৭। হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) দুধ পান করে কুলি করলেন এবং বললেন, এর মধ্যেও চর্বি রয়েছে।
(বুখারী, মুসলিম ও ইমামচতুষ্ঠয়)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في غسل اليدين قبل الأكل وبعده وجواز تركه
عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم شرب لبنا فمضمض وقال إن له دسما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৮
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং এটা না করার বৈধতা।
৮৮। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মল ত্যাগ (ইসতিনজা) করে আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে আমরা তাকে 'আজওয়া' (এক প্রকার খেজুর) খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিলাম, যা আমাদের সামনে একটি ঢালের ওপর রাখা ছিল। তিনি তা হতে খেলেন। খাওয়ার আগে তিনি ওযু করেন নি।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। এর সনদে বর্ণনাকারী ইবন লাহি'আ বিতর্কিত।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في غسل اليدين قبل الأكل وبعده وجواز تركه
عن جابرقال مر بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم من الغائط فدعوناه إلى عجوة بين أيدينا على ترس فأكل منها ولم يكن توضأ قبل أن يأكل منها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৯
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং এটা না করার বৈধতা।
৮৯। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে সময় তিনি মল ত্যাগ করতে যান। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে খাবার আনালেন। বর্ণনাকারী এক সময় বলেছেন, এরপর তার নিকট খাবার আনা হল। তখন তাঁকে বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি ওযু করবেন না? তিনি বললেন, আমি সালাত আদায় করার ইচ্ছা করি নি। তা হলে তো ওযু করতাম। (অন্য শব্দেঃ) এরপর তিনি বললেন, আমাকে কেবল তখনই ওযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যখন আমি সালাত আদায় করতে ইচ্ছা করি।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في غسل اليدين قبل الأكل وبعده وجواز تركه
عن ابن عباس قال كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم فأتى الغائط ثم خرج فدعا بالطعام وقال مرة فأتى بالطعام فقيل يا رسول الله ألا توضأ؟ فقال لم أصل فأتوضأ (وفي لفظ) فقال إنما أمرت بالوضوء إذا قمت إلى الصلاة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯০
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাতের খাবার প্রস্তুত হলে এবং সালাতের সময় হয়ে গেলে খাবারকে অগ্রাধিকার দেয়া।
৯০। আনাস ইবন মালিক (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাতের খাবার পেশ করা হয় আর সে সময় সালাত উপস্থিত হয়, তখন তোমরা প্রথমে খাবার গ্রহণ করবে। অন্য শব্দে : 'সালাত উপস্থিত হয়' এর স্থলে যখন সালাতের ইকামত বলা হয় আছে।
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب الأطعمة
باب تقديم العشاء إذا وضع وحضرت الصلاة
عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم قال إذا وضع العشاء وحضرت الصلاة فابدءوا بالعشاء وفي لفظ وأقيمت بدل وحضرت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯১
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাতের খাবার প্রস্তুত হলে এবং সালাতের সময় হয়ে গেলে খাবারকে অগ্রাধিকার দেয়া।
৯১। ইবন উমর (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, যখন তোমাদের কারো রাতের খাবার উপস্থিত করা হয়, আর সে সময় সালাতের ইকামত বলা হয়, তখন সে যেন খাওয়া শেষ না করে সালাত আদায়ের জন্য না দাঁড়ায়।
(বুখারী, মুসলিম, ইবন মাজাহ)
كتاب الأطعمة
باب تقديم العشاء إذا وضع وحضرت الصلاة
عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم إذا وضع عشاء أحدكم وأقيمت الصلاة فلا يقوم حتى يفرغ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯২
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯২। ইবন আ'বুদ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আলী ইবন আবি তালিব (রা) আমাকে বললেন, হে ইবন আ'বুদ। তুমি জান খাবাবের হক কি? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম হে ইবন আবদিল মুত্তালিব। খবাবের কি হক রয়েছে? তিনি বললেন, তুমি (খাওয়ার শুরুভাগে) বলবে,
بِسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا
(আল্লাহর নামে শুরু করলাম। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে যা রিযক দিয়েছেন, তাতে বরকত দান করুন)
এরপর তিনি বললেন, খাবার শেষে তার শুকর কিভাবে আদায় করতে হয় সেটা কি তুমি জান? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইহার শুকর কিভাবে আদায় করতে হয়? তিনি বললেন, (খাওয়া শেষে) তুমি বলবে
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا
(সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিযেছেন এবং পান করিয়েছেন)।
(হাদীসটি 'যিকর' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن ابن أعبد قال قال لي على بن أبي طالب رضي الله عنه يا ابن أعبد هل تدري ما حق الطعام؟ قال قلت وما حقه يا ابن أبي طالب؟ قال تقول بسم الله اللهم بارك لنا فيما رزقتنا، قال وتدري ما شكره إذا فرغت؟ قال قلت وما شكره؟ قال تقول الحمد لله الذي أطعمنا وسقانا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৩
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৩। আবদুর রহমান ইবন জুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। তাকে জনৈক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি আট বছর (অন্য বর্ণনায় নয় বছর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমত করেছেন। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট খাদ্য উপস্থিত করা হ'ত তখন তিনি তাঁকে
بِسْمِ اللهِ
(আল্লাহর নামের শুরু করলাম)
বলতে শুনেছেন। খাবার শেষে করে তিনি বলতেন,
اللَّهُمَّ أَطْعَمْتَ وَأَسْقَيْتَ، وَأَغْنَيْتَ وَأَقْنَيْتَ، وَهَدَيْتَ وَأَحْيَيْتَ، فَلَكَ الْحَمْدُ عَلَى مَا أَعْطَيْتَ
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, অভাব পূরণ করেছেন, সন্তুষ্ট করেছেন, পথ নির্দেশ করেছেন এবং জীবিত রেখেছেন। সুতরাং আপনি যেসব নি'আমত দিয়েছেন, এ কারণে আপনিই সকল প্রশংসার অধিকারী।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। ইহার সূত্র উত্তম।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن عبد الرحمن بن جبير أنه حدثه رجل خدم رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمان سنين (وفي رواية أو تسع سنين) أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم إذا قرب إليه طعام يقول بسم الله، وإذا فرغ من طعامه قال اللهم أطعمت وأسقيت وأغنيت وأقنيت وهديت وأحييت، فلك الحمد على ما أعطيت
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৪
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৪। হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে কোন খাওয়ার দস্তরখানে একত্র হতাম, তখন আমরা খাবারে হাত রাখতাম না; যাবত না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাওয়া শুরু করতেন এবং খাবারে স্বীয় হাত রাখতেন। একদা আমরা তার সঙ্গে একত্রে খাবার খাচ্ছিলাম। এমন সময় এক বালিকা ছুটে এল। মনে হল যেন কেউ তাকে ধাক্কা দিয়েছে। তারপর সে স্বীয় খাবারে হাত রাখার জন্য এগিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত ধরে ফেলেন। তারপর এক বেদুঈন আসল। মনে হল, যেন তাকেও কেউ ধাক্কা দিয়েছে। তারপর সে স্বীয় হাত খাবারে রাখার জন্য এগিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত ধরে ফেলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, খাবার খাওয়ার সময় তাতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা না হলে শয়তান সেটাকে (নিজের জন্য) হালাল করে নেয়। সে খাবার গ্রহণ করার জন্য এই বালিকাটি নিয়ে আসছিল। কিন্তু আমি তার হাত ধরে ফেলি। এরপর সে খাবার গ্রহণ করার জন্য এই বেদুঈনকে নিয়ে আসে। কিন্তু আমি তারও হাত ধরে ফেলি। যে সত্ত্বার হাতে আমার আত্মা, তার শপথ, নিশ্চয়ই এই দুইজনের হাতের সঙ্গে তার (শয়তানের) হাতও আমার হাতের মুঠোয় রয়েছে।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن حذيفة قال كنا إذا حضرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على طعام لم نضع أيدينا حتى يبدأ رسول الله صلى الله عليه وسلم فيضع يده، وإنا حضرنا معه طعاما فجاءت جارية كأنما تدفع فذهبت تضع يدها في الطعام فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيدها، وجاء أعرابي كأنما يدفع فذهب يضع يده في الطعام فأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الشيطان يستحل الطعام إذا لم يذكر اسم الله عليه، إنه جاء بهذه الجارية ليستحل بها فأخذت بيدها، وجاء بهذا الأعرابي يستحل به فأخذت بيده، والذي نفسي بيده إن يده في يدي مع يدهما يعني الشيطان
হাদীস নং: ৯৫
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৫। জাবির ইবন আবদিল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খানা খাওয়া শুরু না করলে লোকেরা খাবারে হাত রাখতেন না।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি। ইহার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن جابر بن عبد الله أنهم كانوا لا يضعون أيديهم في الطعام حتى يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم هو يبدأ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৬
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৬। জাবির ইবন সুবহ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে মুসান্না ইবন আবদির রহমান খুযায়ী (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি 'ওয়াসিত' পর্যন্ত (সফরে) তার সঙ্গ দিয়েছিলাম। তিনি খাওয়ার শুরুভাগে 'বিসমিল্লাহ' বলতেন আর শেষ লুকমা গ্রহণের সময়
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলতেন। আমি তাকে বললাম, আপনি খাওয়ার শুরুভাগে 'বিসমিল্লাহ' বলেন। (এটা তো ঠিক আছে)। কিন্তু খাওয়ার শেষভাগে কেন আপনি
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলেন? তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ সম্বন্ধে সংবাদ দিচ্ছি। আমার দাদা উমাইয়া ইবন মাখশী (রা) যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন, তাকে বলতে শুনেছি যে, একদা জনৈক ব্যক্তি খেতে শুরু করল। নবী (ﷺ) তার প্রতি তাকিয়েছিলেন। সে (খাওয়ার শুরুতে) 'বিসমিল্লাহ' বলেনি। পরবর্তীতে যখন শুধু একলুকমা পরিমাণ খাবার অবশিষ্ট রইল তখন সে
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলল। সে সময় নবী (ﷺ) বললেন, শয়তান এ যাবত পর্যন্ত তার সঙ্গে খাচ্ছিল। পরে যখন সে বিসমিল্লাহ বলল তখন তার (শয়তানের) পেটে কিছু অবশিষ্ট থাকে নি, সব কিছু সে বমি করে ফেলে দেয়।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن جابر بن صبح قال حدثني المثنى بن عبد الرحمن الخزاعي وصحبته إلى واسط وكان يسمى في أول طعامه، وفي آخر لقمة يقول بسم الله في أوله وآخره، فقلت له أنك تسمي في أول ما تأكل أرأيت قولك في آخر ما تأكل بسم الله أوله وآخره، قال أخبرك عن ذلك، إن جدي أمية بن مخشى وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم سمعته يقول إن رجلا كان يأكل والنبي صلى الله عليه وسلم ينظر فلم يسم حتى كان في آخر طعامه لقمة فقال بسم الله أوله وآخره فقال النبي صلى الله عليه وسلم مازال الشيطان يأكل معه حتى سمى فلم يبق في بطنه شيء إلا قاءه
হাদীস নং: ৯৭
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৭। আবু আইয়ুব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় খাবার উপস্থিত করা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শুরুর অংশে যা খেয়েছিলাম সেটা অপেক্ষা বেশি বরকতের খাবার আমি আজ পর্যন্ত দেখি নি। আর শেষ অংশে যা খেয়েছিলাম সেটা অপেক্ষা কম বরকতের খাবার আমি আজ পর্যন্ত দেখি নি। আমরা বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেন এমন হল? তিনি বললেন, এর কারণ হল, আমরা খাওয়া শুরু করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছিলাম, পরে একলোক খেতে বসল, কিন্তু সে বিসমিল্লাহ বলে নি। ফলে শয়তান তার সঙ্গে খেয়েছে।
(হাদীসটি অন্যত্র পাওয়া যায় নি।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن أبي أيوب الأنصاري قال كنا عند النبي صلى الله عليه وسلم يوما فقرب طعاما فلم أر طعاما كان أعظم بركة منه أول ما أكلنا ولا أقل بركة في آخره، قلنا كيف هذا يا رسول الله؟ قال لأنا ذكرنا اسم الله عز وجل حين أكلنا ثم قعد بعد من أكل ولم يسم فأكل معه الشيطان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৮
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৮। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) তার ছয়জন সাহাবীকে নিয়ে খানা খাচ্ছিলেন। পরে এক বেদুঈন এসে দুই লুকমায় সমস্ত খাবার খেয়ে ফেলে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, শুন। সে যদি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করত তবে অবশ্যই এটা তোমাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হত। সুতরাং তোমাদের কেউ খাবার পেশ করলে খেতে বসলে সে যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। যদি সে শুরুভাগে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায় তখন সে যেন (স্মরণ হওয়া মাত্র
(بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَةُ)
বলে।
(আবু দাউদ, তিরমিযী। তিরমিযী (র) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأكل طعاما في ستة نفر من أصحابه فجاء أعرابي فأكله بلقمتين فقال النبي صلى الله عليه وسلم أما أنه لو كان ذكر اسم الله لكفاكم، فإذا أكل أحدكم طعاما فليذكر اسم الله، فإن نسى أن يذكر اسم الله في أوله فليقل بسم الله أوله وآخره
হাদীস নং: ৯৯
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দাঁড়ানো এবং হেলান দেয়া অবস্থায় খাওয়া মাকরূহ।
৯৯। কাতাদা (র) সূত্রে আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ানো অবস্থায় পান করতে নিষেধ করেছেন। আমি বললাম, তবে কি খাওয়া যাবে? তিনি বললেন, এটা আরো গুরুতর।
(নববী (র) 'রিয়াদুস সালিহীন' গ্রন্থে বলেছেন, হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأطعمة
باب كراهة الأكل قائما ومتكئاً
عن قتادة عن أنس بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الشرب قائما قال : قلت : فالأكل ؟ قال : ذاك أشد.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০০
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দাঁড়ানো এবং হেলান দেয়া অবস্থায় খাওয়া মাকরূহ।
১০০। আবূ জুহায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি হেলান দেওয়া অবস্থায় খানা খাই না।
(বুখারী, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب الأطعمة
باب كراهة الأكل قائما ومتكئاً
عن أبى جحيفة رضى الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏‏ لا آكل متكئاً