দু’আ

মোট দু’আ - ৬৩৬ টি

সকল দু'আ একত্রে দেখুন

১.

সূরা ওয়াকিয়া

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ۝ لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ ۝ خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ ۝ إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا ۝ وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ۝ فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا ۝ وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً ۝ فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ ۝ وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ ۝ وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ۝ أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ۝ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ۝ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ۝ وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ ۝ عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ ۝ مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ ۝ يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ۝ بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ۝ لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ ۝ وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ ۝ وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ۝ وَحُورٌ عِينٌ ۝ كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ ۝ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۝ لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ۝ إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا ۝ وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ۝ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ۝ وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ۝ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ۝ وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ۝ وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ ۝ لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ۝ وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ۝ إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً ۝ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا ۝ عُرُبًا أَتْرَابًا ۝ لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝ ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ۝ وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ ۝ وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ ۝ فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ ۝ وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ ۝ لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ ۝ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ ۝ وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ ۝ وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ۝ أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ ۝ قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ ۝ لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ ۝ ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ ۝ لَآكِلُونَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّومٍ ۝ فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ۝ فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ ۝ فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ ۝ هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ ۝ نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ ۝ أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ ۝ نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ ۝ عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝ وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ ۝ أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ ۝ لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ۝ إِنَّا لَمُغْرَمُونَ ۝ بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ ۝ أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ ۝ لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ ۝ أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ ۝ أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ ۝ نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ ۝ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ۝ فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ ۝ وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ ۝ إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ ۝ فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ ۝ لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ ۝ تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ۝ أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ ۝ وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ ۝ فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ ۝ وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ ۝ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ ۝ فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ ۝ تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ۝ فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ ۝ فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ ۝ وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝ فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝ وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ ۝ فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ ۝ وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ ۝ إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ ۝ فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ۝
উচ্চারণঃ

১. ইযা ওয়াক্বা‘তিল ওয়াক্বি‘আহ্। ২. লাইসা লিওয়াক্ব‘আতিহা কাযিবাহ্। ৩. খাফিদাতুর রাফি‘আহ্। ৪. ইযা রুজ্জাতিল আরদু রাজ্জা। ৫. ওয়া বুস্সাতিল জিবালু বাস্সা। ৬. ফাকানাত হাবা-আম মুমবাস্সা। ৭. ওয়া কুনতুম আযওয়াজান ছালাছাহ্। ৮. ফা-আসহাবুল মাইমানাতি মা আসহাবুল মাইমানাহ্। ৯. ওয়া আসহাবুল মাশআমাতি মা আসহাবুল মাশআমাহ্। ১০. ওয়াস্-সাবিকূনাস্-সাবিকূন। ১১. উলা-ইকাল মুকাররাবূন। ১২. ফী জান্নাতিন না‘ঈম। ১৩. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ১৪. ওয়া ক্বালীলুম মিনাল আখিরীন। ১৫. ‘আলা সুরুরিম মাওদূনাহ্। ১৬. মুতাক্বাবিলীনা ‘আলাইহা। ১৭. ইয়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদানুম মুখাল্লাদূন। ১৮. বি-আকওয়াবিওঁ ওয়া আবা-রীক্বা ওয়া কা'সিম মিন মা‘ঈন। ১৯. লা ইউসাদ্দা‘ঊনা ‘আনহা ওয়া লা ইউনযিফূন। ২০. ওয়া ফাকিহাতিম মিম্মা ইয়াতাখাইয়ারূন। ২১. ওয়া লাহমি তইরিম মিম্মা ইয়াশতাহূন। ২২. ওয়া হূরুন ‘ঈন। ২৩. কা-আমছালিল লু’লু’ইল মাকনূন। ২৪. জাযা-আম বিমা কানূ ইয়া‘মালূন। ২৫. লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াওঁ ওয়া লা তা’ছীমা। ২৬. ইল্লা ক্বীলান সালামান সালামা। ২৭. ওয়া আসহাবুল ইয়ামীন, মা আসহাবুল ইয়ামীন। ২৮. ফী সিদরিম মাখদূদ। ২৯. ওয়া তালহিম মানদূদ। ৩০. ওয়া যিল্লিম মামদূদ। ৩১. ওয়া মা-ইম মাসকূব। ৩২. ওয়া ফাকিহাতিন কাছীরাহ্। ৩৩. লা মাক্বতূ‘আতিওঁ ওয়া লা মামনূ‘আহ্। ৩৪. ওয়া ফুরুশিম মারফূ‘আহ্। ৩৫. ইন্না আনশা’নাহুন্না ইনশা-আ। ৩৬. ফাজা‘আলনাহুন্না আবকারা। ৩৭. ‘উরুবান আত্রাবা। ৩৮. লি-আসহাবিল ইয়ামীন। ৩৯. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ৪০. ওয়া ছুল্লাতুম মিনাল আখিরীন। ৪১. ওয়া আসহাবুশ্-শিমালি মা আসহাবুশ্-শিমাল। ৪২. ফী সামূমিওঁ ওয়া হামীম। ৪৩. ওয়া যিল্লিম মিন ইয়াহমূম। ৪৪. লা বারিদিওঁ ওয়া লা কারীম। ৪৫. ইন্নাহুম কানূ ক্বাবলা যালিকা মুতরাফীন। ৪৬. ওয়া কানূ ইউসিররূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আযীম। ৪৭. ওয়া কানূ ইয়াক্বূলূনা আ-ইযা মিতনা ওয়া কুন্না তুরাবাঁও ওয়া ‘ইযামান, আ-ইন্না লামাব‘ঊছূন। ৪৮. আওয়া-আবা-উনাল আওয়ালূন। ৪৯. কুল ইন্নাল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন। ৫০. লামাজমূ‘ঊনা ইলা মীক্বাতি ইয়াওমিম মা‘লূম। ৫১. ছুম্মা ইন্নাকুম আইয়ুহাদ্-দাল্লূনাল মুকায্যিবূন। ৫২. লা-আকিলূনা মিন শাজারাতিম মিন যাক্কূম। ৫৩. ফামালি’ঊনা মিনহাল বুতূন। ৫৪. ফাশারিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম। ৫৫. ফাশারিবূনা শুরবাল হীম। ৫৬. হাযা নুযুলুহুম ইয়াওমাদ্দীন। ৫৭. নাহনু খালাক্বনাকুম ফালাওলা তুসাদ্দিকূন। ৫৮. আফারা-আইতুম মা তুমনূন। ৫৯. আ-আনতুম তাখলুকূনাহু আম নাহনুল খালিক্বূন। ৬০. নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়া মা নাহনু বিমাসবূক্বীন। ৬১. ‘আলা আন নুবাদ্দিলা আমছালাকুম ওয়া নুনশি’আকুম ফী মা লা তা‘লামূন। ৬২. ওয়া লাক্বাদ ‘আলিমতুমুন নাশআতাল ঊলা ফালাওলা তাযাক্কারূন। ৬৩. আফারা-আইতুম মা তাহরুছূন। ৬৪. আ-আনতুম তাযরা‘ঊনাহু আম নাহনুয্-যারি‘ঊন। ৬৫. লাও নাশা-উ লাজা‘আলনাহু হুতামান ফাযালতুম তাফাক্কাহূন। ৬৬. ইন্না লামুগরামূন। ৬৭. বাল নাহনু মাহরূমূন। ৬৮. আফারা-আইতুমুল মা-আল্লাযী তাশরাবূন। ৬৯. আ-আনতুম আনযালতুমূহু মিনাল মুযনি আম নাহনুল মুনযিলূন। ৭০. লাও নাশা-উ জা‘আলনাহু উজাজান ফালাওলা তাশকুরূন। ৭১. আফারা-আইতুমুন নারাল্লাতী তূরূন। ৭২. আ-আনতুম আনশা’তুম শাজারাতাহা আম নাহনুল মুনশি’ঊন। ৭৩. নাহনু জা‘আলনাহা তাযকিরাতাঁও ওয়া মাতাআ‘ল লিলমুক্ববীন। ৭৪. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম। ৭৫. ফালা উক্বসিমু বিমাওয়াক্বি‘ইন নুজূম। ৭৬. ওয়া ইন্নাহু লাক্বাসামুল লাও তা‘লামূনা ‘আযীম। ৭৭. ইন্নাহু লাকুরআনুন কারীম। ৭৮. ফী কিতাবিম মাকনূন। ৭৯. লা ইয়ামাস্সুহু ইল্লাল মুতাহহারূন। ৮০. তানযীলুম মির রাব্বিল ‘আলামীন। ৮১. আফাবিহাযাল হাদীছি আনতুম মুদহিনূন। ৮২. ওয়া তাজ‘আলূনা রিযক্বাকুম আন্নাকুম তুকায্যিবূন। ৮৩. ফালাওলা ইযা বালাগাতিল হুলক্বূম। ৮৪. ওয়া আনতুম হীনাইযিন তানযুরূন। ৮৫. ওয়া নাহনু আক্বরাবু ইলাইহি মিনকুম ওয়া লাকিল লা তুবসিরূন। ৮৬. ফালাওলা ইন কুনতুম গাইরা মাদীনীন। ৮৭. তারজিঊনাহা ইন কুনতুম সাদিক্বীন। ৮৮. ফা-আম্মা ইন কানা মিনাল মুকাররাবীন। ৮৯. ফারাওহুঁওয়া রাইহানুঁওয়া জান্নাতু না‘ঈম। ৯০. ওয়া আম্মা ইন কানা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯১. ফাসালামুল্লাকা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯২. ওয়া আম্মা ইন কানা মিনাল মুকায্যিবীনাদ্-দাল্লীন। ৯৩. ফানুযুলুম মিন হামীম। ৯৪. ওয়া তাসলিয়াতু জাহীম। ৯৫. ইন্না হাযা লাহুয়া হাক্কুল ইয়াক্বীন। ৯৬. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম।

অর্থঃ

১. যখন অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ঘটবে। ২. তখন এর সংঘটনকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না। ৩. তা নিচু ও উঁচুকারক জিনিস। ৪. যখন পৃথিবীকে প্রবল কম্পনে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে। ৫. এবং পর্বতসমূহকে পিষে চূর্ণ করা হবে। ৬. ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধুলোকণায় পরিণত হবে। ৭. এবং (হে মানুষ!) তোমরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে। ৮. সুতরাং যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান হাত বিশিষ্টগণ! ৯. আর যারা বাম হাত বিশিষ্ট, কী (হতভাগ্য) সে বাম হাত বিশিষ্টগণ! ১০. আর যারা অগ্রগামী, তারা তো অগ্রগামীই! ১১. তারাই আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। ১২. তারা থাকবে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে। ১৩. বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ১৪. এবং অল্প সংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য হতে। ১৫. সোনার তারে বোনা উঁচু আসনে ১৬. তারা পরস্পর সামনাসামনি হেলান দিয়ে থাকবে। ১৭. তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা, ১৮. এমন পান-পাত্র, জগ ও প্রস্রবণ-নিসৃত স্বচ্ছ সূরা পাত্র নিয়ে, ১৯. যা পানে তাদের মাথা ব্যথা হবে না এবং তারা চেতনা হারাবে না ২০. এবং তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে, ২১. এবং তাদের চাহিদা মত পাখির গোশত নিয়ে ২২. এবং তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর, ২৩. যেন তারা লুকিয়ে রাখা মুক্তা। ২৪. তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ। ২৫. তারা সে জান্নাতে শুনবে না কোন অহেতুক কথা এবং না কোন পাপের কথা। ২৬. তবে সেখানে হবে কেবল শান্তিপূর্ণ কথা, কেবলই শান্তিপূর্ণ কথা। ২৭. আর যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান-হাত বিশিষ্টগণ! ২৮. (তারা আয়েশে থাকবে) কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে ২৯. এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ, ৩০. সুদূর বিস্তৃত ছায়া, ৩১. প্রবহমান পানি ৩২. এবং প্রচুর ফলমূলের ভেতর। ৩৩. যা কখনও শেষ হবে না এবং যাতে কোন বাধাও দেওয়া হবে না। ৩৪. আর তারা থাকবে উঁচুতে রাখা ফরাশে। ৩৫. নিশ্চয়ই আমি সে নারীদেরকে দিয়েছি নব উত্থান। ৩৬. সুতরাং তাদেরকে বানিয়েছি কুমারী। ৩৭. (স্বামীদের পক্ষে) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা। ৩৮. সবই ডান হাত বিশিষ্টদের জন্য। ৩৯. (যাদের মধ্যে) অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ৪০. এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। ৪১. আর যারা বাম হাতবিশিষ্ট, কী হতভাগ্য সে বাম-হাত বিশিষ্টগণ! ৪২. তারা থাকবে উত্তপ্ত বায়ু ও ফুটন্ত পানিতে। ৪৩. কালো ধুয়ার ছায়ায় ৪৪. যা হবে না শীতল, না উপকারী। ৪৫. ইতঃপূর্বে তারা ছিল আরাম-আয়েশের ভেতর। ৪৬. অতি বড় পাপের উপর অনড় থাকত। ৪৭. এবং বলত, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে? ৪৮. এবং আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও, যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে? ৪৯. বলে দাও, নিশ্চয়ই আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে ৫০. নির্দিষ্ট এক দিনের স্থিরীকৃত সময়ে একত্র করা হবে। ৫১. অতঃপর হে অবিশ্বাসী পথভ্রষ্টগণ! অবশ্যই তোমরা ৫২. এমন এক গাছ থেকে খাবে, যার নাম যাক্কুম। ৫৩. অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। ৫৪. তদুপরি পান করবে ফুটন্ত পানি। ৫৫. পানও করবে সেইভাবে, যেভাবে পান করে তৃষ্ণার রোগে আক্রান্ত উট। ৫৬. এটাই বিচার দিবসে তাদের আপ্যায়ন। ৫৭. আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না? ৫৮. আচ্ছা বল তো, তোমরা যে বীর্য স্খলন কর ৫৯. তা কি তোমরা সৃষ্টি কর না আমিই তার স্রষ্টা? ৬০. আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুর ফায়সালা করে রেখেছি এবং এমন কেউ নেই, যে আমাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে ৬১. এ ব্যাপারে যে, আমি তোমাদের স্থলে তোমাদের মত অন্য লোক আনয়ন করব এবং তোমাদেরকে এমন কোন রূপ দান করব, যা তোমরা জান না। ৬২. তোমরা তো তোমাদের প্রথম সৃজন সম্পর্কে অবগত আছ। তা সত্ত্বেও তোমরা কেন উপদেশ গ্রহণ কর না? ৬৩. তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা জমিতে যা-কিছু বোন, ৬৪. তা কি তোমরা উদগত কর, না আমিই তার উদগতকারী? ৬৫. আমি ইচ্ছা করলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি, ফলে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে ৬৬. যে, আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে পড়লাম, ৬৭. বরং আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলাম! ৬৮. আচ্ছা বল তো, এই যে পানি তোমরা পান কর ৬৯. মেঘ থেকে তা কি তোমরা বর্ষণ করাও, না আমিই তার বর্ষণকারী? ৭০. আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কি তোমরা শোকর আদায় কর না? ৭১. আচ্ছা বল তো, এই যে আগুন তোমরা জ্বালাও, ৭২. তার বৃক্ষ কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা? ৭৩. আমিই তাকে বানিয়েছি উপদেশের উপকরণ এবং মরুচারীদের জন্য উপকারী বস্তু। ৭৪. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর। ৭৫. যে সকল স্থানে নক্ষত্র পতিত হয় আমি তার শপথ করে বলছি, ৭৬. আর তোমরা যদি বোঝ, তো এটা এক মহা শপথ। ৭৭. নিশ্চয়ই এটা অতি সম্মানিত কুরআন, ৭৮. যা এক সুরক্ষিত কিতাবে (পূর্ব থেকেই) লিপিবদ্ধ আছে। ৭৯. একে স্পর্শ করে কেবল তারাই, যারা অত্যন্ত পবিত্র, ৮০. এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ। ৮১. তবুও কি তোমরা এ বাণীকে অবহেলা কর? ৮২. এবং তোমরা (এর প্রতি) অবিশ্বাসকেই তোমাদের উপজীব্য বানিয়ে নিয়েছ? ৮৩. অতঃপর এমন কেন হয় না যে, যখন (কারও) প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, ৮৪. এবং তোমরা (বিমর্ষ মনে তার দিকে) তাকিয়ে থাক, ৮৫. এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। ৮৬. যদি তোমাদের হিসাব-নিকাশ হওয়ার না-ই থাকে, ৮৭. তবে তোমরা সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনছ না কেন যদি তোমরা সত্যবাদী হও? ৮৮. অতপর সে (মৃত ব্যক্তি) যদি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের একজন হয়, ৮৯. তবে (তার জন্য) শুধু আরাম, সুরভি ও নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত। ৯০. আর যদি হয় ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, ৯১. তবে (তাকে বলা হবে যে,) তোমার জন্য রয়েছে শান্তি, যেহেতু তুমি ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। ৯২. আর যদি হয় সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত, ৯৩. তবে (তার জন্য আছে) ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন, ৯৪. আর জাহান্নামে প্রবেশ। ৯৫. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই যথার্থ সুনিশ্চিত বিষয়। ৯৬. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর।

২.

সূরা নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণঃ

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, মালিকিন্না-ছ, ইলা-হিন্না-ছ। মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছ ওয়িছু ফী সুদূরিন্নাছ-। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

৩.

সানা

۞ سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَ لَاۤ إِلٰهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণঃ

সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়াতাবারাকাস্‌মুকা, ওয়াতা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক।

অর্থঃ

হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

৪.

ক্বওমার দু‘আ-১

۞ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهْ
উচ্চারণঃ

সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ।

অর্থঃ

আল্লাহ তার কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে।

৫.

ক্বওমার দু‘আ-২

۞ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدْ
উচ্চারণঃ

রাব্বানা লাকাল হামদ্।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।

৬.

দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মাগ্‌ফিরলি ওয়ারহাম্‌নি ওয়াজ্‌বুরনি ওয়াহ্‌দিনি ওয়া ‘আ-ফিনি ওয়ার্‌যুক্বনি।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন, আমার অবস্থার সংশোধন করুন, আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন ও আমাকে রিযিক দান করুন।

৭.

নামাযের মধ্যে ওয়াসওয়াসা বন্ধের যিকির

۞ أَعُوْذُ بِا للہِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণঃ

আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রজীম।

অর্থঃ

আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৮.

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর পড়ার দু‘আ সমূহ

১. اَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ ۞ উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ। অর্থ: আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই। ২. اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ ۞ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস্‌ সালামু ওয়া মিন্‌কাস্ সালাম, তাবারক্‌তা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আপনিই শান্তিদাতা এবং আপনার থেকেই কেবল শান্তি কামনা করি। আপনি বরকতময়, হে পরাক্রমশালী ও সম্মানের অধিকারী। আমল নবী কারীম (ﷺ) সালাত শেষে তিনবার ইস্তিগফার করে এই দু‘আ পাঠ করতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৯১, ৫৯২) ৩. এই দু‘আটি ১ বার পড়বে ۞ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَاۤ شَرِيْكَ لَهٗ. لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ. اَللّٰهُمَّ لَاۤ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَ لَاۤ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَ لَاۤ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদ। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদির। আল্লাহুম্মা লা-মানিয়া লিমা আতাইত। ওয়া-লা মুতিয়া লিমা মানা‘তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ। অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় রাজত্ব একমাত্র তাঁর। তারই জন্য সকল প্রশংসা। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান, হে আল্লাহ! আপনি যা দিতে চান তা কেউ রোধ করতে পারে না, আর আপনি যা রোধ করতে চান তা কেউ দিতে পারবে না এবং কোন সম্পদশালীকে তার সম্পদ আপনার থেকে রক্ষা করতে পারে না। আমল হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রত্যেক ফরয সালাত এর পর উক্ত দু‘আ পড়তেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮৪৪; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ১৩৭, ১৩৬) ৪. اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ ۞ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিক। অর্থ: হে আল্লাহ্‌! আমাকে আপনার যিকির, শোকর এবং উত্তম রূপে ইবাদত করতে সাহায্য করুন। আমল হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাযি) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মু‘আয! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর উক্ত দু‘আটি কখনো পরিহার করবে না। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৫২২; সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং: ৯৮৫৭) ৫. আয়াতুল কুরসী (১বার) ফযীলত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, মৃত্যু ব্যতীত কোন কিছু তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। (সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং: ৯৯২৮; ইবনুস্ সুন্নী, হাদীস নং: ১২৩) ৬. তাসবীহে ফাতেমী: অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবর। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৯৫-১)

৯.

মুনাজাতের মধ্যে দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফি‘আ, ওয়া রিযক্বান ত্বইয়িবা, ওয়া আ‘মালান-মুতাক্বাব্বালা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট উপকারী ইলম, উত্তম রিযক, ও মাকবূল (কবূল হওয়ার মত) আমলের তাওফিক চাই।

১০.

মুনাজাতের মধ্যে দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُمَّ حَـاسِـبْـنِـىْ حِـسَـابًا يَّـسِـيْـرًا
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা হাসিবনী হিসাবাই ইয়াসীরা।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমার হিসাবকে সহজ করে দিও।

১১.

ঈমান ও রাসূলের আনুগত্যের দু‘আ

۞ رَبَّنَا اٰ مَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ
উচ্চারণঃ

রাব্বানা আ-মান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তবা‘নার রসূলা ফাকতুবনা মা‘আশ-শাহিদীন।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যা-কিছু নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরকে সেই সকল লোকের মধ্যে লিখে নিন, যারা (সত্যের) সাক্ষ্যদাতা।

১২.

দরূদ

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ ،كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা ‘আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্‌রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্‌রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাক্‌তা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও ইবরাহিমের পরিবারের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও ইবরাহিমের পরিবারের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

১৩.

দু‘আ-ই কুনুত

۞ اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ، اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণঃ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ,ওয়া নাসতাগ্‌ফিরুকা,ওয়া নু’মিনুবিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইক, ওয়ানুসনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা , ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু, মাই ইয়াফ জুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু, ওয়ালাকানুছল্লি, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাসআ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রহমাতাকা, ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিলকুফ্‌ফারি মুলহিক।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্যপ্রার্থী এবং একমাত্র আপনার কাছেই ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার উপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আপনার উপরই ভরসা করি, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার শোকর আদায় করি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হই না, যারা আপনার নাফরমানী করে, তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদাত করি, আপনার জন্যই নামায পড়ি এবং আপনার জন্যই সিজদা করি, আপনার দিকেই ধাবিত হই, আপনার হুকুম পালনের জন্যই প্রস্তুত থাকি, আপনার দয়ার আশা করি, এবং আমরা আপনার আযাবকে ভয় করি। নিশ্চাই আপনার প্রকৃত আযাব কাফেরদের উপর পতিত হবে।

১৪.

সালাতুল হাজত

বিশেষ কোন হালাল চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ’র জন্য দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করাকে সালাতুল হাজত বলা হয়।(সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৩৮৪) সংগত কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য বান্দা নিজ প্রভুর নিকটে ছবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে। (সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ১৫৩) আল্লাহর নিকট বান্দার বিশেষ কোন প্রয়োজন হলে কিংবা শারীরিক মানসিক যে কোন পেরেশানি দেখা দিলে উত্তমভাবে উযূ করে দুই রাকাত নফল নামায পড়বে। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও ছানা (প্রশংসা) এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে। ۞ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ الْحَلِيْمُ الْكَرِيْمُ، سُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيْمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، لَاۤ تَدَعْ لِي ْذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهٗ ، وَ لَاۤ هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهٗ، وَلَاۤ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণঃ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারীম। সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরশিল আযীম। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আছআলুকা মু’জিবাতি রহমাতিকা ওয়া আযা-ইমা মাগফিরাতিকা ওয়াল গ’নিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন, লা তাদা’লি- যাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হাজাতান হিয়া লাকা রিজান ইল্লা কদাইতাহা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

অর্থঃ

পরম সহনশীল ও দয়ালু আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ অতীব পবিত্র। সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট অবধারিত রহমত, তোমার অফুরন্ত ক্ষমা, সকল সদাচারের ভান্ডার এবং প্রতিটি পাপাচার থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি যে, তুমি আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও, আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দাও, তোমার সন্তুষ্টিমূলক প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ করে দাও।

১৫.

মুসাফাহা করার দু‘আ

۞ يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَ لَكُمْ
উচ্চারণঃ

ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।

অর্থঃ

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকেও ক্ষমা করুন এবং আপনাদেরকেও ক্ষমা করুন।

১৬.

কাউকে বিদায় দেয়ার সময় পড়বে

۞ اَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَاَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ اَعْمَالِكُمْ
উচ্চারণঃ

আস্তাউদি‘উল্লাহা দ্বীনাকুম, ওয়া আমানাতাকুম ওয়া খওয়াতীমা আ’মালিকুম।

অর্থঃ

তোমাদের দ্বীন ও ঈমানকে এবং তোমাদের আমানতদারীকে এবং তোমাদের ঈমানের উপর মৃত্যু আল্লাহ তা’আলার হাতে সোপর্দ করছি।

১৭.

বৃষ্টি হওয়ার সময় এই দু‘আ পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
উচ্চারণঃ

আল্লহুম্মা ছইয়্যিবান নাফি‘আন।

অর্থঃ

হে আল্লাহ! (এ বৃষ্টিকে) কল্যাণকর, বরকতপূর্ণ এবং উপকারী বানিয়ে দিন।

১৮.

ভীত অবস্থায় বলবে

۞ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ
উচ্চারণঃ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু

অর্থঃ

আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।

১৯.

সূরা আরাফের ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নং আয়াত

۞ اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِىۡ سِتَّةِ اَيَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰى عَلَى الۡعَرۡشِ يُغۡشِى الَّيۡلَ النَّهَارَ يَطۡلُبُهٗ حَثِيۡثًا ۙ وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ وَالنُّجُوۡمَ مُسَخَّرٰتٍۢ بِاَمۡرِهٖ ؕ اَلَا لَـهُ الۡخَـلۡقُ وَالۡاَمۡرُ‌ ؕ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏ ﴿۵۴﴾ اُدۡعُوۡا رَبَّكُمۡ تَضَرُّعًا وَّخُفۡيَةً‌ ؕ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الۡمُعۡتَدِيۡنَ‌ ۚ‏ ﴿۵۵﴾ وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِى الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِهَا وَادۡعُوۡهُ خَوۡفًا وَّطَمَعًا‌ ؕ اِنَّ رَحۡمَتَ اللّٰهِ قَرِيۡبٌ مِّنَ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏ ﴿۵۶﴾
উচ্চারণঃ

(৫৪) ইন্না-রাব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ফী ছিত্তাতি আইইয়া-মিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি ইউগশিল লাইলান নাহা-রা ইয়াতলুবুহূহাছীছাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা ওয়ান নুজূমা মুছাখখারা-তিম বিআমরিহী আলা-লাহুল খালকুওয়াল আমরু তাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন। (৫৫) উদ‘ঊ রাব্বাকুম তাদাররু‘আওঁ ওয়া খুফইয়াতান ইন্নাহূ লা-ইউহিব্বুল মু‘তাদীন। (৫৬) ওয়ালা-তুফছিদূ ফিল আরদি বা‘দা ইসলা-হিহা-ওয়াদ‘ঊহু খাওফাওঁ ওয়া ত্বমা‘আন ইন্না রাহমাতাল্লা-হি কারীবুম মিনাল মুহছিনীন।

অর্থঃ

(৫৪) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি সমস্ত আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আরশে ইস্তিওয়া গ্রহণ করেন। তিনি দিনকে রাতের দ্বারা ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়ে তাকে ধরে ফেলে। এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি (সৃষ্টি করেছেন), যা সবই তাঁরই আজ্ঞাধীন। স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। (৫৫) তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘন-কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (৫৬) এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

২০.

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১

۞ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ وَتُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ
উচ্চারণঃ

রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস্ সামী‘ঊল ‘আলীম। ওয়াতুব্ ‘আলাইনা, ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহিম।

অর্থঃ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ হতে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি এবং কেবল আপনিই সব কিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।