ইয়া আল্লাহ! আপনারই জন্য স্থায়ী প্রশংসা যেমন আপনি স্থায়ী। আপনারই জন্য চিরন্তন প্রশংসা যেমন আপনি চিরন্তন। আপনারই জন্য ঐ গুণগান, যার বিস্তৃতির সীমা নেই আপনার ইচ্ছার আগে। (অর্থাৎ আপনার ইচ্ছার মতোই বিস্তৃত ও অসীম) আপনারই জন্য ঐ গুণগান যে গুণগানকারীর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই আপনার সন্তুষ্টি ছাড়া। আপনারই প্রশংসা প্রতি শ্বাসে, প্রতি পলকে। ইয়া আল্লাহ! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের দিকে ধাবিত করুন এবং নিজ রহমতে আমাদের সর্বদিক থেকে রক্ষা করুন। ইয়া আল্লাহ! আমাকে দৃঢ়পদ রাখুন, যেন পিছলে না যাই। আমাকে হেদায়েত দিন, যেন গোমরাহ না হই।
আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম। তিনবার পড়ে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১ বার পাঠ করবে। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির, ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন। হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা, ইউছাব্বিহু লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘ আযীযুল হাকীম
তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র ও মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়।
আল্লা–হুম্মা ইন্নি আসআলুকাস্ সাবা–তা ফিল আমরি, ওয়া আসআলুকা আযীমাতার্ রুশ্দি, ওয়া আসআলুকা শুকরা নি‘মাতিকা ওয়া হু্সনা ইবাদাতিকা, ওয়া আসআলুকা লিসানান ছাদিকান ওয়া ক্বালবান সালীমান, ওয়া খুলুকান মুস্তাকীমান, ওয়া আসআলুকা মিন খাইরি মা তা‘লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা মিম্মা তা‘লামু, ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি দীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি উন্নত যোগ্যতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার নেয়ামতের শোকরগোজারি ও বন্দেগীর সৌন্দর্য এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা, সুস্থ হৃদয় আর সুদৃঢ় চরিত্র। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ, যা আপনি জানেন এবং ক্ষমা চাই ঐ সকল গুনাহ থেকে, যে সম্পর্কে আপনি অবগত। সকল অদৃশ্য বিষয় তো আপনার জানা। (সুতরাং ঐ সকল গুনাহ সম্পর্কেও আপনি অবগত, যা কোনো সৃষ্টির জানা নেই)।
আল্ল-হুম্মার যুক্বনী হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাইঁ ইয়ানফাউনী হুব্বুহু ‘ইনদাক। আল্ল-হুম্মা ফাকামা রযাক্বতানী মিম্মা উহিব্বু ফাজ‘আলহু কুওয়্যাতাল লী ফীমা তুহিব্ব। আল্ল-হুম্মা ওয়া মা যাওয়াইতা ‘আন্নী মিম্মা উহিব্বু ফাজ‘আলহু ফারা-গাল লী ফীমা তুহিব্ব।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালবাসাও দান করুন। আপনি যখন আমাকে আমার প্রিয় বস্তু দান করেছেন, তখন একে আমার জন্য সহায়ক করুন আপনার প্রিয় কাজে। (অর্থাৎ আমার প্রিয় ও কাম্য যা কিছু আমি লাভ করেছি, তা আপনার পছন্দের বিষয়টি অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।) হে আল্লাহ! আমার যেসব কাম্য বস্তু আমার থেকে দূরে রেখেছেন, সেগুলো (থেকে দূরে থাকা) আমার জন্য ঐসব বিষয়ে মশগুল হওয়ার অবকাশ বানিয়ে দিন, যা আপনার কাছে প্রিয়। (অর্থাৎ স্বভাবগতভাবে যা কিছু আমার প্রিয়, তা থেকে যখন আপনি নিজ প্রজ্ঞায় আমাকে দূরে রাখবেন, তখন এই প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে সৃষ্টি করুন যে, আমি শুধু এসবের স্থলে আপনার প্রিয় বিষয়গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করি।)
আল্লাহুম্মাজ‘আলনী সবূরাঁও ওয়াজ‘আলনী শাকূরাঁও, ওয়াজ‘আলনী ফী ‘আইনী সগীরাঁও ওয়া ফী আ‘য়ুনিন্না-সি কাবীরা।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে বড় সবরকারী বানিয়ে দিন এবং শোকরকারী বানিয়ে দিন। (যেন সকল বিপদে সবর করি এবং সকল নেয়ামতের শোকর করি) আর আমাকে আমার দৃষ্টিতে ছোট ও মানুষের দৃষ্টিতে বড় বানিয়ে দিন।
ইয়া আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী! অনুতাপ বিদূরণকারী! অসহায়ের ফরিয়াদ শ্রবণকারী! দুনিয়া-আখিরাতের রহমান ও রহীম! আপনিই আমার উপর রহম করবেন। সুতরাং আমার উপর এমন রহম করুন, যার দ্বারা আমাকে অন্য সবার রহম থেকে বেনিয়ায করবেন।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি অক্ষমতা ও আলস্য থেকে, ভীরুতা ও অতিবার্ধক্য থেকে এবং ঋণ ও পাপ থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দোযখের আযাব ও দোযখের ফিতনা থেকে (আশ্রয় নিচ্ছি) কবরের ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) সম্পদের কুফল ও সম্পদহীনতার অনিষ্ট থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে ও জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অন্তরের কাঠিন্য ও উদাসীনতা থেকে; নিঃস্বতা, অপদস্থতা ও মুখাপেক্ষিতা থেকে; কুফরী, ফাসেকী ও জেদাজেদি থেকে আর লোকদেখানো ও লোকশোনানোর প্রবণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) বধিরতা ও মূকতা থেকে, মস্তিষ্ক বিকলন, কুষ্ঠ, খারাপ রোগ-ব্যাধি ও ঋণের বোঝা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে, কৃপণতা ও লোকের কর্তৃত্বপরায়ণতা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) অতি বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ও দুনিয়ার ফিতনা থেকে। (আশ্রয় নিচ্ছি) ঐ জ্ঞান থেকে, যার উপকার নেই, ঐ মন থেকে, যাতে তুষ্টি নেই, ঐ অন্তর থেকে, যাতে বিনয়-নম্রতা নেই; আর ঐ দু‘আ থেকে, যা কবুল হয় না।
এ সকল দু‘আ কবুল করুন। (হযরত মাওলানা) মুহাম্মদ আশরাফ আলী রাহ. (সংকলক), মৌলভী আবদুল ওয়াসি মরহুম (নাযিমে তরজমা), মৌলভী হাকীম মুহাম্মদ মুস্তফা মরহুম (প্রথম উর্দু অনুবাদক), মুহাম্মদ আলী মরহুম (তরজমা-সহযোগী), মাওলানা মুহাম্মদ শফী দেওবন্দী ও আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী (দ্বিতীয় উর্দু অনুবাদক) (এবং যাঁরা এর বাংলা অনুবাদ করেছেন এবং বর্তমান বাংলা তরজমাকার মুহাম্মদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ) সম্পর্কেও। এবং কবুল করুন তাদের পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদার নর-নারী সম্পর্কেও। আল্লাহ তা‘আলা কামিল রহমত নাযিল করুন সারোয়ারে কায়েনাত, সৃষ্টির সেরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর, এমন রহমত যার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।
(১১৫) আফাহাছিবতুম আন্নামা-খালাকনা-কুম আবাছাওঁ ওয়া আন্নাকুম ইলাইনা-লা-তুরজা‘ঊন। (১১৬) ফাতাআ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া, রাব্বুল ‘আরশিল কারীম। (১১৭) ওয়া মাইঁ ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা-বুরহা-না লাহূবিহী ফাইন্নামাহিছা-বুহূ‘ইনদা রাব্বিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল কা-ফিরূন। (১১৮) ওয়া কুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুররা-হিমীন।
(১১৫) তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না? (১১৬) অতি মহিমাময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক। (১১৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না। (১১৮) (হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
দু'আর বিষয়সমূহ
40টি বিষয় পাওয়া গেছে