মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ১৮১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপদ-আপদকালে পাঠ করার দু'আ সমুহ
১৮১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ যে বান্দা (কোন বিষম সঙ্কটে পড়ে) বলে:
اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ اِكْفِنِي كُلَّ مُهِمٍّ مِنْ حَيْثُ شِئْتَ مِنْ أَيْنَ شِئْتَ .
-হে সাত আসমান এবং মহান আরশের অধিপতি! আমার সকল সঙ্কট, সকল মুশকিলে তুমিই আমার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাও, সকল সমস্যার সমাধান করে দাও! যে ভাবে তুমি চাও এবং যেখান থেকে তুমি চাও।
তা হলে আল্লাহ তার সমস্যা দূর করে তাকে পেরেশানী থেকে মুক্ত করবেন।
-(মাকারিমুল আখলাকঃ খারায়েতী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَا قَالَ عَبْدٌ: اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، اكْفِنِي كُلَّ هَمٍّ مِنْ حَيْثُ شِئْتَ، وَكَيْفَ شِئْتَ، وَمِنْ أَيْنَ شِئْتَ، إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ تَعَالَى هَمَّهُ " (رواه الخرائطي في مكارم الأخلاق)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিপদ-আপদকালে পাঠ করার দু'আ সমুহ
১৮২. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আলী! তুমি কোন গুরুতর সঙ্কটে পতিত হলে আল্লাহ তা'আলার দরবারে এভাবে দু'আ করবে:

اَللّٰهُمَّ احْرُسْنِي بِعَيْنِكَ الَّتِي لَا تَنَامُ، وَاكْنُفْنِي بِرُكْنِكَ الَّذِي لَا يُرَامُ، وَاغْفِرْ لِي بِقُدْرَتِكَ عَلَيَّ فَلَا أَهْلِكُ وَأَنْتَ رَجَائِي. رَبِّ كَمْ مِنْ نِعْمَةٍ أَنْعَمْتَ بِهَا عَلَيَّ قَلَّ لَكَ عِنْدَهَا شُكْرِي، وَكَمْ مِنْ بَلِيَّةٍ ابْتَلَيْتَنِي بِهَا قَلَّ عِنْدَكَ عِنْدَهَا صَبْرِي، فَيَا مَنْ قَلَّ عِنْدَ نِعْمَتِهِ شُكْرِي فَلَمْ يَحْرِمْنِي، وَيَا مَنْ قَلَّ عِنْدَ بَلِيَّتِهِ صَبْرِي فَلَمْ يَخْذُلْنِي، وَيَا مَنْ رَآنِي عَلَى الْخَطَايَا فَلَمْ يَفْضَحْنِي، يَا ذَا الْمَعْرُوفِ الَّذِي لَا يَنْقَضِي أَبَدًا، وَيَا ذَا النَّعْمَاءِ الَّتِي لَا تُحْصَى أَبَدًا، أَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، بِكَ أَدْرَأُ فِي نُحُورِ الْأَعْدَاءِ وَالْجَبَّارِينَ.

হে আল্লাহ! তোমার সে চোখ দ্বারা আমার দেখাশোনা কর, যা নিদ্রা-তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় না এবং তোমার সে হিফাযতে আমাকে নিয়ে নাও- যার ধারে কাছেও কেউ ঘেঁষতে ইচ্ছে করতে পারেনা। এবং আমি অসহায় পাপীতাপী বান্দার উপর তোমার যে কুদরত ও ক্ষমতা রয়েছে, তার কল্যাণে তুমি আমাকে মার্জনা করে দাও, যেন আমি ধ্বংস হওয়ার কবল থেকে রক্ষা পাই। তুমিই আমার আশা-ভরসাস্থল।

হে আমার প্রতিপালক প্রভু। তোমার কত নিয়ামতে তুমি আমাকে ধন্য করেছো, তার জন্য আমি তোমার খুব কম শুকরিয়াই আদায় করেছি। কিন্তু সে জন্যে কোনদিন তুমি আমাকে বঞ্চিত রাখোনি। আর কত পরীক্ষায়ই তুমি আমাকে ফেলেছো, সে সব পরীক্ষায় আমি খুব কমই ধৈর্য ধারণ করেছি; অথচ তুমি কোনদিন আমায় অমর্যদা করোনি (বরং আমি পাপীতাপীর অপরাধ সমূহকে গোপন রেখেই চলেছো) ওহে সেই পবিত্র মহান সত্তা, যিনি আমাকে স্বচক্ষে পাপেতাপে লিপ্ত দেখেছেন অথচ জন সমাজে আমাকে অপদস্থ করেন নি।

হে এহসানকারী বদান্যশীল প্রভু! যার বদান্যতা ও এহসান কোনদিন শেষ হবার নয়। হে নিয়ামত প্রদানকারী প্রভু! যে নিয়ামতসমূহ কোন দিন গুণে শেষ করা যাবে না। আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি তুমি তোমার অফুরন্ত রহমত বর্ষণ করবে মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, ঘনিষ্ঠ জনদের উপর। হে মহান প্রভু! তোমারই বলে আমি প্রতিরোধ করি শত্রুদেরকে এবং প্রতাপশালী যালিমদেরকে।
-(মুসনাদে ফিরদাওস, দায়লমী প্রণীত)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ لِىْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَلِىُّ: اللَّهُمَّ احرسني بِعَيْنِك الَّتِي لَا تنام واكنفني بركنك الَّذِي لَا يرام واغفر لي بقدرتك عَليّ فَلَا أهلك وَأَنت رجائي رب كم من نعْمَة أَنْعَمت بهَا عَليّ قل لَك عِنْدهَا شكري وَكم من بلية ابتليتني بهَا قل عِنْد لَك عِنْدهَا صبري فيا من قل نعْمَته شكري فَلم يحرمني وَيَا من قل عِنْد بليته صبري فَلم يخذلني وَيَا من رَآنِي على الْخَطَايَا فَلم يفضحني يَا ذَا الْمَعْرُوف الَّذِي لَا ينقضني أبدا وَيَا ذَا النعماء الَّتِي لَا تحصى أبدا أَسأَلك أَن تصلي على مُحَمَّد وعَلى آل مُحَمَّد بك أدرأ فِي نحور الْأَعْدَاء والجبارين. (رواه الديلمى فى مسند الفردوس)
হাদীস নং: ১৮৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শাসকের রোষানল ও অত্যাচার থেকে হিফাযতের দু'আ

অনেক সময় বিশেষত সত্যপন্থী লোকেরা শাসকদের বিরাগ ভাজন হয়ে তাদের রোষানলে পড়ে থাকেন। তাদের যুলুম ও বাড়াবাড়ির আশঙ্কা তখন প্রতি পদে পদেই তাঁদেরকে বিব্রত করে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে এ সংক্রান্ত দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন।
১৮৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যখন তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি শাসকের পক্ষ থেকে নিগ্রহ-নিপীড়নের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়, তার উচিত আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করা:

اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ فُلَانِ بْنِ فُلانٍ وَشَرِّ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَأَتْبَاعِهِمْ أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَطْغَى عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤكَ وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ

-"হে সাত আসমানের মালিক প্রভু! হে মহান আরশের অধিপতি! অমুকের পুত্র অমুকের (শাসকের) অনিষ্ট থেকে তুমি আমাকে রক্ষা কর! এবং সমগ্র দুষ্ট জিন ও ইনসান তথা মানব ও দানবের এবং তাদের অনুসারীদের অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা কর, যেন তাদের কেউই আমার প্রতি যুলুম করতে না পারে বা বাড়াবাড়ি করতে না পারে। তোমার আশ্রিত জন মহা সম্মানিত এবং তুমি বিনে কোন উপাস্য নেই।
-(তাবারানী: মু'জামে কবীর গ্রন্থে)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِذَا تَخَوَّفَ أَحَدُكُمُ السُّلْطَانَ فَلْيَقُلِ: اللهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ فُلَانِ بْنِ فُلَانٍ وَشَرِّ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ وَأَتْبَاعِهِمْ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ. (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণমুক্তি ও আর্থিক অসচ্ছলতা থেকে মুক্তির দু'আ
১৮৪. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদে প্রবেশ করে জনৈক আনসার-যাকে আবূ উমামা নামে অভিহিত করা হতো দেখতে পান। তখন তিনি তাকে লক্ষ্য করে বললেন, কী হলো হে আবু উমামা; তোমাকে যে সালাতের সময় ছাড়াই অসময়ে মসজিদে বসা দেখতে পাচ্ছি?
জবাবে তিনি বললেন, অনেক দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা ও ঋণভার আমাকে জর্জরিত করে রেখেছে ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন দু'আ কালাম শিক্ষা দেবো না, যা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে দুশ্চিন্তা ও ঋণভার থেকে মুক্ত করবেন।
তখন আবূ উমামা বললেন: আলবৎ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তুমি সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর দরবারে এরূপ দু'আ করবে:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ

-"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা থেকে, এবং তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণের প্রাবল্য এবং লোকের দাপট থেকে।"
আবূ উমামা (রা) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথা মত সেরূপ আমল করি তখন আল্লাহ তা'আলা আমাকে দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা এবং ঋণভার থেকে মুক্ত করে দেন।-(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ فَقَالَ: يَا أَبَا أُمَامَةَ مَا لِي أَرَاكَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ فِي غَيْرِ وَقْتِ الصَّلاَةِ. قَالَ هُمُومٌ لَزِمَتْنِي وَدُيُونٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: أَفَلاَ أُعَلِّمُكَ كَلاَمًا إِذَا أَنْتَ قُلْتَهُ أَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمَّكَ وَقَضَى عَنْكَ دَيْنَكَ. قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: قُلْ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ. قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمِّي وَقَضَى عَنِّي دَيْنِي.
হাদীস নং: ১৮৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণমুক্তি ও আর্থিক অসচ্ছলতা থেকে মুক্তির দু'আ
১৮৫. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। একদা জনৈক মুকাতাব দাস তাঁর কাছে এসে অনুযোগ করলো যে, আমি আমার মনিবের সাথে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি মত আমার মুক্তিপণ আদায় করতে পারছিনা। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করুন!
তখন তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালিমা বাৎলে দেবো না, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে শিক্ষা দিয়েছিলেন? যদি তুমি তার উপর আমল কর তা হলে তোমার যিম্মায় পাহাড় তুল্য ঋণ থাকলেও এ দু'আর বরকতে আল্লাহ তা'আলা তা থেকে তোমাকে মুক্ত করে দেবেন। সে সংক্ষিপ্ত দু'আটি হচ্ছে:
اَللّٰهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
হে আল্লাহ! আমাকে হালাল ভাবে এমন পরিমাণ উপার্জন দান কর, যা আমার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যায়, যদ্দরুন আমার আর হারামের প্রয়োজন না হয়। এবং তোমার ফযল ও করমে আমাকে তুমি ব্যতীত অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করে দাও! (আমার যেন আর কারো ধার ধারতে না হয়)।
-(জামে' তিরমিযী; দাওয়াতে কবীর: বায়হাকী সঙ্কলিত)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ جَاءَهُ مُكَاتَبٌ فَقَالَ إِنِّي قَدْ عَجَزْتُ عَنْ كِتَابَتِي فَأَعِنِّي. قَالَ أَلاَ أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ عَلَّمَنِيهِنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْكَ مِثْلُ جَبَلِ صِيرٍ دَيْنًا أَدَّاهُ اللَّهُ عَنْكَ قَالَ: قُلِ اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ. (رواه الترمذى والبيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ১৮৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আনন্দ ও শোকে পাঠের দু'আ
১৮৬. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন এমন কোন বস্তু দর্শন করতেন, যা দেখে তিনি আনন্দিত হতেন তখন তিনি বলতেন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ
-"সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যার করুণায় সমস্ত কল্যাণ পূর্ণতা লাভ করে।"
আর যখন তিনি এমন কোন বস্তু দর্শন করতেন, যা তাঁর কাছে অপসন্দনীয় ঠেকতো তখন বলতেন : - اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ
-"সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা।"
-(ইবনুন নাজ্জার)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ: إِذَا رَأَى مَا يَسُرُّ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ» ، وَإِذَا رَأَى شَيْئًا مِمَّا يَكْرَهُ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ» (رواه ابن النجار)
হাদীস নং: ১৮৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রোধ কালীন দু'আ
১৮৭. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপস্থিতিতে দুই ব্যক্তির মধ্যে বচসা হলো। এমন কি তাদের মধ্যকার এক জনের চেহারায় ক্রোধের চিহ্ন ফুটে উঠলো। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ আমি এমন একটি কালিমা জানি, যদি ঐ ব্যক্তি তা উচ্চারণ করে নেয় তাহলে অবশ্যই তার ক্রোধ প্রশমিত হবে। সে কালিমাটি হচ্ছে:
أَعُوذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
-"বিতাড়িত শয়তানের কবল থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
-(তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ اسْتَبَّ رَجُلاَنِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى عُرِفَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِ أَحَدِهِمَا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا لَذَهَبَ غَضَبُهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيم. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৮৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে পড়বার দু'আসমূহ

রুগ্নব্যক্তির কুশল জানতে যাওয়া এবং তার সেবা-শুশ্রূষা করা অত্যন্ত ছাওয়াবের কাজ। এবং আল্লাহর নিকট মকবুল ইবাদত সমূহের অন্যতম বলে রাসূলুল্লাহ ﷺ অভিহিত করেছেন। তিনি এজন্যে উৎসাহিত করেছেন এবং নিজ আচরণ ও বাণীর দ্বারা উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, যখন কোন ব্যক্তি কোন রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাবে তখন তার উচিত তার নিরাময়ের জন্যে দু'আ করা। বলা বাহুল্য, এতে সে সান্ত্বনা পাবে। মা'আরিফুল হাদীসের তৃতীয় খণ্ডে কিতাবুল জানায়েয অধ্যায়ে এ সংক্রান্ত একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এখানে কিতাবুদ দাওয়াত বা দু'আ অধ্যায়েও কয়েকটি বর্ধিত হাদীসসহ তা' উদ্ধৃত করা হচ্ছে।
১৮৮. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হতো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ডান হাত তার গায়ে বুলিয়ে এ দু'আটি পড়তেন:
أَذْهِبِ الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءً إِلَّا شِفَاؤكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقْمًا.
-"এ বান্দাটির কষ্ট দূর করে দাও হে সমস্ত মানবের প্রতিপালক প্রভু! তুমি তাকে নিরাময় কর, কেন না, তুমিই তো নিরাময়কারী। তোমার শিফাই শিফা, এমন পূর্ণ শিফা দান কর, যেন রোগের কোন প্রভাবই আর অবশিষ্ট না থাকে।" -(সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ:كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَكَى مِنَّا إِنْسَانٌ مَسَحَهُ بِيَمِينِهِ ثُمَّ قَالَ: أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে পড়বার দু'আসমূহ
১৮৯. হযরত আবূ সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, [(একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ অসুস্থ হলে)! জিব্রাইল আমীন দরবারে এসে আরয করলেন: হে মুহাম্মদ! আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন? জবাবে তিনি বললেন: হাঁ।
তখন জিব্রাইল (আ) বললেন:
بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَحَاسِدٍ اَللّٰهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ
-"আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি এমন সব বস্তু থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে, সকল নফসের অনিষ্ট থেকে এবং প্রতিটি বিদ্বিষ্ট লোকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ আপনাকে নিরাময় করুন! আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।"
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: إِنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ فَقَالَ: ((نَعَمْ)). قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شيء يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গিয়ে পড়বার দু'আসমূহ
১৯০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন অসুস্থ হতেন, তখন মুআব্বিযাত পড়ে নিজের উপর দম করতেন এবং নিজের হাত দিয়ে নিজের পবিত্র দেহ মুছতেন। তারপর যখন তাঁর অন্তিম ব্যাধি দেখা দিল যাতে তাঁর ইন্তিকাল হয়, তখন ঐ মুআব্বিযাত পড়ে আমিই তাঁকে দম করতাম যা পড়ে তিনি নিজে দম করতেন এবং তার পবিত্র হাত দিয়ে তার পবিত্র দেহ মুছে দিতাম।
-(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ رَضِي الله عَنهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اشْتَكَى نَفَثَ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ، وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِهِ، فَلَمَّا اشْتَكَى وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِي كَانَ يَنْفِثُ، وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১৯১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি কালীন দু'আ

বাহ্যত হাঁচির তেমন কোন গুরুত্ব নেই। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এক্ষেত্রেও দু'আ পাঠের শিক্ষা দিয়েছেন। এভাবে তিনি এ সাধারণ ব্যাপারটিকেও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিণত করেছেন।
১৯১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন হাঁচি দেবে তখন তার বলা উচিত ِاَلْحَمْدُ لِلّٰه "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার,” আর তার অপর ভাই বা সাথীর বলা উচিত-আল্লাহ তোমার প্রতি সদয় হোন! يَرْحَمُكَ اللّٰهُ যখন সে ব্যক্তি ইয়ার হামুকাল্লাহ্ বলবে তখন পাল্টা তার বলা উচিত : يَهْدِيكُمُ اللّٰهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
"আল্লাহ তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করুন এবং তোমার অবস্থা দুরস্ত করে দিন! (অর্থাৎ তোমাকে সর্বদিক দিয়ে ভাল রাখুন)
-(সহীহ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ. وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ. فَإِذَا قَالَ لَهُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ. فَلْيَقُلْ يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৯২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি কালীন দু'আ
১৯২. হযরত সালামা ইব্‌ন আকওয়া' (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এর সম্মুখে হাঁচি আসলে তিনি তাঁকে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে দু'আ দিলেন। তারপর আরেক ব্যক্তি তাঁর কাছে হাঁচি দিলে তিনি বললেন: লোকটি সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত।
-(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ سَلَمَةُ بْنِ الأَكْوَعِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ: ((يَرْحَمُكَ اللَّهُ)). ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ((الرَّجُلُ مَزْكُومٌ. (رواه مسلم وفى رواية للترمذى انه قال له فى الثالثة انه مزكوم)
হাদীস নং: ১৯৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাঁচি কালীন দু'আ
১৯৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমরের খাদেম হযরত নাফি' থেকে বর্ণিত। হযরত ইবনে উমরের কাছে একব্যক্তির হাঁচি আসলে সে বলে উঠলো, الْحَمْدُ لِلّٰه وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللّٰهِ (আলহামদু লিল্লাহ্ এবং নবী করীমের প্রতি সালাম) তখন হযরত ইবনে উমর (রা) বললেন: আমিও বলি, আলহামদুলিল্লাহ ওসসালাতু আলা রাসুলিল্লাহ! অর্থাৎ এ কালামটি তো নিঃসন্দেহে একটি ভাল কালিমা, এতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সালাম রয়েছে; কিন্তু এ মওকায় তা' বলাটা সহীহ নয়। রাসূলুল্লাহ (স) এরূপ ক্ষেত্রে আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন: اَلْحَمْدُ لِلّٰه وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللّٰهِ (সমস্ত প্রশংসা সর্বাবস্থায় আল্লাহর) বলতে। -(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رَجُلاً عَطَسَ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ. قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَقُولُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلاَمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ وَلَيْسَ هَكَذَا عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَّمَنَا أَنْ نَقُولَ الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ১৯৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানো কালীন দু'আ

মেঘমালার গর্জন ও বিদ্যুৎতের চমক আল্লাহ্ তা'আলার কুদরতের এক বিরাট নিদর্শন বা অভিব্যক্তি। আর যখন আল্লাহওয়ালা কোন বান্দার তা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয় তখন তার উচিত পূর্ণ দীনতা-হীনতা ও বিনয়ের সাথে আল্লাহ তা'আলার রহম ও করম তথা দয়া ও নিজের নিরাময়-নিরাপত্তার জন্য দু'আ করা। এটাই রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা এবং তাঁর আচরিত উসউয়ায়ে হাসানা বা উত্তম রীতি।
১৯৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ যখন মেঘমালার গর্জন এবং বজ্রের আওয়াজ শুনতে পেতেন তখন তিনি বলতেন:
اَللّٰهُمَّ لَا تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلَا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَالِكَ
"হে আল্লাহ! তোমার গযব দিয়ে আমাদেরকে খতম করো না, তোমার আযাব দিয়ে আমাদেরকে ধ্বংস করোনা এবং এর আগেই আমাদেরকে নিরাময় কর।
-(মুসনাদে আহমদ, জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا سَمِعَ صَوْتَ الرَّعْدِ وَالصَّوَاعِقِ قَالَ: اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ. (رواه احمد والترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মেঘের ঘনঘটা এবং প্রবল বায়ু প্রবাহ কালীন দু'আ

প্রবল বায়ুপ্রবাহ ও মেঘের ঘনঘটা কখনো আল্লাহ প্রেরিত শাস্তি রূপে আবার কখনো তাঁর রহমতরূপে (অর্থাৎ বারি বর্ষণের পূর্ব লক্ষণ রূপে) আবির্ভূত হয়। এ জন্যে আল্লাহ ওয়ালা বান্দাদের উচিত যখন এরূপ প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহ চলে, তখন আল্লাহর ক্রোধের ভয়ে ভীত হয়ে তাঁর দরবারে দু'আ করা যেন এ প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহ অনিষ্ট ও ধ্বংস বয়ে না আনে, বরং রহমতের ওসীলা হয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপই করতেন।
১৯৫. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর যবানীতে বর্ণিত। যখনই কোন ঝড়ো হাওয়া প্রচণ্ড বেগে বইতো তখনই রাসূলুল্লাহ ﷺ হাটু গেড়ে আল্লাহর দরবারে দু'আয় লিপ্ত হতেন। তিনি তখন এরূপ বলতেন:
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهَا رَحْمَةً وَلَا تَجْعَلْهَا عَذَابًا اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ رِيَاحًا وَلَا تَجْعَلْهَا رِيحًا
-(হে আল্লাহ! এ বায়ু প্রবাহকে আমাদের জন্যে রহমত স্বরূপ করে দাও! আর একে আযাব বা ধ্বংসের হেতু বানিও না হে আল্লাহ! একে আমাদের জন্যে (কুরআন শরীফে উল্লিখিত) রিয়াহ বানিয়ে দাও। এবং একে (কুরআনে উল্লেখিত) রীহ-এর রূপ দিওনা।" -(মুসনাদে শাফেয়ী এবং বায়হাকীর আদ্দাওয়াতুল কাবীর)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَا هَبَّتْ رِيحٌ قَطُّ إِلَّا جَثَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا رَحْمَةً وَلَا تَجْعَلْهَا عَذَابًا، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا رِيَاحًا وَلَا تَجْعَلْهَا رِيحًا» (رواه الشافعى والبيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ১৯৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মেঘের ঘনঘটা এবং প্রবল বায়ু প্রবাহ কালীন দু'আ
১৯৬. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। ঝঞ্ঝাবায়ু প্রবাহিত হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
হে আল্লাহ! আমি এর এবং এর মধ্যে নিহিত এবং এর মাধ্যমে প্রেরিত মঙ্গল তোমার কাছে প্রার্থনা করছি। এবং এর অকল্যাণ এর মধ্যে নিহিত অকল্যাণ এবং এর মাধ্যমে প্রেরিত অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর যখন আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিত, (যাতে মঙ্গল অমঙ্গল রহমত ও গযব উভয়টারই সম্ভাবনা বা আশঙ্কা থাকতো) তখন আল্লাহর ক্রোধ ও গযবের আশংকায় তাঁর চেহারার রং বদলে যেতো (ফ্যাকাশে হয়ে যেতো) তিনি তখন কখনো ঘর থেকে বের হতেন আবার কখনো ঘরে প্রবেশ করতেন, কখনো সম্মুখে অগ্রসর হতেন, আবার কখনো পিছিয়ে যেতেন। তারপর যখন ভালোয় ভালোয় বৃষ্টি বর্ষিত হয়ে যেতো তখন তাঁর সে অস্বাভাবিক অবস্থা দূর হতো।

(রাবী বলেন) উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) তাঁর এ অবস্থা অনুধাবন করে এর কারণ কি জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে তিনি বললেন: এতো এমনও হতে পারে আয়েশা, যেমনটি "আদ জাতি তাদের প্রান্তরের দিকে মেঘমালা অগ্রসর হতে দেখে বলেছিল, এ মেঘমালা আমাদের প্রান্তরে বর্ষিত হয়ে আমাদের খামার সমূহকে শস্যশ্যামল কর তুলবে (অথচ তা ছিল গযব ও আযাবের ঘনঘটা যা তাদের বিপর্যয় ও ধ্বংসের কারণ হয়েছিল।)
-(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ. قَالَتْ وَإِذَا تَخَيَّلَتِ السَّمَاءُ تَغَيَّرَ لَوْنُهُ وَخَرَجَ وَدَخَلَ وَأَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ فَعَرَفْتُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ. قَالَتْ عَائِشَةُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: لَعَلَّهُ يَا عَائِشَةُ كَمَا قَالَ قَوْمُ عَادٍ: فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টি বর্ষণকালীন দু'আ
১৯৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখতে পেলেই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সমস্ত স্বাভাবিক কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে তিনি তখন সেদিকে নিবিষ্ট হতেন এবং এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ -
-"হে আল্লাহ্! এর অন্তর্নিহিত অমঙ্গল থেকে আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" তারপর সে ঘনঘটা কেটে গিয়ে আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করতেন। আর যদি বৃষ্টি বর্ষিত হতো তা হলে তিনি বলতেন : اَللّٰهُمَّ سَقْيًا نَافِعًا -"হে আল্লাহ! এ বৃষ্টিকে পূর্ণ তৃপ্তিদায়ক এবং উপকারী বৃষ্টিতে পরিণত করে দাও!" (আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজা ও শাফেয়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَبْصَرْنَا شَيْئًا فِي السَّمَاءِ، تَعْنِي السَّحَابَ، تَرَكَ عَمَلُهُ، وَاسْتَقْبَلَهُ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيهِ» فَإِنْ كَشَفَهُ اللَّهُ حَمِدَ اللَّهَ، وَإِنْ مَطَرَتْ قَالَ: «اللَّهُمَّ سَقْيًا نَافِعًا» (رواه ابوداؤد والنسائى وابن ماجه والشافعى واللفظ له)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টি বর্ষণকালীন দু'আ
১৯৮. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন বৃষ্টি বর্ষিত হতে দেখতেন, তখন আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
"হে আল্লাহ! মুশল ধারার বৃষ্টি এবং উপকারী বৃষ্টি দান কর!" -(সহীহ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَأَى الْمَطَرَ قَالَ: اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১৯৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টির জন্যে দু'আ
১৯৯. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হাত তুলে এরূপ দু'আ করতে দেখেছি:
اَللّٰهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مُرِيئًا مُرِيعًا نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلًا غَيْرَ آجِلٍ -
-"হে আল্লাহ! আমাদের জন্যে এমন মুশল ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন, যা ভূমির জন্যে অনুকূল ও উপকারী হয় এবং তার জন্যে অপকারী না হয়। (ভূমি তাতে শস্যশ্যামল হয়ে উঠে- বিরান না হয়)"
রাবী হযরত জাবির (রা) বলেন: তাঁর এ দু'আ শেষ হতে না হতেই আকাশ ঘনঘটায় ছেয়ে গেলে এবং মুশল ধারায় বৃষ্টিপাত হলো। -(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَوَاكِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا، مَرِيئًا مَرِيعًا، نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ، عَاجِلًا غَيْرَ آجِلٍ»، قَالَ: فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ. (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৃষ্টির জন্যে দু'আ
২০০. হযরত আমর ইব্‌ন শুআয়ব (রা) তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর পিতামহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন বৃষ্টির জন্যে দু'আ করতেন তখন আল্লাহর দরবারে এভাবে দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهِيمَتَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْيِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ -
-হে আল্লাহ! তোমার বান্দাদেরকে এবং তোমার সৃষ্ট চতুষ্পদ জন্তু এবং জীব জানোয়ারকে পরিতৃপ্ত কর! তোমার রহমত বর্ষণ কর এবং তোমার যে জনপদসমূহ বৃষ্টির অভাবে প্রাণহীন হয়ে পড়েছে, সেগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোল!"
-(মুয়াত্তা ইমাম মালিক ও সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَسْقَى، قَالَ: «اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ، وَبَهِيْمَتَكَ، وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ، وَأَحْيِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ» (رواه مالك وابوداؤد)