মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩২২ টি

হাদীস নং: ১০১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুলের বিশেষ বিশেষ হাল ও ক্ষণ-কাল
১০১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট থেকে শুনেছি, রাত্রের মধ্যে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, ঐ সময় বান্দা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যে মঙ্গলই প্রার্থনা করুক না কেন আল্লাহ তাকে তা দিয়ে দেন। আর এটা কোন বিশেষ রাতের জন্যে নির্দিষ্ট নয়; বরং প্রতি রাতেই আল্লাহর এ দান অবারিত থাকে। -(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ، يَسْأَلُ اللهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ» (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১০২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দু'আ কবুল হওয়ার অর্থ এবং তার সূরতসমূহ

অনেকে অজ্ঞতা বশত দু'আ কবুল হওয়া বলতে কেবল এ কথাই বুঝে থাকে যে, বান্দা আল্লাহর কাছে যাই চাইবে নগদ নগদ হুবহু তাই সে পেয়ে যাবে। যদি তা না পায় তখন তারা মনে করে তাদের দু'আ বুঝি কবুলই হলো না। এটা অত্যন্ত ভুল ধারণা। বান্দার ইলম্ বা জ্ঞানের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। বরং সৃষ্টিগত দিক থেকে সে যালুম-জাহুল-অত্যন্ত গোঁয়ার ও অজ্ঞ। অনেক বান্দা এমন রয়েছে, যাদের জন্যে বিত্ত-বিভব নিয়ামত স্বরূপ। আবার অনেকের জন্যে তা বিপদও বটে। অনেক বান্দার জন্যে হুকুমত বা শাসন ক্ষমতা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড় ওসীলা স্বরূপ। পক্ষান্তরে হাজ্জাজ ও ইবনে যিয়াদের মত অনেকের জন্যে শাসনক্ষমতা আল্লাহ থেকে দূরত্ব ও তাঁর গযবের কারণ স্বরূপ হয়ে যায়। বান্দা জানেনা যে, কী তার জন্যে উত্তম আর কী তার জন্যে ফিৎনা বা বিষস্বরূপ। তাই অনেক সময় আল্লাহর দরবারে সে এমন বস্তু প্রার্থনা করে, যা তার জন্যে উত্তম নয় বা তা দান করা আল্লাহর হিকমতের পরিপন্থী। এ জন্যে পরম জ্ঞানী ও কুশলী আল্লাহ তা'আলার ইলম ও হিকমতের খেলাফ হয় যে বান্দা অজ্ঞতা বশত, যা চেয়ে বসেছে, তাই তাকে দিয়ে দেবেন। আবার এটাও তাঁর পরম বদান্যতার পরিপন্থী যে, বান্দা কাঙাল ও মিসকীনের মতো তাঁর কাছে হাত পাতবে আর তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন। তাই আল্লাহ তা'আলার নিয়ম হলো, তিনি তার দরবারে প্রার্থনাকারীকে খালি হাতে ফিরান না কখনো তিনি তাকে তার প্রার্থিত বস্তুই দান করেন। আবার কখনো তার পরিবর্তে পারলৌকিক বিরাট কোন নিয়ামত দানের ফয়সালা করেন। এভাবে বান্দার এ দু'আ তার আখিরাতের সম্বল হয়ে যায়। আবার কখনো এমন হয় যে, এ পৃথিবীর কার্যকারণের হিসাবে এ দু'আকারী ব্যক্তির উপর কোন বিপদ আপতিত হওয়ার মত থাকলে এ দু'আর কল্যাণে আল্লাহ তা'আলা সে বিপদ আপদ তার উপর পতিত হতে দেন না।

সর্বাবস্থায় দু'আ কবুল হওয়ার অর্থ হচ্ছে দু'আ কোন মতেই নিষ্ফলে যায় না। এবং দু'আকারী কখনো মাহরূম বা বঞ্চিত হয় না। আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইলম ও হিকমত অনুসারে কোন না কোন দানে তাকে ধন্য করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত খুলাসা করে তা বর্ণনা করেছেন।
১০২. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে মু'মিন বান্দা এমন কোন দু'আ করে, যাতে কোন গুনাহর বা আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা থাকে না, আল্লাহ তা'আলা তাকে তিনটি বস্তুর কোন একটি এর বিনিময়ে দান করেন।
১. হয়, সে যা প্রার্থনা করে তাই তিনি তাকে নগদ নগদ দান করেন।
২. নতুবা তার এ দু'আকে তার আখিরাতের সম্বল বানিয়ে দেন।
৩. নতুবা এ দু'আ অনুপাতে তার উপর পতিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল এমন কোন আপদ থেকে তিনি রহিত করে দেন।

তখন সাহাবীগণ বললেন: ব্যাপারটা যখন এরূপই (যে দু'আ সর্বাবস্থায়ই কবুল হয়ে থাকে এবং এর বিনিময়ে কিছু না কিছু পাওয়াই যায়), তা হলে আমরা বেশি বেশি দু'আ করবো।
জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহর কাছে তার চাইতেও অনেক বেশি আছে।
-(মুসনাদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ إِحْدَى ثَلَاثٍ، إِمَّا يُعَجِّلُ لَهُ دَعْوَتَهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَدْفَعَ عَنْهُ مِنَ السَّوْءِ مِثْلَهَا "قَالُوْا اِذَا نُكْثِرُ قَالَ اللهُ اَكْثَرُ. (رواه احمد)
হাদীস নং: ১০৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দু'আসমূহ
দু'আ সম্পর্কে যে সমস্ত হাদীস এ পর্যন্ত আলোচিত বা উল্লেখিত হয়েছে সেগুলোতে হয় দু'আ সম্পর্কে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে অথবা দু'আর মাহাত্ম্য ও বরকতসমূহের বর্ণনা রয়েছে, অথবা দু'আর আদব এবং এ সংক্রান্ত হিদায়াত এবং কবুলিয়তের আনুসঙ্গিক ব্যাপারাদি বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো ছিল উপক্রমনিকাস্বরূপ। এবার রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আসল দু'আসমূহ এবং তাঁর অন্তরের আকৃতি ভরা সেই সব মুনাজাত যা তিনি তাঁর প্রভুর দরবারে করেছেন এবং যা তাঁর মা'রিফতের মাকাম এবং হৃদয়-মনের অবস্থা আঁচ করার সম্ভাব্য সর্বোত্তম ওসীলাস্বরূপ এবং উম্মতের জন্যে এটা তাঁর মহোত্তম উত্তরাধিকার স্বরূপ। এগুলোকে হাদীস ভাণ্ডারের চিরহরিৎ ডালিস্বরূপ বললে মোটেই অত্যুক্তি হবে না। নবী করীম ﷺ-এর এ দু'আসমূহকে তিন অংশে ভাগ করা যায়।

প্রথমত ঐসমস্ত দু'আ, যা কোন বিশেষ দিনক্ষণের জন্যে খাস। যেমন ঊষালগ্নের দু'আ, সান্ধ্যকালীন দু'আ, শয়নকালীন দু'আ, গাত্রোত্থানকালীন দু'আ, ঝড়ঝঞ্ঝা বা বর্ষণকালীন দু'আ, বিপদাপদ বা উৎকণ্ঠাকালীন দু'আ ইত্যাদি ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত ঐসব দু'আ যা সাধারণভাবে পঠিতব্য, কোন বিশেষ দিন-ক্ষণের সাথে সেগুলোর কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো সাধারণত অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক হয়ে থাকে।

তৃতীয়ত ঐসব দু'আ, যা নবী করীম ﷺ সালাতে বা সালাত থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে অর্থাৎ সালাতের সালাম ফিরানোর পর আল্লাহর দরবারে করতেন। এখানে এই তৃতীয়োক্ত ধরনের অর্থাৎ সালাত সংশ্লিষ্ট দু'আগুলো সর্বপ্রথম লিখিত হচ্ছে। আল্লাহ তা'আলা রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ও সাল্লামের এ মহামূল্যবান ও মাহাত্ম্যপূর্ণ উত্তরাধিকারের যথাযোগ্য মর্যাদা দান এবং এগুলো থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার পূর্ণ তাওফীক আমাদেরকে দান করুন।

সালাতে এবং সালাতের পর পড়ার দু'আসমূহ

তাকবীরে তাহরীমার পরের প্রারম্ভিক দু'আ
১০৩. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত শুরু করতেন তখন সর্বপ্রথম তাকবীর (মানে আল্লাহু আকবার) বলতেন (যাকে তাকবীরে তাহরীমা বলা হয়ে থাকে।) তার পর আল্লাহ তা'আলার দরবারে এরূপ আরয করতেন:

إِنَّ صَلٰوتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَالِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ اللّٰهُمَّ اهْدِنِي لَأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِيْ لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ وَقَنِيْ سَيِّئَ الْأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الْأَخْلَاقِ وَلَا يَقِيْ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ.

নিঃসন্দেহে আমার সালাত (নামায) আমার ইবাদত, আমার জীবন ও আমার মরণ আল্লাহ্ রাব্বুল 'আলামীনের জন্যে উৎসর্গীকৃত। যাঁর কোন শরীক নেই। আর আমি এরই জন্যে নির্দেশিত আর আমি সর্বপ্রথম তাঁরই আনুগত্যকারী। হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম আমল ও আখলাকের হিদায়াত দান কর। আর সর্বোত্তম আমল ও আখলাকের হিদায়াত তুমি ছাড়া আর কেউই দিতে পারেনা। আর আমাকে তুমি মন্দ আমল ও আখলাক থেকে রক্ষা কর আর মন্দ আমল ও আখলাক থেকে হিফাযত করতে পার একমাত্র তুমিই। -(সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلَاةَ كَبَّرَ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ. اَللَّهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَقِنِي سَيِّئَ الْأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الْأَخْلَاقِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ» (رواه النسائى)
হাদীস নং: ১০৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাকবীরে তাহরীমার পরের প্রারম্ভিক দু'আ
১০৪. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন রাতের বেলা তাহাজ্জুদ পড়তে উঠতেন, তখন তিনি এরূপ দু'আ করতেন:

اللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمٰوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمٰوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّوْنَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ ﷺ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللّٰهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ لاَ إِلٰهَ غَيْرُكَ ـ

"হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা তোমারই। তুমিই কায়েম রেখেছো দুনিয়া ও আসমান এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুকে। মওলা! সমস্ত স্তব-স্তুতি তোমারই প্রাপ্য, তুমি দুনিয়া ও আসমানসমূহ এবং এগুলোতে যা কিছু রয়েছে, সবকিছুর নূর বা জ্যোতি। (অর্থাৎ বিশ্বভুবনে যেখানেই যে আলো বা জ্যোতি রয়েছে, সবই তোমারই জ্যোতি।) সমস্ত প্রশংসা তোমারই, তুমি যমীন ও আসমানসমূহ এবং এগুলোর মধ্যবর্তী সবকিছুর অধিপতি। সমস্ত প্রশংসা তোমারই জন্যে শোভনীয়, তুমি হক, তোমর ওয়াদা হক, মৃত্যুর পর তোমার দরবারে উপস্থিতি যথার্থ, তোমার ফরমান যথার্থ, জান্নাত জাহান্নাম যথার্থ, নবীগণ যথার্থ, মুহাম্মদ যথার্থ, কিয়ামত যথার্থ।

হে আল্লাহ! আমি তোমারই সমীপে আত্মনিবেদিত, তোমার প্রতি আমি ঈমান এনেছি। তোমারই উপর আমি ভরসা করেছি। তোমারই অবলম্বন ধরে আমি তোমারই অভিমুখী হয়েছি। (সত্যদ্রোহীদের মুকাবিলায়) তোমার সাহায্যই আমার অবলম্বন, তোমার কাছেই আমার যত ফরিয়াদ। সুতরাং তুমি আমার সকল অপরাধ মার্জনা করে দাও, যা আমি পূর্বে করেছি বা পরে করেছি যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি আর যে সম্পর্কে তুমিই আমার চাইতে বেশি জ্ঞাত। তুমিই অগ্রসরকারী এবং তুমিই পশ্চাৎগামীকারী। যাকে ইচ্ছে তুমি উন্নত ও অগ্রসর কর আর যাকে ইচ্ছে পতিত ও পশ্চাৎগামী কর! তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউই নেই। কেবলমাত্র তুমিই মা'বুদ বরহক। -(সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَتَهَجَّدُ قَالَ: " اللَّهُمَّ لَكَ الحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الحَمْدُ أَنْتَ الحَقُّ وَوَعْدُكَ الحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ المُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১০৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাকবীরে তাহরীমার পরের প্রারম্ভিক দু'আ
১০৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদের সালাতের জন্যে দাঁড়াতেন তখন সর্বপ্রথম আল্লাহ তা'আলার হুযুরে এরূপ দু'আ করতেন:

اللّٰهُمَّ إِلٰهَ جِبْرَائِيْلَ وَمِيكَائِيْلَ وَإِسْرَائِيْلَ فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُونَ اِهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِيْ مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ

অর্থাৎ হে আল্লাহ, হে জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইস্রাফীলের প্রতিপালক! হে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও হাযির, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছু সম্পর্কে সমান জ্ঞাত প্রভু! তুমিই বান্দাদের মধ্যে তাদের বিরোধপূর্ণ ব্যাপারসমূহের ফয়সালা দেবে। তোমার খাস তাওফীকের দ্বারা তুমি আমাকে হিদায়াতের পথে সত্যের পথে পরিচালিত কর যা নিয়ে লোকেরা মতভেদে লিপ্ত হয়েছে। তুমিই যাকে ইচ্ছে হিদায়াতের পথে পরিচালিত কর।
-(সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلَاتَهُ: «اللهُمَّ رَبَّ جَبْرَائِيلَ، وَمِيكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুকু ও সাজদার দু'আসমূহ
১০৬. হযরত আওফ ইব্‌ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম ﷺ-এর সাথে সালাতে দাঁড়ালাম। তিনি যখন রুকুতে গেলেন তখন এত দীর্ঘক্ষণ ধরে রুকুতে রইলেন, যতক্ষণে সূরা বাকারা পড়ে শেষ করা যায়। এ রুকুকালে তাঁর পবিত্র যবানে এ দু'আটি উচ্চারণ করছিলেন:
سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوْتِ وَالْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظْمَةِ.
"পবিত্র সেই সত্তা, যিনি প্রতাপ-বিক্রম, কর্তৃত্ব ও মাহাত্ম্যের অধিকারী।"
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَوْفِ بْنَ مَالِكٍ قَالَ: قُمْتُ مَعَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَكَعَ مَكَثَ قَدْرَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ: «سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ» (رواه النسائى)
হাদীস নং: ১০৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুকু ও সাজদার দু'আসমূহ
১০৭. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাত্রিতে (আমার চোখ খুললে) আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিছানায় খুঁজে পেলাম না। আমি তখন (অন্ধকারে) তাঁকে হাতড়িয়ে খুঁজতে লাগলাম। এ সময় আমার হাত তাঁর পদদ্বয়ে পড়লো, পবিত্র পদদ্বয় তখন খাড়া অবস্থায় ছিল আর তিনি সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি বলছিলেন:

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلٰى نَفْسِكَ

হে আল্লাহ! আমি তোমার অসন্তুষ্টি থেকে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং তোমার শাস্তি থেকে তোমার মার্জনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এবং তোমার পাকড়াও থেকে তোমারই (বদান্যতার) আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার স্তব-স্তুতি বর্ণনা করে সারতে পারবো না (কেবল এটুকুই বলতে পারি) তুমি সেরূপ, যেরূপ তুমি নিজে তোমা'র ব্যাপারে বর্ণনা করেছো।
(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: فَقَدْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً مِنَ الْفِرَاشِ فَالْتَمَسْتُهُ فَوَقَعَتْ يَدِي عَلَى بَطْنِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ وَهُمَا مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ: «اللهُمَّ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রুকু ও সাজদার দু'আসমূহ
১০৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ সাজদাতে কোন কোন সময় এরূপ দু'আও করতেন:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ كُلَّه دِقَّهُ وَجُلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَأَخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ.

"হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহরাশি মাফ করে দাও- ছোট-বড় আগের-পরের প্রকাশ্য ও গোপনীয় সব গুনাহই।"
(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «فِي سُجُودِهِ اللهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ، وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ» (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শেষ বৈঠকের কিছু দু'আ
১০৯. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতে এ দু'আও করতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُبِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتَنِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَمِنَ الْمَغْرَمِ.

"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি- কবরের আযাব থেকে, দাজ্জালের ফিৎনা থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিৎনা থেকে, পাপের সর্ববিধ কাজ থেকে এবং ঋণের বোঝা থেকে।"
(বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلاَةِ يَقُوْلُ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا، وَفِتْنَةِ المَمَاتِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ المَأْثَمِ وَالمَغْرَمِ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ১১০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শেষ বৈঠকের কিছু দু'আ
১১০. হযরত শাদ্দাদ ইব্‌ন আওস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতে আল্লাহর দরবারে এরূপ প্রার্থনা করতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الأَمْرِ وَالْعَزِيمَةِ عَلَى الرُّشْدِ وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا وَلِسَانًا صَادِقًا وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ

"হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি দ্বীনের উপর দৃঢ়তা, হিদায়াতের উপর স্থৈর্য্য, তোমার নিয়ামতের শোকর গুজারী, তোমার উত্তম ইবাদত, আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ব্যাধিমুক্ত হৃদয় ও সত্যবাদী রসনা আর তোমার কাছে প্রার্থনা করি তোমার জ্ঞাত কল্যাণ এবং তোমার শরণ প্রার্থনা করি তোমার জ্ঞাত অকল্যাণ থেকে এবং মার্জনা প্রার্থনা করি তোমার জ্ঞাত পাপরাশি থেকে।
-(সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي صَلَاتِهِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الثَّبَاتَ فِي الْأَمْرِ، وَالْعَزِيمَةَ عَلَى الرُّشْدِ، وَأَسْأَلُكَ شُكْرَ نِعْمَتِكَ، وَحُسْنَ عِبَادَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ قَلْبًا سَلِيمًا، وَلِسَانًا صَادِقًا، وَأَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَعْلَمُ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا تَعْلَمُ " (رواه النسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শেষ বৈঠকের কিছু দু'আ
১১১. হযরত কয়েস ইব্‌ন আব্বাদ (তাবেঈ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবী আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রা) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সালাত পড়ালেন (অর্থাৎ সালাতের ইমামতি করতে গিয়ে খুবই সংক্ষেপে সালাত সারলেন) লোকজনের মধ্যে তাতে চাপা গুঞ্জরণ দেখা দিল। তিনি বললেন: আমি কি রুকু সাজদা ঠিকমত আদায় করিনি? জবাবে লোকজন বললো, তা করেছেন। (তবে, আমাদের কাছে আপনার আদায়কৃত সালাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও দায়সারা গোছের মনে হয়েছে।)
তখন তিনি বললেন: এ সালাতে আমি এমন দু'আ করেছি যা নবী করীম ﷺ
সালাতে পড়তেন (আর তা হলো):

اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِيْ اَللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَا وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظْرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةِ اَللّٰهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيْمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ.

হে আল্লাহ, তুমি আলেমুল গায়ব আর তোমার সমস্ত সৃষ্টির উপর তুমি পূর্ণ শক্তিমান, তোমার সে পূর্ণ জ্ঞান ও পূর্ণ ক্ষমতার দোহাই, তুমি আমাকে এ দুনিয়াতে জীবিত রাখ যতক্ষণ জীবিত থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর বলে তুমি জান, আর ঠিক তখনই আমাকে মৃত্যু দান কর, যখন আমার মৃত্যু শ্রেয় বলে তুমি জান। হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার ভয় নির্জনে ও জনসমক্ষে এবং তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ইখলাসপূর্ণ কথাবার্তা (যাতে তোমার সন্তুষ্টি আমার একমাত্র কাম্য হবে) সন্তোষের মুহূর্তে ও ক্রোধের মুহূর্তে (অর্থাৎ শান্ত-সমাহিত স্বাভাবিক অবস্থাই হোক, অথবা ক্রুদ্ধ অবস্থাই হোক, কোন অবস্থায়ই যেন আমি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হই কারো সন্তুষ্টির জন্যে বা কারো অসন্তুষ্টির ভয়ে) আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মধ্যম পন্থা অভাবকালে ও প্রাচুর্য ও সচ্ছলতার সময়ে। আর তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এমন নিয়ামতরাশি, যা শেষ হয়ে যায় না এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ললাট লিখনের উপর সন্তুষ্টি এবং তোমার নিকট প্রার্থনা করছি চোখের এমন শীতলতা, যা কোন দিন শেষ হয়ে যায় না। এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মৃত্যু পরবর্তী শান্ত-সমাহিত আয়েশ-আরাম। আর তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার দীদার সুখ; এবং তোমার সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ কোন অকল্যাণকর পরিস্থিতির উদ্ভব বিহনে এবং কোন বিভ্রান্তিকর বিপর্যয় ছাড়াই।

'হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের ভূষণে ভূষিত করো এবং আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং অন্যদের হিদায়াতের মাধ্যমে বানিয়ে দাও!' - (সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ: صَلَّى عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ بِالْقَوْمِ صَلَاةً أَخَفَّهَا، فَكَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوهَا، فَقَالَ: أَلَمْ أُتِمَّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: أَمَا إِنِّي دَعَوْتُ فِيهَا بِدُعَاءٍ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو بِهِ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَكَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بِالْقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ» (رواه النسائى)
হাদীস নং: ১১২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শেষ বৈঠকের কিছু দু'আ
১১২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে তাশাহহুদের পর পড়ার এরূপ দু'আ শিক্ষা দিতেন:

أَلِّفْ اَللّٰهُمَّ عَلَى الْخَيْرِ بَيْنَ قُلُوْبِنَا وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلَامِ وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَجَنَّبْنَا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُلُوْبِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّتِنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لَنِعْمَتِكَ قَابِلِيْهَا وَأتِمَّهَا عَلَيْنَا

"হে আল্লাহ! কল্যাণের প্রতি আমাদের মনকে আকৃষ্ট করে দাও, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে সুসমন্বিত করে দাও। আমাদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তার পথে পরিচালিত কর! আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাও! আমাদের যাহির-বাতিনকে সমস্ত পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত রাখ! বরকত দান কর আমাদের সহধর্মিণীদের মধ্যে এবং আমাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে। আমাদের প্রতি সদয় দৃষ্টি দান কর। কেননা তুমিই সদয় দৃষ্টিদানকারী, অত্যন্ত দয়ালু, মেহেরবান। আমাদেরকে তোমার নিয়ামতসমূহের শোকর আদায়কারী এবং সাদর অভ্যর্থনাকারী বানাও এবং পূর্ণ নিয়ামত আমাদেরকে দান কর!"
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا بَعْدَ التَّشَهُّدَ: « أَلِّفْ اللَّهُمَّ عَلَى الْخَيْرِ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا، وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلَامِ، وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ، وَجَنِّبْنَا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُلُوبِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا، وَتُبْ عَلَيْنَا، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لِنِعْمَتِكَ، مُثْنِينَ بِهَا، قَابِلِيهَا وَأَتِمَّهَا عَلَيْنَا» (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৩. হযরত যায়েদ ইব্‌ন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীমে ﷺ প্রত্যেক সালাতের পর এরূপ দু'আ করতেন: হে আল্লাহ, হে আমাদের ও সবকিছুর প্রতিপালক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র প্রতিপালক। তুমি একক, তোমার কোন শরীক নেই। হে আল্লাহ! হে আমার ও সকল বস্তুর প্রতিপালক! আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তোমার বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! হে আমার ও সবকিছুর প্রতিপালক, আমি এমর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, বান্দারা পরস্পরে ভাই ভাই। (বন্দেগীর সূত্রে পরস্পরে গ্রথিত।) হে আল্লাহ, হে আমার ও সবকিছুর প্রতিপালক! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্তের জন্যে তোমার প্রতি পরম নিষ্ঠাবান ও আনুগত্যশীল বান্দা বানিয়ে দাও: হে প্রবল প্রতাপান্বিত ও মহাসম্মানী প্রভু! তুমি আমার দু'আ শুনে নাও ও কবুল করে নাও। আল্লাহ সকল মহানের চাইতে মহান আল্লাহ আসমানরাজী ও যমীনের নূর। সারাজাহান তাঁর নূরের দ্বারাই কায়েম ও আলোকিত রয়েছে। আল্লাহ সকল মহানের চাইতে মহানতম। আমার জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি কতই না উত্তম অবলম্বন ও ভরসাস্থল। আল্লাহ সকল মহানের চাইতেও মহান।"
(আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ فِي دُبُرِ صَلَاتِهِ: «اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، أَنَا شَهِيدٌ أَنَّكَ أَنْتَ الرَّبُّ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ الْعِبَادَ كُلَّهُمْ إِخْوَةٌ، اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، اجْعَلْنِي مُخْلِصًا لَكَ وَأَهْلِي فِي كُلِّ سَاعَةٍ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ اسْمَعْ وَاسْتَجِبْ، اللَّهُ أَكْبَرُ الْأَكْبَرُ، اللَّهُمَّ نُورَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ»، قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ: «رَبَّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، اللَّهُ أَكْبَرُ الْأَكْبَرُ، حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ، اللَّهُ أَكْبَرُ الْأَكْبَرُ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ১১৪
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৪. হযরত বারা ইব্‌ন 'আযিব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পিছনে সালাত আদায় করতাম, তখন আমাদের কাম্য হতো যে, তাঁর ডান পাশে দাঁড়াই। (সালাত অন্তে) তিনি আমাদের দিকে মুখ করতেন। (এমনি একদিন) আমি শুনতে পেলাম, তিনি (দু'আচ্ছলে) বলছেন:
رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ .
"প্রভু, আমাকে আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন- যে দিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন।"
(সহীহ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِي الله عَنهُ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ، يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، قَالَ: فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ». (رواه البخارى)
হাদীস নং: ১১৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৫. হযরত আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ প্রত্যেক সালাতের পর এরূপ দু'আ করতেন:
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُبِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
"হে আল্লাহ! আমি তোমার শরণ প্রার্থনা করছি কুফর থেকে, দারিদ্র্য থেকে এবং কবরের আযাব থেকে।"
- (তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي بَكَرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ» (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৬
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৬. হযরত আলী মুরতাযা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (স) যখন সালাত শেষে সালাম ফিরাতেন, তখন এরূপ দু'আ করতেন:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ.

“হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ মাফ করে দাও যা আমি পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি যা প্রকাশ্যে করেছি, যেটুকু আমি বাড়াবাড়ি করেছি আর যে সম্পর্কে তুমিই আমার চাইতে বেশি জ্ঞাত। তুমিই অগ্রসরকারী, তুমিই পশ্চাৎগামীকারী, তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই।"
(আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَلَّمَ مِنَ الصَّلَاةِ، قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ» (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৭. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম ﷺ ফজরের পর এরূপ দু'আ করতেন:

اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلاً وَرِزْقًا طَيِّبًا.

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি উপকারী ইলম, গ্রহণযোগ্য আমল ও হালাল-পবিত্র রিযিক।"
(জামে' রাযীন)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: فِي دُبُرِ الْفَجْرِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا» (رواه ابورزين)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৮. হযরত মুসলিম ইবনুল হারিছ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বিশেষভাবে শিক্ষা দিয়েছেন যে, যখন তুমি মাগরিবের সালাত আদায় করবে তখন কারো সাথে বাক্যালাপ করার পূর্বেই সাতবার اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ (আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমাকে দোযখ থেকে রক্ষা কর" বলবে। মাগরিবের পর এরূপ বলার পর ঐ রাতে যদি তোমার মৃত্যু হয়, তা হলে দোযখ থেকে তোমাকে রক্ষার ফয়সালা করা হবে। অনুরূপ যখন তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে, তখন অনুরূপ বলবে, তাহলে ঐদিন মৃত্যু হলে দোযখ থেকে তোমার রক্ষার ফয়সালা হয়ে যাবে।
(সুনানে আবূ দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مُسْلِمِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسَرَّ إِلَيْهِ فَقَالَ: " إِذَا انْصَرَفْتَ مِنْ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ فَقُلْ: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ قَبْلَ اَنْ تَكَلَّمَ اَحَدًا، فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذَلِكَ ثُمَّ مِتَّ فِي لَيْلَتِكَ كُتِبَ لَكَ جِوَارٌ مِنْهَا، وَإِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَقُلْ ذَلِكَ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ فِي يَوْمِكَ كُتِبَ لَكَ جِوَارٌ مِنْهَا " (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতের পরবর্তী দু'আসমূহ
১১৯. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ একদা আমার হাত ধরে বললেনঃ হে মু'আয, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে অত্যন্ত ভালবাসি। আমি তোমাকে ওসিয়ত করছি যে, প্রতি সালাতের পর অবশ্যই এ দু'আ করতে ভুলবে নাঃ
اَللّٰهُمَّ أَعِنِّى عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
"হে আল্লাহ! আমাকে তোমার যিকর তোমার শোকর গোযারী ও তোমার ইবাদত উত্তমরূপে করার তাওফীক দান কর।"
(সুনানে আবূ দাউদ ও নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: أَخَذَ بِيَدِىْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: يَا مُعَاذُ، وَاللَّهِ لَأُحِبُّكَ أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَهُنَّ فِي كُلِّ صَلَاةٍ اَنْ تَقُولُ: اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ " (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ১২০
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাহাজ্জুদের পর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর একটি ব্যাপক অর্থবোধক দু'আ
১২০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাহাজ্জুদের সালাত অন্তে নিম্নরূপ দু'আ করতে শুনতে পেলাম: "হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে এমন রহমত প্রার্থনা করছি, যদ্বারা আমার হৃদয়কে তোমার হিদায়াত লাভে ধন্য করবে এবং এর দ্বারা আমার সকল ব্যাপার স্যাপারকে সুবিন্যস্ত করবে। এর দ্বারা আমার সকল বিশৃঙ্খলা দূর করবে আমার অসাক্ষাতের সকল ব্যাপার ঠিকঠাক করবে এবং এর রহমতের দ্বারা আমার সাক্ষাতের সকল ব্যাপারকে সমুন্নত করবে। এ রহমতের দ্বারা আমার আমলকে পবিত্র করবে এবং এর দ্বারা আমার অন্তরে আমার জন্যে যা যথার্থ তাই প্রতিভাত করবে এবং এর দ্বারা তুমি আমাকে সকল অনিষ্ট থেকে হিফাযত করবে। হে আল্লাহ! আমাকে এমন ঈমান-একীন দান কর, যার পর কুফরী নেই। এবং এমন রহমত দানে আমাকে ধন্য কর, যদ্বারা আমি দুনিয়া ও আখিরাতের মর্যাদা লাভে সমর্থ হই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ভাগ্যনির্ধারিত সৌভাগ্য ও শহীদদের মর্যাদা, পুণ্যবানদের জীবন এবং শক্রদের বিরুদ্ধে বিজয়।

হে আল্লাহ! আমার প্রয়োজনাদি ও অভাব-অনটন নিয়ে আমি তোমার দরবারে হাযির, যদিও বা আমার বুদ্ধি-বিবেচনা অপর্যাপ্ত এবং আমল ও প্রচেষ্টা দুর্বল। আমি তোমার রহমতের ভিখারী, সুতরাং হে সর্ব ব্যাপারের ফয়সালাকারী এবং অন্তরসমূহের ব্যাধিহারী প্রভু পরোয়ারদিগার! যেভাবে তুমি তোমার কুদরতের দ্বারা একই সাথে প্রবাহিত সমুদ্রের শ্রোত ধারাকে পৃথক পৃথক করে দাও (মিঠা পানি ও লোনা পানি একত্রে মিশ্রিত হয় না।) তেমনি আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে পৃথক রাখ, যা দৃষ্টে মানুষ মৃত্যুকে আহ্বান করবে এবং অনুরূপ কবরের বিপর্যয় থেকে তুমি আমাকে রক্ষা কর! হে আল্লাহ! আমার বুদ্ধি-বিবেচনার যা অতীত এবং আমি যার নিয়ত বা কল্পনাও করতে পারি না, আর প্রার্থনাও যে পর্যন্ত পৌঁছেনি, এমন মঙ্গল যার ওয়াদা তুমি তোমার সৃষ্টির মধ্যকার কারো সাথে করেছো অথবা এমন মঙ্গল যা তুমি তোমার কোন না কোন বান্দাকে দান করেছো, তোমার রহমতের দোহাই, আমি তা-ই তোমার কাছে কামনা-প্রার্থনা করছি হে রাব্বুল আলামীন।

হে সুদৃঢ় সম্পর্কের অধিকারী এবং প্রতিটি ব্যাপারে যথার্থ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী আল্লাহ! কঠোর হুঁশিয়ারী দিবস অর্থাৎ কিয়ামতের দিনের নিরাপত্তা আমি তোমার দরবারে প্রার্থনা করছি এবং প্রার্থনা করছি স্থায়িত্বের দিন তথা কিয়ামতের দিনে জান্নাতের ফয়সালা আমার জন্যে কর। তোমার সেই সব নৈকট্যপ্রাপ্ত ও সর্বদা তোমার হুযুরে হাযির বান্দাদের সাথে যারা রুকু-সাজদাকারী ও প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী। নিঃসন্দেহে তুমি পরম দয়ালু ও প্রেমময়।

তুমি যা ইচ্ছে কর তাই করতে পার। এমন প্রচণ্ড শক্তির তুমি অধিকারী হে আল্লাহ! আমাদেরকে অন্যেদের হিদায়াতের কারণ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত করে দাও, আমরা যেন নিজেরা বিভ্রান্ত এবং অন্যদেরকে বিভ্রান্তকারী না হই। তোমার বন্ধুদের প্রতি বন্ধু ভাবাপন্ন এবং তোমার শত্রুদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হই। তোমাকে ভালবাসার দরুন তোমার প্রিয়জনের প্রতি যেন অন্তরে ভালবাসা পোষণ করি এবং তোমার বিরুদ্ধাচারীদের প্রতি তোমার প্রতি তারা বিদ্বেষভাবাপন্ন বলে আমরাও তাদের প্রতি বিদ্বিষ্ট হই।

হে আল্লাহ! এই আমার দু'আ আর কবুল করা হচ্ছে তোমার কাজ। এই আমার যৎকিঞ্চিৎ প্রচেষ্টা আর ভরসা তোমারই উপর। হে আল্লাহ! আমার হৃদয়কে জ্যোতির্ময় করে দাও! আমার কবরে নূর দান কর! আমার সম্মুখে নূর দান কর। আমার পেছনে নূর দান কর। আমার ডানে নূর দান কর। আমার বামে নূর দান কর। আমার উপরে নূর দান কর। আমার নীচে নূর সৃষ্টি কর। আমার কানে নূর সৃষ্টি কর। আমার চোখে নূর দাও। আমার চুলে চুলে নূর দাও। আমার চর্মে নূর দাও। আমার গোশতে নূর দাও!। আমার রক্তে নূর দান কর! আমার অস্থিতে নূর দান কর! আমার নূরকে তুমি বৃদ্ধি করে দাও। আমাকে নূর দান কর এবং নূরকে আমার চিরসঙ্গী করে দাও। পাক পবিত্র সেই সত্তা, যিনি ইযযত ও সম্ভ্রমের চাদরে নিজেকে আবৃত করেছেন। পাক-পবিত্র সেই সত্তা, যিনি সম্ভ্রম ও মর্যাদার পোশাক পরিধান করেছেন। পাক-পবিত্র সেই সত্তা, যিনি প্রবল প্রতাপ ও সম্মানের অধিকারী। (তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيْلَةً حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِكَ تَهْدِي بِهَا قَلْبِي، وَتَجْمَعُ بِهَا أَمْرِي، وَتَلُمُّ بِهَا شَعَثِي، وَتُصْلِحُ بِهَا غَائِبِي، وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِي، وَتُزَكِّي بِهَا عَمَلِي، وَتُلْهِمُنِي بِهَا رُشْدِي، وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِي، وَتَعْصِمُنِي بِهَا مِنْ كُلِّ سُوءٍ، اللَّهُمَّ أَعْطِنِي إِيمَانًا وَيَقِينًا لَيْسَ بَعْدَهُ كُفْرٌ، وَرَحْمَةً أَنَالُ بِهَا شَرَفَ كَرَامَتِكَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الفَوْزَ فِي الْقَضَاءِ، وَنُزُلَ الشُّهَدَاءِ، وَعَيْشَ السُّعَدَاءِ، وَالنَّصْرَ عَلَى الأَعْدَاءِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أُنْزِلُ بِكَ حَاجَتِي، وَإِنْ قَصُرَ رَأْيِي وَضَعُفَ عَمَلِي، افْتَقَرْتُ إِلَى رَحْمَتِكَ، فَأَسْأَلُكَ يَا قَاضِيَ الأُمُورِ، وَيَا شَافِيَ الصُّدُورِ، كَمَا تُجِيرُ بَيْنَ البُحُورِ أَنْ تُجِيرَنِي مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ، وَمِنْ دَعْوَةِ الثُّبُورِ، وَمِنْ فِتْنَةِ القُبُورِ، اللَّهُمَّ مَا قَصُرَ عَنْهُ رَأْيِي، وَلَمْ تَبْلُغْهُ نِيَّتِي، وَلَمْ تَبْلُغْهُ مَسْأَلَتِي مِنْ خَيْرٍ وَعَدْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوْ خَيْرٍ أَنْتَ مُعْطِيهِ أَحَدًا مِنْ عِبَادِكَ، فَإِنِّي أَرْغَبُ إِلَيْكَ فِيهِ، وَأَسْأَلُكَهُ بِرَحْمَتِكَ رَبَّ العَالَمِينَ، اللَّهُمَّ ذَا الحَبْلِ الشَّدِيدِ، وَالأَمْرِ الرَّشِيدِ، أَسْأَلُكَ الأَمْنَ يَوْمَ الوَعِيدِ، وَالجَنَّةَ يَوْمَ الخُلُودِ، مَعَ الْمُقَرَّبِينَ الشُّهُودِ الرُّكَّعِ، السُّجُودِ الْمُوفِينَ بِالعُهُودِ، إِنَّكَ رَحِيمٌ وَدُودٌ، وإِنَّكَ تَفْعَلُ مَا تُرِيدُ، اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِينَ مُهْتَدِينَ، غَيْرَ ضَالِّينَ وَلاَ مُضِلِّينَ، سِلْمًا لأَوْلِيَائِكَ، وَعَدُوًّا لأَعْدَائِكَ، نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ، وَنُعَادِي بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ، اللَّهُمَّ هَذَا الدُّعَاءُ وَعَلَيْكَ الإِجَابَةُ، وَهَذَا الجُهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْلاَنُ، اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَلْبِي، وَنُورًا فِي قَبْرِي، وَنُورًا مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ، وَنُورًا مِنْ خَلْفِي، وَنُورًا عَنْ يَمِينِي، وَنُورًا عَنْ شِمَالِي، وَنُورًا مِنْ فَوْقِي، وَنُورًا مِنْ تَحْتِي، وَنُورًا فِي سَمْعِي، وَنُورًا فِي بَصَرِي، وَنُورًا فِي شَعْرِي، وَنُورًا فِي بَشَرِي، وَنُورًا فِي لَحْمِي، وَنُورًا فِي دَمِي، وَنُورًا فِي عِظَامِي، اللَّهُمَّ أَعْظِمْ لِي نُورًا، وَأَعْطِنِي نُورًا، وَاجْعَلْ لِي نُورًا، سُبْحَانَ الَّذِي تَعَطَّفَ العِزَّ وَقَالَ بِهِ، سُبْحَانَ الَّذِي لَبِسَ الْمَجْدَ وَتَكَرَّمَ بِهِ، سُبْحَانَ الَّذِي لاَ يَنْبَغِي التَّسْبِيحُ إِلاَّ لَهُ، سُبْحَانَ ذِي الفَضْلِ وَالنِّعَمِ، سُبْحَانَ ذِي الْمَجْدِ وَالكَرَمِ، سُبْحَانَ ذِي الجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ. (رواه الترمذى)