মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩০ টি

হাদীস নং: ২৯
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়

আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে নবী (আ) গণ এজন্য প্রেরিত হতেন যে, তাঁর বান্দাদেরকে নেকী ও উত্তম কাজের দাওআত দেবেন, পছন্দনীয় কাজ ও চরিত্র এবং সর্ব প্রকার উত্তম কাজের প্রতি তাদের পথ প্রদর্শন করবেন, আর সর্ব প্রকার মন্দ হতে তাদের বারণ ও বাঁচাবার চেষ্টা করবেন। যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে তারা আল্লার রহমত ও সন্তুষ্টির যোগ্য হয়। আর তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি হতে নিরাপদ থাকে। এর সামষ্টিক শিরোনাম- دعوت الى الخير أمر بالمعروف اور نہی عن المنكر - যখন শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ করা হয় তখন কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়। কুরআন মজীদে বলা হয়েছে-
{وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ} [آل عمران: 104]
'তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।' (সূরা আল ইমরান-১০৪)

এর কয়েক আয়াত পর এ সূরায়ই বলা হয়েছে-

{کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَتَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَتُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ} [آل عمران: 110]
(হে মুসলিমগণ!) তোমরা সেই শ্রেষ্ঠতম দল, মানুষের কল্যাণের জন্য যাদের অস্তিত্ব দান করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করে থাক ও অন্যায় কাজে বাধা দিয়ে থাক এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। (সূরা আল ইমরান-১১০)

বস্তুত নবুওতের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই নবীসুলভ কাজের পূর্ণ দায়িত্ব সর্বদার জন্য মুহাম্মদী উম্মতের প্রতি অর্পিত হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় বাণীসমূহে স্পষ্ট বলেছেন যে, তাঁর যে উম্মত এই দায়িত্ব যথাযত পূর্ণ করবে সে আল্লাহ্ তা'আলার কী রূপ মহান পুরস্কারসমূহের যোগ্য হবে। পক্ষান্তরে যারা এতে ত্রুটি করবে তারা নিজেদের আত্মার প্রতি কত বড় যুলম করবে আর তাদের পরিণাম ও পরিণতি কী রূপ হবে। এ ভূমিকার পর এ সম্বন্ধে নিম্ন বর্ণিত হাদীসসমূহ পড়া যেতে পারে।

হিদায়াত ও ইরশাদ এবং উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পুরস্কার ও সাওয়াব
২৯. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন ভাল কাজের (কোন লোককে) পথ প্রদর্শন করে তবে সে ব্যক্তি সেই ভাল কাজ সম্পাদনকারী ব্যক্তির পুরস্কারের সমানই পুরস্কার পাবে। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩০
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হিদায়াত ও ইরশাদ এবং উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পুরস্কার ও সাওয়াব
৩০. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন উত্তম কাজের দিকে লোকজনকে আহ্বান করল, তবে সেই আহ্বানকারী সে সব ব্যক্তির পুরস্কারের সমান পুরস্কার পাবে যারা তার কথা মেনে নেকীর সেই পথে চলবে ও আমল করবে। আর একারণে সেই আমলকারীদের পুরস্কারে কোন কমতি হবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি (লোকজনকে) কোন গোমরাহী (এবং মন্দ কাজ)-এর প্রতি আহ্বান করল, তবে সেই আহ্বানকারীর, সেই সব লোকদের গুনাহ সমূহের সমান গুনাহ হবে, যারা তার আহ্বানে সেই গোমরাহী ও মন্দ কাজের দোষী হয়েছিল। আর এ কারণে সেই মন্দ কাজে লিপ্ত লোকদের গুনাহ্ ও তাদের শাস্তিতে কোন কমতি হবে না। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩১
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হিদায়াত ও ইরশাদ এবং উত্তম কাজের প্রতি আহ্বানের পুরস্কার ও সাওয়াব
৩১. হযরত আবূ রাফি' (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমার হাতে ও তোমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলা কোন এক ব্যক্তিকে হিদায়াত দিয়েছেন, এটা তোমার জন্য সারা জগতের সেই জিনিসগুলো থেকে উত্তম যেগুলোর ওপর সূর্য উদিত হয়, অস্ত যায়। (তাবারানী মু'জামে কবীর)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَأَنْ يَهْدِيَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى يَدَيْكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَغَرَبَتْ» (رواه الطبرانى فى الكبير)
হাদীস নং: ৩২
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩২. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে উম্মতগণ! সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কর্তব্য 'আমর বিল মারূফ ও নাহী আনিল মুনকার-এর দায়িত্ব পালন করতে থাকা। (অর্থাৎ উত্তম কথা ও নেকীর কাজে লোকজনকে হিদায়াত ও তাকীদ দিতে থাক আর মন্দ কথা ও মন্দ কাজ হতে তাদেরকে বিরত রাখ) অথবা এরপর এরূপ হবে যে, (এ ব্যাপারে তোমাদের ত্রুটির কারণে) আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি তাঁর কোন শাস্তি প্রেরিত করবেন, তোমরা দু'আ করবে আর তোমাদের দু'আ কবুল করা হবে না। (জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ الْمُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِذَابًا مِنْ عِنْدِهِ ثُمَّ لَتَدْعُنَّهُ وَلاَ يُسْتَجَابُ لَكُمْ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৩
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৩. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুরআন মজীদের এ আয়াত তিলাওয়াত یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلَیۡکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ۚ لَا یَضُرُّکُمۡ مَّنۡ ضَلَّ اِذَا اہۡتَدَیۡتُمۡ হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা সঠিক পথে থাকলে যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তারা তোমাদের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।
(হযরত সিদ্দিকে আকবর (রা) এ আয়াতের বরাত দিয়ে বলেন, আয়াত থেকে কেউ যেন ভুল না বুঝে) আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি বলতেন, যখন মানুষের এ অবস্থা দাঁড়ায় যে, সে শরী'আতের পরিপন্থী কাজ হতে দেখে আর এর সংশোধন ও পরিবর্তনের কোন চেষ্টা করে না, তবে আসন্ন ভয় রয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে তাদের সবার ওপর আযাব এসে যাবে। (সুনানে ইবনে ্ মাজাহ্, জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} فَإِنِّيْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْمُنْكَرَ فَلَمْ يُغَيِّرُوا يُوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ. (رواه ابن ماجه والترمذى)
হাদীস নং: ৩৪
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৪. হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি-কোন জাতির (এবং দলের) মধ্যে এমন কোন মানুষ থাকে যে শরী'আতের পরিপন্থী ও গুনাহের কাজ করে আর সেই জাতি ও দল তাকে সংশোধনের শক্তি রাখে, তা সত্ত্বেও সংশোধন করে না (এ অবস্থায়ই তাকে ছেড়ে দেয়) তবে সেই লোকদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা মৃত্যুর পূর্বে কোন শাস্তিতে নিয়োজিত করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ جَرِيرِ ابْنِ عَبْدِاللهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَكُونُ فِي قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي، يَقْدِرُونَ عَلَى أَنْ يُغَيِّرُوا عَلَيْهِ، وَلَا يُغَيِّرُونَ إِلَّا أَصَابَهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ قَبْلَ أَنْ يَمُوتُوا» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ৩৫
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৫. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা জিব্রাইল (আ) কে নির্দেশ দিলেন, অমুক শহরকে বাসিন্দাসহ উল্টিয়ে দাও। জিব্রাইল (আ) নিবেদন করলেন, আল্লাহ্! এই শহরে আপনার অমুক বান্দা রয়েছে, যে চোখের পাতি পড়া সমানও আপনার আবাধ্যতা করেনি। আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, সেই বান্দাসহ অন্যান্য বাসিন্দাদের ওপর বস্তি উল্টে দাও। কেননা, আমার কারণে সেই বান্দার চেহারায় পরিবর্তন আসেনি। (শু'আবুল ঈমান)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَوْحَى الله عَزَّ وَجَلَّ إِلَى جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنِ اقْلِبْ مَدِينَةَ كَذَا وَكَذَا بِأَهْلِهَا، قَالَ: فَقَالَ: يَا رَبِّ إِنَّ فِيهِمْ عَبْدَكَ فُلَانًا لَمْ يَعْصِكَ طَرْفَةَ عَيْنٍ، قَالَ: فَقَالَ: اقْلِبْهَا عَلَيْهِمْ، فَإِنَّ وَجْهَهُ لَمْ يَتَمَعَّرْ فِيَّ سَاعَةً قَطُّ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৩৬
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৬. হযরত 'উরস ইবনে আমীরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন কোন স্থানে গুনাহ্ কাজ করা হয় তখন যে সব লোক সেখানে উপস্থিত থাকে অথচ সেই গুনাহে অসন্তুষ্ট হয়, তবে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট তারা অনুপস্থিত লোকের ন্যায় (অর্থাৎ তাদেরকে এই গুনাহ্ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না) আর যে ব্যক্তি এই গুনাহ্ স্থানে উপস্থিত নয়, কিন্তু সেই গুনাহ্ প্রতি সন্তুষ্ট, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে যারা সেখানে উপস্থিত ছিল। (আর যেন গুনাহে শরীক ছিল)। (সুনানে আবু দাউদ)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنِ الْعُرْسِ بْنِ عَمِيرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا عُمِلَتِ الْخَطِيئَةُ فِي الأَرْضِ كَانَ مَنْ شَهِدَهَا فَكَرِهَهَا. كَانَ كَمَنْ غَابَ عَنْهَا وَمَنْ غَابَ عَنْهَا فَرَضِيَهَا كَانَ كَمَنْ شَهِدَهَا. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩৭
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের তাকীদ আর এ কাজে ত্রুটির ওপর শক্ত হুঁশিয়ারী
৩৭. হযরত নু'মান ইবনে বাশীর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যারা আল্লাহর সীমা ও আহকামের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শনকারী এবং যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রমকারী (অর্থাৎ আকামের বিপরীত কাজ করে) তাদের দৃষ্টান্ত এমন এক দলের ন্যায় যারা পরস্পর লটারী করে এক নৌকায় আরোহন করেছে। তখন কিছু লোক নৌকার নিম্ন অংশে স্থান পেলো, আর কিছু লোক স্থান পেলো উপর অংশে। নিম্ন অংশের লোকেরা পানি নিয়ে উপর অংশের লোকদের নিকট দিয়ে যাতায়াত করছিল। এতে তারা কষ্ট অনুভব করল (আর এ বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করল) তখন নিচের অংশের লোকেরা কুঠার নিয়ে নৌকার নিচু অংশে ছিদ্র করতে লাগল, (যেন নিচু থেকে সমুদ্রের পানি লাভ করতে পারে, আর পানির জন্য উপরে যাতায়াত করতে না হয়) উপরের অংশের লোকজন সেখানে এসে জিজ্ঞাসা করল, তোমাদের কি হল? (এটা কি করছ?) তারা বলল, (আমাদের যাতায়াতে) তোমাদের কষ্ট হচ্ছে (আর তোমরা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছ) অথচ পানি তো (জীবনের) অপরিহার্য আবশ্যকীয়। আমরা সমুদ্র থেকে পানি লাভের জন্য এই ছিদ্র করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তখন যদি এই নৌকারোহীরা সেই ব্যক্তিদের হাত ধরে (তাদের নৌকা ছিদ্র করতে না দেয়) তবে তাদেরকেও ধ্বংস থেকে বাঁচাবে এবং নিজেদেরকেও। আর যদি তাদেরকে তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেয় (আর নৌকা ছিদ্র করতে দেয়) তবে তাদেরকেও মৃত্যু মুখে পতিত করবে এবং নিজেদেরও (সবাই পানিতে ডুবে যাবে।) (সহীহ বুখারী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنِ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَثَلُ الْمُدْهِنِ فِي حُدُودِ اللَّهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا مَثَلُ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا سَفِينَةً، فَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَسْفَلِهَا وَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَعْلاَهَا، فَكَانَ الَّذِي فِي أَسْفَلِهَا يَمُرُّونَ بِالْمَاءِ عَلَى الَّذِينَ فِي أَعْلاَهَا، فَتَأَذَّوْا بِهِ، فَأَخَذَ فَأْسًا، فَجَعَلَ يَنْقُرُ أَسْفَلَ السَّفِينَةِ، فَأَتَوْهُ فَقَالُوا مَا لَكَ قَالَ تَأَذَّيْتُمْ بِي، ولابد لِي مِنَ الْمَاءِ، فَإِنْ أَخَذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَنْجَوْهُ وَنَجَّوْا أَنْفُسَهُمْ، وَإِنْ تَرَكُوهُ أَهْلَكُوهُ وَأَهْلَكُوا أَنْفُسَهُمْ. (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৩৮
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন অবস্থায় সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের দায়িত্ব রহিত হয়
৩৮. হযরত আবূ সা'লাবা খুশানী (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلَیۡکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ۚ لَا یَضُرُّکُمۡ مَّنۡ ضَلَّ اِذَا اہۡتَدَیۡتُمۡ সম্পর্কে (এক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তরে) তিনি বললেন, আমি এই আয়াত সম্পর্কে সেই সত্তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যিনি (এর অর্থ ও দাবি এবং আল্লাহর হুকুম সম্বন্ধে) সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন (অর্থাৎ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন, (এ আয়াত সম্পর্কে ভুল বুঝ না) বরং তুমি 'আমর বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার' সর্বদা করতে থাক। এমনকি যখন (সেই সময় এসে যায় যে) তুমি দেখবে, কৃপণতা ও ধন সঞ্চয়ের আবেগের আনুগত্য করা হচ্ছে, (আর আল্লাহ্ ও রাসূলের হুকুমের মুকাবিলায়) নিজের আত্মার প্রবৃত্তির আনুগত্য করা হচ্ছে, আর (আখিরাত ভুলে) কেবল দুনিয়াই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, আর প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ মতে চলে ও অহংকারের রোগী হয়ে যায় (যখন সাধারণ মানুষের অবস্থা এই হয়ে যাবে) তখন কেবল নিজের সত্তার কথাই চিন্তা কর। সাধারণ মানুষকে ছেড়ে দাও (তাদের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে দাও) কেননা, তোমাদের পর এরূপ সময়ও আসবে যে, ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে দীনের ওপর স্থির থাকা (ও শরী'আতের ওপর চলা) এমন (কঠিন ও ধৈর্যের ব্যাপার) হবে যেমন হাতের মধ্যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ লওয়া। সেই দিনগুলোতে তোমাদের ন্যায় শরী'আতের ওপর আমলকারী পঞ্চাশ ব্যক্তির আমলের সমান পুরস্কার ও সাওয়াব তারা পাবে। (জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فِي قوله تعالى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} قَالَ أَمَا وَاللَّهِ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ بِخَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعِ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامًا الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ الْقَبْضِ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِكُمْ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৯
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত

যেরূপ জানা আছে, আল্লাহ্ তা'আলার নিকট হতে সব নবী ও রাসূল এজন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন যে, তাঁর বান্দাদের 'সত্য-দীন' অথার্ৎ জীবনের সেই ইবাদত ও উত্তম পথের দাওআত ও শিক্ষা দেবেন এবং এ পথে পরিচালনার চেষ্টা করবেন যা তাঁদের সৃষ্টিকর্তা প্রভু তাঁদের জন্য স্থির করেছেন। এতেই রয়েছে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ ও সফলতা। এর ওপর যারা চলে তাদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি, রহমত ও জান্নাতের জিম্মাদারী।

কুরআন মজীদের বর্ণনা এবং আমাদের বিশ্বাস যে, সব নবী ও রাসূল (আ)ই স্ব-স্ব যুগে ও গণ্ডীতে এ পথেই আহ্বান করেছেন এবং এ জন্যই চেষ্টা-প্রচেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রায় সবার সাথেই এরূপ ব্যবহার করা হয়েছে যে, তাঁদের যুগে তাঁদের জাতির মন্দ ও দুরাত্মা ব্যক্তিরা তাঁদের সত্য আহ্বানকে কেবল কবুল করেনি নয় বরং প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধা দান করেছে। অন্যদের পথেও বাধা দিয়েছে। যখন তারা শক্তির অধিকারী হয় তখন তারা আল্লাহর নবীগণ ও তাঁদের প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের অত্যাচার ও আক্রমণের লক্ষ্যস্থলে পরিণত করে। নিঃসন্দেহে নবী (আ) গণের সত্য আহ্বানের এসব দুশমন, মানব ও মানবতার অধিকারে সাপ থেকে অধিক বিষাক্ত ও বিপদজনক ছিল। এজন্য প্রায়ই এরূপ হয়েছে যে, এ জাতীয় ব্যক্তিবর্গ ও এরূপ জাতিগুলোর প্রতি আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছে। ফলে ধরার বুক থেকে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। তারা ছিল وَمَا ظَلَمَهُمُ اللَّهُ وَلَكِنْ كَانُوا أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ আয়াতের যোগ্য। নবী (আ) গণ ও তাঁদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের এ অবস্থাদি কুরআন মজীদে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

সর্বশেষে শেষ নবী সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হলেন। পূর্ববর্তী নবীগণের ন্যায় তিনিও দীনে হকের দাওআত দিলেন। কতক উত্তমস্বভাব বান্দা তাঁর দাওআত গ্রহণ করেন। কুফুর, শিরক; ফিস্ক, পাপাচার ও সীমা লংঘনের জাহিলী জীবন ছেড়ে তারা আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কীয় পবিত্র জীবন গ্রহণ করেন, যে জীবনের প্রতি তিনি আহ্বান করতেন। কিন্তু জাতির অধিকাংশ প্রধান ও নেতাগণ প্রচণ্ড বিরোধিতা ও বাধার নীতি অবলম্বন করে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্যুক্ত করে। তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদেরকেও উত্যুক্ত করে। বিশেষ করে দুর্বল ও দরিদ্র ব্যক্তিবগের প্রতি অত্যাচার ও বিপদের পাহাড় পতিত হয়।

মক্কার হতভাগা আবু জাহল, আবু লাহাব প্রমুখ নিঃসন্দেহে এরূপই ছিল যে, পূর্ববর্তী শাস্তিপ্রাপ্ত লোকদের ন্যায় তাদের প্রতিও আসমানী আযাব আসত, আর তাদের অস্তিত্ব থেকে ধরা পৃষ্ঠকে পবিত্র করা হত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ তা'আলা 'সায়্যিদুল মুরসালীন' ও 'খাতিমুন্নাবিয়‍্যীন' ছাড়াও 'রাহমাতুল্লিল আলামীন' করে পাঠিয়ে ছিলেন। এর ভিত্তিতে তাঁর জন্য ফায়সালা করা হয় যে, তাঁর বিরোধী ও তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী এবং উত্যক্তকারী নিকৃষ্ঠতম শত্রুদের প্রতিও আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ করা হবে না। এর পরিবর্তে তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মাধ্যমেই তাদের শক্তি খর্ব করে দেওয়া হবে এবং 'দীনে হক'-এর দাওআতের পথ নিষ্কষ্ঠক করা হবে। আর তাঁদের হাতেই এ সব অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে। এ কাজে তাঁদের ভূমিকা হবে আল্লাহর সৈন্য ও কর্মী বাহিনীরূপে। সুতরাং এজন্য যখন আল্লাহর নির্ধারিত সময় এসে গেল তখন নবুওতের এয়োদশ সালে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রতি ঈমান গ্রহণকারীদের মক্কা মুয়ায্যমা থেকে হিজরতের নির্দেশ দেওয়া হল।

এই হিজরত প্রকৃতপক্ষে 'দীনে হক'-এর দাওআতের সেই দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা ছিল, যে জন্য ঈমান গ্রহণকারী দাওআত বহনকারীদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ ছিল যে, মু'মিনদের বাধাদানকারী, অত্যাচার ও উত্যক্তকারী দুষ্ট নিচাশয়দের প্রতিপত্তি খর্ব ও দাওআতে হকের পথ নিষ্কষ্ঠক করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের জান ও নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামবে। এরই শিরোনাম 'আল্লাহর পথে জিহাদ ও কিতাল'। আর এই পথে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার নাম শাহাদত। সম্মানিত পাঠক! এ ভূমিকা দ্বারা হয় তো বুঝতে সক্ষম হয়েছেন যে, কুফুর ও কাফিরের বিরুদ্ধে মু'মিনদের সশস্ত্র চেষ্টা-প্রচেষ্টা (আক্রমণাত্মক হোক অথবা প্রতিরক্ষামূলক, আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট এবং শরী'আতের পরিভাষায় যখনই 'জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্' বলা হয়, তখন এর উদ্দেশ্য সত্য দীনের হিফাযত ও সাহায্য) কিংবা দীনের পথ নিষ্কণ্ঠক করা ও আল্লাহর বান্দাদের তাঁর রহমতের যোগ্য ও জান্নাতী করা। কিন্তু শক্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্য যদি রাষ্ট্র ও সম্পদ লাভ হয় অথবা নিজের ব্যক্তিগত কিংবা দেশের পতাকা সমুন্বত রাখা হয়, তবে তা কখনো জিহাদ ও কিতাল ফী সাবিলিল্লাহ্ হয় না।

উপরোক্ত লাইনগুলোতে যা নিবেদন করা হয়েছে, তা থেকে পাঠকবর্গ হয় তো এটাও অবগত হয়ে থাকবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শরী'আতে জিহাদের নির্দেশ ও নীতি এ দৃষ্টিকোণ থেকে 'বিরাট রহমত'। নবী (আ) গণের সত্য দাওআতের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও বাধাদানকারীদের প্রতি যেরূপ আসমানী শাস্তি পূর্বে এসে থাকত, এখন কিয়ামত পর্যন্ত কখনো তা আসবে না। যেন জিহাদ এক পর্যায়ে সেই শাস্তির স্থলবর্তী।
والله اعلَمُ

এ ভূমিকার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিম্ন বর্ণিত বাণী সমূহ পাঠ করা যেতে পারে, যে গুলোতে বিভিন্ন শিরোনামে আল্লাহর পথে জিহাদ ও শাহাদতের ফযীলতসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।
৩৯. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদিন) বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে নিজের রব, ইসলামকে নিজের দীন ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহর রাসূল ও পথ প্রদর্শক জেনেছে তাঁর জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। (রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যবান মুবারক থেকে এ সু-সংবাদ শুনে হাদীসের বর্ণনাকারী) আবূ সাঈদ খুদরী (রা) অতিশয় আনন্দিত হলেন (তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে) নিবেদন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ কথা পুনরায় বলুন। সুতরাং তিনি পুনরায় বললেন। (এর সাথে অতিরিক্ত এটাও) তিনি বললেন যে, আরেকটি দীনী কাজ (যা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট বিরাট) সেই কাজ সম্পাদনকারীকে আল্লাহ্ তা'আলা জান্নাতের শত উঁচু দরজা দান করবেন, যেগুলোর পরস্পরের মধ্যে আসমান যমীনের দূরত্ব হবে। (এ কথা শুনে আবূ সাঈদ খুদরী (রা) নিবেদন করলেন) হুযূর! সেটা কোন্ কাজ? তিনি বললেন, সেটা আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহরপথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ. فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ أَعِدْهَا عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ: وَأُخْرَى يُرْفَعُ بِهَا الْعَبْدُ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ. قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪০
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪০. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সেই পবিত্র সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, যদি বিষয় এরূপ না হত যে, আমার সাথে জিহাদে না যাওয়ার কারণে বহু মু'মিনের অন্তর অসন্তুষ্ট, পক্ষান্তরে তাদের জন্য আমার যানবাহনের ব্যবস্থা নেই (যদি এ অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধকতা না হত) তবে আমি আল্লাহর পথে জিহাদে গমনকারী প্রত্যেক দলের সাথে যেতাম (জিহাদের প্রতিটি অভিযানে অংশ গ্রহণ করতাম) কসম সেই সত্তার যার আয়ত্বে আমার প্রাণ! আমার আন্তরিক বাসনা, আমি আল্লাহর পথে শহীদ হই। পুনরায় আমাকে জীবিত করা হয়, এরপর আমাকে শহীদ করা হয়। পুনরায় আমাকে জীবিত করা হয়, তারপর আমাকে শহীদ করা হয়। পুনরায় আমাকে জীবন দান করা হয়, তারপর আমাকে শহীদ করা হয়। (সহীহ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنِ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلاَ أَنَّ رِجَالاً مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لاَ تَطِيبُ أَنْفُسُهُمْ أَنْ يَتَخَلَّفُوا عَنِّي، وَلاَ أَجِدُ مَا أَحْمِلُهُمْ عَلَيْهِ، مَا تَخَلَّفْتُ عَنْ سَرِيَّةٍ تَغْزُو فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي أُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ ثُمَّ أُحْيَا، ثُمَّ أُقْتَلُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৪১
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪১. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, জান্নাতে পৌঁছার পর কোন ব্যক্তি পছন্দ করবে না, তাকে এমতাবস্থায় দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করা হোক যে, দুনিয়ার সব জিনিস তার। (সব কিছুর মালিক সে) তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে জান্নাতে পৌঁছবে সে এই কামনা করবে যে, তাকে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করা হবে, আর সে পুনরায় (একবার নয়) দশবার আল্লাহর পথে শহীদ হবে। এ কামনা সে এজন্য করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হতে জান্নাতে শহীদের বিরাট সম্মান ও মর্যাদা সে দেখতে পাবে। আর দেখতে পাবে সেখানে তাদের উঁচু স্থান ও মর্যাদা। (সহীহ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَنَسٍَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا أَحَدٌ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يُحِبُّ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا وَلَهُ مَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ، إِلاَّ الشَّهِيدُ، يَتَمَنَّى أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا فَيُقْتَلَ عَشْرَ مَرَّاتٍ، لِمَا يَرَى مِنَ الْكَرَامَةِ. (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪২
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪২. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া ঋণ ছাড়া সব গুনাহর কাফ্ফারা। (সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُكَفِّرُ كُلَّ شيء إِلاَّ الدَّيْنَ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪৩
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৩. হযরত আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর পথে শাহাদত বরণকারী ব্যক্তি নিহত হওয়ার ফলে কেবল এতটুকু কষ্ট অনুভব করে, যে কষ্ট তোমাদের কেউ পিঁপড়া দংশনে অনুভব করে থাকে। (জামি' তিরমিযী, সুনানে নাসাঈ, সুনানে দারিমী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الشَّهِيدُ لَا يَجِدُ أَلَمِ الْقَتْلِ إِلاَّ كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ مِنْ أَلَمِ الْقَرْصَةِ. (رواه الترمذى والنسائى والدارمى)
হাদীস নং: ৪৪
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৪. হযরত সাহল ইবনে হুনাইফ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি সঠিক হৃদয়ে আল্লাহর নিকট শাহাদত প্রার্থনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে শহীদদের মর্যাদায়ই পৌছাবেন। যদিও সে স্বীয় বিছানায় ইন্তিকাল করে। (মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪৫
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, মদীনার নিকটবর্তী হয়ে তিনি বললেন, মদীনার মধ্যে কতক এমন ব্যক্তিও রয়েছে; যারা পূর্ণ সফরে তোমাদের সাথী ছিল। তোমরা যখন কোন মাঠ অতিক্রম করছিলে তখন তারাও তোমাদের সাথী ছিল। কোন কোন সফর সঙ্গী তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তারা তো মদীনায় ছিল। (এরপরও ভ্রমণে তাঁরা আমাদের সঙ্গী ছিল?) তিনি বললেন, হ্যাঁ তারা মদীনায়ই ছিল। কোন ওযর, বাধ্যতবাধকতায় তারা আমাদের সফর সঙ্গী হতে পারেনি। (সহীহ্ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجَعَ مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ فَدَنَا مِنَ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: إِنَّ بِالْمَدِينَةِ أَقْوَامًا مَا سِرْتُمْ مَسِيرًا وَلاَ قَطَعْتُمْ وَادِيًا إِلاَّ كَانُوا مَعَكُمْ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ قَالَ: وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ، حَبَسَهُمُ الْعُذْرُ. (رواه البخارى ورواه مسلم عن جابر)
হাদীস নং: ৪৬
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৬. হযরত আবূ মুসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তলোয়ারের ছায়ার নিচে জান্নাতের দরজাসমূহ। (মুসলিম)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي مُوْسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَبْوَابَ الْجَنَّةِ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ. (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৪৭
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৭. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর পথে জিহাদকারী (আল্লাহর নিকট) সেই লোকের ন্যায়, যে সর্বদা রোযা রাখে, আল্লাহর সমীপে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, আল্লাহর আয়াতের তিলাওয়াত করে, এবং নামায ও রোযা থেকে ক্লান্ত হয়ে বিশ্রাম নেয় না। এমনকি আল্লাহর পথে সেই মুজাহিদ ঘরে প্রত্যাবর্তন করে। (আল্লাহর নিকট এরূপ অবস্থাই)-(সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ الْقَانِتِ بِآيَاتِ اللَّهِ لاَ يَفْتُرُ مِنْ صِيَامٍ وَلاَ صَلاَةٍ حَتَّى يَرْجِعَ الْمُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৪৮
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে জিহাদ, হত্যা ও শাহাদত
৪৮. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দু'টি চোখ এরূপ যে গুলোকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শও করতে পারবে না। একটি সেই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করেছে। আর অন্যটি সেই চোখ, যা জিহাদে রাত জেগে পাহারাদারী করেছে। (জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَيْنَانِ لاَ تَمَسُّهُمَا النَّارُ عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَعَيْنٌ بَاتَتْ تَحْرُسُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ. (رواه الترمذى)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস | মুসলিম বাংলা