মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৪৬০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাদিয়া দিয়ে ফেরত গ্রহণ খুবই নিন্দনীয় কথা
৪৬০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, কোন মানুষের জন্য এটা বৈধ নয় যে, যে কোন জিনিস কাউকে দান করে পুনরায় ফেরত নেয়। তবে তার সন্তানকে যা দেয় তা ব্যতিক্রম। (পিতার জন্য ফেরত গ্রহণ বৈধ, কেননা, সন্তানের ওপর পিতার সর্ব-প্রকার অধিকার রয়েছে)। (এরপর তিনি হাদিয়া ও দানকৃত বস্তু ফেরত গ্রহণের দোষ বর্ণনা স্বরূপ বলেন), যে ব্যক্তি হাদিয়া ও দান করে ফেরত গ্রহণ করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে সেই কুকুরের ন্যায়, যে একটি জিনিস খেল এবং যখন পেট ভরে গেল তখন বমি করে এরপর নিজের বমিই পুনরায় খেতে থাকে। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً ثُمَّ يَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ وَمَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيهَا كَمَثَلِ الْكَلْبِ أَكَلَ حَتَّى إِذَا شَبِعَ قَاءَ ثُمَّ عَادَ فِي قَيْئِهِ. (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন জাতীয় লোকদের হাদিয়া গ্রহণ নিষেধ
৪৬১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যুগের ইমাম (অর্থাৎ শাসক ও নির্দেশদাতা)-এর হাদিয়া (গ্রহণ) গুলুল। (অর্থাৎ এক প্রকার খিয়ানত ও ঘুষ এবং অবৈধ উপার্জন অন্বেষণ জাতীয়)। (তাবারানী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَدَايَا الْإِمَامِ غُلُولٌ» (رواه الطبرانى فى الاوسط)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন জাতীয় লোকদের হাদিয়া গ্রহণ নিষেধ
৪৬২. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, কেউ কারো জন্য (কোন বিষয়ে) সুপারিশ করল, তখন যদি সুপারিশকৃত ব্যক্তি সুপারিশকারীকে কোন হাদিয়া প্রদান করে এবং সে গ্রহণ করে তবে সে সুদের এক বড় স্তরে উপনীত হল।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ شَفَعَ لِأَحَدٍ شَفَاعَةً فَأَهْدَى لَهُ هَدِيَّةً عَلَيْهَا فَقَبِلَهَا فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ
হাদিয়া, সাদকা ও খায়রাতের ন্যায় আর্থিক পুণ্য লাভের ক্ষেত্রে ওয়াকফও একটি। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে লিখেন, রসুলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্বে আরবের লোক ওয়াকফ-এর ধারণা ও রীতির সাথে পরিচিত ছিল না। তিনিই আল্লাহ তা'আলার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে এ বিষয়ে শিক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করেন।
ওয়াকফ-এর মূল কথা হচ্ছে স্থায়ী সম্পত্তির ন্যায় অবশিষ্ট থাকে নিজের কোন লাভজনক সম্পদ নিজের পক্ষ থেকে উত্তম কাজে ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত করে নেওয়া। এর উৎপন্ন দ্রব্য উপার্জিত মাল ওয়াফকারীর ইচ্ছানুযায়ী এক বা একাধিক উত্তম কাজে ব্যয় হবে। আর ওয়াকফকারী স্বয়ং চিরস্থায়ীভাবে নিজের জন্য ব্যয় করার অধিকার থেকে বিরত থাকবে। এ পরম্পরায় নিম্ন বর্ণিত হাদীসগুলো পাঠ করুন।
হাদিয়া, সাদকা ও খায়রাতের ন্যায় আর্থিক পুণ্য লাভের ক্ষেত্রে ওয়াকফও একটি। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে লিখেন, রসুলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্বে আরবের লোক ওয়াকফ-এর ধারণা ও রীতির সাথে পরিচিত ছিল না। তিনিই আল্লাহ তা'আলার নির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনে এ বিষয়ে শিক্ষা ও উৎসাহ প্রদান করেন।
ওয়াকফ-এর মূল কথা হচ্ছে স্থায়ী সম্পত্তির ন্যায় অবশিষ্ট থাকে নিজের কোন লাভজনক সম্পদ নিজের পক্ষ থেকে উত্তম কাজে ব্যয়ের জন্য সংরক্ষিত করে নেওয়া। এর উৎপন্ন দ্রব্য উপার্জিত মাল ওয়াফকারীর ইচ্ছানুযায়ী এক বা একাধিক উত্তম কাজে ব্যয় হবে। আর ওয়াকফকারী স্বয়ং চিরস্থায়ীভাবে নিজের জন্য ব্যয় করার অধিকার থেকে বিরত থাকবে। এ পরম্পরায় নিম্ন বর্ণিত হাদীসগুলো পাঠ করুন।
৪৬৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা উমর (রা) খায়বারে এক টুকরা জমি পেলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি খায়বারে এক টুকরা জমি পেয়েছি, (তা খুবই উত্তম ও মূল্যবান)-এর থেকে উত্তম আমি কোন সম্পদ পাইনি। এ বিষয়ে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, যদি তুমি চাও তবে এরূপ কর- মূল জমিকে সংরক্ষণ (অর্থাৎ ওয়াকফ) করে এর (উৎপন্ন ও আমদানি) সাদকা নির্ধারণ কর। সুতরাং হযরত উমর ইহা (এভাবেই ওয়াকফ করলেন) আল্লাহর ওয়াস্তে সাদকা নির্ধারণ করে নিদেন। স্থির করা হল, এ জমি কখনো বিক্রি করা হবে না, দান করা হবে না, তাতে উত্তরাধিকারী চালু হবে না। এর উপার্জিত অর্থ আল্লাহর জন্য ব্যয় হবে। দরিদ্র, মিসকীন, আত্মীয়স্বজন, দাসমুক্তি, মুসাফির, অতিথির পেছনে এবং তত্ত্বাবধায়ক ন্যায়সঙ্গতভাবে খাবে, সম্পদশালী হওয়ার জন্য নয়। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ هُوَ أَنْفَسُ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ: إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا. قَالَ فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ. وَتَصَدَّقَ بِهَا فِي الْفُقَرَاءِ وَفِي الْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ
৪৬৪. হযরত সা’দ ইবনে উবাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার আম্মা ইনতিকাল করেছেন (আমি তাঁর জন্য কিছু সদকা করতে চাই)। কোন সাদকা বেশি উত্তম ও পুণ্যের উসিলা হবে? তিনি বললেন, পানি। (অর্থাৎ কোথাও কুয়া তৈরী করে দেওয়া এবং ওয়াকফ করে দেওয়া যাতে আল্লাহর বান্দাগণ নিজেদের পানি পান করা ও অন্যান্য প্রয়োজনে পানি লাভ করতে পারে)। সুতরাং তিনি এক কুয়া খনন করে বললেন, এটা আমার মা উম্মে সা'দের জন্য। (এর সওয়াব তাঁর নিকট পৌঁছতে থাকুক)। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّيْ مَاتَتْ فَأَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: الْمَاءُ. قَالَ فَحَفَرَ بِئْرًا وَقَالَ هَذِهِ لأُمِّ سَعْدٍ. (رواه ابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর ওয়াস্তে ওয়াকফ
৪৬৫. হযরত সুমামা ইবনে হাযান কুশাইরী (তাবিঈ) বলেন, আমি তখন হযরত উসমান (রা)-এর ঘরের নিকট ছিলাম (যখন বিদ্রোহী সেনারা তাঁর ঘর ঘেরাও করেছিল)। তিনি ঘরের উপর থেকে তাদের দেখলেন। সমবেতদের উদ্দেশ্যে বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি-তোমরা কি জান, রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন মদীনায় এলেন তখন রূমা কূপ ছাড়া মিঠাপানির কোন কূপ ছিল না। (আর সেটা ছিল কোন ব্যক্তি মালিকানায়) তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, কে আছে যে, রূমা কূপ ক্রয় করে ওয়াক্ফ করে দেবে এবং তারই ন্যায় অন্যান্য মুসলমান এটা থেকে পানি ব্যবহার করবে? আর এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে তাকে উত্তম জিনিস দেবেন। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত মাল দ্বারা সেটা ক্রয় করি (এবং সাধারণের জন্য ওয়াক্ফ করে দেই)। আজ তোমরা আমাকে এর পানি পান করতে দিচ্ছ না। সমুদ্রের মতো লবণাক্ত পানি পান করতে বাধ্য করছ। লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই। (আমরা এটা জানি)। এরপর হযরত উসমান বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি জান, মসজিদে নববী নামাযীদের জন্য সংকীর্ণ ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ এক দিন বললেন, আল্লাহর কোন বান্দা কি আছে, যে অমুক গৃহবাসীর জমি খণ্ড (যা মসজিদ সংলগ্ন) ক্রয় করে মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করে দেবে? এর বিনিময়ে আল্লাহ তাকে জান্নাতে উত্তম প্রতিদান দেবেন। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থে সেটা ক্রয় করে নেই (এবং মসজিদে অন্তর্ভুক্ত করে দেই)। লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই (আমরা জানি)। এরপর হযরত উসমান বললেন, তোমরা কি জান যে, (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উৎসাহ ও ইঙ্গিতে) আমি তাবুক যুদ্ধের সৈন্যদের সরঞ্জাম আমার ব্যক্তিগত অর্থে যোগান দিয়েছিলাম? লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী ঠিকই (এটাও আমরা জানি)। এরপর হযরত উসমান বলেন, আমি তোমাদিগকে আল্লাহ ও ইসলামের দোহাই দিয়ে জিজেস করছি, তোমরা কি জান, এক দিন রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কার 'সুবাইর' পাহাড়ে হিলেন, তাঁর সাথে আবু বকর ও উমর ছিলেন, আমিও ছিলাম। তখন পাহাড় নড়তে লাগল। এমনকি কিছু পাথর নিয়ে পড়ে গেল। তিনি তাঁর পা দিয়ে তাতে আঘাত করে বললেন, সুবাইর! শান্ত হও। তোমার উপর এক নবী, এক সিদ্দীক ও দুই শহীদ রয়েছেন। (হযরত উসমানের এ কথার উপরেও) লোকজন বললেন, আল্লাহ সাক্ষী, ঠিকই (আমরা জানি)। তখন হযরত উসমান বললেন, আল্লাহু আকবার। কা'বার প্রভুর কসম! এরাও সাক্ষী দিচ্ছে যে, আমি শহীদ। একথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন।
(তিরমিযী, নাসাঈ)
(তিরমিযী, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ الْقُشَيْرِيِّ قَالَ شَهِدْتُ الدَّارَ حِينَ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ عُثْمَانُ قَالَ أَنْشُدُكُمْ اللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَيْسَ بِهَا مَاءٌ يُسْتَعْذَبُ غَيْرَ بِئْرِ رُومَةَ فَقَالَ: مَنْ يَشْتَرِي بِئْرَ رُومَةَ فَيَجْعَلُ دَلْوَهُ مَعَ دِلاَءِ الْمُسْلِمِينَ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ. فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي أَنْ أَشْرَبَ مِنْهَا حَتَّى أَشْرَبَ مِنْ مَاءِ الْبَحْرِ. قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ الْمَسْجِدَ ضَاقَ بِأَهْلِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ يَشْتَرِي بُقْعَةَ آلِ فُلاَنٍ فَيَزِيدُهَا فِي الْمَسْجِدِ بِخَيْرٍ لَهُ مِنْهَا فِي الْجَنَّةِ. فَاشْتَرَيْتُهَا مِنْ صُلْبِ مَالِي فَأَنْتُمُ الْيَوْمَ تَمْنَعُونِي أَنْ أُصَلِّيَ فِيهَا رَكْعَتَيْنِ. فَقَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنِّي جَهَّزْتُ جَيْشَ الْعُسْرَةِ مِنْ مَالِي قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. ثُمَّ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ وَالإِسْلاَمِ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى ثَبِيرِ مَكَّةَ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا فَتَحَرَّكَ الْجَبَلُ حَتَّى تَسَاقَطَتْ حِجَارَتُهُ بِالْحَضِيضِ قَالَ فَرَكَضَهُ بِرِجْلِهِ قَالَ: اسْكُنْ ثَبِيرُ فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ. قَالُوا اللَّهُمَّ نَعَمْ. قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ شَهِدُوا لِي وَرَبِّ الْكَعْبَةِ أَنِّي شَهِيدٌ ثَلاَثًا. (رواه الترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওসীয়ত
আর্থিক বিষয়াদী ও ব্যয়ের অধ্যায়সমূহের মধ্যে একটি অধ্যায় হচ্ছে- 'ওসীয়াত অধ্যায়'। ওসীয়তের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি যার নিকট স্থাবর সম্পদ বা কোন প্রকার পুঁজি রয়েছে, সে নির্ধারিত করে দেবে যে, আমার ইন্তিকালের পর অমুক কূপের সম্পত্তি ও পুঁজি থেকে এত অংশ অমুক উত্তম কাজে ব্যয় হবে অথবা অমুক ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। শরী'আতে এ জাতীয় ওসীয়তের আইনগত মর্যাদা রয়েছে। এর বিশেষ শর্ত ও বিধান রয়েছে, যার কতগুলো নিম্নে লিপিবদ্ধ হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে। বিস্তারিত অতিরিক্ত বিধান ফিকহের কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে। নিজের পরিত্যক্ত সম্পদের ব্যাপারে এ জাতীয় ওসীয়ত যদি আল্লাহর জন্য ও আখিরাতের সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তবে তা হবে এক প্রকার সাদকা। শরী'আতে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আর যদি কারো নিকট কারো কোন জিনিস আমানত হিসাবে রাখা হয় অথবা তার ওপর কোন লোকের ঋণ থাকে কিংবা কোন ধরনের অধিকার থাকে তবে তা ফেরত প্রদান ও পরিশোধের ওসীয়ত করা ওয়াজিব। আর যে কোন ওসীয়ত হোক তা লিখে সংরক্ষণ করা চাই। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।
আর্থিক বিষয়াদী ও ব্যয়ের অধ্যায়সমূহের মধ্যে একটি অধ্যায় হচ্ছে- 'ওসীয়াত অধ্যায়'। ওসীয়তের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি যার নিকট স্থাবর সম্পদ বা কোন প্রকার পুঁজি রয়েছে, সে নির্ধারিত করে দেবে যে, আমার ইন্তিকালের পর অমুক কূপের সম্পত্তি ও পুঁজি থেকে এত অংশ অমুক উত্তম কাজে ব্যয় হবে অথবা অমুক ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। শরী'আতে এ জাতীয় ওসীয়তের আইনগত মর্যাদা রয়েছে। এর বিশেষ শর্ত ও বিধান রয়েছে, যার কতগুলো নিম্নে লিপিবদ্ধ হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে। বিস্তারিত অতিরিক্ত বিধান ফিকহের কিতাবসমূহে দেখা যেতে পারে। নিজের পরিত্যক্ত সম্পদের ব্যাপারে এ জাতীয় ওসীয়ত যদি আল্লাহর জন্য ও আখিরাতের সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয় তবে তা হবে এক প্রকার সাদকা। শরী'আতে এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।
আর যদি কারো নিকট কারো কোন জিনিস আমানত হিসাবে রাখা হয় অথবা তার ওপর কোন লোকের ঋণ থাকে কিংবা কোন ধরনের অধিকার থাকে তবে তা ফেরত প্রদান ও পরিশোধের ওসীয়ত করা ওয়াজিব। আর যে কোন ওসীয়ত হোক তা লিখে সংরক্ষণ করা চাই। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।
৪৬৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, এমন কোন মুসলমান বান্দার জন্য, যার নিকট এরূপ কোন জিনিস (স্থায়ী, সম্পদ, পুঁজি বা আমানত ও ঋণ ইত্যাদি) থাকে, যে ব্যাপারে ওসীয়ত করা চাই, তার জন্য দু'রাত অতিবাহিত করা ঠিক নয়, তবে হ্যাঁ, তার নিকট লিখা ওসীয়তনামা থাকবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شيءٌ يُوصَي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওসীয়ত
৪৬৭. হজরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি ওসীয়তের উপর ইনতিকাল করল (অর্থাৎ যার ইনতিকাল এরূপ অবস্থায় হল যে, নিজের সম্পদ ও লেন-দেন ইত্যাদির ব্যাপারে তার যে ওসীয়ত করার ছিল, তা আল্লাহর ওয়াস্তে করল) তার ইনতিকাল সঠিক পথে শরী'আতের রীতি-নীতির উপর এবং তাকওয়া ও শাহাদাতের উপর হয়েছে এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইনতিকাল করল। (ইবনে মাজা)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ مَاتَ عَلَى وَصِيَّةٍ مَاتَ عَلَى سَبِيلٍ وَسُنَّةٍ وَمَاتَ عَلَى تُقًى وَشَهَادَةٍ وَمَاتَ مَغْفُورًا لَهُ. (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওসীয়ত
৪৬৮. হযরত সা'দ ইবনে আবি ওক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কায় (ভীষণ রোগাক্রান্ত হই) রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দেখতে এলেন। এটা আমি খুবই অপসন্দ করতাম যে, আমার মৃত্যু মক্কার জমীনে হোক, যে জমীন থেকে আমি হিজরত করেছি। (যা সর্বদার জন্য আমি পরিত্যাগ করেছি)। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ (দু'আ স্বরূপ আমাকে সান্ত্বনা প্রদানের জন্য) বললেন, আল্লাহ, আফরার ছেলে (সা'দ)-এর প্রতি (সা'দের মা'র নাম অথবা উপাধী আফরা ছিল) রহম করুন, আমি তাকে (ফাতওয়া হিসাবে জিজ্ঞাসা করলাম, হুজুরের কি অভিমত) আমার সম্পদ (আল্লাহর রাস্তায় এবং উত্তম খাতে) ব্যয়ের ওসীয়ত করে দেব? তিনি বললেন, না (এরূপ করো না)। আমি বললাম, তবে অর্ধেক সম্পদের ব্যাপারে। তিনি বললেন, না (এত না)। আমি বললাম, তবে এক তৃতীয়াংশের ব্যাপারে ওসীয়ত করব। তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশের ব্যাপারে অসীয়ত কর। আর এক তৃতীয়াংশ অনেক। (এরপর তিনি বললেন), তোমার জন্য নিজের উত্তরাধিকারীদেরকে সুখী অবস্থায় রেখে যাওয়া, দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। যারা (নিজেদের প্রয়োজনের জন্য) অন্যের সামনে হাত পাতবে। আর তুমি যা (আল্লাহর রাস্তায় পুণ্য লাভের আশায়) ব্যয় করবে (যদিও সে ব্যয় নিজের প্রিয়জন, আত্মীয় ও উত্তরাধিকারীদের জন্য হয়) তা তোমার পক্ষ হতে সাদকা হবে। এমনকি যে লোকমা তুমি স্বীয় স্ত্রীর মুখে তুলে দাও (তাও তোমার সাদকা হবে)।
(পরিশেষে তিনি বলেন,) আল্লাহর নিকট আশা করা যায় যে, এ রোগ থেকে তোমাকে শিফা দান করবেন। ভবিষ্যতে তোমাকে উন্নত মর্যাদা দান করবেন। এরপর তোমার দ্বারা আল্লাহর বহু বান্দা উপকৃত হবে এবং বহু লোকের ক্ষতি হবে।
সা’দ থেকে এ হাদীস বর্ণনাকারী (তার ছেলে আমর ইবনে সা'দ) বলেন, যে সময় এটা ঘটেছিল তখন হযরত সা'দ-এর কেবল এক কন্যা ছিল। (সে ছাড়া অন্য কোন সন্তান ছিল না)। (বুখারী, মুসলিম)
(পরিশেষে তিনি বলেন,) আল্লাহর নিকট আশা করা যায় যে, এ রোগ থেকে তোমাকে শিফা দান করবেন। ভবিষ্যতে তোমাকে উন্নত মর্যাদা দান করবেন। এরপর তোমার দ্বারা আল্লাহর বহু বান্দা উপকৃত হবে এবং বহু লোকের ক্ষতি হবে।
সা’দ থেকে এ হাদীস বর্ণনাকারী (তার ছেলে আমর ইবনে সা'দ) বলেন, যে সময় এটা ঘটেছিল তখন হযরত সা'দ-এর কেবল এক কন্যা ছিল। (সে ছাড়া অন্য কোন সন্তান ছিল না)। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي وَأَنَا بِمَكَّةَ، وَهْوَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا قَالَ: يَرْحَمُ اللَّهُ ابْنَ عَفْرَاءَ. قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ؟ قَالَ: لاَ. قُلْتُ فَالشَّطْرُ؟ قَالَ: لاَ. قُلْتُ الثُّلُثُ؟ قَالَ: فَالثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَدَعَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ فِي أَيْدِيهِمْ، وَإِنَّكَ مَهْمَا أَنْفَقْتَ مِنْ نَفَقَةٍ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ، حَتَّى اللُّقْمَةُ الَّتِي تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ، وَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَكَ فَيَنْتَفِعَ بِكَ نَاسٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ ابْنَتَهُ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওসীয়ত
৪৬৯. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জের বছর রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা (স্বীয় কিতাবে উত্তরাধিকারীদের) প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য দিয়েছেন। সুতরাং এখন কোন উত্তরাধিকারীর জন্য ওসীয়ত বৈধ নয়। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حِجَّةِ الْوَدَاعِ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ فَلاَ وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ. (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওসীয়ত
৪৭০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, (কখনো এরূপ হয়) কোন পুরুষ অথবা মহিলা ষাট বছর পর্যন্ত আল্লাহর আনুগত্যকারী হিসাবে জীবন যাপন করে, এরপর যখন তার মৃত্যুর সময় আসে আর ওসীয়তের ব্যাপারে (দাবিদারকে) ক্ষতিগ্রস্ত করে (তখন এই যুলুম ও পাওনাদার বান্দাদের পাওনা নষ্ট করার কারণে) তার জন্য দোযখ অবধারিত হয়ে পড়ে। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ وَالْمَرْأَةُ بِطَاعَةِ اللَّهِ سِتِّينَ سَنَةً ثُمَّ يَحْضُرُهُمَا الْمَوْتُ فَيُضَارَّانِ فِي الْوَصِيَّةِ فَتَجِبُ لَهُمَا النَّارُ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচার ব্যবস্থা
মানুষের মধ্যে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও ঝগড়া মীমাংসা করতে এবং অধিকার প্রাপ্তদের অধিকার আদায় করে দিতে আর শাস্তিযোগ্য চোর-ডাকাতদের ন্যায় অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের জন্যে বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করাও মনুষ্য সমাজে অপরিহার্য। অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় রাসুলুল্লাহ ﷺ মনুষ্য বিষয়াবলী সম্পর্কে নিজেও কর্মপদ্ধতি ও বাণী দ্বারা পূর্ণ পথপ্রদর্শন করেছেন। হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনে এ প্রশ্নই ছিল না। কিন্তু যখন তিনি ও তাঁর সাহাবীবৃন্দ হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় এলেন এবং এক সামাজিক কাঠামো সৃষ্টি হল, তখন বিচার ব্যবস্থাও প্রাথমিক সরল কাঠামো নিয়ে প্রতিষ্ঠা পেল। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও কাযী এবং আদালতের বিচারকও ছিলেন। ঝগড়া-কলহের বিষয়াদি তাঁর সামনে আসত আর তিনি সেগুলোর ফয়সালা দিতেন, শাস্তি জারী করতেন। অর্থাৎ শাস্তির উপযুক্ত অপরাধীদেরকে আল্লাহর আইন মুতাবিক শাস্তি দেওয়াতেন। কুরআন মজীদে সোজা তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছেঃ
{وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ } [المائدة: 49]
(হে নবী)! আপনি লোকদের ঝগড়া-বিবাদের ফয়সালা আল্লাহর নাযিলকৃত আইন মুতাবিক করুন। অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
{إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} [النساء: 105]
আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি আল্লাহ আপনাকে যা জানিয়েছেন সেই অনুসারে মানুষের বিচার মীমাংসা করেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্বন্দ্ব ও ঝগড়ার ফয়সালা স্বয়ং করতেন। এমনকি কোন কোন বর্ণনায় জানা যায় যে, তারই পবিত্র জীবনে তাঁর নির্দেশে হযরত উমর (রা)ও পবিত্র মদীনায় কাযী হিসাবে মুকাদ্দামা সমূহের ফয়সালা করতেন। আর যখন ইয়ামেন অঞ্চল ইসলামী শাসনের গন্ডিতে এল তখন তিনি হযরত আলী ও হযরত মুয়ায (রা) কে তথায় কাযী নিযুক্ত করে পাঠান। তিনি যেসব সাহাবীদের কোন এলাকায় ইনসাফের দায়িত্ব প্রাপ্ত (কাযী) করে পাঠাতেন, শক্ত তাকীদ করে দিতেন যে, এ দায়িত্ব নিজের সাধ্যমত এবং চিন্তা-বুদ্ধির শেষ সীমা পর্যন্ত ন্যায়-ইনসাফ ও আল্লাহভীতির সাথে সমাধা করার পূর্ণ চেষ্টা করবে। আর এরূপ কাযীকে তিনি আল্লাহর সাহায্য, পথপ্রদর্শন এবং আখিরাতের বিরাট পুরস্কার ও উন্নত মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন। আর একথাও বলেছেন যে, যদি এরূপ লোকদের থেকে অজ্ঞাতসারে চিন্তাগত ভুল হয়ে যায় তা ধরা হবে না। বরং নিজের সদিচ্ছা ও সত্য উপলব্ধির চেষ্টার জন্য পুন্য পাবে। পক্ষান্তরে পক্ষপাতিত্ব ও অন্যায় বিচারকারীকে আল্লাহর ক্রোধের কথা শুনানো হয়েছে। তদুপরি তিনি এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন, হাকিম ও কাযী আল্লাহর এমন বান্দাদের বানানো হবে, যারা এই পদের অভিলাষী নয়। আর যে লোক এই পদের অন্বেষণকারী ও আগ্রহী, তাকে কখনো এ পদ দেওয়া যাবে না। বিচার মীমাংসার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেও তিনি পথপ্রদর্শন করেছেন। এজন্য মূলনীতিও শিক্ষা দিয়েছেন। এ ধারাবাহিকতায় নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
ন্যায় বিচারক ও অন্যায় বিচারক
মানুষের মধ্যে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও ঝগড়া মীমাংসা করতে এবং অধিকার প্রাপ্তদের অধিকার আদায় করে দিতে আর শাস্তিযোগ্য চোর-ডাকাতদের ন্যায় অপরাধীদেরকে শাস্তি প্রদানের জন্যে বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করাও মনুষ্য সমাজে অপরিহার্য। অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় রাসুলুল্লাহ ﷺ মনুষ্য বিষয়াবলী সম্পর্কে নিজেও কর্মপদ্ধতি ও বাণী দ্বারা পূর্ণ পথপ্রদর্শন করেছেন। হিজরতের পূর্বে মক্কী জীবনে এ প্রশ্নই ছিল না। কিন্তু যখন তিনি ও তাঁর সাহাবীবৃন্দ হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় এলেন এবং এক সামাজিক কাঠামো সৃষ্টি হল, তখন বিচার ব্যবস্থাও প্রাথমিক সরল কাঠামো নিয়ে প্রতিষ্ঠা পেল। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ নবী ও রাসূল হওয়া সত্ত্বেও কাযী এবং আদালতের বিচারকও ছিলেন। ঝগড়া-কলহের বিষয়াদি তাঁর সামনে আসত আর তিনি সেগুলোর ফয়সালা দিতেন, শাস্তি জারী করতেন। অর্থাৎ শাস্তির উপযুক্ত অপরাধীদেরকে আল্লাহর আইন মুতাবিক শাস্তি দেওয়াতেন। কুরআন মজীদে সোজা তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছেঃ
{وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ } [المائدة: 49]
(হে নবী)! আপনি লোকদের ঝগড়া-বিবাদের ফয়সালা আল্লাহর নাযিলকৃত আইন মুতাবিক করুন। অন্যত্র বলা হয়েছেঃ
{إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} [النساء: 105]
আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি আল্লাহ আপনাকে যা জানিয়েছেন সেই অনুসারে মানুষের বিচার মীমাংসা করেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ দ্বন্দ্ব ও ঝগড়ার ফয়সালা স্বয়ং করতেন। এমনকি কোন কোন বর্ণনায় জানা যায় যে, তারই পবিত্র জীবনে তাঁর নির্দেশে হযরত উমর (রা)ও পবিত্র মদীনায় কাযী হিসাবে মুকাদ্দামা সমূহের ফয়সালা করতেন। আর যখন ইয়ামেন অঞ্চল ইসলামী শাসনের গন্ডিতে এল তখন তিনি হযরত আলী ও হযরত মুয়ায (রা) কে তথায় কাযী নিযুক্ত করে পাঠান। তিনি যেসব সাহাবীদের কোন এলাকায় ইনসাফের দায়িত্ব প্রাপ্ত (কাযী) করে পাঠাতেন, শক্ত তাকীদ করে দিতেন যে, এ দায়িত্ব নিজের সাধ্যমত এবং চিন্তা-বুদ্ধির শেষ সীমা পর্যন্ত ন্যায়-ইনসাফ ও আল্লাহভীতির সাথে সমাধা করার পূর্ণ চেষ্টা করবে। আর এরূপ কাযীকে তিনি আল্লাহর সাহায্য, পথপ্রদর্শন এবং আখিরাতের বিরাট পুরস্কার ও উন্নত মর্যাদার সুসংবাদ দিয়েছেন। আর একথাও বলেছেন যে, যদি এরূপ লোকদের থেকে অজ্ঞাতসারে চিন্তাগত ভুল হয়ে যায় তা ধরা হবে না। বরং নিজের সদিচ্ছা ও সত্য উপলব্ধির চেষ্টার জন্য পুন্য পাবে। পক্ষান্তরে পক্ষপাতিত্ব ও অন্যায় বিচারকারীকে আল্লাহর ক্রোধের কথা শুনানো হয়েছে। তদুপরি তিনি এ দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন, হাকিম ও কাযী আল্লাহর এমন বান্দাদের বানানো হবে, যারা এই পদের অভিলাষী নয়। আর যে লোক এই পদের অন্বেষণকারী ও আগ্রহী, তাকে কখনো এ পদ দেওয়া যাবে না। বিচার মীমাংসার কর্মপদ্ধতি সম্পর্কেও তিনি পথপ্রদর্শন করেছেন। এজন্য মূলনীতিও শিক্ষা দিয়েছেন। এ ধারাবাহিকতায় নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
ন্যায় বিচারক ও অন্যায় বিচারক
৪৭১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, (রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবানদের মধ্যে) ন্যায় ও ইনসাফকারী বান্দা আল্লাহর নিকট (অর্থাৎ আখিরাতে) নূরের মিম্বরে আল্লাহর ডানে হবে। আর তাঁর উভয় হাতই ডান। এরা সেই সব লোক, যারা নিজেদের ফায়সালায়, নিজেদের পরিজন ও সম্পর্কিতদের ব্যাপারে এবং নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগে ইনসাফ পালন করে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ابْنُ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْمُقْسِطِينَ عِنْدَ اللَّهِ عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ عَنْ يَمِينِ الرَّحْمَنِ عَزَّ وَجَلَّ وَكِلْتَا يَدَيْهِ يَمِينٌ الَّذِينَ يَعْدِلُونَ فِي حُكْمِهِمْ وَأَهْلِيهِمْ وَمَا وَلُوا. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচার ব্যবস্থা: ন্যায় বিচারক ও অন্যায় বিচারক
৪৭২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ন্যায়-ইনসাফের সাথে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী নেতা কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকদের থেকে আল্লাহর অধিক প্রিয় ও নৈকট্য লাভকারী হবে। আর (এর বিপরীত) সেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাধর নেতা কিয়ামতের দিন অন্যান্য লোকদের থেকে আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের ও অধিক শাস্তির যোগ্য হবে যে বেইনসাফীর সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَقْرَبَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا إِمَامٌ عَادِلٌ وَإِنَّ أَبْغَضَ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَشَدَّهُمْ عَذَابًا إِمَامٌ جَائِرٌ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচার ব্যবস্থা: ন্যায় বিচারক ও অন্যায় বিচারক
৪৭৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন আবু আওফা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, বিচারক (অর্থাৎ কোর্টের হাকিম)-এর সাথে আল্লাহ তা'আলা থাকেন। (অর্থাৎ তাঁর সাহায্য ও তওফীক তাঁর সাথে থাকে) যতক্ষণ সে ন্যায় ইনসাফের অনুসারী থাকে। এরপর যখন সে (ন্যায় ইনসাফের অনুসরণ ছেড়ে) বেইনসাফীর নীতি গ্রহণ করে করে তখন আল্লাহ তার থেকে পৃথক ও সম্পর্কহীন হয়ে যান। (অর্থাৎ তাঁর সাহায্য ও পথ প্রদর্শন সে প্রাপ্ত হয় না)। এরপর শয়তান তার সাথী হয়ে যায়। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ مَعَ الْقَاضِي مَا لَمْ يَجُرْ فَإِذَا جَارَ تَخَلَّى عَنْهُ وَلَزِمَهُ الشَّيْطَانُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাযী ও হাকিম যারা যদি চিন্তাগত ভুল হয়ে যায়
৪৭৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস ও হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন হাকিম (কোন বিষয়ে) ফায়সালা করতে চায় এবং (সত্য অনুযায়ী সঠিক ফয়সালা করার জন্য) চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করে, আর সঠিক ফায়সালা করে দেয়, তবে সে দ্বিগুণ পুরষ্কার পাবে। (একটি হলো সঠিক ফায়সালা করার নিয়ত ও চেষ্টার জন্য, অন্যটি সঠিক ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য)। আর যদি সে প্রকৃত বিষয় জানার ও সঠিক ফায়সালা করার জন্য চেষ্টা করে এবং এতদসত্ত্বেও ভুল সিদ্ধান্ত দেয়, তবু সে একটি পুরস্কার পাবে। (অর্থাৎ সত্য অনুযায়ী ফায়সালা করার নিয়ত ও চেষ্টা-সাধনার জন্য)। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَمْرٍو وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জান্নাতী ও দোযখী কাযী ও বিচারক
৪৭৫. হযরত বুরাইদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কাযী (কোর্টের বিচারক) তিন প্রকার। তাদের মধ্যে এক প্রকার জান্নাতের যোগ্য। আর দোযখের যোগ্য দুই প্রকার। জান্নাতের যোগ্য সেই বিচারক, যে সত্য উপলব্ধি করে তদনুযায়ী ফয়সালা করে। আর যে বিচারক সত্যকে জানা সত্ত্বেও অন্যায় ফয়সালা করে সে দোযখের যোগ্য। আর এভাবে সেই বিচারকও দোযখের যোগ্য, যে জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়াই ফায়সালা করার ধৃষ্টতা দেখায়। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِي النَّارِ فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ. (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা অভিশাপযোগ্য
কোর্টের বিচারকদের সত্য ও ন্যায়ের বিপরীত ফায়সালা প্রদানে উদ্বুদ্ধকারী কারণগুলোর মধ্যে একটি বড় কারণ হচ্ছে ঘুষের লোভ। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানকে অভিশাপযোগ্য গুনাহ বলেছেন।
কোর্টের বিচারকদের সত্য ও ন্যায়ের বিপরীত ফায়সালা প্রদানে উদ্বুদ্ধকারী কারণগুলোর মধ্যে একটি বড় কারণ হচ্ছে ঘুষের লোভ। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানকে অভিশাপযোগ্য গুনাহ বলেছেন।
৪৭৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে 'আমর ইবনুল' আস (রা) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ অভিশাপ করেছেন ঘুষ গ্রহীতা ও ঘুষদাতার প্রতি। (আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ) (এবং ইমাম তিরমিযী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ছাড়াও হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকেও বর্ণনা করেছেন)।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: لَعَنَ رَسُوْلُ اللّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي. (رواه ابوداؤد وابن ماجه ورواه الترمذى عن ابى هريرة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাকিম ও কাযী হওয়া বড় পরীক্ষা ও বিপজ্জনক
এটা সুস্পষ্ট যে, কাযী ও হাকিম হওয়ার পর একথার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, মানুষের নিয়ত ও চরিত্রে ধ্বংস নেমে আসে এবং সে ভুল কাজ করতে থাকে, যে কারণে দ্বীন ও ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং আখিরাত বরবাদ হয়ে পড়ে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ এজন্যে এ বিষয়ে অনেক ভয় প্রদর্শন করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় এ দিকনির্দেশনাও করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় পদ ও বিচারালয়ের আসন তাদেরকে দেওয়া যাবে না, যারা এর অন্বেষণকারী ও অভিলাষী। বরং যারা এর অন্বেষণকারী নয়, তাদেরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এটা সুস্পষ্ট যে, কাযী ও হাকিম হওয়ার পর একথার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে, মানুষের নিয়ত ও চরিত্রে ধ্বংস নেমে আসে এবং সে ভুল কাজ করতে থাকে, যে কারণে দ্বীন ও ঈমান নষ্ট হয়ে যায় এবং আখিরাত বরবাদ হয়ে পড়ে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ এজন্যে এ বিষয়ে অনেক ভয় প্রদর্শন করেছেন। এ ধারাবাহিকতায় এ দিকনির্দেশনাও করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় পদ ও বিচারালয়ের আসন তাদেরকে দেওয়া যাবে না, যারা এর অন্বেষণকারী ও অভিলাষী। বরং যারা এর অন্বেষণকারী নয়, তাদেরকে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
৪৭৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, মানুষের মধ্যে ফয়সালা করার জন্যে যে ব্যক্তিকে কাযী বানানো হল, তবে তাকে ছুরি ছাড়া যবেহ করা হল। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ جُعِلَ قَاضِيًا بَيْنَ النَّاسِ فَقَدْ ذُبِحَ بِغَيْرِ سِكِّينٍ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাকিম ও কাযী হওয়া বড় পরীক্ষা ও বিপজ্জনক
৪৭৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, অচিরেই তোমরা রাষ্ট্রীয় পদের লোভ করবে, আর কিয়ামতের দিন তা লজ্জা ও অপমানের কারণ হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভাল লাগে দুধদায়িনীর মত আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হারানোর সময় বড় মন্দ লাগে দুধ বন্ধকারিণীর মত। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّكُمْ سَتَحْرِصُونَ عَلَى الإِمَارَةِ، وَسَتَكُونُ نَدَامَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَنِعْمَ الْمُرْضِعَةُ وَبِئْسَتِ الْفَاطِمَةُ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অন্বেষণকারী আল্লাহর সাহায্য ও পথপ্রদর্শন থেকে বঞ্চিত
৪৭৯. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেন, তুমি রাষ্ট্রীয় পদ চেয়ে নিও না। যদি তোমার প্রার্থনা মত তোমাকে ইহা দেওয়া হয়, তবে এর প্রতি তোমাকে সমর্পণ করা হবে। (আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার কোন সাহায্য ও পথপ্রদর্শন হবে না। আর যদি তোমার প্রার্থনা ছাড়া তোমাকে তা দেওয়া হয় তবে আল্লাহর পক্ষ হতে তাতে তোমার সাহায্য হবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ لِيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ، فَإِنَّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا، وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: