মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৪২০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিক্রয় দ্রব্যের ত্রুটি গোপন করা সম্পর্কে কঠিন নিষেধাজ্ঞা ও সাবধানবাণী
৪২০. হযরত ওয়াসিলা ইবনে আসকা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন, যে ব্যক্তি ত্রুটিযুক্ত দ্রব্য কারো নিকট বিক্রি করল আর তাকে অবহিত করল না সে সর্বদা আল্লাহর ক্রোধে থাকবে। অথবা তিনি বলেছেন, ফেরেশতাগণ সর্বদা তার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করবেন। ইবনে মাজা
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ بَاعَ عَيْبًا وَلَمْ يُبَيِّنْهُ، لَمْ يَزَلْ فِي مَقْتِ اللَّهِ، وَلَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ تَلْعَنُهُ» (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রেতা বিক্রেতার অনবহিতি থেকে অবৈধ ফায়দা লাভ এবং সর্ব প্রকার ধোঁকা ও প্রতারণা নিষিদ্ধ
৪২১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, মাল বহনকারী কাফেলার সাথে তোমরা অগ্রবর্তী হয়ে মিলিত হয়ো না। যে ব্যবসায়ী অগ্রবর্তী হয়ে তার থেকে মাল ক্রয় করল এরপর যখন মালিক বাজারে এল তখন সে (মাল বিক্রি করা না করার) ইখতিয়ার রাখে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَلَقَّوْا الْجَلَبَ، فَمَنْ تَلَقَّاهُ فَاشْتَرَى مِنْهُ، فَإِذَا أَتَى سَيِّدُهُ السُّوقَ، فَهُوَ بِالْخِيَارِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রেতা বিক্রেতার অনবহিতি থেকে অবৈধ ফায়দা লাভ এবং সর্ব প্রকার ধোঁকা ও প্রতারণা নিষিদ্ধ
৪২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, খাদ্য শস্য বহনকারী কাফেলার সাথে মাল ক্রয়ের জন্য পথে এগিয়ে মিলিত হয়ো না এবং তোমরা অপরের বেচা-কেনায় প্রবেশ করবে না, আর (কোন পণ্যের কৃত্রিম ক্রেতা সেজে এর) মূল্য বৃদ্ধির কাজ করবে না এবং শহরের ব্যবসায়ী গ্রাম্য লোকদের মাল নিজের কাছে রেখে বিক্রি করবে না। আর (বিক্রির জন্য উটনী কিংবা ছাগীর বাটে দুধ জমা করবে না। যদি কেউ এরূপ উটনী বা ছাগী ক্রয় করে, তবে এর দুধ দোহনের পর তার অধিকার রয়েছে। যদি পছন্দ হয়, তবে নিজের কাছে রাখবে আর যদি অপসন্দ হয় তবে ফেরত দেবে। আর (পশুর মালিককে) এক সা' (প্রায় চার সের) খেজুর দেবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَلَقَّوُا الرُّكْبَانَ، وَلاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ، وَلاَ تَنَاجَشُوا، وَلاَ يَبِعْ حَاضِرٌ لِبَادٍ، وَلاَ تُصَرُّوا الْاِبِلَ وَالغَنَمَ، فَمَنِ ابْتَاعَهَا بَعْدَ ذَالِكَ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ بَعْدَ أَنْ يَحْتَلِبَهَا، إِنْ رَضِيَهَا أَمْسَكَهَا، وَإِنْ سَخِطَهَا رَدَّهَا وَصَاعًا مِنْ تَمْرٍ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিলাম প্রক্রিয়ায় ক্রয়-বিক্রয়
৪২৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ (বিছাবার) এক চট ও এক পেয়ালা এভাবে বিক্রি করলেন যে, তিনি (মজলিসে উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে) বললেন, এ চট ও পেয়ালাকে ক্রয় করতে চায়, (সে বলুক)। এক ব্যক্তি বললেন, উভয় জিনিস আমি এক দিরহামে নিতে চাই। নবী করীম ﷺ বললেন, এক দিরহাম থেকে কে বেশি দেবে। তখন অন্য এক ব্যক্তি তাঁকে দুই দিরহাম দিলেন। এরপর তিনি উভয় জিনিস তার নিকট বিক্রি করলেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَاعَ حِلْسًا وَقَدَحًا، وَقَالَ: «مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الحِلْسَ وَالقَدَحَ»، فَقَالَ رَجُلٌ: أَخَذْتُهُمَا بِدِرْهَمٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ، مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ؟»، فَأَعْطَاهُ رَجُلٌ دِرْهَمَيْنِ: فَبَاعَهُمَا مِنْهُ. (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অতিরিক্ত লাভের জন্য মওজুদ করা নিষেধ
যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।
যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।
৪২৪. হযরত মা'মার ইবনে আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যবসায়ী ইহতিকার করে (অর্থাৎ খাদ্য শস্য ইত্যাদি জীবনোপকরণ, মানুষের প্রয়োজন সত্ত্বেও চড়া মূল্যের জন্য সংরক্ষণ করে) সে পাপী। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَعْمَرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অতিরিক্ত লাভের জন্য মওজুদ করা নিষেধ
৪২৫. হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, جالب (অর্থাৎ খাদ্য শস্য ইত্যাদি বাইরে থেকে থেকে এনে বাজারে বিক্রয়কারী ব্যবসায়ী( রিজিকপ্রাপ্ত (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তার রিজিকের যামীনদার। আর محتكر (অর্থাৎ চড়া মূল্যের জন্য মওজুদকারী) অভিশপ্ত (অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার রহমত ও বরকত থেকে বঞ্চিত)। (ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْجَالِبُ مَرْزُوقٌ، وَالْمُحْتَكِرُ مَلْعُونٌ» (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাসঈর অর্থাৎ মূল্যের উপর কন্ট্রোলের মাসআলা
কখনো অবস্থার দাবী অনুযায়ী খাদ্যের ন্যায় আবশ্যকীয় জিনিসের মূল্যের উপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিংবা কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল করা হয়। আর ব্যবসায়ীগণকে আপন ইচ্ছা অনুযায়ী অতিরিক্ত লাভ করতে অনুমতি দেওয়া হয় না। যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র্য শ্রেণীর অধিক কষ্ট না হয়। আরবী ভাষায় এটাকে تسعير বলা হয়। এখানে এ সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক বাণী লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
কখনো অবস্থার দাবী অনুযায়ী খাদ্যের ন্যায় আবশ্যকীয় জিনিসের মূল্যের উপর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিংবা কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ডের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল করা হয়। আর ব্যবসায়ীগণকে আপন ইচ্ছা অনুযায়ী অতিরিক্ত লাভ করতে অনুমতি দেওয়া হয় না। যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র্য শ্রেণীর অধিক কষ্ট না হয়। আরবী ভাষায় এটাকে تسعير বলা হয়। এখানে এ সম্পর্কিত রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক বাণী লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
৪২৬. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে (একবার) দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেল। তখন লোকজন রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, আপনি দর ঠিক করে দিন (এবং ব্যবসায়ীগণকে এতে বাধ্য করুন)। তিনি বললেন, কম-বেশি করার মালিক আল্লাহই। তিনিই সংকোচনকারী ও প্রশস্তকারী, তিনিই সবার রিজিকদাতা। আর আমি আশা করছি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবো যে, প্রাণ ও সম্পদের যুলুমকারী হিসেবে কেউ আমার বিরুদ্ধে দাবিদার হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسِ قَالَ: غَلَا السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ لَنَا، فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ، الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ، إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أَحَدٌ يَطْلُبُنِي بِمَظْلِمَةٍ فِي بِدَمٍ وَلَا مَالٍ» (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় বাতিল করার অধিকার
ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে যদি উভয় পক্ষ (বিক্রেতা ও ক্রেতা) অথবা উভয়ের মধ্যে কোন একজন এ শর্ত আরোপ করে নেয় যে, এক অথবা দু'তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি বাতিল করার আমার অধিকার থাকবে।
ফিকাহ্ ও শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে 'খিয়ারে শর্ত' বলা হয়। এ বিষয়ে হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির ওপর ফকীহগণের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র) এবং অন্যান্য কতক ইমামের নিকট এরূপ শর্ত ও চুক্তি ছাড়াও উভয় পক্ষ কর্তৃক বিষয়টি বাতিল করার তখন পর্যন্ত অধিকার থাকে যতক্ষণ তারা উভয়ে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেই স্থানে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু যদি কোন একজনও স্থানচ্যুত হয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে এ অধিকার বাকি থাকবে না। এটাকে ফিকাহর পরিভাষায় 'খিয়ারে মজলিস' বলা হয়। ইমাম আবু হানীফা (র) এবং অন্যান্য কতক ইমাম খিয়ারে মজলিসের সমর্থক নন। এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয়ের কথা-বার্তা যখন উভয় পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মীমাংসিত হয়ে যায় এবং বেচা-কেনা চূড়ান্ত হয়ে আদান-প্রদান হয়ে যায় আর প্রথম থেকে যদি কোন পক্ষ ক্রয়-বিক্রয় করার শর্ত সংযোগ না করে তবে কোন পক্ষই এককভাবে বিষয়টি বাতিল করতে পারবে না। হ্যাঁ! পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিষয়টি বাতিল করা যেতে পারে, যাকে শরী'আতের পরিভাষায় ইকালা বলা হয়।
ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে যদি উভয় পক্ষ (বিক্রেতা ও ক্রেতা) অথবা উভয়ের মধ্যে কোন একজন এ শর্ত আরোপ করে নেয় যে, এক অথবা দু'তিন দিন পর্যন্ত বিষয়টি বাতিল করার আমার অধিকার থাকবে।
ফিকাহ্ ও শরীয়তের পরিভাষায় এটাকে 'খিয়ারে শর্ত' বলা হয়। এ বিষয়ে হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টির ওপর ফকীহগণের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম শাফিঈ (র) এবং অন্যান্য কতক ইমামের নিকট এরূপ শর্ত ও চুক্তি ছাড়াও উভয় পক্ষ কর্তৃক বিষয়টি বাতিল করার তখন পর্যন্ত অধিকার থাকে যতক্ষণ তারা উভয়ে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেই স্থানে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু যদি কোন একজনও স্থানচ্যুত হয়ে পৃথক হয়ে যায় তবে এ অধিকার বাকি থাকবে না। এটাকে ফিকাহর পরিভাষায় 'খিয়ারে মজলিস' বলা হয়। ইমাম আবু হানীফা (র) এবং অন্যান্য কতক ইমাম খিয়ারে মজলিসের সমর্থক নন। এ বিষয়ে তাঁদের অভিমত হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয়ের কথা-বার্তা যখন উভয় পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মীমাংসিত হয়ে যায় এবং বেচা-কেনা চূড়ান্ত হয়ে আদান-প্রদান হয়ে যায় আর প্রথম থেকে যদি কোন পক্ষ ক্রয়-বিক্রয় করার শর্ত সংযোগ না করে তবে কোন পক্ষই এককভাবে বিষয়টি বাতিল করতে পারবে না। হ্যাঁ! পারস্পরিক সম্মতিক্রমে বিষয়টি বাতিল করা যেতে পারে, যাকে শরী'আতের পরিভাষায় ইকালা বলা হয়।
৪২৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ে উভয় পক্ষের (বাতিলের) অধিকার আছে যতক্ষণ তারা পৃথক না হয়, শর্তযুক্ত ক্রয়-বিক্রয় ছাড়া। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «المُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، إِلَّا بَيْعَ الخِيَارِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয় বাতিল করার অধিকার
৪২৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ততক্ষণ পর্যন্ত ইখতিয়ার থাকে, যতক্ষণ পরস্পর পৃথক না হয়। (এরপর ইখতিয়ার নেই) হ্যাঁ যদি (শর্ত আরোপ করে) ইখতিয়ার সংরক্ষণ করা হয়। উভয়ের কারো ফেরত গ্রহণের ভয়ে একে অন্য থেকে পৃথক হওয়া বৈধ নয়। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمَرَو ابْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «البَيِّعَانِ بِالخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَفْقَةَ خِيَارٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَ صَاحِبَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ» (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খিয়ারে আয়ব' অর্থাৎ দোষের কারণে লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা
ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেন-দেন বাতিল করার দু'প্রকার ক্ষমতা উপরে উল্লিখিত হাদীসসমূহে আলোচিত হয়েছে। (এক, খিয়ারে শর্ত, দুই, খিয়ারে মজলিস') তৃতীয় এক পদ্ধতি হচ্ছে- ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি জানা গেলে যা পূর্বে জানা ছিল না, এ সূরতেও ক্রেতার লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। এর একটি দৃষ্টান্ত হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত নিম্নের হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত লেন-দেন বাতিল করার দু'প্রকার ক্ষমতা উপরে উল্লিখিত হাদীসসমূহে আলোচিত হয়েছে। (এক, খিয়ারে শর্ত, দুই, খিয়ারে মজলিস') তৃতীয় এক পদ্ধতি হচ্ছে- ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি জানা গেলে যা পূর্বে জানা ছিল না, এ সূরতেও ক্রেতার লেন-দেন বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে। এর একটি দৃষ্টান্ত হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত নিম্নের হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।
৪২৯. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি অন্য আরো নিকট হতে এক দাস ক্রয় করল এবং সে (কিছুদিন) যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা তার নিকট রইল। এরপর সে জানতে পারল দাসটির মধ্যে ত্রুটি রয়েছে। তখন সেই ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট হাযির হলেন, তিনি (এই ত্রুটির ভিত্তিতে) দাসকে ফেরত প্রদানের ফায়সালা দিলেন। বিক্রেতা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই ভাই (এতদিন পর্যন্ত) আমার দাস থেকে কাজ নিয়েছে উপকৃত হয়েছে। (সুতরাং এর বিনিময় আমার প্রাপ্য) তিনি বললেন, «الخراج بالضمان» (অর্থাৎ লাভের যোগ্য সেই, যে ক্ষতির জিম্মাদার)। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلًا، ابْتَاعَ غُلَامًا فَأَقَامَ عِنْدَهُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يُقِيمَ، ثُمَّ وَجَدَ بِهِ عَيْبًا فَخَاصَمَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّهُ عَلَيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدِ اسْتَغَلَّ غُلَامِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ» (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইকালা অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হওয়ার পর তা বাতিল ও ফেরত গ্রহণ
কখনো এরূপ হয় যে, দু’ব্যক্তির মধ্যে কোন জিনিসের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপার হল এবং উভয় পক্ষ থেকে কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল, লেন-দেনও হল। এরপর কোন এক পক্ষ নিজের সুবিধার প্রেক্ষিতে লেন-দেন বাতিল করতে চায়। যেমন ক্রেতা ক্রয়কৃত জিনিস ফেরত দিতে চায় অথবা বিক্রেতা তার জিনিস ফেরত নিতে চায়, এমতাবস্থায় যদিও শরীআতের দৃষ্টিতে অন্য পক্ষ বাধ্য নয় যে, সে এজন্য সম্মত হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ চারিত্রিক ধারায় এটা অনুমোদন করেছেন এবং একে বড় পুণ্যের কাজ বলে স্থির করেছেন, শরীআতের পরিভাষায় এটাকেই ইকালা বলা হয়।
কখনো এরূপ হয় যে, দু’ব্যক্তির মধ্যে কোন জিনিসের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপার হল এবং উভয় পক্ষ থেকে কথাবার্তা সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেল, লেন-দেনও হল। এরপর কোন এক পক্ষ নিজের সুবিধার প্রেক্ষিতে লেন-দেন বাতিল করতে চায়। যেমন ক্রেতা ক্রয়কৃত জিনিস ফেরত দিতে চায় অথবা বিক্রেতা তার জিনিস ফেরত নিতে চায়, এমতাবস্থায় যদিও শরীআতের দৃষ্টিতে অন্য পক্ষ বাধ্য নয় যে, সে এজন্য সম্মত হবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ চারিত্রিক ধারায় এটা অনুমোদন করেছেন এবং একে বড় পুণ্যের কাজ বলে স্থির করেছেন, শরীআতের পরিভাষায় এটাকেই ইকালা বলা হয়।
৪৩০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে বান্দা তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে ইকালা করে (অর্থাৎ তার বিক্রীত বা ক্রয়কৃত জিনিস ফেরত গ্রহণে সম্মত হয়ে যায়) তবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার ত্রুটি (অর্থাৎ তার গুনাহ) ক্ষমা করবেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا، أَقَالَهُ اللَّهُ عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ব্যবসায়ীদের শপথ করা সম্পর্কিত নিষেধ
কোন কোন ব্যবসায়ী ও দোকানদার নিজের পণ্য বিক্রি করার জন্য অধিক শপথ করে থাকে এবং শপথের মাধ্যমে গ্রাহককে ক্রয়ের জন্য আগ্রহী করাতে চায়। এটা আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নামের অন্যায় ব্যবহার। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণীসমূহে নিষেধ করেছেন এবং এটাকে অকল্যাণের হেতু বলেছেন।
কোন কোন ব্যবসায়ী ও দোকানদার নিজের পণ্য বিক্রি করার জন্য অধিক শপথ করে থাকে এবং শপথের মাধ্যমে গ্রাহককে ক্রয়ের জন্য আগ্রহী করাতে চায়। এটা আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নামের অন্যায় ব্যবহার। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বাণীসমূহে নিষেধ করেছেন এবং এটাকে অকল্যাণের হেতু বলেছেন।
৪৩১. আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ক্রয়-বিক্রয়ে অধিক শপথ করা থেকে বেঁচে থেকো। কেননা (যদিও কার্যত দোকান খুব চালু হয়) কিন্তু পরে কল্যাণহীন হয়ে যায়।
(মুসলিম)
(মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكُمْ وَكَثْرَةَ الْحَلِفِ فِي الْبَيْعِ؛ فَإِنَّهُ يُنَفِّقُ، ثُمَّ يَمْحَقُ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ব্যবসায় শপথ করা ও অন্যান্য অসংগত কথাবার্তার কাফফারা
৪৩২. হযরত কায়েস ইব্ন গারযা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, হে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়! ক্রয়-বিক্রয়ে অসার কথা ও শপথ করা হয়ে থাকে যাকে। (এটার প্রতিষেধক ও কাফ্ফারা হিসাবে)-এর সাথে সাদকাহ মিলিয়ে দাও। (আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، قَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ، إِنَّ الْبَيْعَ يَحْضُرُهُ اللَّغْوُ وَالْحَلْفُ، فَشُوبُوهُ بِالصَّدَقَةِ» (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যদি ব্যবসা সততা ও তাকওয়ার সাথে না হয় তবে হাশর খুবই মন্দ
৪৩৩. হযরত রিফাআ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, মুত্তাকী, পরহেযগার ও সত্যবাদী ব্যবসায়ীগণ ছাড়া সব ব্যবসায়ীকে পাপী ও বদকার হিসাবে উঠানো হবে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ رِفَاعَةَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «التُّجَّارُ يُحْشَرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلَّا مَنِ اتَّقَى وَبَرَّ وَصَدَقَ» (رواه والترمذى وابن ماجة والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বাসস্থান ইত্যাদি সম্পদ বিক্রি সম্পর্কে একটি দরদমিশ্রিত হিদায়াত
বাসস্থান, বাগান অথবা কৃষি জমির ন্যায় স্থাবর সম্পদের বৈশিষ্ট্য এটাই যে, না এটা কেউ চুরি করতে পারে, না অস্থাবর সম্পদের ন্যায় এর উপর কোন বিপদ পতিত হয়। এজন্য বিচক্ষণতার দাবি হচ্ছে বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া এসব সম্পদ ও জিনিষ বিক্রয় না করা। আর যদি বিক্রি করা হয় তবে এর মূল্য দ্বারা স্থাবর সম্পদই ক্রয় করা হবে। উন্মতের অবস্থার প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যে দরদ, তার ভিত্তিতে তিনি এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন। নিম্নের হাদীস এ উপদেশেরই অন্তর্ভুক্ত।
বাসস্থান, বাগান অথবা কৃষি জমির ন্যায় স্থাবর সম্পদের বৈশিষ্ট্য এটাই যে, না এটা কেউ চুরি করতে পারে, না অস্থাবর সম্পদের ন্যায় এর উপর কোন বিপদ পতিত হয়। এজন্য বিচক্ষণতার দাবি হচ্ছে বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া এসব সম্পদ ও জিনিষ বিক্রয় না করা। আর যদি বিক্রি করা হয় তবে এর মূল্য দ্বারা স্থাবর সম্পদই ক্রয় করা হবে। উন্মতের অবস্থার প্রতি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যে দরদ, তার ভিত্তিতে তিনি এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন। নিম্নের হাদীস এ উপদেশেরই অন্তর্ভুক্ত।
৪৩৪. হযরত সাঈদ ইবনে হুরাইস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার ঘর অথবা সম্পত্তি বিক্রি করে তবে সেই মূল্য সম্পত্তিতে লাগানো ছাড়া বরকত না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَعِيدِ بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ بَاعَ مِنْكُمْ دَارًا أَوْ عَقَارًا، قَمِنٌ أَنْ لَا يُبَارَكَ لَهُ إِلَّا أَنْ يَجْعَلَهُ فِي مِثْلِهِ» (رواه ابن ماجة والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বাসস্থান ইত্যাদি সম্পদ বিক্রি সম্পর্কে একটি দরদমিশ্রিত হিদায়াত
৪৩৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যে দু'ব্যক্তি অংশীদারিত্বের ব্যবসা করে, আমি তৃতীয় হিসাবে তাদের সাথে থাকি (অর্থাৎ আমার রহমত ও বরকত তাদের সাথে থাকে) যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তার সাথীর অধিকারে খিয়ানত না করে। কেউ যখন খিয়ানত করে তখন আমি তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাই। (এবং তারা আমার সাহায্য ও বরকত থেকে বঞ্চিত হয়)। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَفَعَهُ: " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: أَنَا ثَالِثُ الشَّرِيكَيْنِ مَا لَمْ يَخُنْ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ، فَإِذَا خَانَهُ خَرَجْتُ مِنْ بَيْنِهِمَا " (رواه ابوداؤد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ব্যবসায়-বাণিজ্যে কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করাও বৈধ
৪৩৬. হযরত 'উরওয়া ইবনে আবুল জা'আদ আল-বারিকী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে একটি বকরি ক্রয়ের জন্যে এক দীনার দিলেন। তিনি তাঁর জন্য দুটি বকরি ক্রয় করলেন। তন্মধ্যে একটি বকরি এক দীনারে বিক্রি করে দিলেন। ফেরত এসে তিনি একটি বকরি ও একটি দীনার তাঁকে দিলেন। (এবং ঘটনা বর্ণনা করলেন) তখন তিনি তাঁর জন্যে (বিশেষভাবে) ক্রয়-বিক্রয়ে বরকতের জন্য দু'আ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এ দু'আর ফলে তার অবস্থা এরূপ দাঁড়ায় যে, তিনি যদি মাটিও ক্রয় করতেন তবে তাতেও তার লাভ হত। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُرْوَةَ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الْبَارِقِىّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهُ دِينَارًا لِيَشْتَرِيَ شَاةً، فَاشْتَرَى لَهُ شَاتَيْنِ فَبَاعَ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ وَأَتَاهُ بِشَاةٍ وَدِينَارٍ، فَدَعَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْعِهِ بِالْبَرَكَةِ، فَكَانَ لَوِ اشْتَرَى تُرَابًا لَرَبِحَ فِيهِ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ব্যবসায়-বাণিজ্যে কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করাও বৈধ
৪৩৭. হযরত হাকীম ইবনে হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে এক দীনার দিয়ে নিজের জন্য একটি কুরবানীর পশু ক্রয় করতে পাঠালেন। তিনি এক দীনার দ্বারা ভেড়া (অথবা দুম্বা) ক্রয় করে এটা কোন ক্রেতার কাছে দু'দীনারে বিক্রি করে দিলেন। এরপর এসে বেঁচে যাওয়া এক দীনার দিয়ে কুরবানির একটি পশু ক্রয় করলেন তারপর হুজুর ﷺ-এর নিকট এসে কুরবানির পশুসহ সেই এক দীনারও পেশ করলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ সে দীনারটি সাদকাহ করে নিলেন। এবং হাকীম ইবনে হিযামের জন্য ব্যবসায়-বাণিজ্যে বরকতের দু'আ করলেন। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ مَعَهُ بِدِينَارٍ لِيَشْتَرِي لَهُ بِهِ أُضْحِيَّةً، فَاشْتَرَاهَا كَبْشًا بِدِينَارٍ، وَبَاعَهُ بِدِينَارَيْنِ، فَرَجَعَ فَاشْتَرَى لَهُ أُضْحِيَّةً بِدِينَارٍ، فَجَاءَ بِهَا وَبِالدِّينَارِ الَّذِىْ اِسْتَفْضَلَ مِنَ الْاُخْرَى فَتَصَدَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالدِّينَارِ فَدَعَا لَهُ أَنْ يُبَارَكَ لَهُ فِي تِجَارَتِهِ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইজারা (অর্থাৎ পারিশ্রমিক ও ভাড়া সংক্রান্ত কায়কারবার)
কাউকে ভাড়া ও পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের কাজ করানো কিংবা ব্যবহারের জন্য কাউকে নিজের জিনিস দিয়ে সেই জিনিসের ভাড়া গ্রহণ করাকে শরীয়াত ও ফিকহের পরিভাষায় ইজারা বলা হয় এবং ইহা সেই সব লেন-দেনের অন্তর্ভুক্ত, যার উপর মনুষ্য সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
কাউকে ভাড়া ও পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের কাজ করানো কিংবা ব্যবহারের জন্য কাউকে নিজের জিনিস দিয়ে সেই জিনিসের ভাড়া গ্রহণ করাকে শরীয়াত ও ফিকহের পরিভাষায় ইজারা বলা হয় এবং ইহা সেই সব লেন-দেনের অন্তর্ভুক্ত, যার উপর মনুষ্য সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত। এ বিষয়ে কতক হাদীস নিম্নে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে।
৪৩৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সব নবীই বকরির রাখালী করেছেন। সাহাবা কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি ও? তিনি বললেন, হ্যাঁ কতক কীরাতের বিনিময়ে আমি মক্কাবাসীর বকরির রাখালী করতাম। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا رَعَى الغَنَمَ»، فَقَالَ أَصْحَابُهُ: وَأَنْتَ؟ فَقَالَ: «نَعَمْ، كُنْتُ أَرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لِأَهْلِ مَكَّةَ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইজারা (অর্থাৎ পারিশ্রমিক ও ভাড়া সংক্রান্ত কায়কারবার)
৪৩৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বে শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও। (ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ، قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ» (رواه وابن ماجة)
তাহকীক: