মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৪৪০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জমাবন্দী কিংবা চুক্তির ভিত্তিতে জমি প্রদান
ইজারারই এক পন্থা এই যে, নিজের জমি কাউকে দেওয়া হবে, সে তাতে কৃষি তাজ করবে, আর নির্ধারিত ভাড়া নগদ পরিশোধ করবে। অথবা নগদ জমাবন্দীর পরিবর্তে চুক্তি হবে যে, উৎপন্ন ফসলের এত অংশ জমির মালিককে দেওয়া হবে। নিম্নলিখিত হাদীসসমূহের সম্পর্ক এই উভয় পদ্ধতির সাথে।
ইজারারই এক পন্থা এই যে, নিজের জমি কাউকে দেওয়া হবে, সে তাতে কৃষি তাজ করবে, আর নির্ধারিত ভাড়া নগদ পরিশোধ করবে। অথবা নগদ জমাবন্দীর পরিবর্তে চুক্তি হবে যে, উৎপন্ন ফসলের এত অংশ জমির মালিককে দেওয়া হবে। নিম্নলিখিত হাদীসসমূহের সম্পর্ক এই উভয় পদ্ধতির সাথে।
৪৪০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ (খায়বর বিজয়ের পর) খায়বরের জমি তথাকার ইয়াহুদীদের এই শর্তে প্রদান করেন যে, তারা তথায় কাজ করে কৃষি দ্রব্য ফলাবে আর উৎপন্ন দ্রব্যের অর্ধেক তাদের। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْبَرَ اليَهُودَ أَنْ يَعْمَلُوهَا وَيَزْرَعُوهَا، وَلَهُمْ شَطْرُ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ لگان یا بٹائی پر زمین دینا
৪৪১. আমর ইবনে দীনার তাবিঈ বর্ণনা করেন, আামি তাউস তাবিঈকে বললাম, আপনি যদি জমাবন্দী দিয়ে টাকা গ্রহণ ছেড়ে দিতেন তবে উত্তম হত। কেননা, লোকজনের ধারণা রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহা নিষেধ করেছেন। তিনি বললেন, আমি কৃষকদের কৃষি কাজের জমি দেই, এছাড়াও তাঁদের সাহায্য করি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ জমি জমাবন্দী দেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেননি। তবে নিজের জমি তার অন্য ভাইকে কৃষি কাজের জন্যে (টাকা ছাড়া) দেওয়া টাকা নিয়ে দেওয়ার চেয়ে উত্তম। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرٍو قَالَ : قُلْتُ لِطَاوُسٍ: لَوْ تَرَكْتَ المُخَابَرَةَ فَإِنَّهُمْ يَزْعُمُونَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْهُ، قَالَ: أَيْ عَمْرُو إِنِّي وَأُعْطِيهِمْ وَأُغْنِيهِمْ وَإِنَّ أَعْلَمَهُمْ، أَخْبَرَنِي يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَنْهَ عَنْهُ وَلَكِنْ، قَالَ: «أَنْ يَمْنَحَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ عَلَيْهِ خَرْجًا مَعْلُومًا» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঝাড় ফুঁক-এর বিনিময় গ্রহণ
নিজের কাজ ও পরিশ্রমের বিনিময় লওয়া ভাড়া স্বরূপ। এটার একটি পদ্ধতি এইরূপ যে, কোন রোগী ইত্যাদির উপর কুরআন শরীফ বা কোন দু'আ করে ফুঁক দেওয়া হয়। কিংবা তাবীজ লিখে এর বিনিময় গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালে এরূপ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর সাহাবা কিরাম ফুঁক দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ সেটা বৈধ ও পবিত্র বলেছেন।
নিজের কাজ ও পরিশ্রমের বিনিময় লওয়া ভাড়া স্বরূপ। এটার একটি পদ্ধতি এইরূপ যে, কোন রোগী ইত্যাদির উপর কুরআন শরীফ বা কোন দু'আ করে ফুঁক দেওয়া হয়। কিংবা তাবীজ লিখে এর বিনিময় গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালে এরূপ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর সাহাবা কিরাম ফুঁক দিয়ে বিনিময় গ্রহণ করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ সেটা বৈধ ও পবিত্র বলেছেন।
৪৪২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত। সাহাবা কিরামের এক দল একটি জনপদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে সাপে অথবা বিচ্ছুতে দংশন করেছিল। জনপদের এক লোক এসে বলল, তোমাদের কাছে কোন ঝাড় ফুঁককারী আছে কি? আমাদের জনপদে একব্যক্তিকে সাপে দংশন করেছে অথবা বলেছে, বিচ্ছু দংশন করেছে। (সম্ভবত এটা বর্ণনাকারীর সংশয়) তখন সাহাবীদের একজন তার সাথে গেলেন এবং কতক বকরির বিনিময়ে ফুঁক দিলেন। সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর বকরিগুলো নিয়ে তাঁর সাথীদের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। সাথীগণ ইহা মন্দ বলে মনে করলেন। তাঁরা তাঁকে বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিয়েছে! এমন কি তাঁরা মদীনা শরীফ এলেন। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের অমুক সাথী আল্লাহর কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে পারিশ্রমিক নিয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা যা গ্রহণ করেছ এর বিনিময় গ্রহণ করার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব তার বহু উপযুক্ত। (বুখারী)
আর সহীহ বুখারীতে এ হাদীসেই একথা এসেছে যে, তোমরা সঠিক করছ। বকরিগুলো তোমরা পরস্পরে বণ্টন করে নাও এবং আমাকেও অংশ দাও।
আর সহীহ বুখারীতে এ হাদীসেই একথা এসেছে যে, তোমরা সঠিক করছ। বকরিগুলো তোমরা পরস্পরে বণ্টন করে নাও এবং আমাকেও অংশ দাও।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرُّوا بِمَاءٍ، فِيهِمْ لَدِيغٌ أَوْ سَلِيمٌ، فَعَرَضَ لَهُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ المَاءِ، فَقَالَ: هَلْ فِيكُمْ مِنْ رَاقٍ، إِنَّ فِي المَاءِ رَجُلًا لَدِيغًا أَوْ سَلِيمًا، فَانْطَلَقَ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَرَأَ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ عَلَى شَاءٍ، فَبَرَأَ، فَجَاءَ بِالشَّاءِ إِلَى أَصْحَابِهِ، فَكَرِهُوا ذَلِكَ وَقَالُوا: أَخَذْتَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا، حَتَّى قَدِمُوا المَدِينَةَ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخَذَ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ أَجْرًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ» (رواه البخارى) وفى رواية اقْسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ سَهْمًا.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ প্রসঙ্গে
সভ্য জীবনে এ বিষয়েরও প্রয়োজন পড়ে যে, সাময়িক প্রয়োজনে কারো থেকে কোন জিনিস (পারিশ্রমিক ও বিনিময় ছাড়া) ব্যবহারের জন্যে চেয়ে আনা হয়, আর প্রয়োজন শেষে ফেরত প্রদান করা হয়। এটাকে ধার-করয বা ঋণ বলে। এটা এক প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা। আর নিঃসন্দেহে কোন প্রয়োজনশীল ব্যক্তিকে নিজের জিনিস ঋণ প্রদানকারী পুণ্য ও পুরস্কারের যোগ্য। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও প্রয়োজন কালে কোন জিনিস ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে ব্যবহার করেছেন। আর এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
সভ্য জীবনে এ বিষয়েরও প্রয়োজন পড়ে যে, সাময়িক প্রয়োজনে কারো থেকে কোন জিনিস (পারিশ্রমিক ও বিনিময় ছাড়া) ব্যবহারের জন্যে চেয়ে আনা হয়, আর প্রয়োজন শেষে ফেরত প্রদান করা হয়। এটাকে ধার-করয বা ঋণ বলে। এটা এক প্রকারের সাহায্য-সহযোগিতা। আর নিঃসন্দেহে কোন প্রয়োজনশীল ব্যক্তিকে নিজের জিনিস ঋণ প্রদানকারী পুণ্য ও পুরস্কারের যোগ্য। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও প্রয়োজন কালে কোন জিনিস ঋণ হিসাবে গ্রহণ করে ব্যবহার করেছেন। আর এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যা নিম্নের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
৪৪৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। (কোন সন্দেহের ভিত্তিতে) মদীনায় ভীতি সঞ্চার হল। (সম্ভবত শত্রুসেনার আগমনের ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল) এ কারণে মদীনা শরীফের জনসাধারণের মধ্যে ভীতি ও বিপদের অনুভূতি সৃষ্টি হল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ আবু তালহ্য আনসারী থেকে একটি ঘোড়া কর্জ চাইলেন। এটাকে মানদুব বলা হত। (তার অর্থ হচ্ছে ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন) এরপর তিনি তাতে আরোহণ করে (যেদিক থেকে বিপদের আশংকা ছিল সেদিকে গেলেন) তারপর প্রত্যাবর্তন করে বললেন, কিছুই দেখিনি, (অর্থাৎ বিপদের বিষয় দৃষ্টিগোচর হয়নি)। সুতরাং লোকজনকে আশ্বস্ত করা উচিত। এরপর আবু তালহার ঘোড়া সম্পর্কে বললেন, আমি এটাকে ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন পেয়েছি। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ فَزَعٌ بِالْمَدِينَةِ، فَاسْتَعَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَسًا مِنْ أَبِي طَلْحَةَ يُقَالُ لَهُ المَنْدُوبُ، فَرَكِبَ، فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ: «مَا رَأَيْنَا مِنْ شَيْءٍ، وَإِنْ وَجَدْنَاهُ لَبَحْرًا» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ প্রসঙ্গে
৪৪৪. হযরত উমাইয়া ইবনে সাফওয়ান স্বীয় পিতা সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হুনাইন যুদ্ধ (যাত্রা) কালে তার নিকট তার লৌহ বর্ম চান (অর্থাৎ তিনি তাকে বললেন, তোমার লৌহবর্ম যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমাকে দাও) এবং সাফওয়ান (তখনও তিনি মুসলমান হননি) বললেন, হে মুহাম্মদ! আমার লৌহবর্ম লুন্ঠন করে নিতে চান? (অর্থাৎ যেহেতু আপনি বিজয়ী এবং শক্তি ও ক্ষমতা আপনার হাতে এ জন্যে?) তিনি বললেন, না, বরং কর্জ হিসাবে (নিতে চাই) যা পরে ফেরত দেওয়ার জিম্মা রইল। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعَارَ مِنْهُ أَدْرَعَهُ يَوْمَ حُنَيْنٍ، فَقَالَ: أَغَصْبًا يَا مُحَمَّدُ؟ قَالَ: «بَلْ عَارِيَةٌ مَضْمُونَةٌ؟» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ প্রসঙ্গে
৪৪৫. হযরত আবু উমামা বাহিলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কর্জ (অবশ্যই) ফেরত দেওয়া হবে, উপকারের জন্য প্রদত্ত জিনিস মালিককে ফেরত দেওয়া হবে। ঋণ (চুক্তি মুতাবিক) পরিশোধ করতে হবে। আর যামিনদার পরিশোধের ব্যাপারে জিম্মাদার। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِيْ أُمَامَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ، وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةٌ وَالدَّيْنَ مَقْضِيٌّ وَالزَّعِيمَ غَارِمٌ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)
যদি কারো কোন জিনিষ মূল্য পরিশোধ করে গ্রহণ করা হয় তবে শরী'আত ও সাধারণের ভাষায় এটাকে ‘ইজারা’ বলে। আর যদি কোন প্রকার বিনিময় ও ভাড়া ছাড়া কোন জিনিস সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা হয় এবং ব্যবহার শেষে ফেরত দেওয়া হয় তবে এটাকে 'কর্জ' বলা হয়। এসব পদ্ধতি বৈধ ও বিশুদ্ধ। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকনির্দেশনা ও বাণী পূর্ব পৃষ্ঠাগুলোতে পাঠকবৃন্দের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।
অন্য কারো জিনিস গ্রহণের এটাও এক পন্থা যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে নিয়ে নেওয়া। শরী'আতের পরিভাষায় এটাকে (غصب) ছিনতাই বলে। এটা হারাম ও শক্ত গুনাহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্ন বর্ণিত কতক হাদীস পাঠক পাঠ করে নিন।
যদি কারো কোন জিনিষ মূল্য পরিশোধ করে গ্রহণ করা হয় তবে শরী'আত ও সাধারণের ভাষায় এটাকে ‘ইজারা’ বলে। আর যদি কোন প্রকার বিনিময় ও ভাড়া ছাড়া কোন জিনিস সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা হয় এবং ব্যবহার শেষে ফেরত দেওয়া হয় তবে এটাকে 'কর্জ' বলা হয়। এসব পদ্ধতি বৈধ ও বিশুদ্ধ। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকনির্দেশনা ও বাণী পূর্ব পৃষ্ঠাগুলোতে পাঠকবৃন্দের দৃষ্টি গোচর হয়েছে।
অন্য কারো জিনিস গ্রহণের এটাও এক পন্থা যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে নিয়ে নেওয়া। শরী'আতের পরিভাষায় এটাকে (غصب) ছিনতাই বলে। এটা হারাম ও শক্ত গুনাহ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্ন বর্ণিত কতক হাদীস পাঠক পাঠ করে নিন।
৪৪৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি কারো কিছু জমি অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে তবে কিয়ামতের দিন তাকে এ জমির কারণে (এর শাস্তিস্বরূপ) জমির সাত স্তর নিচে দাবিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ ابْنُ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)
৪৪৭. হযরত ইমরান ইবনে হুছাইন (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে কারো জিনিস ছিনতাই করল সে আমাদের মধ্যে নয়। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً فَلَيْسَ مِنَّا» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)
৪৪৮. সাইব ইবনে ইয়াযিদ স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের কেউ যেন তার ভাইর লাঠি না নেয়। না ঠাট্টাচ্ছলে, না নেওয়ার উদ্দেশ্যে। যদি কেউ তার ভাই-এর লাঠি নিয়ে নেয় তবে যেন ফেরত দেয়। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَأْخُذْ أَحَدُكُمْ عَصَا أَخِيهِ لَاعِبًا أَوْ جَادًّا، فَمَنْ أَخَذَ عَصَا أَخِيهِ فَلْيَرُدَّهَا إِلَيْهِ» (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)
৪৪৯. আবু হুররা রাককাশী স্বীয় চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, সাবধান! কারো প্রতি যুলুম করো না। সাবধান! কারো সন্তুষ্টি ছাড়া কোন জিনিস গ্রহণ করা বৈধ নয়। (বায়হাকীর শু'আবুল ঈমান, দারা কুতনী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ , عَنْ عَمِّهِ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « أَلَا لَا تَظْلِمُوا، أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بطِيْبِ نَفْسٍ مِنْهُ» (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ছিনতাই (কারো জিনিস অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা)
৪৫০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর কতিপয় সাহাবী এক মহিলার নিকট দিয়ে গমন করছিলেন। (সে মহিলা তাঁকে খাবার দাওয়াত দিলে তিনি তা কবুল করেন)। মহিলা একটি বকরি যবেহ করলেন, খানা তৈরি করলেন। (তাঁর ও তাঁর সাথীদের সামনে খানা পেশ করলেন)। তিনি এক লোকমা নিলেন, কিন্তু গিলতে সক্ষম হলেন না। তিনি বললেন, (ঘটনায় মনে হচ্ছে) এ বকরি প্রকৃত মালিকের অনুমতি ছাড়া যবেহ করা হয়েছে। মহিলা বললেন, আমরা (আমাদের প্রতিবেশী) মু'আয পরিবারের সাথে কোন লৌকিকতা করব না। আমরা তাদের জিনিস গ্রহণ করি, তারাও আমাদের জিনিস গ্রহণ করে। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَرُّوا بِأَصْحَابِهِ، فَذَبَحَتْ لَهُمْ شَاةً، وَاتَّخَذَتْ لَهُمْ طَعَامًا، فَأَخَذَ لُقْمَةً، فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُسِيغَهَا، فَقَالَ: «هَذِهِ شَاةٌ ذُبِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ أَهْلِهَا» ، فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، إِنَّا لَا نَحْتَشِمُ مِنْ آلِ مُعَاذٍ، نَأْخُذُ مِنْهُمْ، وَيَأْخُذُونَ مِنَّا. (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপহার-উপঢৌকন আদান-প্রদান করা
সাংস্কৃতিক জীবনে লেন-দেনের এটাও একটি পন্থা যে, নিজের কোন জিনিস উপহার উপঢৌকন হিসাবে কাউকে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পবিত্র বাণীসমূহে এ বিষয়ে খুবই উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর এই হিকমত বলা হয়েছে যে, এতে হৃদয়ে ভালবাসা, প্রীতি-বন্ধন ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। যা এ জগতের বিরাট নি'আমত, আর অনেক বিপদ থেকে রক্ষা এবং শান্তি লাভের অবলম্বন।
উপহার সেই দান যা অন্যের হৃদয় খুশি করা এবং তার সাথে নিজের সম্পর্ক প্রকাশের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই উদ্দেশ্য।
এই দান যদি নিজের কোন ছোট ব্যক্তিকে দেয়া হয়, তবে এর দ্বারা নিজের ভালবাসা প্রকাশ পায়। যদি কোন বন্ধুকে দেয়া হয়, তবে তা ভালবাসা বৃদ্ধির ওসীলা হয়। যদি কোন দরিদ্রকে দেয়া হয়, তবে তার সেবার কারণে তার দু'আর পাত্রে পরিণত হয়। আর যদি এমন কোন মুরুব্বী ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে দেয়া হয় তবে তা তার সম্মান-নযরানা হিসাবে বিবেচিত।
কোন মানুষকে অভাবী মনে করে আল্লাহর জন্য ও পুণ্য লাভের নিয়তে দেয়া হয়, তবে তা হাদিয়া হবে না, বরং সাদকা হবে। হাদিয়া তখনই হবে, যখন এর দ্বারা নিজের ভালবাসা ও নিজের সুসম্পর্ক প্রকাশ উদ্দেশ্য হয়। সাথে সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও দাবি থাকে। হাদিয়া যদি নিষ্ঠার সাথে দেয়া হয়, তবে এর সওয়াব সাদকা থেকে কম নয় বরং কখনো বেশি হবে। হাদিয়া ও সাদকার এ পার্থক্যের ফলশ্রুতি হচ্ছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ ধন্যবাদ ও দু'আর মাধ্যমে হাদিয়া গ্রহণ করতেন আর তা নিজেও ব্যবহার করতেন। আর সাদকা যদিও ধন্যবাদ ও দু'আর মাধ্যমে গ্রহণ করতেন তবে নিজে ব্যবহার করতেন না। অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন।
আক্ষেপ! উম্মতের মধ্যে পারস্পরিক নিষ্ঠার সাথে হাদিয়া লেন-দেনের প্রথা খুবই কমে গেছে। কোন কোন বিশেষ স্তরে কেবল নিজেদের মুরুব্বী, আলিম ও পীরদের হাদিয়া প্রদানের কিছু প্রথা রয়েছে; কিন্তু নিজেদের প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী প্রমুখের নিকট হাদিয়া প্রেরণের প্রথা একেবারে কমে গেছে। অথচ হৃদয়ে ভালবাসা, সম্পর্কে আনন্দ ও জীবনে শান্তি ও স্থিতি অর্জনে এবং এর সাথে আল্লাহর সন্তুটি লাভের জন্য এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বলে দেওয়া অমূল্য নীতিমালা ছিল। এ ভুমিকার পর হাদিয়া সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্ন বর্ণিত কতক বাণী পাঠ করুন।
সাংস্কৃতিক জীবনে লেন-দেনের এটাও একটি পন্থা যে, নিজের কোন জিনিস উপহার উপঢৌকন হিসাবে কাউকে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর পবিত্র বাণীসমূহে এ বিষয়ে খুবই উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর এই হিকমত বলা হয়েছে যে, এতে হৃদয়ে ভালবাসা, প্রীতি-বন্ধন ও সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। যা এ জগতের বিরাট নি'আমত, আর অনেক বিপদ থেকে রক্ষা এবং শান্তি লাভের অবলম্বন।
উপহার সেই দান যা অন্যের হৃদয় খুশি করা এবং তার সাথে নিজের সম্পর্ক প্রকাশের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে। এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই উদ্দেশ্য।
এই দান যদি নিজের কোন ছোট ব্যক্তিকে দেয়া হয়, তবে এর দ্বারা নিজের ভালবাসা প্রকাশ পায়। যদি কোন বন্ধুকে দেয়া হয়, তবে তা ভালবাসা বৃদ্ধির ওসীলা হয়। যদি কোন দরিদ্রকে দেয়া হয়, তবে তার সেবার কারণে তার দু'আর পাত্রে পরিণত হয়। আর যদি এমন কোন মুরুব্বী ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে দেয়া হয় তবে তা তার সম্মান-নযরানা হিসাবে বিবেচিত।
কোন মানুষকে অভাবী মনে করে আল্লাহর জন্য ও পুণ্য লাভের নিয়তে দেয়া হয়, তবে তা হাদিয়া হবে না, বরং সাদকা হবে। হাদিয়া তখনই হবে, যখন এর দ্বারা নিজের ভালবাসা ও নিজের সুসম্পর্ক প্রকাশ উদ্দেশ্য হয়। সাথে সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও দাবি থাকে। হাদিয়া যদি নিষ্ঠার সাথে দেয়া হয়, তবে এর সওয়াব সাদকা থেকে কম নয় বরং কখনো বেশি হবে। হাদিয়া ও সাদকার এ পার্থক্যের ফলশ্রুতি হচ্ছে- রাসূলুল্লাহ ﷺ ধন্যবাদ ও দু'আর মাধ্যমে হাদিয়া গ্রহণ করতেন আর তা নিজেও ব্যবহার করতেন। আর সাদকা যদিও ধন্যবাদ ও দু'আর মাধ্যমে গ্রহণ করতেন তবে নিজে ব্যবহার করতেন না। অন্য কাউকে দিয়ে দিতেন।
আক্ষেপ! উম্মতের মধ্যে পারস্পরিক নিষ্ঠার সাথে হাদিয়া লেন-দেনের প্রথা খুবই কমে গেছে। কোন কোন বিশেষ স্তরে কেবল নিজেদের মুরুব্বী, আলিম ও পীরদের হাদিয়া প্রদানের কিছু প্রথা রয়েছে; কিন্তু নিজেদের প্রিয়জন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী প্রমুখের নিকট হাদিয়া প্রেরণের প্রথা একেবারে কমে গেছে। অথচ হৃদয়ে ভালবাসা, সম্পর্কে আনন্দ ও জীবনে শান্তি ও স্থিতি অর্জনে এবং এর সাথে আল্লাহর সন্তুটি লাভের জন্য এটা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বলে দেওয়া অমূল্য নীতিমালা ছিল। এ ভুমিকার পর হাদিয়া সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিম্ন বর্ণিত কতক বাণী পাঠ করুন।
৪৫১. হযরত আয়েশা রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, পরস্পরে হাদিয়া প্রেরণ কর, হাদিয়া হৃদয়ের বিদ্বেষ দূর করে। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَهَادَوْا، فَإِن الْهَدِيَّة تذْهب (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপহার-উপঢৌকন আদান-প্রদান করা
৪৫২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পরস্পর হাদিয়া লেন-দেন কর, হাদিয়া হৃদয়ের হিংসা-বিদ্বেষ ও অশান্তি দূর করে। এক প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর জন্য বকরির খুরের এক টুকরা পাঠাতেও যেন ক্ষুদ্র মনে না করে। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: تَهَادَوْا فَإِنَّ الْهَدِيَّةَ تُذْهِبُ وَحَرَ الصَّدْرِ وَلاَ تَحْقِرَنَّ جَارَةٌ لِجَارَتِهَا وَلَوْ شِقَّ فِرْسِنِ شَاةٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপহার-উপঢৌকন আদান-প্রদান করা
৪৫৩. হযরত আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর স্বভাব ছিল তিনি হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং এর প্রতিদানে নিজেও দিতেন। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ وَيُثِيبُ عَلَيْهَا. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উপহার-উপঢৌকন আদান-প্রদান করা
৪৫৪. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যাকে হাদিয়া তুহফা দেওয়া হয়, যদি তার নিকট প্রতিদান দেওয়ার কিছু থাকে তাতে তাকে প্রতিদান হিসাবে দিবে। যার নিকট প্রতিদান প্রদানের কিছু নেই তবে সে (কৃতজ্ঞতাস্বরূপ) তার প্রশংসা করবে। তার ব্যাপারে উত্তম কথা বলবে। যে ব্যক্তি এরূপ করল সে কৃতজ্ঞতার দাবি পূর্ণ করল। আর যে ব্যক্তি এরূপ করল না এবং ইহসানের বিষয়টি চেপে গেল তবে সে অকৃতজ্ঞতা করল। আর যে ব্যক্তি নিজেকে সজ্জিত করল এরূপে যা তার মধ্যে নেই, তখন সে সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে ধোঁকা ও প্রতারণার দু' কাপড় পরিধান করে। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أُعْطِيَ عَطَاءً فَوَجَدَ فَلْيَجْزِ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُثْنِ فَإِنَّ مَنْ أَثْنَى فَقَدْ شَكَرَ وَمَنْ كَتَمَ فَقَدْ كَفَرَ وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَهُ كَانَ كَلاَبِسِ ثَوْبَيْ زُورٍ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহসানকারীর কৃতজ্ঞতা এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ
৪৫৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি ইহসানকারীর কৃতজ্ঞতা আদায় করল না সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতাও আদায় করল না। (আহমদ, তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ. (رواه احمد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহসানকারীর কৃতজ্ঞতা এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ
৪৫৬. হযরত উসামা ইবনে যায়দ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তিকে কেউ উত্তম কিছু দান করল এবং সে ব্যক্তি দানকারীর জন্য جَزَاكَ اللّٰهُ خَیْرًا (আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলল, সে চূড়ান্ত প্রশংসা করল। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইহসানকারীর কৃতজ্ঞতা এবং তার জন্য কল্যাণের দু'আ
৪৫৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। যখন রাসুলুল্লাহ ﷺ হিজরত করে মদীনায় এলেন (এবং মুহাজিরগণ আনসারদের মেহমানদারী ও তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি দেখলেন) তখন একদিন মুহাজিরগণ রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা যাদের নিকট এসে উঠেছি (অর্থাৎ আনসার) তাদের থেকে উত্তম কোন লোক দেখিনি। প্রাচুর্যে তাঁরা (প্রশস্ত হৃদয়ে আমাদের মেহমানদারীতে) খুব খরচ করেন। আর স্বল্পতায় তাঁরা তা দিয়ে আমাদের দুঃখ লাঘবকারী, আমাদের পক্ষ হতে পরিশ্রমের দায়িত্ব তাঁরা নিয়ে নিচ্ছেন। আর উপকারের বেলায় তাঁদের সাথে অংশীদার করে নিচ্ছেন। (তাঁদের এ অসাধারণ আত্মত্যাগে) আমরা আশংকা করছি যে, সব পুরস্কার ও পুণ্য তাঁরা নিয়ে নেবে। (আর আখিরাতে আমরা রিক্ত হস্ত হয়ে যাব) তিনি বললেন, না, এরূপ হবে না, যতক্ষণ তোমরা এর পরিবর্তে দু'আ করে চল ও তাদের জন্য উত্তম কথা বলে থাক। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ أَتَاهُ الْمُهَاجِرُونَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا رَأَيْنَا قَوْمًا أَبْذَلَ مِنْ كَثِيرٍ وَلاَ أَحْسَنَ مُوَاسَاةً مِنْ قَلِيلٍ مِنْ قَوْمٍ نَزَلْنَا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ لَقَدْ كَفَوْنَا الْمُؤْنَةَ وَأَشْرَكُونَا فِي الْمَهْنَإِ حَتَّى خِفْنَا أَنْ يَذْهَبُوا بِالأَجْرِ كُلِّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ مَا دَعَوْتُمُ اللَّهَ لَهُمْ وَأَثْنَيْتُمْ عَلَيْهِمْ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব জিনিসের হাদিয়া কবুল করা চাই
৪৫৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কাউকে সুগন্ধি ফুল দিলে তবে তা কবুল করাই চাই, ফিরিয়ে দেবে না। কেননা, এটা খুবই হালকা, কম দামি আর এর গন্ধ আনন্দদায়ক। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ عُرِضَ عَلَيْهِ رَيْحَانٌ فَلاَ يَرُدُّهُ فَإِنَّهُ خَفِيفُ الْمَحْمِلِ طَيِّبُ الرِّيحِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে সব জিনিসের হাদিয়া কবুল করা চাই
৪৫৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তিনটি জিনিস (বিশেষ করে) এইরূপ যা প্রত্যাখ্যান না করা চাই। কবুল করাই চাই-
১. ঠেস দেওয়ার বস্তু, ২. তেল, ৩. দুধ। (তিরমিযী)
১. ঠেস দেওয়ার বস্তু, ২. তেল, ৩. দুধ। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلاَثٌ لاَ تُرَدُّ الْوَسَائِدُ وَالدُّهْنُ وَاللَّبَنُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক: