মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৪৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অন্বেষণকারী আল্লাহর সাহায্য ও পথপ্রদর্শন থেকে বঞ্চিত
৪৮০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে কেউ বিচারকের পদ প্রার্থনা করে তবে তাকে তার নাফসের নিকট সোপর্দ করা হবে (সে নিজেই এ দায়িত্ব বহন করবে যা খুবই বিপজ্জনক) আর যাকে এ পদ গ্রহণে বাধ্য করা হয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য বিশেষ ফেরেশতা অবতরণ করেন, যে তাকে সঠিকভাবে পরিচালিত করবে। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ।)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنِ ابْتَغَى الْقَضَاءَ وَسَأَلَ وُكِلَ إِلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أُكْرِهَ عَلَيْهِ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ مَلَكًا يُسَدِّدُهُ. (رواه والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
মকদ্দমা ও ঝগড়া-কলহের মীমাংসাকারী কাযী ও বিচারকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে দিকদিশারী মূলনীতি নির্ধারিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে যে উপদেশাবলী প্রদান করেছেন, এ জন্য নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
মকদ্দমা ও ঝগড়া-কলহের মীমাংসাকারী কাযী ও বিচারকদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে দিকদিশারী মূলনীতি নির্ধারিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে যে উপদেশাবলী প্রদান করেছেন, এ জন্য নিম্নের হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
৪৮১. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে কাযী করে ইয়ামানে পাঠালেন তখন তাঁকে বললেন, যখন তোমার নিকট কোন মকদ্দমা-বিচার উপস্থিত হবে তখন এর ফয়সালা কিভাবে করবে? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব (কুরআন মজীদের হিদায়াত) অনুযায়ী ফয়সালা করব। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, যদি তুমি আল্লাহর কিতাবে (এ বিষয়ে কোন নির্দেশ ও দিকদর্শন) না পাও (তখন কি করবে?) তিনি বললেন, এরপর আমি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতের আলোকে ফায়সালা করব। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যদি আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতেও (এ বিষয়ে) নির্দেশ ও দিকদর্শন না পাও? (তখন কি করবে?) তিনি বললেন, এরপর আমি আমার বুদ্ধিমত ইজতিহাদ করব। এ উত্তর শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বুকে হাত রেখে তাঁকে সমর্থন করেন এবং বলেন, সেই আল্লাহর প্রশংসা, যিনি তাঁর রাসূলের দূতকে ঐ বিষয়ের সামর্থ্য দিয়েছেন। যা তাঁর রাসূলের পসন্দনীয়। (তিরমিযী, আবু দাউদ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ. قَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ. قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ. قَالَ أَجْتَهِدُ بِرَأْيِي وَلاَ آلُو. فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صَدْرَهُ وَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي بِهِ رَسُولَ اللَّهِ. (رواه الترمذى وابوداؤد والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
৪৮২. হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন জুবাইর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন যে, মোকদ্দমার বাদী-বিবাদী উভয়ে বিচারকের সামনে বসবে।
(আহমদ, আবূ দাউদ)
(আহমদ, আবূ দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الْخَصْمَيْنِ يَقْعُدَانِ بَيْنَ يَدَيِ الْحَاكِمِ. (رواه احمد وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
৪৮৩. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলল্লাহ ﷺ আমাকে বলেন, যখন তোমার নিকট দু'ব্যক্তি কোন ঝগড়া ও মোকদ্দমা নিয়ে ফায়সালা করার জন্য আসে তখন তুমি প্রথম পক্ষের কথা শুনে ফায়সালা দিও না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় পক্ষের কথা শুন। এরূপ করলে তুমি বুঝতে পারবে এবং জানতে পারবে কিভাবে ফয়সালা করবে। হযরত আলী (রা) বলেন, এরপর থেকে সর্বদা আমি কাযী হিসাবে রত থাকি। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا تَقَاضَى إِلَيْكَ رَجُلاَنِ فَلاَ تَقْضِ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَسْمَعَ كَلاَمَ الآخَرِ فَسَوْفَ تَدْرِي كَيْفَ تَقْضِي. قَالَ عَلِيٌّ فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا بَعْدُ هَذَا. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিচারকদের জন্য দিকদিশারী মূলনীতি ও উপদেশাবলী
৪৮৪. হযরত আবূ বকরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, কোন কাযী ও বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মধ্যে ফায়সালা দিবে না। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لاَ يَقْضِيَنَّ حَكَمٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهْوَ غَضْبَانُ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাবির জন্য দলীল-প্রমাণ আবশ্যক
যদি কোন ব্যক্তি বিচারক ও কাযীর আদালতে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দাবি অথবা অভিযোগ পেশ করে তবে দাবি পেশকারী যতই নির্ভরযোগ্য, উত্তম ও উঁচু মর্যাদার হোন না কেন, কেবল তার দাবির ভিত্তিতে বিচারক তার পক্ষে ফায়সালা করতে পারেন না। ইসলামী আইনে প্রত্যেক দাবির জন্য যথানিয়মে সাক্ষী-প্রমাণ প্রয়োজন। যদি দাবিদার সাক্ষী প্রমাণ পেশ করতে না পারে তখন অভিযুক্তকে বলা হবে যদি তার দাবি গ্রহণ না কর তবে শপথ করে বল, এ দাবি মিথ্যা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
যদি কোন ব্যক্তি বিচারক ও কাযীর আদালতে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন দাবি অথবা অভিযোগ পেশ করে তবে দাবি পেশকারী যতই নির্ভরযোগ্য, উত্তম ও উঁচু মর্যাদার হোন না কেন, কেবল তার দাবির ভিত্তিতে বিচারক তার পক্ষে ফায়সালা করতে পারেন না। ইসলামী আইনে প্রত্যেক দাবির জন্য যথানিয়মে সাক্ষী-প্রমাণ প্রয়োজন। যদি দাবিদার সাক্ষী প্রমাণ পেশ করতে না পারে তখন অভিযুক্তকে বলা হবে যদি তার দাবি গ্রহণ না কর তবে শপথ করে বল, এ দাবি মিথ্যা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি এরূপ শপথ করতে অস্বীকার করে তবে দাবি সঠিক মনে করে ডিক্রি দেওয়া হবে। আর যদি সে শপথসহ দাবিকারীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে, দাবি খারিজ করে অভিযুক্তের পক্ষে ফায়সালা দেওয়া হবে। এটা আদালতের আইন ও রীতি যা রাসূলুল্লাহ ﷺ দিকনির্দেশ প্রদান করেছেন এবং এটা স্বয়ং তার কর্মপদ্ধতি ছিল।
৪৮৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, যদি নিছক দাবির প্রেক্ষিতে মানুষের পক্ষে ফায়সালা করা হয় তবে মানুষ অন্যদের বিরুদ্ধে (চালাকী দ্বারা) খুন বা সম্পদের (সত্য মিথ্যা) দাবি করতে থাকবে। (কিন্তু কেবল কারো দাবির ওপর তার পক্ষে ফায়সালা যাবে না, বরং প্রমাণ তলব করা হবে এবং প্রমাণ ও সাক্ষী না থাকার অবস্থায়) বিবাদী থেকে শপথসহ অস্বীকারমূলক বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَوْ يُعْطَى النَّاسُ بِدَعْوَاهُمْ لاَدَّعَى نَاسٌ دِمَاءَ رِجَالٍ وَأَمْوَالَهُمْ وَلَكِنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাবির জন্য দলীল-প্রমাণ আবশ্যক
৪৮৬. হযরত আশআস ইব্ন কায়স (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি জমি আমার ও এক ইয়াহুদীর যৌথ মালিকানায় ছিল। সে আমার মালিকানা অস্বীকার করে। (একা সে এর মালিক হয়ে বসে)। আমি সেই ইয়াহুদীকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট নিয়ে যাই। (এবং নিজের মোকদ্দমা তাঁর সামনে পেশ করি)। তিনি আমাকে বললেন, তোমার নিকট নিজের দাবির কোন দলীল (সাক্ষী) আছে? আমি বললাম, কোন সাক্ষী নেই। তিনি ইয়াহুদীকে জিজ্ঞাসা করলেন, (যদি তুমি তা অস্বীকার কর তবে) তুমি শপথ গ্রহণ কর। (জমিতে দাবিদারের কোন অংশ নেই, একা আমার) আশ'আস বলেন, আমি হুজুর ﷺ-কে বললাম, এই ইয়াহুদী (মিথ্যা) শপথ করে নেবে আর আমার মাল অর্থাৎ জমি গ্রাস করে ফেলবে। তখন আল্লাহ তা'আলার নিকট হতে এ আয়াত নাযিল হয়:
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
(যে সব লোক আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে) নিজেদের (মিথ্যা) শপথের মাধ্যমে «ثمن قليل» অর্থাৎ দুনিয়ার সামান্য অর্জন করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ থাকবে না এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের সাথে কোন কথা বলবেন না, আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকাবেনও না। তাদেরকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ)
{إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [آل عمران: 77]
(যে সব লোক আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে) নিজেদের (মিথ্যা) শপথের মাধ্যমে «ثمن قليل» অর্থাৎ দুনিয়ার সামান্য অর্জন করে, আখিরাতে তাদের কোন অংশ থাকবে না এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের সাথে কোন কথা বলবেন না, আর কিয়ামতের দিন তাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকাবেনও না। তাদেরকে পবিত্র করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَلَكَ بَيِّنَةٌ. قُلْتُ لاَ. قَالَ لِلْيَهُودِيِّ: احْلِفْ. قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفَ وَيَذْهَبَ بِمَالِي. فَأَنْزَلَ اللَّهُ: { إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّـهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا أُولَـٰئِكَ لَا خَلَاقَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّـهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ } إِلَى آخِرِ الآيَةِ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দাবির জন্য দলীল-প্রমাণ আবশ্যক
৪৮৭. আলকামা ইবনে ওয়াইল তাঁর পিতা ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন যে, হাজরামাউত-এর অধিবাসী এক ব্যক্তি ও কিন্দা গোত্রের এক ব্যক্তি (নিজেদের মোকদ্দমা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হলেন। (বাদী) হাজরামী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কিন্দী আমার এক খণ্ড জমি বলপূর্বক দখল করে আছে। কিন্দী (বিবাদী) উত্তর দিলেন, মূলত এ জমি আমারই এবং আমার দখলে আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাজরামীকে বললেন তোমার নিকট কি দাবির প্রমাণ (সাক্ষী) আছে? তিনি বললেন, সাক্ষী নেই। তিনি বললেন, এরপর তোমার অধিকার হচ্ছে, অভিযুক্ত কিন্দী থেকে শপথ নেওয়া। হাজরামী বললেন, হুজুর! এ লোক দুশ্চরিত্র। (লম্পট, অসাধু) এতে তার কোন চিন্তা নেই যে, কি বিষয়ে শপথ করছে? আর তার কোন (মন্দ) কথার বাছ-বিচার নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, (যাই হোক, তোমার নিকট যখন কোন সাক্ষী নেই) তোমার এ অধিকারই আছে যে, তার থেকে শপথ নিয়ে নাও। এরপর কিন্দী যখন শপথ গ্রহণ করতে অন্য দিকে যাচ্ছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ (তাকে সাবধান করে) বললেন, যদি সে হাজরামীর সম্পদ অন্যায় ও অবৈধভাবে গ্রাস করার জন্য মিথ্যা শপথ গ্রহণ করে তবে আল্লাহর সমীপে সে এরূপে উপস্থিত হবে যে, আল্লাহ তা'আলা (ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির কারণে) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مِنْ حَضْرَمَوْتَ وَرَجُلٌ مِنْ كِنْدَةَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ الْحَضْرَمِيُّ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ هَذَا قَدْ غَلَبَنِي عَلَى أَرْضٍ لِي، فَقَالَ الْكِنْدِيُّ: هِيَ أَرْضِي وَفِي يَدِي لَيْسَ لَهُ فِيهَا حَقٌّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْحَضْرَمِيِّ: «أَلَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ: لَا، قَالَ: «فَلَكَ يَمِينُهُ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ الرَّجُلَ فَاجِرٌ لَا يُبَالِي عَلَى مَا حَلَفَ عَلَيْهِ، وَلَيْسَ يَتَوَرَّعُ مِنْ شَيْءٍ، فَقَالَ: «لَيْسَ لَكَ مِنْهُ إِلَّا ذَلِكَ»، فَانْطَلَقَ لِيَحْلِفَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَدْبَرَ: «أَمَا لَئِنْ حَلَفَ عَلَى مَالِهِ لِيَأْكُلَهُ ظُلْمًا، لَيَلْقَيَنَّ اللهَ وَهُوَ عَنْهُ مُعْرِضٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মিথ্যা দাবি ও মিথ্যা শপথকারীদের ঠিকানা জাহান্নাম
যেরূপ জানা গেল যে, সাধারণভাবে সব নবী-রাসূল এবং বিশেষভাবে শেষনবীর আসল স্থান ও মর্যাদা, সুসংবাদ দানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী১ হিসাবে। তিনি আল্লাহর নির্দেশে তাঁর বান্দাদেরকে ঈমান, নেক আমল ও উত্তম চরিত্রের দাওয়াত ও উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর এ সবের প্রতিদান হিসাবে আল্লাহর পুরস্কার, রহমত ও জান্নাতের সুসংবাদ শুনাতেন। আর কুফর-শিরক, মন্দ কর্ম, মন্দ চরিত্র ও পাপাচার থেকে আল্লাহর বান্দাদের নিষেধ করতেন। এর মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন, আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের ভয় দেখাতেন। এটাই ছিল তাঁদের দাওয়াত ও পথ প্রদর্শনের ভিত্তি, এটাই সর্বাধিক কার্যকরী হাতিয়ার ও এটাই ছিল তাঁদের প্রকৃত শক্তি।
আদালতে মিথ্যা দাবি করা এবং কোন প্রকারে অবৈধ পন্থায় কারো জিনিস কব্জা করা অথবা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মিথ্যা শপথ করা ভীষণ নিকৃষ্টতম গুনাহ। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী নিম্নে পাঠ করুন।
১. সূরা নিসায় সব নবী সম্পর্কে বলা হয়েছে- رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ আর সূরা বানী ইসরাইল ও সূরা ফুরকানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
যেরূপ জানা গেল যে, সাধারণভাবে সব নবী-রাসূল এবং বিশেষভাবে শেষনবীর আসল স্থান ও মর্যাদা, সুসংবাদ দানকারী ও ভীতি প্রদর্শনকারী১ হিসাবে। তিনি আল্লাহর নির্দেশে তাঁর বান্দাদেরকে ঈমান, নেক আমল ও উত্তম চরিত্রের দাওয়াত ও উৎসাহ প্রদান করেছেন। আর এ সবের প্রতিদান হিসাবে আল্লাহর পুরস্কার, রহমত ও জান্নাতের সুসংবাদ শুনাতেন। আর কুফর-শিরক, মন্দ কর্ম, মন্দ চরিত্র ও পাপাচার থেকে আল্লাহর বান্দাদের নিষেধ করতেন। এর মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করতেন, আল্লাহর ক্রোধ ও আযাবের ভয় দেখাতেন। এটাই ছিল তাঁদের দাওয়াত ও পথ প্রদর্শনের ভিত্তি, এটাই সর্বাধিক কার্যকরী হাতিয়ার ও এটাই ছিল তাঁদের প্রকৃত শক্তি।
আদালতে মিথ্যা দাবি করা এবং কোন প্রকারে অবৈধ পন্থায় কারো জিনিস কব্জা করা অথবা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মিথ্যা শপথ করা ভীষণ নিকৃষ্টতম গুনাহ। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী নিম্নে পাঠ করুন।
১. সূরা নিসায় সব নবী সম্পর্কে বলা হয়েছে- رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ আর সূরা বানী ইসরাইল ও সূরা ফুরকানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে-
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا
৪৮৮. হযরত আবু যার গিফারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোন জিনিস দাবি করে, যা মূলত তার নয়, তবে সে আমাদের (অর্থাৎ আমাদের লোকদের ও আমাদের সাথী) নয়। তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরী করা চাই। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنِ ادَّعَى مَا ليْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا، وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ جھوٹے دعوے اور جھوٹی قسم والوں کا ٹھکانہ جہنم
৪৮৯. হযরত আবূ উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে কোন মুসলমানের কোন অধিকার ছিনিয়ে নেয় (এবং আদালতে ফয়সালার মাধ্যমে তার কোন জিনিস নিয়ে নেয়) তবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব করেছেন এবং জান্নাত হারাম করেছেন। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, যদিও সে জিনিস খুবই সাধারণ ও সামান্য হয় তবু কি শাস্তি হবে? তিনি বললেন, যদি (বনের বৃক্ষ) পিলুর এক ডাল হয় তবুও। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ» فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «وَإِنْ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكٍ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ফায়সালায় অন্যের জিনিস হালাল হয় না
কখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, এক চালাক মামলাবাজ ব্যক্তি অন্যের জিনিসের ওপর মিথ্যা দাবি করে তার এমন প্রমাণ পেশ করে যে, বিচারক এটাকে সত্য মনে করে তার পক্ষে রায় দেন। অনুরূপভাবে কখনো কোন মিথ্যুক বিবাদী চটপটে বলা ও মিথ্যা শপথের দ্বারা নিজের সত্যতা সম্পর্কে বিচারকের বিশ্বাস জন্মায় এবং এতে প্রভাবান্বিত হয়ে বিচারক তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। এতে বিচারকের এই ফয়সালায় উক্ত জিনিস সেই মিথ্যাবাদী বা বিবাদীর জন্য হালাল ও বৈধ হয় না। বরং হারামই থেকে যায়। পক্ষান্তরে মিথ্যা মোকদ্দমা দায়ের করা ও মিথ্যা শপথ গ্রহণের জন্য সে জাহান্নামী হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমিও একজন মানুষ। মামলাবাজ ব্যক্তির বাক-চাতুর্যে প্রভাবান্বিত হয়ে আমার দ্বারাও এরূপ ফায়সালা জারী হতে পারে। তখন আমার ফায়সালায়ও সে জিনিস তার জন্য হালাল হবে না, হারামই থেকে যাবে। হাদীস এই-
কখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, এক চালাক মামলাবাজ ব্যক্তি অন্যের জিনিসের ওপর মিথ্যা দাবি করে তার এমন প্রমাণ পেশ করে যে, বিচারক এটাকে সত্য মনে করে তার পক্ষে রায় দেন। অনুরূপভাবে কখনো কোন মিথ্যুক বিবাদী চটপটে বলা ও মিথ্যা শপথের দ্বারা নিজের সত্যতা সম্পর্কে বিচারকের বিশ্বাস জন্মায় এবং এতে প্রভাবান্বিত হয়ে বিচারক তার পক্ষে রায় প্রদান করেন। এতে বিচারকের এই ফয়সালায় উক্ত জিনিস সেই মিথ্যাবাদী বা বিবাদীর জন্য হালাল ও বৈধ হয় না। বরং হারামই থেকে যায়। পক্ষান্তরে মিথ্যা মোকদ্দমা দায়ের করা ও মিথ্যা শপথ গ্রহণের জন্য সে জাহান্নামী হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমিও একজন মানুষ। মামলাবাজ ব্যক্তির বাক-চাতুর্যে প্রভাবান্বিত হয়ে আমার দ্বারাও এরূপ ফায়সালা জারী হতে পারে। তখন আমার ফায়সালায়ও সে জিনিস তার জন্য হালাল হবে না, হারামই থেকে যাবে। হাদীস এই-
৪৯০. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আমি তো কেবল এক মানুষ। তোমরা আমার নিকট নিজেদের ঝগড়া ও মোকাদ্দমা নিয়ে আস। হতে পারে তোমাদের এক ব্যক্তি বাকপটু অন্য ব্যক্তি হতে। এরপর আমি তার কথা শুনে সে অনুযায়ী তার পক্ষে ফয়সালা দিয়ে দেই। এভাবে আমি যার জন্য তার ভাই-এর জিনিসের ফয়সালা দিয়ে দেই সে যেন কখনো তা গ্রহণ না করে (তার মিথ্যা দাবি অথবা মিথ্যা শপথের ফলশ্রুতিতে) আমি যা দেই, তা (পরিণতির দিক থেকে) তার জন্য জাহান্নামের এক টুকরা। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ، وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ، فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ، فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَيْئٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلاَ يَأْخُذْنَهُ، فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মিথ্যা শপথ ভীষণতম কবীরা গুনাহ
৪৯১. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন উনাইস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বড় গুনাহ এই ১. আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা ২. পিতা-মাতার অবাধ্যতা, ৩. (বিচারকের সামনে) জেনে শুনে মিথ্যা শপথ করা, আদালতে যে শপথ গ্রহণকারী শপথ করে আর তাতে মাছির পাখা-সম উল্টাপাল্টা করে (অর্থাৎ সামান্যতম মিথ্যা কিংবা বিচ্যুতি সংযুক্ত করে) তবে (আল্লাহর নিকট থেকে) তার দিলে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য এক দাগ বানিয়ে দেওয়া হবে। (অর্থাৎ এর বিপদ কিয়ামতে প্রকাশ পাবে।) (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أُنَيْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الكَبَائِرِ الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ، وَاليَمِينُ الغَمُوسُ، وَمَا حَلَفَ بِاللَّهِ حَالِفُ يَمِينٍ صَبْرٍ، فَأَدْخَلَ فِيهَا مِثْلَ جَنَاحِ بَعُوضَةٍ إِلاَّ جُعِلَتْ نُكْتَةً فِي قَلْبِهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মিথ্যা শপথ ভীষণতম কবীরা গুনাহ
৪৯২. হযরত খুরাইম ইবনে ফাতিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ (একদিন) ভোরের নামায পড়লেন। নামায শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, মিথ্যা সাক্ষ্য শিরকের সমান করা হয়েছে। একথা তিনি তিন বার বললেন। এরপর তিনি (কুরআন মজীদের) এ আয়াত পাঠ করেন-
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ
সুতরাং তোমরা বর্জন কর মূর্তিপূজার মত অপবিত্রতা এবং দূরে থাক মিথ্যা-কথন থেকে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কোন শরীক না করে। (আবূ দাউদ)
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ
সুতরাং তোমরা বর্জন কর মূর্তিপূজার মত অপবিত্রতা এবং দূরে থাক মিথ্যা-কথন থেকে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর সাথে কোন শরীক না করে। (আবূ দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ خُرَيْمِ بْنِ فَاتِكٍ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَامَ قَائِمًا، فَقَالَ: «عُدِلَتْ شَهَادَةُ الزُّورِ بِالْإِشْرَاكِ بِاللَّهِ» ثَلَاثَ مِرَارٍ، ثُمَّ قَرَأَ {فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ} (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাদের সাক্ষী নির্ভরযোগ্য নয়?
৪৯৩. হযরত আমর ইব্ন শুআইব স্বীয় পিতা শুআইব থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি তার দাদা হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, খিয়ানতকারী এবং (এরূপে) খিয়ানতকারী নারীর সাক্ষ্য বৈধ নয়। (অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নয়), কোন ব্যভিচারীণী পুরুষ ও ব্যভিচারীণী নারীর সাক্ষ্যও (গ্রহণযোগ্য নয়), কোন শত্রুতা পোষণকারীর সাক্ষ্যও তার ভাই-এর বিরুদ্ধে (অর্থাৎ যার সাথে শত্রুতা রয়েছে) গ্রহণযোগ্য নয়। আর যে ব্যক্তি (নিজের রুজী ও জীবনোপকরণের জন্য) কোন পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, সেই পরিবারের জন্য তার সাক্ষী রাসূলুল্লাহ ﷺ অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন। (আবূ দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، « عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَجُوْزُ شَهَادَةُ ْخَائِنٍ، وَلَا ْخَائِنَةٍ ولا زانٍ ولا زانيةٍ وَلَا ذِي غِمْرٍ عَلَى أَخِيهِ، وَرَدَّ شَهَادَةَ الْقَانِعِ لِأَهْلِ الْبَيْتِ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রাষ্ট্রনীতি-খিলাফত ও ইমারত
যে রূপ জানা গেল যে, ইসলাম মনুষ্য জীবনের সব শাখা-প্রশাখা পরিবেষ্টনকারী। ইহা আকাইদ, ঈমান, ইবাদত, আখলাক, সামাজিক শিষ্টাচার ও লেন-দেন-এর ন্যায় রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কেও তার অনুসারীদের পথ প্রদর্শন করে, নির্দেশ ও দিকদর্শন দেয়। বরং রাজ্য শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিভাগ এর এক গুরুত্বপূর্ণ শাখা। কেননা, অন্যান্য বহু শাখার অস্তিত্ব এর সাথে সম্পৃক্ত ও গণ্ডিবদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় কর্মপদ্ধতি ও বাণী দ্বারা এ শাখা সম্পর্কেও উম্মতকে পূর্ণ পথ প্রদর্শন করেছেন। হিজরতের পর মদীনা মুনাওরায় মুসলমানদের যখন একটি সামষ্টিক রূপ সৃষ্টি হল তখন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠিত হল। রাসুলুল্লাহ ﷺ নবী ও রাসূল হওয়ার সাথে উক্ত রাষ্ট্রের কর্ণধার এবং নির্বাহীও ছিলেন। হিজরতের পর প্রায় দশ বছর তিনি এ জগতে ছিলেন। এ সময়ে উক্ত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সীমা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছিল এবং দ্রুতই প্রশস্ততর হচ্ছিল। এমনকি তাঁর পবিত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে গোটা আরব বরং ইয়ামান ও বাহরাইন অঞ্চলও উক্ত রাষ্ট্রের করতলগত হয়। উক্ত দশ বছরে সেই যুগের পরিমাপে সেই সব কাজ আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র হাতে সম্পন্ন করিয়ে ছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় নেতাদেরই করতে হয়। তিনি আল্লাহর নাম বুলন্দ করা ও আল্লাহর বান্দাদের ওপর আল্লাহরই শাসন কায়িম করার জন্য এ পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টকারী বৈরী শক্তির সাথে যুদ্ধও করেছেন। এ উপলক্ষে সেনা দল ও সেনা অভিযান প্রেরণ করেছেন। সন্ধি করেছেন, জিযিয়া, খিরাজ ও যাকাতের আইন প্রবর্তন করেছেন। বিজিত অঞ্চলে কাযী, শাসক ও কালেক্টর নিয়োগ করেছেন। এবং এসব কাজ সম্পর্কে তিনি দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।
তাঁর এই দশ বছরের শাসনকালে এবং এ বিষয়ে তাঁর দিক নির্দেশের মধ্যে ইসলামী রাষ্ট্র ও এর কর্ণধারদের জন্য নীতিগত পর্যায়ে পূর্ণ পথপ্রদর্শন রয়েছে। তাঁর পর তাঁর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ আসহাব ও সাথীগণের মধ্যে যে চার ব্যক্তিত্ব একের পর এক সেই রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন পরিচালনার জন্য তাঁর স্থলাভীষিক্ত হন (হযরত আবু বকর সিদ্দীক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান যিন নূরাইন, হযরত আলী মুর্তাজা রা) তাঁরা নিজেদের যুগের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে যথাসম্ভব এই চেষ্টা করেন যে, রাষ্ট্র সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম-পদ্ধতি ও তার দিকনির্দেশনার পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করা হবে। তাঁদেরই এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যে কারণে তাঁদেরকে 'খুলাফায়ে রাশিদীন' বলা হয়। 'খিলাফতে রাশিদা সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রে তাঁর দিকনির্দেশনা ও তাঁর উত্তম আদর্শ যথাসম্ভব পরিপূর্ণ অনুসরণ করা হয়।
এ ভূমিকার পর রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কতক বাণী নিম্নে পাঠ করা যেতে পারে। এসব হাদীস থেকে এটাও জানা যাবে যে, ইসলামী রাষ্ট্র ও নেতাদের কী বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এবং তাঁদের সাথে জনসাধারণের কিরূপ রীতি-নীতি থাকা চাই
জনসাধারণকে নেতার আনুগত্য এবং নেতাকে আল্লাহ্-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ
যে রূপ জানা গেল যে, ইসলাম মনুষ্য জীবনের সব শাখা-প্রশাখা পরিবেষ্টনকারী। ইহা আকাইদ, ঈমান, ইবাদত, আখলাক, সামাজিক শিষ্টাচার ও লেন-দেন-এর ন্যায় রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কেও তার অনুসারীদের পথ প্রদর্শন করে, নির্দেশ ও দিকদর্শন দেয়। বরং রাজ্য শাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিভাগ এর এক গুরুত্বপূর্ণ শাখা। কেননা, অন্যান্য বহু শাখার অস্তিত্ব এর সাথে সম্পৃক্ত ও গণ্ডিবদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় কর্মপদ্ধতি ও বাণী দ্বারা এ শাখা সম্পর্কেও উম্মতকে পূর্ণ পথ প্রদর্শন করেছেন। হিজরতের পর মদীনা মুনাওরায় মুসলমানদের যখন একটি সামষ্টিক রূপ সৃষ্টি হল তখন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠিত হল। রাসুলুল্লাহ ﷺ নবী ও রাসূল হওয়ার সাথে উক্ত রাষ্ট্রের কর্ণধার এবং নির্বাহীও ছিলেন। হিজরতের পর প্রায় দশ বছর তিনি এ জগতে ছিলেন। এ সময়ে উক্ত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সীমা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছিল এবং দ্রুতই প্রশস্ততর হচ্ছিল। এমনকি তাঁর পবিত্র জীবনের শেষ পর্যায়ে গোটা আরব বরং ইয়ামান ও বাহরাইন অঞ্চলও উক্ত রাষ্ট্রের করতলগত হয়। উক্ত দশ বছরে সেই যুগের পরিমাপে সেই সব কাজ আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র হাতে সম্পন্ন করিয়ে ছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় নেতাদেরই করতে হয়। তিনি আল্লাহর নাম বুলন্দ করা ও আল্লাহর বান্দাদের ওপর আল্লাহরই শাসন কায়িম করার জন্য এ পথে প্রতিবন্ধক সৃষ্টকারী বৈরী শক্তির সাথে যুদ্ধও করেছেন। এ উপলক্ষে সেনা দল ও সেনা অভিযান প্রেরণ করেছেন। সন্ধি করেছেন, জিযিয়া, খিরাজ ও যাকাতের আইন প্রবর্তন করেছেন। বিজিত অঞ্চলে কাযী, শাসক ও কালেক্টর নিয়োগ করেছেন। এবং এসব কাজ সম্পর্কে তিনি দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন।
তাঁর এই দশ বছরের শাসনকালে এবং এ বিষয়ে তাঁর দিক নির্দেশের মধ্যে ইসলামী রাষ্ট্র ও এর কর্ণধারদের জন্য নীতিগত পর্যায়ে পূর্ণ পথপ্রদর্শন রয়েছে। তাঁর পর তাঁর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষ আসহাব ও সাথীগণের মধ্যে যে চার ব্যক্তিত্ব একের পর এক সেই রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন পরিচালনার জন্য তাঁর স্থলাভীষিক্ত হন (হযরত আবু বকর সিদ্দীক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান যিন নূরাইন, হযরত আলী মুর্তাজা রা) তাঁরা নিজেদের যুগের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে যথাসম্ভব এই চেষ্টা করেন যে, রাষ্ট্র সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম-পদ্ধতি ও তার দিকনির্দেশনার পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ করা হবে। তাঁদেরই এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যে কারণে তাঁদেরকে 'খুলাফায়ে রাশিদীন' বলা হয়। 'খিলাফতে রাশিদা সেই রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রে তাঁর দিকনির্দেশনা ও তাঁর উত্তম আদর্শ যথাসম্ভব পরিপূর্ণ অনুসরণ করা হয়।
এ ভূমিকার পর রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কতক বাণী নিম্নে পাঠ করা যেতে পারে। এসব হাদীস থেকে এটাও জানা যাবে যে, ইসলামী রাষ্ট্র ও নেতাদের কী বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এবং তাঁদের সাথে জনসাধারণের কিরূপ রীতি-নীতি থাকা চাই
জনসাধারণকে নেতার আনুগত্য এবং নেতাকে আল্লাহ্-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ
৪৯৪. হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্যতা করল সে আল্লাহর অবাধ্যতা করল। যে নেতার আনুগত্য করল সে আমার আনুগত্য করল। আর যে নেতার অবাধ্যতা করল সে আমার অবাধ্যতা করল। আর ইমাম (ইসলামী রাষ্ট্রের কর্ণধার) ঢালস্বরূপ। যুদ্ধ করা যায় এর পেছনে থেকে এবং এর দ্বারা আত্মরক্ষা করা যায়। সুতরাং সে যদি আল্লাহ্-ভীতি ও পরহেযগারীর নির্দেশ দেয় এবং ন্যায় ও ইনসাফের রীতি গ্রহণ করে তবে এ জন্য তার রয়েছে বিরাট পুরস্কার। আর যদি সে এর বিপরীত কথা বলে তবে এর শাস্তি তার ওপর বর্তাবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَطَاعَنِي، فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي، فَقَدْ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ يُطِعِ الأَمِيرَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ يَعْصِ الأَمِيرَ فَقَدْ عَصَانِي، وَإِنَّمَا الإِمَامُ جُنَّةٌ يُقَاتَلُ مِنْ وَرَائِهِ وَيُتَّقَى بِهِ، فَإِنْ أَمَرَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَعَدَلَ، فَإِنَّ لَهُ بِذَلِكَ أَجْرًا وَإِنْ قَالَ بِغَيْرِهِ فَإِنَّ عَلَيْهِ مِنْهُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জনসাধারণকে নেতার আনুগত্য এবং নেতাকে আল্লাহ্-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ
৪৯৫. হযরত মু'আবিয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, হে মু'আবীয়া! যদি তোমাকে শাসক বানানো হয় তবে আল্লাহকে ভয় করবে এবং ইনসাফ করবে। মু'আবিয়া বলেন, নবী ﷺ-এর এ কথার পর সর্বদা আমি চিন্তা করতাম যে, আমি রাষ্ট্রীয় কাজে জড়িয়ে পড়ব। এমন কি আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাতে জড়িয়ে পড়ি। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاوِيَةُ، إِنْ وُلِّيتَ أَمْرًا فَاتَّقِ اللَّهَ وَاعْدِلْ» ، قَالَ: فَمَازِلْتُ أَظُنُّ أَنِّي مُبْتَلًى بِعَمَلٍ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى ابْتُلِيتُ. (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জনসাধারণকে নেতার আনুগত্য এবং নেতাকে আল্লাহ্-ভীতি ও ন্যায়পরায়ণতার উপদেশ
৪৯৬. হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম হচ্ছে-নম্র স্বভাব, দয়াদ্র অন্তর, ন্যায় পরায়ণ রাষ্ট্রীয় শাসক। আর সর্ব নিম্নস্তরের হচ্ছে, পাষাণ-হৃদয় এবং অত্যাচারী শাসক। (শু'আবুল ঈমান, বায়হাকী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَفْضَلَ عِبَادِ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِمَامٌ عَادِلٌ وَإِنَّ شَرَّ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِمَامٌ جَائِرٌ، خَرِقٌ» (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শাসককে জনসাধারণের হিতাকাঙ্খী হওয়ার শক্ত তাগিদ
৪৯৭. হযরত মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে বান্দাকে আল্লাহ কোন জনগোষ্ঠীর তত্ত্বাবধায়ক (শাসক) বানান, আর সে তাদের কল্যাণকামীতা করল না, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ مَعْقِلِ بْنَ يَسَارٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللهُ رَعِيَّةً، فَلَمْ يَحُطْهَا بِنَصِيحَةٍ، إِلَّا لَمْ يَجِدْ رَائِحَةَ الجَنَّةِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবীদের জন্য শাসকের দ্বার উন্মুক্ত থাকা চাই
৪৯৮. হযরত আমর ইবনে মুররা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত মু'আবিয়া (রা) কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে শাসক প্রয়োজনশীল ও অভাবী লোকদের জন্য নিজের দরজা বন্ধ করবে তবে আল্লাহ তা'আলা তার অভাবের সময় আসমানের দরজা বন্ধ করে দেবেন। (অর্থাৎ তার প্রয়োজনের সময় আল্লাহর পক্ষ হতে তার প্রতি কোন সাহায্য হবে না। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ لِمُعَاوِيَةَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ إِمَامٍ يُغْلِقُ بَابَهُ دُونَ ذَوِي الحَاجَةِ، وَالخَلَّةِ، وَالمَسْكَنَةِ إِلاَّ أَغْلَقَ اللَّهُ أَبْوَابَ السَّمَاءِ دُونَ خَلَّتِهِ، وَحَاجَتِهِ، وَمَسْكَنَتِهِ (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শাসকের নির্দেশ যদি শরীয়তের পরিপন্থী না হয় তবে সর্বাবস্থায় তাঁর আনুগত্য করা হবে, কিন্তু পাপ কাজে কারো আনুগত্য নেই
৪৯৯. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, শাসকের নির্দেশ পালন করা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তির কর্তব্য-মনঃপূত হোক অথবা অমনঃপূত হোক, যতক্ষণ পর্যন্ত পাপের নির্দেশ না দেয়। কিন্তু যখন কোন পাসক শরী'আতের পরিপন্থী কোন নির্দেশ দেয় তখন শ্রবণ ও আনুগত্য (শুনা ও পালন করার) নির্দেশ নেই। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «السَّمْعُ، وَالطَّاعَةُ عَلَى المَرْءِ المُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ، مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ، فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: