(ইন্না ফী খলকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি লাআয়া-তিল্ লিউলিল্ আলবা-ব। আল্লাযীনা ইয়াযকুরূনাল্লাহা কিয়া-মাও ওয়াকু‘উদাঁও ওয়া‘আলা জুনূবিহিম ওয়াইয়াতাফাক্কারূনা ফী খলকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, রববানা মা খালাকতা হাযা বা-তিলান, সুবহানাকা ফাকিনা ‘আযা-বান্ নার। রববানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্ না-রা ফাকাদ আখযাইতাহু, ওয়ামা লিয্যালিমীনা মিন আনসা-র। রববানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিইয়াইয়্যুনা-দী লিলঈমানি আন্ আ-মিনু বিরব্বিকুম ফাআ--মান্না। রব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়াকাফফির ‘আন্না সায়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফ্ফানা মা‘আল আবরা-র। রববানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ। ফাস্তাজাবা লাহুম রববুহুম আন্নী লা উদী‘উ আমালা ‘আমিলিম মিনকুম মিন যাকারিন ওয়া উনসা বা‘দুকুম মিন বা‘দ, ফাল্লাযীনা হা-জারূ ওয়া উখরিজূ মিন দিয়ারিহিম ওয়া ঊ-যূ ফী সাবীলী ওয়া কা-তালু ওয়া কু-তিলু লাউকাফফিরান্না ‘আনহুম সায়্যিআ-তিহিম ওয়ালাউদখিলান্নাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহ-তিহাল আনহারু, ছাওয়া-বাম্ মিন ‘ইনদিল্লাহি, ওয়াল্লা-হু ইনদাহু হুসনুছ ছাওয়া-ব। লা ইয়াগুররান্নাকা তাকল্লুবুল্লাযীনা কাফারূ ফিল্ বিলা-দ। মাতা‘উন কালীলুন ছুম্মা মা’ওয়াহুম জাহান্নামু ওয়া বি’সাল মিহা-দ। লা-কিনিল্লাযীনাত্তাকাও রববাহুম লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খা-লিদ্বীনা ফীহা নুযুলাম্ মিন ইনদিল্লাহি ওয়ামা ইনদাল্লাহি খাইরুল লিল্ আবরার। ওয়াইন্না মিন আহলিল কিতাবি লামইয়ূ’মিনু বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইকুম ওয়ামা উনযিলা ইলাইহিম খা-শিঈনা লিল্লা-হি লা ইয়াশতারূনা বিআ-য়া-তিল্লাহি ছামানান্ কালীলা। উলা-ইকা লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রববিহিম। ইন্নাল্লাহা সারী‘উল হিসাব। ইয়া আয়্যুহাল্লাযীনা আমানুসবিরূ ওয়াসা-বিরূ ওয়া রা-বিতু ওয়াত্তাকুল্লাহা লা‘আল্লাকুম তুফলিহুন)।
নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহ্র স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে, আর বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র, অতএব আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।’ ‘হে আমাদের রব! আপনি কাউকেও আগুনে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয়ই হেয় করলেন এবং যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।’ ‘হে আমাদের রব, আমরা এক আহ্বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের রবের উপর ঈমান আন।’ কাজেই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত করুন এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিন। ‘হে আমাদের রব! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন এবং কেয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় করবেন না। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।’ তারপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে আমলকারী কোনো নর বা নারীর আমল বিফল করি না; তোমরা একে অপরের অংশ। কাজেই যারা হিজরত করেছে, নিজ ঘর থেকে উৎখাত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে আমি তাদের পাপ কাজগুলো অবশ্যই দূর করব এবং অবশ্যই তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এটা আল্লাহ্র কাছ থেকে পুরস্কার; আর উত্তম পুরস্কার আল্লাহ্রই কাছে রয়েছে। যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। এ তো স্বল্পকালীন ভোগ মাত্র; তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস; আর ওটা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এ হচ্ছে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আতিথেয়তা; আর আল্লাহ্র কাছে যা আছে তা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য উত্তম। আর নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ্র প্রতি বিনয়াবনত হয়ে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা তোমাদের ও তাদের প্রতি নাযিল করেছেন তাতে ঈমান আনে। তারা আল্লাহ্র আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে না। তারাই, যাদের জন্য আল্লাহ্র কাছে পুরস্কার রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক, আর আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার”
১) আলাম নাশরাহলাকা সাদরাক। ২) ওয়া ওয়াদা‘না-‘আনকা বিঝরাক ৩) আল্লাযীআনকাদা জাহরাক। ৪) ওয়া রাফা‘না-লাকা যিকরাক। ৫) ফাইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-। ৬) ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-। ৭) ফাইযা-ফারাগতা ফানসাব। ৮) ওয়া ইলা- রাব্বিকা ফারগাব।
১) আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি? ২) আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা, ৩) যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ। ৪) আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি। ৫) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। ৬) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। ৭) অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন। ৮) এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।
১. ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন। ২. ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন। ৩. ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি। ৪. ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনি-ন। ৫. ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি। ৬. কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।
১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন। ২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। ৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। ৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। ৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন ৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার
সূরা ইখলাস: ১. قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ২. اللَّهُ الصَّمَدُ ৩. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ৪. وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ সূরা ফালাক্ব: ১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ২. مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ৩. وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ৪. وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ৫. وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ সূরা নাস: ১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ২. مَلِكِ النَّاسِ ৩. إِلَـٰهِ النَّاسِ ৪. مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ৫. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ৬. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
সূরা ইখলাস: ১. কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। ২. আল্লা-হুসসামাদ। ৩. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ। ৪. ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ। সূরা ফালাক্ব: ১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক ২. মিন শাররি মা-খালাক। ৩. ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব। ৪. ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ। ৫. ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ। সূরা নাস: ১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, ২.মালিকিন্না-ছ, ৩. ইলা-হিন্না-ছ। ৪. মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। ৫. আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-। ৬. মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যাবতীয প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহ, লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুছুলিহ, ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর। লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা, লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত, রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না,-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা, -রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহ, ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।
(১) রাসূল (অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ ﷺ) তাতে ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনগণও। তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসূলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা (খুশীমনে) পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারী, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। (২) আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজেই যা সে স্বেচ্ছায় করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজেই, যা সে স্বেচ্ছায় করে। (হে মুসলিমগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে এই দু‘আ কর যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করো না, যেমন তা অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা কর, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।
আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।
(প্রথম ১০ আয়াত) ১ আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আবদিহিল্ কিতা-বা অ লাম্ ইয়াজ্ব‘আল্ লাহূ ‘ইওয়াজ্বা-। ২ ক্বাইয়্যিমাল্ লিয়ুনযিরা বা'সান্ শাদীদাম্ মিল্লাদুনহু অ-য়ুবাশ্ শিরাল্ মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়া’মালূনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ আজ্বরান্ হাসানা-। ৩ মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-। ৪ অ-য়ুনযিরাল্লাযিনা ক্ব-লুত্তাখাযাল্লা-হু অলাদা-। ৫ মা-লাহুম্ বিহী মিন্ ‘ইল্মিঁও অলা- লিআ-বা-য়িহিম্; কাবুরত্ কালিমাতান্ তাখরুজু মিন্ আফ্ওয়া-হিহিম্; ইঁইয়াকু লূনা ইল্লা-কাযিবা-। ৬ ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফ্সাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম্ ইল্ লাম্ ইয়ুমিনূ বিহা-যাল্ হাদীছি আসাফা-। ৭ ইন্না- জ্বা‘আলনা-মা- ‘আলাল্ র্আদ্বি যীনাতাল্লাহা-লিনাব্লুওয়াহুম্ আইয়্যুহুম্ আহ্সানু ‘আমালা-। ৮ অইন্না-লাজ্বা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-ছোয়া‘ঈদান্ জুরুযা-। ৯ আম্ হাসিবতা আন্না আছ্হা-বাল্ ক্বহ্ফি অর্রাক্বীমি কা-নূ মিন্ আ-ইয়া-তিনা- ‘আজ্বাবা। ১০ ইয্ আওয়াল্ ফিত্ইয়াতু ইলাল্ কাহ্ফি ফাক্ব-লূ রব্বানা আ-তিনা-মিল্লাদুন্কা রাহমাতাওঁ অহাইয়ি লানা- মিন্ আম্রিনা- রশাদা-। (শেষ ১০ আয়াত) ১ আল্লাযীনা কা-নাত্ ‘আইয়ুনুহুম্ ফী গিত্বোয়া-য়িন্ ‘আন্ যিক্রী অকা-নূ লা- ইয়াস্তাত্বী ‘ঊনা সাম্‘আ-। ২ আফাহাসিবাল্ লাযীনা কাফারূ আইঁ ইয়াত্তাখিযূ ‘ইবা-দী মিন্ দূনী আওলিয়া-য়্; ইন্না ‘আ'তাদ্না-জ্বাহান্নামা লিল্ কা-ফিরীনা নুযুলা-। ৩ কুল্ হাল্ নুনাব্বিয়ুকুম্ বিল্আখ্সারীনা ‘আমা-লা-। ৪ আল্লাযীনা দ্বোয়াল্লা সা’ইয়ুহুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অ হুম্ ইয়াহ্সাবূনা আন্নাহুম্ ইয়ুহ্সিনূনা ছুন্‘আ-। ৫ উলা-য়িকাল লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ অলিক্বা-য়িহী ফাহাবিত্বোত আ’মা-লূহুম্ ফালা-নুক্বীমু লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অয্না-। ৬ যা-লিকা জ্বাযা-য়ুহুম্ জ্বাহান্নামু বিমা-কাফারূ অত্তাখাযূ আ-ইয়া-তী অরুসুলী হুযুওয়া-। ৭ ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত্ লাহুম্ জ্বান্নাতুল্ ফিরদাউসি নুযুলা-। ৮ খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আন্হা-হিওয়ালা-। ৯ কুল্ লাও কা-নাল্ বাহরু মিদা-দাল্ লিকালিমাতি রব্বী লানাফিদাল্ বাহরু ক্বাব্লা আন্ তান্ফাদা কালিমা-তু রব্বী অলাও জ্বিনা-বিমিছ্লিহী মাদাদা-। ১০ কুল্ ইন্নামা আনা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম্ ইলাহুঁও ওয়া- হিদুন্ ফামান্ কা-না ইয়ারজু লিক্বা রব্বিহী ফাল্ইয়া’মাল্ ‘আমালান্ ছোয়া-লিহাঁও অলা-ইয়ুশরিকু বি ই’বা-দাতি রব্বিহী আহাদা-।
(প্রথম ১০ আয়াত) ১ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা । ২ সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। ৩ তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে। ৪ আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’। ৫ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না! ৬ হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে। ৭ নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম। ৮ আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব। ৯ তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়? ১০ যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন’। (শেষ ১০ আয়াত) ১ আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম। ২ যারা কুফরী করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি। ৩ বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত’? ৪ দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’! ৫ ‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’। ৬ ‘এ জন্যই তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কারণ তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে বিদ্রুপের বিষয় বানিয়েছে’। ৭ নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। ৮ সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না। ৯ বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’। ১০ বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।
১. ইযা ওয়াক্বা‘তিল ওয়াক্বি‘আহ্। ২. লাইসা লিওয়াক্ব‘আতিহা কাযিবাহ্। ৩. খাফিদাতুর রাফি‘আহ্। ৪. ইযা রুজ্জাতিল আরদু রাজ্জা। ৫. ওয়া বুস্সাতিল জিবালু বাস্সা। ৬. ফাকানাত হাবা-আম মুমবাস্সা। ৭. ওয়া কুনতুম আযওয়াজান ছালাছাহ্। ৮. ফা-আসহাবুল মাইমানাতি মা আসহাবুল মাইমানাহ্। ৯. ওয়া আসহাবুল মাশআমাতি মা আসহাবুল মাশআমাহ্। ১০. ওয়াস্-সাবিকূনাস্-সাবিকূন। ১১. উলা-ইকাল মুকাররাবূন। ১২. ফী জান্নাতিন না‘ঈম। ১৩. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ১৪. ওয়া ক্বালীলুম মিনাল আখিরীন। ১৫. ‘আলা সুরুরিম মাওদূনাহ্। ১৬. মুতাক্বাবিলীনা ‘আলাইহা। ১৭. ইয়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদানুম মুখাল্লাদূন। ১৮. বি-আকওয়াবিওঁ ওয়া আবা-রীক্বা ওয়া কা'সিম মিন মা‘ঈন। ১৯. লা ইউসাদ্দা‘ঊনা ‘আনহা ওয়া লা ইউনযিফূন। ২০. ওয়া ফাকিহাতিম মিম্মা ইয়াতাখাইয়ারূন। ২১. ওয়া লাহমি তইরিম মিম্মা ইয়াশতাহূন। ২২. ওয়া হূরুন ‘ঈন। ২৩. কা-আমছালিল লু’লু’ইল মাকনূন। ২৪. জাযা-আম বিমা কানূ ইয়া‘মালূন। ২৫. লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াওঁ ওয়া লা তা’ছীমা। ২৬. ইল্লা ক্বীলান সালামান সালামা। ২৭. ওয়া আসহাবুল ইয়ামীন, মা আসহাবুল ইয়ামীন। ২৮. ফী সিদরিম মাখদূদ। ২৯. ওয়া তালহিম মানদূদ। ৩০. ওয়া যিল্লিম মামদূদ। ৩১. ওয়া মা-ইম মাসকূব। ৩২. ওয়া ফাকিহাতিন কাছীরাহ্। ৩৩. লা মাক্বতূ‘আতিওঁ ওয়া লা মামনূ‘আহ্। ৩৪. ওয়া ফুরুশিম মারফূ‘আহ্। ৩৫. ইন্না আনশা’নাহুন্না ইনশা-আ। ৩৬. ফাজা‘আলনাহুন্না আবকারা। ৩৭. ‘উরুবান আত্রাবা। ৩৮. লি-আসহাবিল ইয়ামীন। ৩৯. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন। ৪০. ওয়া ছুল্লাতুম মিনাল আখিরীন। ৪১. ওয়া আসহাবুশ্-শিমালি মা আসহাবুশ্-শিমাল। ৪২. ফী সামূমিওঁ ওয়া হামীম। ৪৩. ওয়া যিল্লিম মিন ইয়াহমূম। ৪৪. লা বারিদিওঁ ওয়া লা কারীম। ৪৫. ইন্নাহুম কানূ ক্বাবলা যালিকা মুতরাফীন। ৪৬. ওয়া কানূ ইউসিররূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আযীম। ৪৭. ওয়া কানূ ইয়াক্বূলূনা আ-ইযা মিতনা ওয়া কুন্না তুরাবাঁও ওয়া ‘ইযামান, আ-ইন্না লামাব‘ঊছূন। ৪৮. আওয়া-আবা-উনাল আওয়ালূন। ৪৯. কুল ইন্নাল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন। ৫০. লামাজমূ‘ঊনা ইলা মীক্বাতি ইয়াওমিম মা‘লূম। ৫১. ছুম্মা ইন্নাকুম আইয়ুহাদ্-দাল্লূনাল মুকায্যিবূন। ৫২. লা-আকিলূনা মিন শাজারাতিম মিন যাক্কূম। ৫৩. ফামালি’ঊনা মিনহাল বুতূন। ৫৪. ফাশারিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম। ৫৫. ফাশারিবূনা শুরবাল হীম। ৫৬. হাযা নুযুলুহুম ইয়াওমাদ্দীন। ৫৭. নাহনু খালাক্বনাকুম ফালাওলা তুসাদ্দিকূন। ৫৮. আফারা-আইতুম মা তুমনূন। ৫৯. আ-আনতুম তাখলুকূনাহু আম নাহনুল খালিক্বূন। ৬০. নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়া মা নাহনু বিমাসবূক্বীন। ৬১. ‘আলা আন নুবাদ্দিলা আমছালাকুম ওয়া নুনশি’আকুম ফী মা লা তা‘লামূন। ৬২. ওয়া লাক্বাদ ‘আলিমতুমুন নাশআতাল ঊলা ফালাওলা তাযাক্কারূন। ৬৩. আফারা-আইতুম মা তাহরুছূন। ৬৪. আ-আনতুম তাযরা‘ঊনাহু আম নাহনুয্-যারি‘ঊন। ৬৫. লাও নাশা-উ লাজা‘আলনাহু হুতামান ফাযালতুম তাফাক্কাহূন। ৬৬. ইন্না লামুগরামূন। ৬৭. বাল নাহনু মাহরূমূন। ৬৮. আফারা-আইতুমুল মা-আল্লাযী তাশরাবূন। ৬৯. আ-আনতুম আনযালতুমূহু মিনাল মুযনি আম নাহনুল মুনযিলূন। ৭০. লাও নাশা-উ জা‘আলনাহু উজাজান ফালাওলা তাশকুরূন। ৭১. আফারা-আইতুমুন নারাল্লাতী তূরূন। ৭২. আ-আনতুম আনশা’তুম শাজারাতাহা আম নাহনুল মুনশি’ঊন। ৭৩. নাহনু জা‘আলনাহা তাযকিরাতাঁও ওয়া মাতাআ‘ল লিলমুক্ববীন। ৭৪. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম। ৭৫. ফালা উক্বসিমু বিমাওয়াক্বি‘ইন নুজূম। ৭৬. ওয়া ইন্নাহু লাক্বাসামুল লাও তা‘লামূনা ‘আযীম। ৭৭. ইন্নাহু লাকুরআনুন কারীম। ৭৮. ফী কিতাবিম মাকনূন। ৭৯. লা ইয়ামাস্সুহু ইল্লাল মুতাহহারূন। ৮০. তানযীলুম মির রাব্বিল ‘আলামীন। ৮১. আফাবিহাযাল হাদীছি আনতুম মুদহিনূন। ৮২. ওয়া তাজ‘আলূনা রিযক্বাকুম আন্নাকুম তুকায্যিবূন। ৮৩. ফালাওলা ইযা বালাগাতিল হুলক্বূম। ৮৪. ওয়া আনতুম হীনাইযিন তানযুরূন। ৮৫. ওয়া নাহনু আক্বরাবু ইলাইহি মিনকুম ওয়া লাকিল লা তুবসিরূন। ৮৬. ফালাওলা ইন কুনতুম গাইরা মাদীনীন। ৮৭. তারজিঊনাহা ইন কুনতুম সাদিক্বীন। ৮৮. ফা-আম্মা ইন কানা মিনাল মুকাররাবীন। ৮৯. ফারাওহুঁওয়া রাইহানুঁওয়া জান্নাতু না‘ঈম। ৯০. ওয়া আম্মা ইন কানা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯১. ফাসালামুল্লাকা মিন আসহাবিল ইয়ামীন। ৯২. ওয়া আম্মা ইন কানা মিনাল মুকায্যিবীনাদ্-দাল্লীন। ৯৩. ফানুযুলুম মিন হামীম। ৯৪. ওয়া তাসলিয়াতু জাহীম। ৯৫. ইন্না হাযা লাহুয়া হাক্কুল ইয়াক্বীন। ৯৬. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম।
১. যখন অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ঘটবে। ২. তখন এর সংঘটনকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না। ৩. তা নিচু ও উঁচুকারক জিনিস। ৪. যখন পৃথিবীকে প্রবল কম্পনে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে। ৫. এবং পর্বতসমূহকে পিষে চূর্ণ করা হবে। ৬. ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধুলোকণায় পরিণত হবে। ৭. এবং (হে মানুষ!) তোমরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে। ৮. সুতরাং যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান হাত বিশিষ্টগণ! ৯. আর যারা বাম হাত বিশিষ্ট, কী (হতভাগ্য) সে বাম হাত বিশিষ্টগণ! ১০. আর যারা অগ্রগামী, তারা তো অগ্রগামীই! ১১. তারাই আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা। ১২. তারা থাকবে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে। ১৩. বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ১৪. এবং অল্প সংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য হতে। ১৫. সোনার তারে বোনা উঁচু আসনে ১৬. তারা পরস্পর সামনাসামনি হেলান দিয়ে থাকবে। ১৭. তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা, ১৮. এমন পান-পাত্র, জগ ও প্রস্রবণ-নিসৃত স্বচ্ছ সূরা পাত্র নিয়ে, ১৯. যা পানে তাদের মাথা ব্যথা হবে না এবং তারা চেতনা হারাবে না ২০. এবং তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে, ২১. এবং তাদের চাহিদা মত পাখির গোশত নিয়ে ২২. এবং তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর, ২৩. যেন তারা লুকিয়ে রাখা মুক্তা। ২৪. তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ। ২৫. তারা সে জান্নাতে শুনবে না কোন অহেতুক কথা এবং না কোন পাপের কথা। ২৬. তবে সেখানে হবে কেবল শান্তিপূর্ণ কথা, কেবলই শান্তিপূর্ণ কথা। ২৭. আর যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান-হাত বিশিষ্টগণ! ২৮. (তারা আয়েশে থাকবে) কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে ২৯. এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ, ৩০. সুদূর বিস্তৃত ছায়া, ৩১. প্রবহমান পানি ৩২. এবং প্রচুর ফলমূলের ভেতর। ৩৩. যা কখনও শেষ হবে না এবং যাতে কোন বাধাও দেওয়া হবে না। ৩৪. আর তারা থাকবে উঁচুতে রাখা ফরাশে। ৩৫. নিশ্চয়ই আমি সে নারীদেরকে দিয়েছি নব উত্থান। ৩৬. সুতরাং তাদেরকে বানিয়েছি কুমারী। ৩৭. (স্বামীদের পক্ষে) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা। ৩৮. সবই ডান হাত বিশিষ্টদের জন্য। ৩৯. (যাদের মধ্যে) অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে ৪০. এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে। ৪১. আর যারা বাম হাতবিশিষ্ট, কী হতভাগ্য সে বাম-হাত বিশিষ্টগণ! ৪২. তারা থাকবে উত্তপ্ত বায়ু ও ফুটন্ত পানিতে। ৪৩. কালো ধুয়ার ছায়ায় ৪৪. যা হবে না শীতল, না উপকারী। ৪৫. ইতঃপূর্বে তারা ছিল আরাম-আয়েশের ভেতর। ৪৬. অতি বড় পাপের উপর অনড় থাকত। ৪৭. এবং বলত, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে? ৪৮. এবং আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও, যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে? ৪৯. বলে দাও, নিশ্চয়ই আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে ৫০. নির্দিষ্ট এক দিনের স্থিরীকৃত সময়ে একত্র করা হবে। ৫১. অতঃপর হে অবিশ্বাসী পথভ্রষ্টগণ! অবশ্যই তোমরা ৫২. এমন এক গাছ থেকে খাবে, যার নাম যাক্কুম। ৫৩. অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে। ৫৪. তদুপরি পান করবে ফুটন্ত পানি। ৫৫. পানও করবে সেইভাবে, যেভাবে পান করে তৃষ্ণার রোগে আক্রান্ত উট। ৫৬. এটাই বিচার দিবসে তাদের আপ্যায়ন। ৫৭. আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না? ৫৮. আচ্ছা বল তো, তোমরা যে বীর্য স্খলন কর ৫৯. তা কি তোমরা সৃষ্টি কর না আমিই তার স্রষ্টা? ৬০. আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুর ফায়সালা করে রেখেছি এবং এমন কেউ নেই, যে আমাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে ৬১. এ ব্যাপারে যে, আমি তোমাদের স্থলে তোমাদের মত অন্য লোক আনয়ন করব এবং তোমাদেরকে এমন কোন রূপ দান করব, যা তোমরা জান না। ৬২. তোমরা তো তোমাদের প্রথম সৃজন সম্পর্কে অবগত আছ। তা সত্ত্বেও তোমরা কেন উপদেশ গ্রহণ কর না? ৬৩. তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা জমিতে যা-কিছু বোন, ৬৪. তা কি তোমরা উদগত কর, না আমিই তার উদগতকারী? ৬৫. আমি ইচ্ছা করলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি, ফলে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে ৬৬. যে, আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে পড়লাম, ৬৭. বরং আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলাম! ৬৮. আচ্ছা বল তো, এই যে পানি তোমরা পান কর ৬৯. মেঘ থেকে তা কি তোমরা বর্ষণ করাও, না আমিই তার বর্ষণকারী? ৭০. আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কি তোমরা শোকর আদায় কর না? ৭১. আচ্ছা বল তো, এই যে আগুন তোমরা জ্বালাও, ৭২. তার বৃক্ষ কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা? ৭৩. আমিই তাকে বানিয়েছি উপদেশের উপকরণ এবং মরুচারীদের জন্য উপকারী বস্তু। ৭৪. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর। ৭৫. যে সকল স্থানে নক্ষত্র পতিত হয় আমি তার শপথ করে বলছি, ৭৬. আর তোমরা যদি বোঝ, তো এটা এক মহা শপথ। ৭৭. নিশ্চয়ই এটা অতি সম্মানিত কুরআন, ৭৮. যা এক সুরক্ষিত কিতাবে (পূর্ব থেকেই) লিপিবদ্ধ আছে। ৭৯. একে স্পর্শ করে কেবল তারাই, যারা অত্যন্ত পবিত্র, ৮০. এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ। ৮১. তবুও কি তোমরা এ বাণীকে অবহেলা কর? ৮২. এবং তোমরা (এর প্রতি) অবিশ্বাসকেই তোমাদের উপজীব্য বানিয়ে নিয়েছ? ৮৩. অতঃপর এমন কেন হয় না যে, যখন (কারও) প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, ৮৪. এবং তোমরা (বিমর্ষ মনে তার দিকে) তাকিয়ে থাক, ৮৫. এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না। ৮৬. যদি তোমাদের হিসাব-নিকাশ হওয়ার না-ই থাকে, ৮৭. তবে তোমরা সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনছ না কেন যদি তোমরা সত্যবাদী হও? ৮৮. অতপর সে (মৃত ব্যক্তি) যদি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের একজন হয়, ৮৯. তবে (তার জন্য) শুধু আরাম, সুরভি ও নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত। ৯০. আর যদি হয় ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, ৯১. তবে (তাকে বলা হবে যে,) তোমার জন্য রয়েছে শান্তি, যেহেতু তুমি ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। ৯২. আর যদি হয় সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত, ৯৩. তবে (তার জন্য আছে) ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন, ৯৪. আর জাহান্নামে প্রবেশ। ৯৫. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই যথার্থ সুনিশ্চিত বিষয়। ৯৬. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর।
আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল। আলাম ইয়াজ‘আল কাইদাহুম ফী তাদলীল ওয়া আরছালা ‘আলাইহিম তাইরান আবা-বীল। তারমীহিম বিহিজা-রাতিম মিন ছিজ্জীল। ফাজা‘আলাহুম কা‘আসফিম মা’কূল।
লিঈলা-ফি কুরাইশ। ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ। ফালইয়া‘বুদূরাব্বা হা-যাল বাঈত। আল্লাযীআতা‘আমাহুম মিন জূ‘ইওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।
আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযি বুবিদ্দীন। ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম। ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন। ফাওয়াইঁলুলিলল মুসাল্লীন। আল্লাযীনাহুম ‘আন সালা-তিহিমি ছা-হূন। আল্লাযীনা হুম ইউরাঊনা। ওয়া ইয়ামনা‘ঊনাল মা-‘ঊন।
কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন। লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন। ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ। ওয়ালা আনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম, ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ। লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।
ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ। ওয়ারাআইতান্না-ছা ইয়াদখুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়া-জা-। ফাছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা ওয়াছতাগফিরহু ইন্নাহূকা-না তাওওয়া-বা-।
তাব্বাত ইয়াদাআবী লাহাবিওঁ ওয়া তাবব। মাআগনা-‘আনহু মা-লুহূওয়ামা-কাছাব। ছাইয়াসলা-না-রান যা-তা লাহাব। ওয়ামরাআতুহূ; হাম্মা-লাতাল হাতাব। ফী জীদিহা-হাবলুম মিম মাছাদ।
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক মিন শাররি মা-খালাক। ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ। ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, মালিকিন্না-ছ, ইলা-হিন্না-ছ। মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছ ওয়িছু ফী সুদূরিন্নাছ-। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
দু'আর বিষয়সমূহ
40টি বিষয় পাওয়া গেছে