মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৩৮০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরহেজগারীর স্থান, সন্দেহজনক বস্তু থেকেও বেঁচে থাকা প্রয়োজন
৩৮০. হযরত নু'মান ইবনে বশীর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, হালাল প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। হারামও স্পষ্ট ও প্রকাশ্য। আর এ দু'য়ের মধ্যে আছে সন্দেহজনক বিষয়াবলী। অনেক মানুষই তা জানে না। সুতরাং যে সন্দেহজনক বিষয়াবলী থেকে দূরে রইল সে তার দীন ও সম্মানকে রক্ষা করল। আর যে সন্দেহজনক বিষয়াবলীতে পতিত হয়, সে হারামের সীমানায় পতিত হয়, সেই রাখালের ন্যায় যে সংরক্ষিত এলাকার পাশে তার পশু পাল চড়ায়। এতে পশুপাল পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ) সাবধান। প্রত্যেক রাজারই থাকে একটি সংরক্ষিত এলাকা। শুন, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হচ্ছে তাঁর হারামসমূহ। (মানুষের এর নিকটেও না যাওয়া উচিত, অর্থাৎ সন্দেহজনক জিনিস থেকেও বেঁচে থাকবে)। সাবধান! মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে। (যার অবস্থা হচ্ছে) যদি এটা ভাল থাকে (অর্থাৎ এতে ঈমানী নূর, আল্লাহর মা'আরিফত ও তাঁর ভয় থাকে) তবে গোটা শরীরই ভাল থাকে। (অর্থাৎ তার কার্যাবলী ও অবস্থাদি সঠিক থাকে) আর যদি এটা বিগড়ায় তবে গোটা শরীরই বিগড়াবে। (অর্থাৎ এর কার্যাবলী ও অবস্থাদি খারাপ হয়ে দাঁড়ায়) সাবধান এটা হচ্ছে কলব। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الحَلاَلُ بَيِّنٌ، وَالحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهُنَّ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الشُبْهَاتَ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ، كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ، أَلَا وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللهِ مَحَارِمُهُ، أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً، إِذَا صَلَحَتْ، صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ، فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরহেজগারীর স্থান, সন্দেহজনক বস্তু থেকেও বেঁচে থাকা প্রয়োজন
৩৮১. হযরত আতিয়া সা'দী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, কোন বান্দা মুত্তাকীর স্তরে পৌঁছতে সক্ষম হবে না যতক্ষণ না সে গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য মুবাহ্ জিনিস পরিত্যাগ করে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطِيَّةَ السَّعْدِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ، حَتَّى يَدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ، حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ» (رواه الترمذى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দাওয়াত ও শিক্ষায় ঈমান এবং আল্লাহর ইবাদতের পর আল্লাহর বান্দাগণের ও সাধারণ সৃষ্টজীবের সাথে সদাচারণ বিশেষ করে দুর্বল ও অভাবীদের সেবা ও সাহায্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আর এটা তার শিক্ষা ও উপদেশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মা'আরিফুল হাদীসের এ ধারাবাহিকতারই ‘কিতাবুল আখলাক’ (দ্বিতীয় খণ্ড) ও ‘কিতাবুল মুআশারাহ’ (ষষ্ঠ খন্ড)-এর মধ্যে সম্মানিত পাঠকবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ের অধীনে রাসূলুল্লাহ-এর এরূপ পঞ্চাশটি বাণী পাঠ করেছেন, যেগুলোর সম্পর্ক এই বিশাল অধ্যায়ের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার সাথে সম্পৃক্ত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দাওয়াত ও শিক্ষায় ঈমান এবং আল্লাহর ইবাদতের পর আল্লাহর বান্দাগণের ও সাধারণ সৃষ্টজীবের সাথে সদাচারণ বিশেষ করে দুর্বল ও অভাবীদের সেবা ও সাহায্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আর এটা তার শিক্ষা ও উপদেশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মা'আরিফুল হাদীসের এ ধারাবাহিকতারই ‘কিতাবুল আখলাক’ (দ্বিতীয় খণ্ড) ও ‘কিতাবুল মুআশারাহ’ (ষষ্ঠ খন্ড)-এর মধ্যে সম্মানিত পাঠকবৃন্দ বিভিন্ন বিষয়ের অধীনে রাসূলুল্লাহ-এর এরূপ পঞ্চাশটি বাণী পাঠ করেছেন, যেগুলোর সম্পর্ক এই বিশাল অধ্যায়ের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার সাথে সম্পৃক্ত।
৩৮২. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহর রহম সেই বান্দার ওপর, যে বিক্রয়ে, ক্রয়ে ও নিজের পাওনা তলবের সময় নম্রতা ও উদারতা প্রদর্শন করে। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، وَإِذَا اشْتَرَى، وَإِذَا اقْتَضَى» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৩ . হযরত হুযাইফা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমাদের পূর্বে কোন জাতির মধ্যে এক ব্যক্তি ছিল। মৃত্যুর ফেরেশতা যখন তার রূহ কবজ করতে তার নিকট এলেন (আর রূহ কবজের পর যখন সে এ জগত ছেড়ে অন্য জগতে চলে গেল) তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো তুমি কি দুনিয়াতে কোন পুণ্যের কাজ করেছিলে? (যা তোমার জন্য মুক্তির উপায় হতে পারে) সে বলল, আমার জানা মতে এরূপ কোন কাজ নেই। তাকে বলা হল, (নিজের জীবনের প্রতি) দৃষ্টিপাত কর। (চিন্তা করে দেখ) সে পুনরায় বলল, আমার জানা মতে (আমার কোন আমল) কোন কিছু নেই ইহা ছাড়া যে, আমি লোকজনের সাথে কাজ-কারবার, ক্রয়-বিক্রয় করতাম। তাদের সাথে আমার রীতি ছিল ক্ষমা ও ইহসান সুলভ। আমি স্বচ্ছলদেরকেও সময় দিতাম। (যে পারে সে যখন চাইবে পরিশোধ করবে) আর দরিদ্রদেরকে ক্ষমাও করে দিতাম। এতে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিলেন। (বুখারী, মুসলিম)
আর সহীহ মুসলিমে হযরত উকবা ইব্ন আমির ও হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর এর শেষাংশে فأدخله الله الجنة পরিবর্তে এই শব্দগুলো এসেছে:
فقال الله أنا أحق بِذَا مِنْكَ تَجَاوَزُوا عَنْ عَبْدِي .
আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে বললেন, ইহসান ও ক্ষমার যে ব্যাপার তুমি আমার বান্দাদের সাথে করতে যে, (দরিদ্রদেরকে ক্ষমাও করে দিতে) এ (ক্ষমার রীতি) আমার জন্য অধিক শোভনীয় আর এ বিষয়ে আমি তোমার থেকে বেশী হক (যে ক্ষমা করে দিব)। আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন, আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।
আর সহীহ মুসলিমে হযরত উকবা ইব্ন আমির ও হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) থেকেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর এর শেষাংশে فأدخله الله الجنة পরিবর্তে এই শব্দগুলো এসেছে:
فقال الله أنا أحق بِذَا مِنْكَ تَجَاوَزُوا عَنْ عَبْدِي .
আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তিকে বললেন, ইহসান ও ক্ষমার যে ব্যাপার তুমি আমার বান্দাদের সাথে করতে যে, (দরিদ্রদেরকে ক্ষমাও করে দিতে) এ (ক্ষমার রীতি) আমার জন্য অধিক শোভনীয় আর এ বিষয়ে আমি তোমার থেকে বেশী হক (যে ক্ষমা করে দিব)। আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলেন, আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ رَجُلًا كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، أَتَاهُ المَلَكُ لِيَقْبِضَ رُوحَهُ، فَقِيلَ لَهُ: هَلْ عَمِلْتَ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: مَا أَعْلَمُ، قِيلَ لَهُ: انْظُرْ، قَالَ: مَا أَعْلَمُ شَيْئًا غَيْرَ أَنِّي كُنْتُ أُبَايِعُ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا وَأُجَازِيهِمْ، فَأُنْظِرُ المُوسِرَ، وَأَتَجَاوَزُ عَنِ المُعْسِرِ، فَأَدْخَلَهُ اللَّهُ الجَنَّةَ " (رواه البخارى ومسلم وفى رواية لمسلم)
نحوه عن عقبة بن عامر وابى مسعود الانصارى فقال الله انا احق بذا منك تجاوزوا عن عبدى.
نحوه عن عقبة بن عامر وابى مسعود الانصارى فقال الله انا احق بذا منك تجاوزوا عن عبدى.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, এক ব্যক্তি মানুষকে কর্জ দিত। সে তার চাকরকে বলে রেখেছিল যখন তুমি কোন দরিদ্রের নিকট যাও তখন তাকে ক্ষমা করে দিও। সম্ভবত এ কারণে আল্লাহ আমাকে গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। নবী ﷺ বলেন, মৃত্যুর পর সে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ করেছে যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " كَانَ الرَّجُلُ يُدَايِنُ النَّاسَ، فَكَانَ يَقُولُ لِفَتَاهُ: إِذَا أَتَيْتَ مُعْسِرًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ، لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنَّا، قَالَ: فَلَقِيَ اللَّهَ فَتَجَاوَزَ عَنْهُ " (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৫. হযরত আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন দরিদ্রকে সময় দিল অথবা (নিজের পাওনা পূর্ণ কিংবা আংশিক) ক্ষমা করে দিল কিয়ামতের দিন কষ্ট ও পেরেশানী থেকে আল্লাহ তাকে মুক্তি দিবেন। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبي قَتَادَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ عَنْهُ، أَنْجَاهُ اللَّهُ مِنْ كُرْبِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৬. হযরত আবুল ইয়াসার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোন দরিদ্রকে (যার নিকট তার কর্জ ইত্যাদি রয়েছে) অবকাশ দেয় অথবা (পাওনার পূর্ণ কিংবা আংশিক) মাফ করে দেয় (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ তা'আলা তাকে তাঁর রহমতের ছায়ায় স্থান দিবেন। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبي الْيُسْرِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا، أَوْ وَضَعَ عَنْهُ، أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আর্থিক লেন-দেনে অন্যান্যদের লাখে নম্রতা ও ছাড় দেয়া
৩৮৭. হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে লোকের অন্য কোন ব্যক্তির ওপর কোন হক (ঋণ ইত্যাদি) রয়েছে আর সে ঋণ গ্রহীতাকে অবকাশ দেয় তবে প্রতিদিনের জন্য সাদকার সাওয়াব পাবে। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَ لَهُ عَلَى رَجُلٍ حَقٌّ، فَمَنْ أَخَّرَهُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জ প্রদানের ফযীলত ও এ সম্বন্ধে উপদেশাবলী
এটা সুস্পষ্ট যে, অভাবী ও দরিদ্র লোককে কর্জ দেওয়া, তাকে সাহায্য করা। কোন কোন হাদীস থেকে জানা যায় যে, এর পুণ্য ও পুরস্কার সাদকা থেকেও অধিক। এর সাথে কর্জের ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারীও রয়েছে।
এটা সুস্পষ্ট যে, অভাবী ও দরিদ্র লোককে কর্জ দেওয়া, তাকে সাহায্য করা। কোন কোন হাদীস থেকে জানা যায় যে, এর পুণ্য ও পুরস্কার সাদকা থেকেও অধিক। এর সাথে কর্জের ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারীও রয়েছে।
৩৮৮. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, এক ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে এর দরজায় লিখা দেখতে পেল, সাদকার সওয়াব দশগুণ আর কর্জ প্রদানের সাওয়াব আঠার গুণ। (তাবারানী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " دَخَلَ رَجُلٌ الْجَنَّةَ فَرَأَى عَلَى بَابِهَا مَكْتُوبًا الصَّدَقَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، وَالْقَرْضُ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ " (رواه الطبرانى فى الكبير)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক দিকে তো সম্পদশালী সাহাবীগণকে অভাবী ভাইদেরকে কর্জ দিতে ও তা আদায়ের ব্যাপারে কর্জগ্রহীতাকে সময় দিতে উৎসাহিত করেছেন যে, যখন সুযোগ পাবে পরিশোধ করবে। আর যদি অপারগ ও অভাবী হয় তবে কর্জের সমুদয় অথবা আংশিক ক্ষমা করে দিবে। এর বিরাট পুণ্য বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে কর্জ গ্রহীতাকে সতর্ক করেছেন যে, যে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কর্জ পরিশোধ করবে এবং এর বোঝা হতে ভারমুক্ত হতে চেষ্টা করবে। আল্লাহ না করুন, কর্জ পরিশোধ ছাড়া যদি এ দুনিয়া হতে চলে যায় তবে আখিরাতে এর পরিণাম তার জন্যে খুবই মন্দ হবে। কেননা তিনি ইহাকে কঠিনতম ও ক্ষমার অযোগ্য বলেছেন। কখনো এরূপ হয়েছে যে, কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তার উপর কারো কর্জ রয়েছে যাকে পরিশোধ করেনি, তখন তিনি তার জানাযায় নামায পড়াতে অস্বীকার করেছেন। স্পষ্টতঃই এটা তাঁর পক্ষ হতে চূড়ান্ত পর্যায়ের হুঁশিয়ারী ছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক দিকে তো সম্পদশালী সাহাবীগণকে অভাবী ভাইদেরকে কর্জ দিতে ও তা আদায়ের ব্যাপারে কর্জগ্রহীতাকে সময় দিতে উৎসাহিত করেছেন যে, যখন সুযোগ পাবে পরিশোধ করবে। আর যদি অপারগ ও অভাবী হয় তবে কর্জের সমুদয় অথবা আংশিক ক্ষমা করে দিবে। এর বিরাট পুণ্য বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে কর্জ গ্রহীতাকে সতর্ক করেছেন যে, যে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি কর্জ পরিশোধ করবে এবং এর বোঝা হতে ভারমুক্ত হতে চেষ্টা করবে। আল্লাহ না করুন, কর্জ পরিশোধ ছাড়া যদি এ দুনিয়া হতে চলে যায় তবে আখিরাতে এর পরিণাম তার জন্যে খুবই মন্দ হবে। কেননা তিনি ইহাকে কঠিনতম ও ক্ষমার অযোগ্য বলেছেন। কখনো এরূপ হয়েছে যে, কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন, তার উপর কারো কর্জ রয়েছে যাকে পরিশোধ করেনি, তখন তিনি তার জানাযায় নামায পড়াতে অস্বীকার করেছেন। স্পষ্টতঃই এটা তাঁর পক্ষ হতে চূড়ান্ত পর্যায়ের হুঁশিয়ারী ছিল।
৩৮৯. হযরত আবু মুসা আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা যেসব কবীরা গুনাহ হতে নিষেধ করেছেন (যেমন শিরক, যিনা ইত্যাদি) সেসব গুনাহর পর সর্বাধিক বড় গুনাহ এই যে, মানুষ ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আর ইহা পরিশোধের সম্পদ রেখে যায় না। (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ أَنْ يَلْقَاهُ بِهَا عَبْدٌ بَعْدَ الْكَبَائِرِ الَّتِي نَهَى اللَّهُ عَنْهَا، أَنْ يَمُوتَ رَجُلٌ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ، لَا يَدَعُ لَهُ قَضَاءً» (رواه احمد وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯০. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, ঋণের কারণে মু'মিন বান্দার আত্মা মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত থাকে যতক্ষণ না তার পক্ষ হতে পরিশোধ করা হয়। (মুসনাদে শাফিঈ, মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ» (رواه احمد والترمذى وابن ماجة والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, (আল্লাহর পথে আত্মদানের কারণে) শহীদ মু'মিনের ঋণ ছাড়া সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯২. হযরত আবু কাতাদা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে বলুন, যদি আমি আল্লাহর পথে ধৈর্যশীল দৃঢ়পদ থেকে এমতাবস্থায় শহীদ হই যে, পেছনে নয় বরং সামনে অগ্রসরমান, এতে কি আল্লাহ আমার (সব) গুনাহ্ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (আল্লাহ্ তোমার সব গুনাহ মাফ করে দেবেন) এরপর যখন সেই ব্যক্তি (তার উত্তর শুনে) প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, হ্যাঁ, (তোমার সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে) ঋণ ছাড়া একথা জিবরাইল এভাবেই বলেছেন। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ، يُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَايَ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ» فَلَمَّا أَدْبَرَ، نَادَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ، إِلَّا الدَّيْنَ، كَذَلِكَ قَالَ جِبْرِيلُ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৩. হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইব্ন জাহশ (রা) বলেন, মসজিদের উঠানে, যেখানে জানাযা রাখা হয় আমরা একদিন সেখানে বসা ছিলাম, আর রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর দৃষ্টি আসমানের প্রতি উত্তোলন করলেন এবং কিছু দেখলেন। তারপর তাঁর দৃষ্টি অবনত করলেন আর তাঁর হাত স্বীয় কপালে রেখে বললেন, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ পবিত্র। কত শক্ত কথা নাযিল হয়েছে। বর্ণনাকারী (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) বলেন, এ দিন ও রাত, আমরা সবাই নিশ্চুপ থাকলাম। (আর কী পরিদৃশ্য হয় তার অপেক্ষায় রইলাম)। তবে কল্যাণই পেলাম। মুহাম্মদ বলেন, এরপর প্রাতঃকালে আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কী শক্ত কথা নাযিল হয়েছিল? তিনি বললেন, ঋণ সম্বন্ধে শক্ত নির্দেশ নাযিল হয়েছে। (এরপর তিনি আল্লাহ তা'আলার সেই শক্ত নির্দেশের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেন,) সেই সত্তার শপথ। যার হাতে আমি মুহাম্মদের প্রাণ নিহিত রয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয় এরপর জীবিত হয়, এরূপ আল্লাহর পথে শহীদ হয় জীবিত হয়, তারপর আল্লাহর পথে শহীদ ও জীবিত হয় আর তার ওপর থাকে ঋণ, সে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ حَيْثُ يُوضَعُ الْجَنَائِزُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَيْنَا، فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَنَظَرَ، ثُمَّ طَأْطَأَ بَصَرَهُ وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مَاذَا نَزَلَ مِنَ التَّشْدِيدِ؟» قَالَ: فَسَكَتْنَا يَوْمَنَا وَلَيْلَتَنَا، فَلَمْ نَرَ إِلَّا خَيْرًا حَتَّى أَصْبَحْنَا. قَالَ مُحَمَّدٌ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا التَّشْدِيدُ الَّذِي نَزَلَ؟ قَالَ: «فِي الدَّيْنِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ، ثُمَّ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ، ثُمَّ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَقْضِيَ دَيْنَهُ» (رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৪. হযরত সালামা ইবনে আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে বসা ছিলাম। এক জানাযা নিয়ে আসা হল। লোকজন বললেন, তার জানাযার নামায পড়ান। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকের ওপর কি ঋণ রয়েছে? লোকজন বললেন, না। তিনি উক্ত জানাযার নামায পড়ালেন। এরপর অন্য এক জানাযা নিয়ে আসা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মৃতের ওপর কি কারো পাওনা রয়েছে? বলা হয় জি হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? (যদ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে)। লোকজন বললেন, সে তিন দিনার রেখে গেছে। তখন তিনি তার নামাযে জানাযা পড়ালেন। এরপর তৃতীয় জানাযা নিয়ে আসা হল। এ মৃতের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, তার ওপর কি ঋণ রয়েছে? লোকজন বললেন, জি হ্যাঁ। তার ওপর তিন দিনার ঋণ রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে। (যদ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে) লোকজন বলনেন, কিছু রেখে যায়নি। তিনি উপস্থিত সাহাবীগণকে বললেন তোমাদের সাথীর নামাযে জানাযা তোমরাই পড়ে নেও। তখন আবু কাতাদা আনসারী বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ তার নামাযে জানাযা পড়ান, তার ঋণ আমার জিম্মায় নিলাম। (আমি পরিশোধ করব) এরপর তিনি এ জানাযারও নামায পড়ালেন। (সহীহ বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟»، قَالُوا: لاَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قِيلَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟»، قَالُوا: ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّالِثَةِ، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قَالُوا: ثَلاَثَةُ دَنَانِيرَ، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» قَالُوا: لاَ، قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ»، قَالَ أَبُو قَتَادَةَ صَلِّ عَلَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের নিকট থেকে (ঋণ) মাল গ্রহণ করে আর তার পরিশোধের ইচ্ছা থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তার দ্বারা পরিশোধ করাবেন। (অর্থাৎ পরিশোধ তার সাহায্য করবেন, আর জীবিতাবস্থায় যদি সে পরিশোধে সক্ষম না হয় তবে আখিরাতে তার পক্ষ হতে পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করবেন)। আর যে ব্যক্তি কোন লোক থেকে (ঋণ) গ্রহণ করে আর ইচ্ছাই থাকে মেরে দেবার, তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ধ্বংসের স্তরেই রেখে দেবেন। (অর্থাৎ দুনিয়াতে এ মন্দ নিয়তকারীর সাহায্য করবেন না আর আখিরাতে এ মেরে দেয়া তার জন্য বিরাট বিপদ হবে। (সহীহ বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلاَفَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৬. হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা) উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, যে কোন বান্দা ঋণ গ্রহণ করে আর আল্লাহ জানেন তার হৃদয়ে পরিশোধের ইচ্ছা রয়েছে তবে আল্লাহ তা'আলা তার ঋন দুনিয়াতেই পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ خَلِيلِي وَصَفِيِّي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَدَّانُ دَيْنًا فَيَعْلَمُ اللَّهُ أَنَّهُ يُرِيدُ قَضَاءَهُ إِلَّا أَدَّاهُ اللَّهُ عَنْهُ فِي الدُّنْيَا» (رواه النسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৭. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন জাফর ইব্ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা ঋণগ্রস্তের সাথে আছেন ঋণ পরিশোধ পর্যন্ত যখন এ ঋণ কোন মন্দ কাজের জন্য গ্রহণ করা না হয়। (ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ مَعَ الدَّائِنِ حَتَّى يَقْضِيَ دَيْنَهُ، مَا لَمْ يَكُنْ فِيمَا يَكْرَهُ» (رواه ابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরও কর্জ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত এবং তিনি কর্জ গ্রহণ করতেন। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি অমুসলিম ইয়াহুদীদের থেকেও কর্জ গ্রহণ করতেন এবং এতে দীনের যে বিরাট উপযোগিতা ও রহস্য ছিল, তাও সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এ ধারাবাহিকতার কেবল তিনটি হাদীস লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরও কর্জ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত এবং তিনি কর্জ গ্রহণ করতেন। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি অমুসলিম ইয়াহুদীদের থেকেও কর্জ গ্রহণ করতেন এবং এতে দীনের যে বিরাট উপযোগিতা ও রহস্য ছিল, তাও সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এ ধারাবাহিকতার কেবল তিনটি হাদীস লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে।
৩৯৮. হযরত জাবির (রা) বলেন আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট কিছু কর্জ পেতাম। এরপর যখন তিনি তা পরিশোধ করলেন (আমার মূল টাকা থেকে) বেশী দিলেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ لِىْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَيْنٌ فَقُضِيَ لِي وَزَادَنِي. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
৩৯৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট তার পাওনার তাগাদা দিল। তাঁকে শক্ত কথা বলল। এতে তাঁর সাথীগণ (যারা তখন উপস্থিত ছিলেন, তার সাথে কঠোরতা প্রদর্শনের) ইচ্ছা করলেন। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের বলার অধিকার আছে। তার জন্য একটি উট ক্রয় করে এনে তাকে দাও। তারা (বাজার থেকে ফেরত এসে) বললেন (তার উট যেরূপ ছিল সেরূপ পাওয়া যাচ্ছে না) কেবল তার উট থেকে বেশি বয়সের পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বললেন, সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। কেননা সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তম পরিশোধ করে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا تَقَاضَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَغْلَظَ لَهُ، فَهَمَّ أَصْحَابُهُ فَقَالَ: دَعُوهُ «فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا»، «وَاشْتَرُوا لَهُ بَعِيرًا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ» قَالُوا: لاَ نَجِدُ إِلَّا أَفْضَلَ مِنْ سِنِّهِ، قَالَ: «اشْتَرُوهُ، فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ، فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً» (رواه مسلم)
তাহকীক: