মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৪০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
৪০০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু রাবী'আ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার নিকট থেকে চল্লিশ হাজার ঋণ গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর নিকট সম্পদ এসে পড়ে। তখন তিনি আমাকে তা দিলেন এবং (আমাকে দু'আ স্বরূপ। বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার পরিবার ও সম্পদে কল্যাণ দিন। ঋণের বদলা হচ্ছে- পরিশোধ করা হবে এবং (করজদাতার) প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، قَالَ: اسْتَقْرَضَ مِنِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا، فَجَاءَهُ مَالٌ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ، وَقَالَ: «بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ» (رواه النسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতির ন্যায় আরবদের মধ্যেও সুদী লেন-দেনের প্রচলন ছিল। আর এখানের সুদখোর মহাজনদের ন্যায় সেখানেও কত পুঁজিপতি এ ব্যবসা করত। যার প্রচলিত প্রসিদ্ধ পন্থা এটাই ছিল যে, অভাবী লোক তাদের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করত এবং শর্ত আরোপিত হত যে, এ টাকা সে অমুক সময় লাভসহ আদায় করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তবে সময় নিত এবং এ সময়ের হিসাবে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত আরোপিত হত। এভাবে দরিদ্র ঋণ গ্রহীতার বোঝা বেড়ে যেত আর সুদখোর মহাজন তাদের রক্ত চুষত। একথা সুস্পষ্ট যে, বিষয়টি ইসলামের মূল স্পীরিট ও স্বভাবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ ইহার একেবারে বিপরীত দরিদ্রদের সাহায্য করা হবে, অসহায়দের সহায়তা দেয়া হবে এবং প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। আর এগুলো নিজের পার্থিব কোন লাভ ও সংখ্যা সুবিধার জন্য নয় বরং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুণ্যের জন্য করা হবে।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পবিত্র কিতাব কুরআন মজীদে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মহান বাণীতে যেভাবে মানুষকে অশ্লীলতাসমূহের মূল-মদ থেকে রক্ষা করতে ক্রমান্বয়ের নীতি গ্রহণ করেছিলেন অনুরূপভাবে সুদের জবরদস্তী ও অভিশপ্ত ব্যবসা-নীতি বিলীন করার জন্যও উক্ত বাস্তব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে বহু দিন পর্যন্ত কেবল হ্যাঁ মূলক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আপন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, দরিদ্রদের সাহায্য কর, অসহায়দের আশ্রয়দান কর, প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজনগুলো পূর্ণ কর, দয়া, বদান্যতা ও অন্যকে প্রাধান্য প্রদানের ন্যায় স্বভাবকে আয়ত্ব কর। বলা হয়েছে, তুমিও ধ্বংসশীল তোমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য এ সম্পদের দ্বারা আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা ও জান্নাত অর্জন কর, কারূণের মত সম্পদ পূজারীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর।
এ শিক্ষা ও উপদেশ এবং এ অনুযায়ী কার্যক্রম সমাজের স্বভাব এরূপ তৈরি করে এবং পরিবেশ এজন্য গঠিত হয়ে যায় যে, জুলুম ও মানবতাবর্জিত ব্যবসা (রিবা-সুদ)-সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন জারি করা হবে। সুতরাং সূরা বাকারার শেষাংশে ২৭৫ আয়াত হতে ২৮০ আয়াত পর্যন্ত এমন সব আয়াত নাযিল হয়েছে যেগুলোতে রিবা (সুদ) সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। (অর্থাৎ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا থেকে وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ পর্যন্ত) এসব আয়াতে এটাও সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি পূর্বের লেন-দেন পরম্পরায় কারো কোন সুদী টাকা কোন ঋণগ্রহীতার নিকট বাকি থেকে থাকে তবে এখন তাও নেয়া যাবে না। এসব আয়াতেরই শেষে এ ঘোষণাও করা হয়েছে যে, সুদী ব্যবসা হারাম, এ ঘোষণার পরও যে সব লোক বিরত থাকবে না এবং আল্লাহর আইনের অবাধ্যতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছেঃ
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
এ ভীতি প্রদর্শন (অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষনার ভীতি প্রদর্শন) সুদী ব্যবসা ছাড়া ব্যভিচার, মদ, অন্যায় হত্যা ইত্যাদি বড় বড় পাপের ব্যাপারে কুরআন মজীদে যুদ্ধ ঘোষণার আয়াত নাযিল হয়নি। এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে এ পাপ অন্যান্য পাপ থেকে অধিক কঠোর ও ভারী।
সামনে বর্ণিতব্য হাদীসমূহ থেকে জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়াকে চূড়ান্ত পর্যায়ের কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে পরিগণিত করেছেন। সুদ গ্রহণকারীর সাথে সুদ প্রদানকারী এমনকি সুদের দলিল লেখক ও এর সাক্ষীগণকেও অভিশাপযোগ্য নির্ধারণ করেছেন। আর কোন কোন বর্ণনায় সুদের গুনাহ ব্যভিচার থেকে সত্তর গুণ অধিক বলা হয়েছে।
দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতির ন্যায় আরবদের মধ্যেও সুদী লেন-দেনের প্রচলন ছিল। আর এখানের সুদখোর মহাজনদের ন্যায় সেখানেও কত পুঁজিপতি এ ব্যবসা করত। যার প্রচলিত প্রসিদ্ধ পন্থা এটাই ছিল যে, অভাবী লোক তাদের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করত এবং শর্ত আরোপিত হত যে, এ টাকা সে অমুক সময় লাভসহ আদায় করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তবে সময় নিত এবং এ সময়ের হিসাবে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত আরোপিত হত। এভাবে দরিদ্র ঋণ গ্রহীতার বোঝা বেড়ে যেত আর সুদখোর মহাজন তাদের রক্ত চুষত। একথা সুস্পষ্ট যে, বিষয়টি ইসলামের মূল স্পীরিট ও স্বভাবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ ইহার একেবারে বিপরীত দরিদ্রদের সাহায্য করা হবে, অসহায়দের সহায়তা দেয়া হবে এবং প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। আর এগুলো নিজের পার্থিব কোন লাভ ও সংখ্যা সুবিধার জন্য নয় বরং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুণ্যের জন্য করা হবে।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পবিত্র কিতাব কুরআন মজীদে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মহান বাণীতে যেভাবে মানুষকে অশ্লীলতাসমূহের মূল-মদ থেকে রক্ষা করতে ক্রমান্বয়ের নীতি গ্রহণ করেছিলেন অনুরূপভাবে সুদের জবরদস্তী ও অভিশপ্ত ব্যবসা-নীতি বিলীন করার জন্যও উক্ত বাস্তব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে বহু দিন পর্যন্ত কেবল হ্যাঁ মূলক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আপন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, দরিদ্রদের সাহায্য কর, অসহায়দের আশ্রয়দান কর, প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজনগুলো পূর্ণ কর, দয়া, বদান্যতা ও অন্যকে প্রাধান্য প্রদানের ন্যায় স্বভাবকে আয়ত্ব কর। বলা হয়েছে, তুমিও ধ্বংসশীল তোমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য এ সম্পদের দ্বারা আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা ও জান্নাত অর্জন কর, কারূণের মত সম্পদ পূজারীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর।
এ শিক্ষা ও উপদেশ এবং এ অনুযায়ী কার্যক্রম সমাজের স্বভাব এরূপ তৈরি করে এবং পরিবেশ এজন্য গঠিত হয়ে যায় যে, জুলুম ও মানবতাবর্জিত ব্যবসা (রিবা-সুদ)-সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন জারি করা হবে। সুতরাং সূরা বাকারার শেষাংশে ২৭৫ আয়াত হতে ২৮০ আয়াত পর্যন্ত এমন সব আয়াত নাযিল হয়েছে যেগুলোতে রিবা (সুদ) সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। (অর্থাৎ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا থেকে وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ পর্যন্ত) এসব আয়াতে এটাও সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি পূর্বের লেন-দেন পরম্পরায় কারো কোন সুদী টাকা কোন ঋণগ্রহীতার নিকট বাকি থেকে থাকে তবে এখন তাও নেয়া যাবে না। এসব আয়াতেরই শেষে এ ঘোষণাও করা হয়েছে যে, সুদী ব্যবসা হারাম, এ ঘোষণার পরও যে সব লোক বিরত থাকবে না এবং আল্লাহর আইনের অবাধ্যতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছেঃ
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
এ ভীতি প্রদর্শন (অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষনার ভীতি প্রদর্শন) সুদী ব্যবসা ছাড়া ব্যভিচার, মদ, অন্যায় হত্যা ইত্যাদি বড় বড় পাপের ব্যাপারে কুরআন মজীদে যুদ্ধ ঘোষণার আয়াত নাযিল হয়নি। এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে এ পাপ অন্যান্য পাপ থেকে অধিক কঠোর ও ভারী।
সামনে বর্ণিতব্য হাদীসমূহ থেকে জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়াকে চূড়ান্ত পর্যায়ের কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে পরিগণিত করেছেন। সুদ গ্রহণকারীর সাথে সুদ প্রদানকারী এমনকি সুদের দলিল লেখক ও এর সাক্ষীগণকেও অভিশাপযোগ্য নির্ধারণ করেছেন। আর কোন কোন বর্ণনায় সুদের গুনাহ ব্যভিচার থেকে সত্তর গুণ অধিক বলা হয়েছে।
৪০১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সাতটি ধ্বংসকারক গুনাহ হতে বিরত থাক। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ সেইগুলো কি কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে (তাঁর ইবাদতে, গুণাবলীতে অথবা কার্যাবলীতে কাউকে) শরীক করা, জাদুকরা, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল খাওয়া, আর (নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য) যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যকে রেখে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ রটনা করা। (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: «الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ اليَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ المُحْصَنَاتِ المُؤْمِنَاتِ الغَافِلاَتِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল সে রাতে আমি এমন এক কাওমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলাম যাদের পেট ছিল ঘরের মত। ভাদের পেট সাপে ভর্তি ছিল। বাইর থেকে এগুলো দেখা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? (যারা এরূপ শাস্তিতে লিপ্ত আছে)। তিনি বললেন, এরা সুদখোর লোক। (আহমদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى قَوْمٍ بُطُونُهُمْ كَالْبُيُوتِ، فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرَى مِنْ خَارِجِ بُطُونِهِمْ، فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرَائِيلُ؟ قَالَ: هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا " (رواه احمد وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, সুদের সত্তর ভাগ। এর সর্বনিম্ন হচ্ছে আপন মার সাথে ব্যভিচার করার ন্যায় পাপ। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الرِّبَا سَبْعُونَ جُزْءً، أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ» (رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৪. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ লা'নত করেছেন এবং বলেছেনঃ এরা সবাই সমান পাপী। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُوكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেয় এরপর সেই ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে হাদীয়া হিসাবে কোন জিনিস দেয় অথবা আরোহণের জন্য তাকে বাহন পেশ করে তবে সে তার হাদীয়া গ্রহণ করবে না অথবা বাহন হিসাবে তার পশুতে আরোহণ করবে না। তবে যদি পূর্ব থেকে উভয়ের মধ্যে এরূপ প্রচলন জারি থেকে থাকে সেটা ভিন্ন কথা। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَقْرَضَ أَحَدُكُمْ قَرْضًا، فَأَهْدَى لَهُ، أَوْ حَمَلَهُ عَلَى الدَّابَّةِ، فَلَا يَرْكَبْهُ وَلَا يَقْبَلْهُ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ جَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَبْلَ ذَلِكَ» (رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৬. হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুদ সংক্রান্ত আয়াত (অর্থাৎ সূরা বাকারায় যে আয়াতে সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে তা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের) শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছিল। নবী ﷺ-কে এ জগত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আর আমাদের জন্য এর পূর্ণ ব্যাখ্যা করে যাননি। সুতরাং সুদ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দাও, এর সাদৃশ্য থেকেও বাঁচ। (ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: «إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَتْ آيَةُ الرِّبَا، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا لَنَا، فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ» (رواه ابن ماجة والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৭. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সুদ যদিও বর্ধিত হয় তবে পরিণামে ইহা কমের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (আহমদ, ইবনে মাজাহ, শুআবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « إِنَّ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ، فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلٍّ» (رواه احمد وابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, এমন এক সময় আসবে যে, সব লোকই সুদ খাবে। (কেউই এ থেকে বেঁচে থাকবে না), যদি সে স্বয়ং সুদ না খায় তবে এর উত্তাপ ও ধূলি-বালি তাকে পাবে।
(মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
(মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى أَحَدٌ إِلَّا أَكَلَ الرِّبَا، فَإِنْ لَمْ يَأْكُلْهُ أَصَابَهُ مِنْ بُخَارِهِ» وَيُرْوَى « مِنْ غُبَارِهِ» (رواه احمد وابوداؤد والنسائى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৯. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সোনা সোনার বিনিময়ে বিক্রি, রূপা রূপার বিনিময়ে, গম গমের বিনিময়ে, যব যবের বিনিময়ে, খেজুর খেজুরের বিনিময়ে আর লবণ লবণের বিনিময়ে একই মানের সমপরিমাণ ও নগদ বিক্রি হতে হবে। আর যখন দ্রব্য ভিন্ন হবে তখন তোমাদের ইচ্ছামত বিক্রি কর। তবে লেন-দেন নগদ হতে হবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، سَوَاءً بِسَوَاءٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَجْنَاسُ، فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ، إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১০. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ একই প্রকার নগদ ক্রয় বিক্রয় হবে। যে ব্যক্তি অতিরিক্ত দিল অথবা অতিরিক্ত দাবি করল সে সুদের ব্যবসা করল। (সে সুদের পাপে জড়িত হল) এতে গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী উভয়ে সমান। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَمَنْ زَادَ، أَوِ اسْتَزَادَ، فَقَدْ أَرْبَى، الْآخِذُ وَالْمُعْطِي فِيهِ سَوَاءٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। একবার বিলাল (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে (উত্তম) বরনি খেজুর পেশ করেন। নবী ﷺ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোথা থেকে এসেছে? তিনি বললেন, আমার নিকট নিম্ন মানের খেজুর ছিল, আমি দুই সা' খেজুরের বিনিময়ে এক সা' বরনি খেজুর ক্রয় করেছি। তিনি বললেন, হায়! এটাতো অবিকল সুদ। আগামীতে এরূপ করো না। যখন তুমি খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ক্রয় করতে চাও তখন প্রথমে নিজের খেজুর বিক্রি কর। এরপর এর মূল্য দিয়ে অন্য খেজুর ক্রয় করে লও। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ بِلاَلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَمْرٍ بَرْنِيٍّ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ أَيْنَ هَذَا؟»، قَالَ بِلاَلٌ: كَانَ عِنْدَنَا تَمْرٌ رَدِيٌّ، فَبِعْتُ مِنْهُ صَاعَيْنِ بِصَاعٍ، فَقَالَ: «أَوَّهْ، عَيْنُ الرِّبَا، لاَ تَفْعَلْ، وَلَكِنْ إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَشْتَرِيَ فَبِعِ التَّمْرَ بِبَيْعٍ آخَرَ، ثُمَّ اشْتَرِبِهِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১২. আতা ইবনে ইয়াসার তাবেঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মু'আবিয়া (রা) সোনা বা রূপার একটি পেয়ালা (অথবা জগ) অনুরূপ জাতীয় দ্রব্যের থেকে বেশি ওজনের দ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রি করলেন। তখন হযরত আবুদ দারদা তাকে বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করতেন; তবে এরূপ যে, সমান সমান হবে। হযরত মু'আবিয়া তাকে বললেন, আমিতো এটা ক্ষতিকর মনে করি না। হযরত আবুদ দারদা (খুবই অসন্তুষ্ট হয়ে) বললেন, মু'আবিয়ার ব্যাপারে কে আমাকে অক্ষম মনে করবে। তা আমি যাকে রাসুলুল্লাহ ﷺের নির্দেশ শুনাচ্ছি; আর সে আমাকে নিজের মত শুনাচ্ছে। (এরপর স্বয়ং মু'আবিয়াকে বললেন) তুমি যেখানে আছ আমি সেখানে থাকতে চাইনা। এরপর হযরত আবুদ দারদা (রা) উমর (রা)-এর নিকট মদীনায় এলেন এবং তাকে ঘটনা বললেন। তখন হযরত উমর হযরত মুয়াবিয়াকে লিখলেন, এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করবেন না। সোনা-রূপা ইত্যাদি অনুরূপ জাতীয় জিনিস দ্বারা বিনিময় কেবল এ পদ্ধতিতেই বৈধ যে, উভয় দিক একই রকম এবং সমান ওজনের হবে। (মুআত্তা, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ؛ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، بَاعَ سِقَايَةً مِنْ ذَهَبٍ، أَوْ وَرِقٍ بِأَكْثَرَ مِنْ وَزْنِهَا. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: سَمِعْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم، يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هذَا إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ. فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: مَا أَرَى بِمِثْلِ هذَا بَأْساً. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَنْ يَعْذِرُ لِي مِنْ مُعَاوِيَةَ؟. أَنَا أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم. وَهُوَ يُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ. لاَ أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ أَنْتَ بِهَا. ثُمَّ قَدِمَ أَبُو الدَّرْدَاءِ، عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ. فَذَكَرَ لَهُ ذلِكَ. فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، إِلَى مُعَاوِيَةَ: أَنْ لاَ يَبِيعَ ذلِكَ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَزْناً بِوَزْنٍ. (رواه مالك فى الموطا والنسائى فى سننه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্বন্ধে নির্দেশ ও উপদেশাবলী: ফসল উপযোগী হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না
৪১৩. হয়রত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। ফলে পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে বিক্রি করা থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন। তিনি বিক্রয়কারীকে নিষেধ করেছেন, ক্রয়কারীকেও নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)
وفي رواية لمسلم نَهَى عن بيعِ النخلِ حتى يزهُوَ ، وعن السُّنبُلِ حتى يَبْيَضَّ ، ويَأْمَنَ العاهَةَ .
এ হাদীসে মুসলিম-এর এক বর্ণনায় খেজুর লাল বর্ণ ধারণ করার পূর্বে বিক্রি করতে তিনি নিষেধ করেছেন এবং শস্য সাদা বর্ণ ধারণের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যাতে ধ্বংসের আশংকা না থাকে।
وفي رواية لمسلم نَهَى عن بيعِ النخلِ حتى يزهُوَ ، وعن السُّنبُلِ حتى يَبْيَضَّ ، ويَأْمَنَ العاهَةَ .
এ হাদীসে মুসলিম-এর এক বর্ণনায় খেজুর লাল বর্ণ ধারণ করার পূর্বে বিক্রি করতে তিনি নিষেধ করেছেন এবং শস্য সাদা বর্ণ ধারণের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন যাতে ধ্বংসের আশংকা না থাকে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: « نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا، نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ» (رواه البخارى ومسلم)
وَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ، وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ، وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ.
وَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ، وَعَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ، وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রয়-বিক্রয় সম্বন্ধে নির্দেশ ও উপদেশাবলী: ফসল উপযোগী হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না
৪১৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফল রং ধারণ করার পূর্বে বিক্রি করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন। বলা হল, রং ধরার অর্থ কি? তিনি বললেন, অর্থাৎ লাল বর্ণ ধারণ করবে। (এরপর) তিনি বললেন, বল যদি আল্লাহ তা'আলা ফল দান না করেন (অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশে কোন দুর্যোগে ফল পূর্ণতা লাভের পূর্বে নষ্ট হয়ে যায়) যখন বিক্রেতা কোন জিনিসের বিনিময়ে তার (ক্রেতা) ভাই এর নিকট থেকে মাল গ্রহণ করবে? (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى تَزْهِيَ، فَقِيلَ لَهُ: وَمَا تَزْهِيَ؟ قَالَ: حَتَّى تَحْمَرَّ. وَقَالَ: «أَرَأَيْتَ إِذَا مَنَعَ اللَّهُ الثَّمَرَةَ، بِمَا يَأْخُذُ أَحَدُكُمْ مَالَ أَخِيهِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কয়েক বছরের জন্য বাগানের ফসল ঠিকা দেওয়া যাবে না
৪১৫. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। কয়েক বছরের জন্য (বাগান) বিক্রি করা থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন (মালিক) দৈবাৎ দুর্যোগের ক্ষমতা রহিত করবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ السِّنِينَ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে জিনিস বর্তমানে নিজের নিকট নেই তা বিক্রি করা যাবে না
ব্যবসায়িক জগতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালেও হত এবং আমাদের কালেও হচ্ছে যে, ব্যবসায়ীর নিকট একটি জিনিস মজুদ নেই, কিন্তু অন্বেষণকারী ক্রেতার নিকট এ ভরসায় ইহা বিক্রি করে যে, কোথাও থেকে ক্রয় করে তাকে দিয়ে দিব। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ জাতীয় বিক্রয়কেও নিষেধ করেছেন। কেননা, এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, জিনিসটি পাওয়া যাবে না। অথবা পাওয়া গেল কিন্তু ক্রেতা তা পছন্দ করবে না। এমতাবস্থায় উভয় পক্ষে মনোমালিন্য ও ঝগড়া বাধতে পারে।
ব্যবসায়িক জগতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কালেও হত এবং আমাদের কালেও হচ্ছে যে, ব্যবসায়ীর নিকট একটি জিনিস মজুদ নেই, কিন্তু অন্বেষণকারী ক্রেতার নিকট এ ভরসায় ইহা বিক্রি করে যে, কোথাও থেকে ক্রয় করে তাকে দিয়ে দিব। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ জাতীয় বিক্রয়কেও নিষেধ করেছেন। কেননা, এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, জিনিসটি পাওয়া যাবে না। অথবা পাওয়া গেল কিন্তু ক্রেতা তা পছন্দ করবে না। এমতাবস্থায় উভয় পক্ষে মনোমালিন্য ও ঝগড়া বাধতে পারে।
৪১৬. হযরত হাকিম ইবনে হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে জিনিস আমার নিকট নেই তা ক্রয়-বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ: " نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أَبِيعَ مَا لَيْسَ عِنْدِي. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যদি শস্য ইত্যাদি ক্রয় করা হয় তবে উঠানোর পূর্বে তা বিক্রি করা যাবে না
৪১৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি শস্য ইত্যাদি ক্রয় করে তখন ইহা নিজের হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত কারো নিকট বিক্রি করা যাবে না। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ؛ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ ابْتَاعَ طَعَاماً، فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অপারগ (অতিশয় অভাবী) থেকে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ
এখনো মানুষ দারিদ্র্যে ও উপবাস কিংবা কোন বিপদের কারণে অথবা কোন আকস্মিক পেরেশানীতে পতিত হয়ে নিজের কোন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য অথবা খাদ্য দ্রব্য ইত্যাদি কোন জিনিস ক্রয় করার জন্য অতিশয় অপারগতা ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় কঠিন হৃদয় ব্যবসায়ী সে লোকের অপারগ ও ব্যাকুলতা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠতে পারে। নিম্ন লিখিত হাদীসে এটাকেই (অপারগের বিক্রয়) বলা হয়েছে এবং এটা নিষেধ করা হয়েছে।
এখনো মানুষ দারিদ্র্যে ও উপবাস কিংবা কোন বিপদের কারণে অথবা কোন আকস্মিক পেরেশানীতে পতিত হয়ে নিজের কোন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য অথবা খাদ্য দ্রব্য ইত্যাদি কোন জিনিস ক্রয় করার জন্য অতিশয় অপারগতা ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় কঠিন হৃদয় ব্যবসায়ী সে লোকের অপারগ ও ব্যাকুলতা দ্বারা অবৈধ ফায়দা উঠতে পারে। নিম্ন লিখিত হাদীসে এটাকেই (অপারগের বিক্রয়) বলা হয়েছে এবং এটা নিষেধ করা হয়েছে।
৪১৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ অপারগের ক্রয় বিক্রয়, অবর্তমান দ্রব্যের বিক্রয় ও ফল পরিপূর্ণতা লাভের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: « نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْمُضْطَرِّ، وَعَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ، وَعَنْ بَيْعِ الثَّمَرَةِ قَبْلَ أَنْ تُدْرِكَ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪১৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিক্রয় দ্রব্যের ত্রুটি গোপন করা সম্পর্কে কঠিন নিষেধাজ্ঞা ও সাবধানবাণী
৪১৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ এক খাদ্য শস্যের স্তূপের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন, যা ছিল এক ব্যবসায়ীর। এতে তিনি তাঁর হাত ঢুকিয়ে দেন, তখন তাঁর আংগুলগুলো আদ্র হয়ে যায়। তিনি খাদ্য শস্যের মালিককে বললেন, এটা কি? তিনি (ব্যবসায়ী) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল এতে বৃষ্টির ফোটা পড়ে ছিল (তখন আমি উপরের ভেজা শস্য নিচে করে দেই) তিনি বললেন, তুমি কেন ভেজা শস্য স্তূপের উপরে রাখনি, যাতে (ক্রেতা) লোকেরা তা দেখতে গায়। (শুনে রেখ) যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا، فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلًا فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ؟» قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «أَفَلَا جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ كَيْ يَرَاهُ النَّاسُ، مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّا» (رواه مسلم)
তাহকীক: